ফটো ফিচার: গাজার কৃষকের হাতে বাইজেন্টাইন যুগের বিরল মোজাইক আবিষ্কার
আন্তর্জাতিক
ফটো ফিচার: গাজার কৃষকের হাতে বাইজেন্টাইন যুগের বিরল মোজাইক আবিষ্কার
মধ্যপ্রাচ্যের পবিত্র ভূমিতে ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে রয়েছে হাজার বছর আগের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। কারণ ওই অঞ্চলে প্রায় সকল সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ ছিল কোনো না কোনো সময়। 
আল জাজিরা
আল জাজিরা
এতে করে সেখানে গড়ে উঠেছে নানান সাম্রাজ্যের স্থাপনা ও ঐতিহাসিক ভবন। সম্প্রতি ফিলিস্তিনের গাজায় বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের উল্লেখযোগ্য কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা আবিষ্কৃত হয়েছে। সেখানে এমন কিছু প্রাচীন মোজাইক পাওয়া গেছে যেগুলোর বয়স আনুমানিক ১৫০০ বছর বা তার চেয়েও বেশি।
আল জাজিরা
আল জাজিরা
শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মধ্য গাজা উপত্যকায় ৫ম থেকে ৭ম শতাব্দীর বাইজেন্টাইন মোজাইক উন্মোচনের ঘোষণা দেয়া হয়। এক প্রতিবেদনে এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছে আল জাজিরা। স্থানীয় কৃষক সালমান আল-নাবাহিন প্রায় ছয় মাস আগে বুরেজ শরণার্থী শিবিরে তার জলপাই বাগানে কাজ করার সময় ধ্বংসাবশেষটির সন্ধান পান। পরে অবশ্য নিজের ছেলেকে নিয়ে প্রায় ৩ মাস খনন কাজ পরিচালনা করেন তিনি। 
আল জাজিরা
আল জাজিরা
এগুলো উন্মোচনের পর ফ্রেঞ্চ বাইবেল অ্যান্ড আর্কিওলজিক্যাল স্কুল অফ জেরুজালেমের প্রত্নতাত্ত্বিক রেনে এল্টার বলেন, 'গ্রাফিক উপস্থাপনার গুণমান এবং জ্যামিতিক জটিলতার দিক থেকে এইগুলো গাজায় আবিষ্কৃত সবচেয়ে সুন্দর মোজাইক মেঝে। তিনি অনুমান করছেন, মোজাইকের ওই ফ্লোরটি পঞ্চম থেকে সপ্তম শতকের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল।
আল জাজিরা
আল জাজিরা
তবে এটি কোনো ধর্মীয় স্থাপনা কিনা তা জানা জন্য আরও খননের প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, আবিষ্কৃত ওই মোজাইকগুলো গাজায় উন্মোচিত বাইজেন্টাইন প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদের মধ্যে সর্বশেষ আবিষ্কার। এর আগে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে উত্তর গাজা উপত্যকার জাবালিয়াতে পঞ্চম শতকের একটি গির্জার ধ্বংসাবশেষ উন্মোচন করা হয়।
আল জাজিরা
আল জাজিরা
ইতিহাসবিদরা জানান, বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সময় গাজা উপত্যকা, এখনকার ইসরাইল, মিশরের সাথে লেভান্টের মধ্যে একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক রুট ছিল। ওই রুটটি ব্রোঞ্জ যুগ থেকে ইসলামিক এবং অটোমান যুগ পর্যন্ত সচল ছিল। 
রয়টার্স
রয়টার্স
যদিও গাজা উপত্যকাটি ২০০৭ সাল থেকে ইসরাইল কতৃক অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। সেখানকার প্রায় ২০ লাখ নিরীহ মুসলমান এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। এছাড়াও গাজা উপত্যকার প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষই বেকার। 
আল জাজিরা
আল জাজিরা
যাই হোক, ইসরাইলের সঙ্গে ফিলিস্তিনের উত্তেজনাপূর্ণ সীমান্ত থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে পাওয়া গেছে ওই মোজাইকগুলো। জেরুজালেমের এক দল গবেষক দল সেগুলোকে পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখেছেন। 
আল জাজিরা
আল জাজিরা
প্রত্নতাত্ত্বিক রেনে এল্টার মনে করেন, ওই মোজাইকগুলো ছিল সেকালের গির্জা কিংবা ব্যক্তিগত ভিলার অংশবিশেষ। তিনি নিশ্চিত করেন ওই মোজাইকে সেকালের সবচেয়ে মূল্যবান পণ্য ব্যবহার করা হয়েছিল। গবেষক এল্টার আগেও গাজার অনেক স্থানে গবেষণা পরিচালনা করেছেন। তবে তিনি এখনও ওই কৃষকের মোজাইকের জায়গাটি পরিদর্শন করতে পারেননি। সংবাদমাধ্যম থেকে পাওয়া ছবি দেখে তিনি আল জাজিরাকে ওই স্থাপনা সম্পর্কে বক্তব্য দেন।
আল জাজিরা
আল জাজিরা
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সময় ফিলিস্তিনের একাধিক স্থানে নতুন নতুন গির্জা স্থাপন করা হয়। ওই স্থাপনাগুলোতে সেকালের সবচেয়ে মূল্যবান সামগ্রী ব্যবহার করা হতো। নতুন করে পাওয়া মোজাইকের মেঝেটি প্রায় সাড়ে ৫ বাজার বর্গফুট আয়তনের।
এনপিআর
এনপিআর
ফিলিস্তিনের পর্যটন ও পুরাকীর্তি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আমরা আরও গোপনীয়তা এবং সভ্যতার মূল্যবোধ জানার জন্য অপেক্ষা করছি।'
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
আন্তর্জাতিকবিশেষ প্রতিবেদনফিলিস্তিনইতিহাস
আরো পড়ুন