জীবনযাপন
যেভাবে রাগী স্বামীকে সামলাবেন
একটি সংসারে শান্তি বজায় রাখার জন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই সমান চেষ্টা থাকা প্রয়োজন। কথায় আছে, সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে। এই কথার পেছনেও রয়েছে কিছু বিশেষ কারণ। একটি সংসারকে গুছিয়ে রাখার পাশাপাশি স্বামীর মন রক্ষা করার গুণও থাকতে হয় একজন রমণীর মধ্যে। নইলে সংসারে সুখ ধরে রাখা সম্ভব হয় না। মনে রাখবেন, একসঙ্গে থাকতে গেলে খুনসুটি হবেই। তাই বলে সংসারে অশান্তি তো করা যাবে না। স্বামী বেশি রাগী হলে রাগ সামলানোর দায়িত্ব স্ত্রীকেই নিতে হবে। অন্যদিকে স্ত্রী রাগী হলে স্বামীকেই পরিস্থিতি বুঝতে হবে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ছেলেদের রাগটাই বেশি থাকে। দাম্পত্য জীবনে তখন কোলাহল শুরু হয়। ওই সময় স্বামী আক্রমণাত্মক ও হিংস্র হয়ে ওঠে। অনেক স্বামীই রয়েছেন, যারা নিজের রাগের আগুনে প্রতিনিয়ত স্ত্রীকে দগ্ধ করছেন। তাদের স্বভাবের অংশ এটি। এমন অবস্থায় সংসার সুখের করার দায়িত্ব স্ত্রীকেই নিতে হবে। কারণ রাগী স্বামীকে সামলাতে পারেন তার স্ত্রীই। এর জন্য কিছু উপায় রয়েছে। কিছু পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করলেই স্বামীর রাগকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। স্বামীর রাগ কমানোর এমন কিছু উপায় নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা। চলুন তবে জেন নেয়া যাক বিস্তারিত-
বিবাদের শুরুতেই যা করবেন:
  • স্বামী রেগে যাচ্ছেন, এমন পরিস্থিতি দেখলেই বিবাদ শুরুর আগেই সতর্ক হোন। নিজেই থেমে যান। ওই পরিস্থিতি থেকে সরিয়ে নিন নিজেকে। নিজের রাগ থাকলেও শান্ত থাকার চেষ্টা করুন। স্বামী বলা কটূক্তিকে উপেক্ষা করুন।
তর্ক বাড়াবেন না:
  • ঝগড়ায় আপনিও যদি স্বামীর সঙ্গে তর্ক জড়িয়ে পড়েন, এক পর্যায়ে তিনি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারেন। তাই নিজের সব আবেগকে পাশে রেখে ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলে নিন। শান্ত গলায় যুক্তিপূর্ণ কথাগুলো তাকে বুঝিয়ে বলুন। তর্ক থামিয়ে দিন।
কাউকে শেয়ার করবেন না:
  • স্বামীর দুর্ব্যবহার নিয়ে কাউকে কিছু জানাতে পারছেন না? নীরবেই চেপে যান। কারণ, দাম্পত্য কলহের কথা কাউকে না জানানোই শ্রেয়। কখনো অন্য কারো কাছ থেকে আপনার স্বামী তা শুনলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। তাই রাগ থেকে গেলে স্বামীকেই পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করুন।
নিজের ব্যবহারে খেয়াল রাখুন:
  • স্বামীর রাগের কারণ কি আপনার কোনো স্বভাব বা ব্যবহার? ভেবে দেখুন তো। হয়তো আপনার কোনো স্বভাবে কী আপনার স্বামী নিয়মিতই রাগ করছেন। এক্ষেত্রে বিষয়টি সততার সঙ্গে পর্যালোচনা করুন। এমন কোনো কারণ হলে নিজের স্বভাব বা ব্যবহারকে সংশোধন করে নিতে পারেন।
অন্য জগৎ গড়ে তুলুন:
  • কোনোভাবেই স্বামীর সঙ্গে মিলছে না, এক্ষেত্রে নিজের অন্য জগৎ গড়ে তুলুন। নিজের শখের বিষয়গুলো নিয়ে সময় কাটান। মন ভালো থাকবে। আর নিজের মন ভালো থাকলে স্বামীর রাগকেও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।
দোষ দেওয়া:
  • আপনার স্বামী অসাফল্যের জন্য আপনাকে দায়ী করতে পারে। এই সব লাঞ্ছনা মাথা পেতে নেবেন না। আপনি কতটা দোষী, তা নিজে বিচার করে দেখুন। তার অতিরিক্ত অন্যের কোনো ক্রিয়াকলাপের দায়ভার আপনার নয়। নিজের ভুল থাকলে অবশ্যই ক্ষমা চাইবেন। অন্যথায় সেখান থেকে সরে আসুন।
সহ্যের সীমা ঠিক করুন:
  • স্বামীর রাগ কতটা সহ্য করবেন এবং করবেন না, তা নিজেই নির্ধারণ করুন। নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করুন। এরপরও কোনো দুর্ব্যবহার সহ্য না হলে ঠান্ডা মাথায় স্বামীকে জানান। বিবাদ না বাড়িয়ে নিজের ভালো বেছে নিন।
বেরিয়ে আসুন:
  • স্বামীর রাগ যদি আক্রমাণাত্মক হয় তবে নিজেকে সামলে রাখুন। বাগবিতণ্ডা হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছালে সেখানে না থেকে বেরিয়ে আসুন। পাল্টা আক্রমণ করবেন না। এতে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। নিজের নিরাপত্তার স্বার্থেই সেখান থেকে বেরিয়ে আসুন।
জীবনযাপন
আরো পড়ুন