Link copied.
রমজানে আর্থিক অবস্থায় উন্নতি আনবেন যে পাঁচ উপায়ে
writer
১৭ অনুসরণকারী
cover
পবিত্র মাহে রমজানের দিনগুলোয় ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থেকে উপবাস করেন স্রষ্টার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনা শুধু যে সেহরী খাওয়া, রোজা রাখা কিংবা দিনশেষে ইফতার করাতেই সীমাবদ্ধ - ব্যাপারটা এমন নয়। বিশ্বজুড়ে প্রায় ১.৮ বিলিয়ন মুসলমানের জন্য প্রতি বছর এই সময়টি আসে নতুন করে ভাবনা, সে অনুযায়ী কাজ এবং নিজেকে পরিবর্তন করার বার্তা নিয়ে।    

পবিত্র মাসটি প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মুসলিমকে ধার্মিক, নিয়মানুবর্তিতা এবং কীভাবে আত্মনিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হয় তার শিক্ষা দিয়ে যায়। ধর্ম বা বিশ্বাস নির্বিশেষে, রমজান থেকে আপনি অবশ্যই মূল্যবান পাঠ শিখতে পারবেন যা আপনার আর্থিক জীবন উন্নতি করতে সহায়তা করবে। 


রমজান থেকে পাওয়া এমনই পাঁচটি শিক্ষা নিয়ে আজকের এই লেখা, যে শিক্ষাগুলো কাজে লাগিয়ে আপনি আর্থিক জীবনে উন্নতির পথ প্রশস্ত করতে পারবেন।  
১. আপনার আর্থিক পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটান
প্রতিবার রমজান মাস আসলেই মুসলিমরা নিজেদের জন্য নানান ধরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেন, একইসাথে সেই লক্ষ্য পূরণে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেন। এই লক্ষ্য হতে পারে আগামীর দিনগুলোয় নিজেদের উন্নতি বিষয়ক, সেই উন্নতিও হতে পারে আর্থিক কিংবা সামগ্রিক। এছাড়া পূর্ববর্তী রমজান মাসগুলোয় নিজেদের ঠিক করা লক্ষ্য কতটা পূরণ হলো সেটির মূল্যায়ণ করেন তারা এই সময়টায়। মুলমানদের জন্য এই মাসটি তাই শুধুই ইবাদতের জন্য নয়, এটি একইসাথে নিজেদের মূল্যায়ণের মাসও।

cover
মানুষ যেমন নতুন একটি বছরকে কেন্দ্র করে নানান ইচ্ছা বা লক্ষ্য নির্ধারণ করে তেমনি মুসলমানরা রমজানের সময়টায় নিজেদের জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। নিজেদের বর্তমান আর্থিক অবস্থা কীভাবে আরো উন্নতির পথে চালিত করা যায় সেই লক্ষ্যই থাকে বেশিরভাগ রোজাদারদের।  আপনিও অনুসরণ করতে পারেন এই পন্থা। পূর্বের রমজানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এই রমজানে ঠিক করুন নতুন লক্ষ্য। কাজ করুন সেই লক্ষ্য পূরণে। ধৈর্য ধরে এগোতে থাকুন। সাফল্য ধরা দেবেই। 

২. আর্থিক সুশৃঙ্খলতাই সব
রমজানে পানাহারসহ হারাম অনেক কাজ থেকে বিরত থাকার মধ্য দিয়ে মুসলিমরা নিজেদের একটি শৃঙ্খলার গন্ডিতে বেঁধে রাখার চেষ্টা করেন। এই শৃঙ্খলার চর্চাটা যদি পকেটের অর্থের ব্যবস্থাপনাতেও কাজে লাগানো যায় তাহলে অযথা টাকার অপচয় অনেকখানি কমে আসবে। বর্তমান বিশ্বে টাকার অযথা অপচয় সামাজিক এক ব্যাধিতে পরিণত হয়ে গিয়েছে। প্রমোশন কিংবা মূল্য ছাড়ের মতো বাণিজ্যিক পরিকল্পনাগুলোয় আমরা আরো বেশি অপচয়কারীর তকমায় নিজেদের নাম লেখাচ্ছি।
  
কিন্তু আপনি যদি অর্থ সঠিক জায়গায় সুশৃঙ্খল পন্থায় খরচ করেন তাহলে অপচয়ের এই অপচর্চা থেকে বেরিয়ে আসাটা কঠিন কিছু নয়। রমজান মাস এই চর্চাটা মনে করিয়ে দেয়। স্রষ্টার সন্তুষ্টির কথা মাথায় রেখে রোজাদারগণ অযথা অপচয় থেকে নিজেদের বিরত রাখার চেষ্টায় মনোযোগী হন। 
cover
৩. সমস্যা অস্থায়ী
রমজানের সময়টায় মুসলিমরা পরকালের পুরষ্কারের আশায় ধর্মীয় বিধান মেনে রোজা রেখে সারাদিন কোনো কিছু খাওয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখে। বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এই শিক্ষাটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। পৃথিবীতে প্রায় সবাই কোনো না কোনো সময়ে আর্থিক সংকটে ভুগে থাকেন। মালয়েশিয়ার কথাই ধরা যাক। দেশটির প্রায় অর্ধেক পরিবারেরই জমানো কোনো অর্থ নেই। তবে ৪৭ শতাংশ মালয়েশিয়ান যুবকেরই ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড রয়েছে৷ এদিকে জনসংখ্যার একটি বড় অংশকেই ব্যাংক ঋণের বোঝা নিয়ে বছরের পর বছর কাটাতে হচ্ছে। অনেকে দেউলিয়াও হয়ে যাচ্ছে। এই সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছেই। 

তাহলে কী দাঁড়ালো? সমস্যা প্রত্যেকেরই কমবেশি থাকে৷ সমস্যা অস্থায়ী এবং একইসাথে সমাধান যোগ্যও৷ শুধু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে মানুষ চেনা পথটা হারিয়ে ফেলে, হয়ে যায় দেউলিয়া। তাই অযথা খরচের পথে না হেঁটে জীবন সাজাতে হবে সঠিক পরিকল্পনায়। এই ব্যাপারটি 'আর্থিক অধ্যবসায়' হিসেবে বেশ পরিচিত। এর মাধ্যমে আর্থিক পরিস্থিতির কঠিন সময়কে সহ্য করার এবং তার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা সৃষ্টি হয়। আর্থিক অধ্যবসায়ের মাধ্যমে শৃঙ্খলাবদ্ধ হওয়া আপনাকে আপনার ব্যয় এবং সঞ্চয় পরিকল্পনা সঠিকভাবে গ্রহণ ও প্রয়োগ করতে সাহায্য করতে পারে। 
cover
আর্থিক শৃঙ্খলাতে বাঁচতে শেখায় রমজান। সেই শিক্ষাটাই কাজের লাগানোর সুযোগ নিতে চায় প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা।  
৪. আর্থিক বদ অভ্যাসগুলো ভুলে যান
আপনি হয়তো কোনো একটি ভালো খবর বা অর্জনে নিজেকে নিজেই কোনো একটি উপহার দেন। মৌসুমী এই পন্থা ঠিক আছে। কিন্তু এটি যদি অভ্যেসে পরিণত হয়ে যায় সেক্ষেত্রে অপচয়ের ব্যাপারটিও সামনে চলে আসে। এই ধরণের খারাপ অভ্যাস পরিহারের সুযোগ পাওয়া যায় রমজানে। প্রথমত নিজেকে সৎ হতে হবে। একইসাথে নিজেকে বুঝাতে হবে যে আর্থিক অপচয় ঘটানোর মতো বদ অভ্যাস আছে আমার। এটি বদলাতে হবে। এমনভাবে বদলাতে হবে যাতে এই অভ্যাস আর ফিরে না আসে। 

cover
৫. দাতব্য কাজ অপচয় নয়
দাতব্য কাজে ব্যয় ইসলামের একটি পবিত্র অংশ হিসেবে পরিচিত। রমজান মাসে এই কাজ আরো বেশি বেশি করার চেষ্টা করে থাকেন মুসুল্লিরা। মুসলমানরা দাতব্য কাজে নিয়োজিত হয় এবং তাদের আয়ের এক শতাংশ সাহায্যের জন্য দান করে। রমজান মাস প্রত্যেককে কম ভাগ্যবানদের প্রতি বিনীত ও সমবেদনাপূর্ণ হতে শেখায়। দাতব্য কাজে অংশ নিয়ে মুসলমানরা তাদের যা আছে তা নিয়ে আরও কৃতজ্ঞ হয়ে উঠতে সাহায্য করে।  

তবে দাতব্য কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য আপনাকে মুসলিম হতে হবে এমন নয় ব্যাপারটি । আপনি উদার হন বা না হন, জেনে রাখুন যে অর্থ প্রদান থেকে কেবল ভাল জিনিসই আসতে পারে। কেউ দান করে কখনও দরিদ্র হয়ে উঠেনি। পরিবর্তে, এক গবেষণায় দেখা গেছে যে দান করা আপনাকে আরও সুখী করে তোলে। তাই উদার হোন, আপনার সম্পদ ভাগ করুন। ছোট করেই শুরু করতে পারেন দানের কাজগুলো। দান করলে কারো সম্পদ কমে যায় না। দানে বরকত হয়। ফলে সম্পদের বৃদ্ধি ঘটে। 

শেষ কিন্তু শেষ নয়! 

রোজার দিনগুলোয় আর্থিক সাশ্রয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শুরুতেই নিজের আয় সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখা জরুরি। আয় বুঝে ব্যয় করার মানসিকতা গড়ে তোলার শিক্ষা দেয় রমজান মাস। আপনার যদি আয়ের চেয়ে যদি চাহিদা বেশি হয় সেক্ষেত্রে আবশ্যক চাহিদাগুলো রেখে খরচের তালিকা থেকে অন্যগুলো বাদ দিয়ে দিন। কোথায় কত টাকা খরচ করছেন, প্রতিদিন কত খরচ হচ্ছে এটি নোট করে রাখুন। তাহলে আয় ব্যয়ের মধ্যে সামন্জ্যস্যতা বজায় থাকবে। মুসুল্লিরা রোজা রাখেন পরকাল অর্থাৎ ভবিষ্যতের ফলের আশায়। এই শিক্ষা অনুসরণ করে কিছু অর্থ ভবিষ্যতের জন্যও সঞ্চয় করে রাখুন। বিপদের দিনে এই অর্থই আপনাকে সাহায্য করবে। 







Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021