Link copied.
পৃথিবীর শেষ দিনটা কেমন হতে পারে?
writer
১৪ অনুসরণকারী
cover
এ কথা সকলেই স্বীকার করেন যে, যার সৃষ্টি আছে তার তো ধ্বংসও আছে। এ এক চিরন্তন সত্য। ঠিক একইভাবে এই পৃথিবীও প্রতিদিন ক্রমশ এগিয়ে চলেছে ধ্বংসের দিকে। এই নিয়ে বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিদ ও কসমোলজিস্ট স্টিফেন হকিং বহু ভবিষ্যতবাণী করে গিয়েছেন। প্রায় সব ধর্ম থেকে শুরু পৃথিবীর বিভিন্ন উপকথায় উল্লেখ আছে পৃথিবীর চূড়ান্ত পরিণতির দিনের কথা। 

 পৃথিবীকে এই ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য দিনরাত পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরাও। 

cover
বলা হয়ে থাকে প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে স্থিতিশীল হয়ে উঠবে মানুষের জনসংখ্যা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রযুক্তির প্রতি মানুষ এতটাই অভ্যস্ত হয়ে উঠবে যার ফলে মানব সভ্যতার দিন শেষ হবে৷ তার বদলে বিশ্বজুড়ে রাজত্ব করবে রোবটরা৷ বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের হাতে তৈরি রোবটরাও একদিন মানবতার ধ্বংস করবে৷ ফলে পৃথিবী থেকে একদিন মানব জাতির বিলুপ্তি ঘটবে।
সারা পৃথিবীজুড়ে রয়েছে কয়েক শত আগ্নেয়গিরি। যার মধ্যে রয়েছে সুপ্ত ও জীবন্ত আগ্নেয়গিরি। যার সংখ্যা প্রায় পাঁচ শতাধিক। বিজ্ঞানীদের একাংশের দাবী সুপার আগ্নেয়গিরি জেগে উঠলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। এই ৫০০টি আগ্নেয়গিরির মধ্যে এমন ৪টি আগ্নেয়গিরি রয়েছে, যা চোখের পলকে পৃথিবীকে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরি হল আমেরিকার ইয়েলোস্টোন। এটি হল পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সুপার আগ্নেয়গিরি। এই চারটে সুপার আগ্নেয়গিরির মধ্যে, যে কোনও একটি জেগে উঠলে বা লাভা উদগীরণ তা প্রায় ২০০০ মিলিয়ন সালফিউরিক এসিড বের করার সম্ভাবনা। যার ফলে শুধু পৃথিবী নয় ক্ষতি হবে সূর্যেরও। 

cover
কেমন হবে পৃথিবীর শেষ দিনটা? এই প্রশ্নেকরতে উত্তর খুঁজতে শুরুতেই নর্স উপকথায় যেতে চাই। 

নর্স হলো নর্স পুরানে বর্ণিত একদল নারী, যারা নিয়তি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাদের কেউ এসেছে দেবতা, কেউ এলফ্ এবং কেউ-বা বামনদের থেকে। যখন র্নসরা আদেশ জারি করবে, তখনই পৃথিবীতে আগমন ঘটবে ফিমবুলভেতর বা মহাশীতকালের। উপকথা অনুসারে, অন্য যে কোনো শীতের চেয়ে এটি হবে আলাদা। সে সময় ঝড়ো বাতাস চারদিক থেকে তুষার নিয়ে আসবে। চিরকাল প্রখর তেজে দেখে আসা সূর্য ম্লান হয়ে যাবে, পৃথিবী নিমজ্জিত হবে অভূতপূর্ব ঠাণ্ডায়। তিন বছর জুড়ে বিস্তৃত এই শীতের মাঝে কোনো প্রকার বিরতি থাকবে না। খাবার ও নিত্যকার দ্রব্যের জন্য মানুষ হন্যে হয়ে ছুটবে, হয়ে পড়বে দিশেহারা। ভেঙে পড়বে সকল প্রকার আইন ও নৈতিকতাবোধ। কেবল চলবে টিকে থাকার সংগ্রাম। সেই টিকে থাকায় মানুষ তার প্রিয় মানুষদের হত্যা করতেও পিছপা হবে না। 
cover
নর্স সৃষ্টিতত্ত্ব বলছে, স্কল নামের এক নেকড়ে সূর্যকে এবং হাতি নামের এক নেকড়ে চন্দ্রকে ধাওয়া করে চলছে সৃষ্টির পর থেকেই। বলা হয়ে থাকে, হাতি চন্দ্রকে কামড় দিয়ে অল্প অল্প করে খসিয়ে নেয় বলেই চাঁদের হ্রাস ঘটে প্রতি মাসে। এ সময়টায় সময় স্কল আর হাতি শিকার ধরে ফেলবে। আকাশ থেকে গায়েব হয়ে যাবে চন্দ্র আর সূর্য। তারাগুলোও ধ্বংস হবে; থাকবে শুধু ঘোর অন্ধকার। নয়টা জগৎকে ধারণ করা মহাবৃক্ষ ইগদ্রিসিল হঠাৎ কেঁপে উঠবে। মাটিতে ধসে পড়বে সকল গাছ এবং পাহাড়। নর্স মিথলজিতে এই ঘটনাপ্রবাহকে বলা হয়েছে, র‌্যাগনারক বা সময়ের সমাপ্তি হিসেবে। 

তবে এটাই পৃথিবীর শেষ হয়ে যাওয়া নয়, বরং এখান থেকেই জন্ম হবে আবার সবকিছুর। পানির মধ্য থেকে জন্ম নেবে সবুজ, বিশুদ্ধ এবং সুন্দর পৃথিবী। উপকথা থেকে এবার নজর দিতে চাই বিভিন্ন ধর্মীয় মতবাদে। আচ্ছা, আব্রাহামিক ধর্ম সম্পর্কে জানেন তো? আব্রাহামিক ধর্ম ৩টি- খ্রিস্টধর্ম, ইসলাম ধর্ম এবং ইহুদী ধর্ম।  

খ্রিস্ট ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ বাইবেলে অবশ্য পৃথিবীর শেষ দিন কেমন হবে সেটি নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয় নি, এমনকি পৃথিবী ধ্বংস হবে সেটি নিয়েও উল্লেখ করার মতো কোনো তথ্য আসে নি। বাইবেল বলছে, পৃথিবীর জন্য ঈশ্বরের উদ্দেশ্য পরিবর্তন হয়নি। ঈশ্বরের বাক্য স্পষ্টভাবে বলে: “পৃথিবী নিত্যস্থায়ী।” শুধু তা-ই নয়, মানুষ এই পৃথিবীতে চিরকাল থাকবে বলেও জানানো হয়েছে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের এই গ্রন্থে।

বলা হয়েছে, “ধার্ম্মিকেরা দেশের অধিকারী হইবে, তাহারা নিয়ত তথায় বাস করিবে।” স্বর্গ হল ঈশ্বরের কিন্তু পৃথিবী মানুষের। বাইবেল এমন “পৃথিবীর” বিষয়ে বলে, যেখানে “বসতি” থাকবে।যিশু হলেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি স্বর্গে গিয়েছিলেন আর বাইবেল দেখায় যে, বিশেষ উদ্দেশ্যের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি স্বর্গে যাবে। যিশুর সঙ্গে তারা “পৃথিবীর উপরে রাজত্ব করিবে।” তার মানে পৃথিবীর শেষ দিন বলে কোনো কিছু নেই বাইবেলের ভাষায়?  
cover
আরেক আব্রাহামিক ধর্ম ইহুদি ধর্মে অবশ্য পৃথিবীর শেষ দিনের ইঙ্গিত এসেছে। ইহুদী চিন্তাধারা অনুসারে, পরকালবিদ্যার শুরু পৃথিবীর শেষদিন থেকে। যার ভেতর অন্তর্গত ইহুদীদের পবিত্রভূমি দখল, যীশুখ্রিস্টের প্রত্যাবর্তন, পরকাল এবং মৃতের পুনরাগমন।

ইহুদিধর্মে ঈসা মসীয়েহ এর পুনরাগমনের ঘটনা ইহুদী বিশ্বাসে শেষ দিবসের ঘটনার সাথে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ইহুদি ধর্মাবলম্বীরা প্রাচীন হিব্রু ভাষায় লিখিত বুক অব ড্যানিয়েলে বর্ণিত ভবিষ্যৎবাণীতে বিশ্বাস করে। এরা মূলত তালমুদ এবং অন্যান্য ইহুদীবাদ অনুসারীতে বিশ্বাস ধারণ করে থাকে। আসা যাক তৃতীয় আব্রাহামিক ধর্ম অর্থাৎ ইসলাম ধর্মে। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মতে, আল্লাহ হযরত ইস্রাফিল ( আ: ) কে প্রথম ফুৎকারের জন্য অনুমতি দিবেন ,তখনই কেয়ামত সংঘটিত হবে। হযরত ইস্রাফিল ( আঃ) এর প্রথম ফুৎকারে পৃথিবী প্রচন্ডভাবে কেঁপে উঠবে। 

প্রথম ফুৎকারে সব মানুষ, জিন , পশু- পাখি মারা যাবে। প্রথম ও দ্বিতীয় ফুৎকারের মাঝে ব্যবধান হবে চল্লিশে। এটা কি চল্লিশ দিন, সপ্তাহ নাকি মাস তা জানা যায়নি। এ চল্লিশ দিন পৃথিবীতে প্রচন্ড বৃষ্টি হবে। ইসলামে পৃথিবীর প্রথম মানব আদম (আঃ) থেকে শুরু করে সব মানুষের শরীর অঙ্কুরিত হবে ও সুসংগঠিত হবে। যখন মানব শরীরের আকৃতি পূর্ণতা পাবে তখন আল্লাহ দ্বিতীয় ফুৎকারের আদেশ দিবেন। মানুষ পুনরায় জীবন পাবে, কিয়ামতের অবস্থা স্বচক্ষে দেখবে। সকলে হতভম্ব হয়ে চারদিকে দেখবে আর বলবে, এটাই কি সেই পৃথিবী যেখানে আমরা ছিলাম! এভাবে আসবে পৃথিবীর শেষ দিন।
মুসলিম শরীফের হাদিস
cover
এ তো গেল উপকথা আর ধর্মীয় মতবাদের কথা। কিন্তু পৃথিবীর শেষ দিন ঘিরে মানুষের ভাবনাটা ঠিক কেমন?  

২০১১ সালে 4:44 Last Day on Earth নামে একটি এপোকেলিপটিক ড্রামা ফিল্ম মুক্তি পায় হলিউডে। চলচ্চিত্রটির প্লট গড়ে উঠেছে পৃথিবীর শেষ দিন নিয়ে। বলা হয়েছে, বিজ্ঞানী ও ধর্মতত্ত্ববিদদের ভবিষ্যতবাণীর কথা। দেখানো হয়েছে, পরদিন ভোর ৪ টা বেজে ৪৪ মিনিটে মারাত্মক সৌর এবং মহাজাগতিক বিকিরণ পৃথিবীর প্রতিরক্ষামূলক ওজোন স্তর এবং এর সাথে গ্রহের সমস্ত জীবনকে ধ্বংস করে দেবে। এছাড়া পুরো ছবিটিতে বিভিন্ন সাংবাদিক, ভাষ্যকার এবং সেলিব্রিটিদের নিউজ ক্লিপ জুড়ে দেয়া হয়েছে, যারা বিশ্বের শেষটা কেমন হবে তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করে।  


cover
আপনার কী মনে হয়? কেমন হবে পৃথিবীর শেষ দিন?  


Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021