Link copied.
ল্যুভর মিউজিয়াম: যা বিশ্বের সর্বাধিক দর্শনীয় ও সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা
writer
অনুসরণকারী
cover
মিউজিয়াম! জাদুঘর বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সারি সারি চিত্রকর্ম, প্রাচীন নিদর্শনের বিশাল সংগ্রহ, যা থেকে আন্দাজ করা যায় আমাদের বিশাল এই সভ্যতার ধাপে ধাপে হয়ে আসা বিবর্তনগুলো। জাদুঘরের কথা বললেই সবার আগে নাম আসবে যুক্তরাজ্য তথা ইংল্যান্ডের। জাদুঘরের শহর বলা হয়ে থাকে লন্ডনকে। কিন্তু শিল্পকর্মের ক্বদর এর কথা উঠলে সেখানে ফ্রান্সের ধারে কাছে কেউ নেই। ফরাসীরা শিল্প প্রেমিক জাতি, তাদের রাস্তা ঘাট, অবকাঠামো, দৈনন্দিন জীবনের সব খানেই শৈল্পিক ছোয়া আছে। ইউরোপের শহরগুলোর কথা চিন্তা করলেই যেই ধরণের শৈল্পিক নান্দনিকতার ছবিগুলো ভেসে ওঠে, সেগুলোর সুতিকাগার কিন্তু ফ্রান্সই।

ফ্রান্স বনাম ব্রিটেনের শৈল্পিক দন্দ্ব নিয়ে আজকের কোনো আয়োজন না। আজকের আয়োজন বিশ্বের সর্বাধিক দর্শনীয় জাদুঘর “দ্য লুভ্য” কে নিয়ে। সম্প্রতি করোনাকালীন পৃথিবীতে মিউজিয়াম কতৃপক্ষ এক বিশাল পরিমাণ চিত্রকর্ম এবং প্রাচীন সংগ্রহ , অনলাইনে উন্মুক্ত করেছে। শিল্পানুরাগী যারা তাদের কাছে সেটি একটা “দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো” উপলক্ষ এনে দিয়েছে। বিশাল এই জাদুঘর একদিনে ঘুরে দেখা অসম্ভব। সুতরাং একটা লেখায় এই জাদুঘরের মহত্ত্ব লিখে কুলানো কঠিন। চলুন তারপরেও একটু এর পেছনের ইতিহাস জেনে আসি। 
প্রতিষ্ঠাকাল
খ্রিস্ট্রিয় ১২ শতকে প্যারিসের ফিলিপ অগাস্টিস দুর্গের ডান দিকে, এক বিশাল প্রাসাদে এই জাদুঘরের গোড়াপত্তন হয়। শুরুতে এটি একটি ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা ছিলো। ১৫৪৬ সালে ফ্রান্সিস প্রথম পুরোনো প্রাসাদটি নতুন করে তৈরী করার সময় ল্যুভ তথা তার সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেয়। এই কাজে তিনি ফরাসী আর্কিটেক্ট পিয়ের‍্যে লেসক কে নিয়োগ দেন। বর্তমান লুভ্যর দক্ষিণ পশ্চিম অংশটিই সেই প্রাচীন অংশ। এরপরবর্তীতে যারাই ক্ষমতায় এসেছেন তারাই এই সংগ্রহশালা সমৃদ্ধ করেছেন। ১৭’শ শতকে লুইস ত্রয়োদশ এবং লুইস চতুর্দশ বেশ বড় একটি সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করেন এতে এর আয়তন আরো বেড়ে যায়। লুইস ত্রয়োদশ এবং লুইস চতুর্দশের কার্ডিনাল তথা প্রধানমন্ত্রীগণ বিশাল শিল্পকর্মের ভান্ডার এতে যোগ করেন। এই সময়েই ল্যুভর প্রধান অংশ যেটার নাম “দ্য কলোনেড” সেটি প্রতিষ্ঠিত হয়।  
cover
১৬৮২ সালে লুইস চতুর্দশ তার কোর্ট ভার্সাই নগরে সরিয়ে নিয়ে গেলে, ল্যুভ আর রাজপ্রাসাদ থাকে না। এর একশতক পরে গিয়ে ল্যুভ পাবলিক জাদুঘরে র‍ূপান্তরিত হয়। তার মাঝের সময়ে ল্যভর গ্রান্ড গ্যালারী প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আরো শিল্পকর্ম তার ভান্ডারে যুক্ত হয়। ১৭৯৩ সালে গ্রান্ড গ্যালারী জন সাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়। এরপর বিশ্বজয়ী নেপোলিয়ন সাহেব ক্ষমতায় আসেন। তার সময়েই “ক্যুয়র ক্যারি” এবং দক্ষিণ দিকে “রুই ডী রিভ্যয়” অংশটির কাজ শুরু হয়। ১৯ শতকে পশ্চিম দিকের গ্যালারী এবং প্যাভিলয়ন বর্ধিত হয়। “নেপোলিয়ন তৃতীয়” সেটিকে সম্পূর্ণ জন সাধারণেরর জন্য উন্মুক্ত করে দেন। 
cover
কি!  ল্যুভর আকার আয়তন নিয়ে কোনো পরিষ্কার ধারণা পেলেন? পরিষ্কার না হলেও সমস্যা নেই, আবার গুছিয়ে দিচ্ছি। 
cover
লুভ্যর মাঝখানে রয়েছে কাঁচের তৈরী লুভ্যর পিরামিড। সেটাকে জাদুঘরের কেন্দ্র ধরে জাদুঘরটিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়
  •  Sully : যেটি পিরামিডের ডান দিক তথা পূর্বপাশে অবস্থিত। এই অংশটিই “ ক্যুয়র ডি ক্যারিই” যেটি সবচেয়ে প্রাচীন অংশ
  •  Richelieu: এটি পিরামিডের উত্তর পাশে। এটির নামকরণ হয়েছে রাজা লুইস চতুর্দশ এর কার্ডিনাল রিচিল্যুই এর নামানুসারে।
  •  Denon: এটি পিরামিডের দক্ষিণ দিকে। এখানে “কলোনেড” এবং “নর্দান উইং” অবস্থিত। 
এই তিনটি অংশনিয়ে আয়তন দাঁড়ায় প্রায় ৭০০০০ বর্গ মিটার, যেখানে শিল্পকর্মই রয়েছে ৩৫ হাজার! মোট সংগ্রহীত নিদর্শনের পরিমাণ ৪ কোটি ৮০ লাখ! সেগুলো বয়ে বেড়াচ্ছে মানব সভ্যতার ১১ হাজার বছরের চিহ্ন। মেসোপটেমীয় আর্ট থেকে, মুঘল তথা মুসলিম সাম্রাজ্য এর নিদর্শন। অনিন্দ্য সুন্দরী মোনালিসা থেকে ব্রিটেনের রাজার চিত্রকর্ম। ফার্নিচার, ফসিল কি নেই সেখানে!

সেরকমই ৪ হাজার ৫০০ শিল্পকর্মের ছবি এবং বর্ণনা জাদুঘর কতৃপক্ষ অনলাইনে উন্মুক্ত করেছে, সেটার লিংক দিয়ে দিচ্ছি নিচে। মন চাইলে ঘুরে আসতে পারেন। এখন একটু আমরা ল্যুভর কয়েকটি বিখ্যাত নিদর্শন গুলো নিয়ে একটু জেনে আসি।
cover
ভুবন ভোলানো হাসির এই রহস্যময়ী নারীটি আসলে কে? সেটা নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি যেই কাজের জন্য বিখ্যাত সেটি হচ্ছে এই পেইন্টিং এর জন্য। ধারণা করা হয় ১৫০৩ সালে তিনি এটি আঁকেন। মোনালিসা চিত্রকর্মের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো, আপনি সেটিকে যেই দিক থেকেই তাকান না কেনো, মনে হবে সেটি আপনার দিকে তাকিয়ে আছে। ল্যুভ ভ্রমণকরা দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে এটি।
cover
The wedding feast at cana চিত্রকর্মটি তৈরী করেছেন পাওলো ভেরোনেস ১৫৬৩ সালে। ৭০ মিটার লম্বা এই চিত্রকর্মটি গ্যালারীর একটি দেয়াল জুড়ে রয়েছে। চিত্রকর্মের বিষয়টি হলো বাইবেলের বর্ণিত যীশু খ্রিষ্টের অলৌকিক ক্ষমতা,যেখানে তিনি একটি অনুষ্ঠানে পানিকে ওয়াইনে পরিণত করেছিলেন। ছবিতে যীশু খিষ্ট একদম মাঝখানে। বর এবং কনে ছবির একদম মাঝ বরাবর ডানদিকে।
cover
The Winged Victory of Samothrace একটি নর্ডিক গডেস। যাকে বিজয়ের দেবী হিসেবে ধরা হয়। এর প্রতিষ্ঠাকাল ধরা হয় খ্রিষ্টপূর্ব ১২০ শতক। ২০০০ বছরের বেশী পুরোনো এই ভাস্কর্য কে তৈরী করেছে সেটা জানা যায় নি।
cover
এই অভূতপূর্ব চিত্রকর্মটির শিল্পী জ্যান ভ্যারমার ১৬৬৯ সালের দিকে তৈরী করেছেন। ডাচ শিল্পকর্ম থেকে বোঝা যায় যে তারা নারীর প্রতি কতটা সম্মান প্রদর্শ করতেন। এই ছবিটি এত বিখ্যাত কারণ এর ছোট ছোট "ডিটেইলস" এর জন্য। নারীটির হাত এবং হাতের মাঝে থাকা পিন এর ফোকাল পয়েন্ট খুবই বিস্তৃত। এছাড়া ছবিটি সামনে থেকে পেছনে ক্রমাগত ঝাপসা হয়ে গেছে, ঠিক যেভাবে আমরা আমাদের চোখ দিয়ে দেখি সেরকম ভাবে

cover
বিশ্ব বিখ্যাত চিত্রশিল্পী মাইকেল এঞ্জেলো এর স্রষ্টা। তিনি ১৫১৩ সালে এর কাজ শুরু করেন। মাইকেল এঞ্জেলো এই ভাস্কর্য দুটি দিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন মানুষের আত্না কিভাবে তার শরীরের সাথে বেধে থাকে। এছাড়াও এর অনেক রকম ব্যাখ্যা অবশ্য গবেষকরা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। 
cover
শুরুতে আমরা রাজা  লুইসের কথা বলেছিলাম। এই মুকুটটি রাজা লুইস পঞ্চদশ ব্যবহার করতো। ল্যুভর মিউজিয়ামে ফ্রেঞ্চ জুয়েলারির বিশাল সংগ্রহ রয়েছে তার মধ্যে রিজেন্ট নামের অনিন্দ্য সুন্দর একটি হীরাও রয়েছে।
cover
এতো নিদর্শন সংগ্রহ করার পেছনের গল্প কিন্তু মোটেও সুখের নয়। এর পেছনে রয়েক্সহে ঔপনিবেশিক ইতিহাসের কালো অধ্যায়। তারপরেও ফ্রান্স সেই সব লুট করে আনা নিদর্শন গুলোর সঠিক ব্যবহার করেছে বলেই ল্যুভ আজ পৃথিবীর সর্বাধিক দর্শনীয় জাদুঘর।

অনলাইন জাদুঘর এর লিংকঃ https://collections.louvre.fr/en/

তথ্যসূত্রঃ
  • https://www.britannica.com/topic/Louvre-Museum
  • https://www.walksofitaly.com/blog/things-to-do/things-to-see-in-the-louvre
  • https://www.worldbyisa.com/louvre-masterpieces/
  • https://www.planetware.com/paris/louvre-f-p-l.htm
  • https://www.inexhibit.com/mymuseum/louvre-museum-paris/#:
  • https://www.history.com/this-day-in-history/louvre-museum-opens

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021