Link copied.
জানা অজানায় ‘কফি’
writer
অনুসরণকারী
cover
বর্তমান শহুরে জীবনে কফি একটি জনপ্রিয় পানীয়। চায়ের পরে কফি পৃথিবী জুড়ে জনপ্রিয় পানীয়ের শীর্ষ স্থানটি দখল করে আছে । গ্রাম থেকে শহরে প্রতিনিয়ত কফির কদর বেড়েই চলেছে। এর চমৎকার স্বাদ ও স্বাস্থ্যগত নানা উপকারীতা একে চাহিদার তুঙ্গে নিয়ে এসেছে । ১৮৭১সালে জন অ্যারবাকল কফির প্রথম ব্যাগটি বাজারজাত করেন । আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগেও সাধারণ জীবনে কফির এত আনাগোনা ছিল না । বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা বাণিজ্যপণ্য হলো কফি।ইন্টারন্যাশনাল কফি অর্গানাইজেশনের তথ্যমতে ১৯৯১ সালে পৃথিবীজুড়ে প্রায় ৯ কোটি কফির ব্যাগ বিক্রি হয়েছিল, ২০১৮ সালে সে সংখ্যাটি বেড়ে ১৬ কোটিতে এসে দাঁড়ায় । আধুনিক দুনিয়ায় কফির সবচেয়ে বড় ভোক্তা উত্তর আমেরিকা । তবে অন্যান্য দেশ ও কফি পানে পিছিয়ে নেই। 
কফি বীজের কিছু তথ্য
cover
কফি আসলে এক ধরনের ফল, যা কফি চেরি বা কফি বেরি নামে পরিচিত । প্রায় ৭০ টি দেশে এই ফলের গাছ জন্ম । কফি ফলের ভিতরে এর বীজটি ২ ভাগে বিভক্ত থাকে যা নিষেকের পর ডিম্বাকার ও কিছুটা চাপা রুপটি পায় । প্রধানত কফি অ্যারাবিকা ও কফি রোবাস্তা -এ দু'ধরনের কফি সবচেয়ে বেশি পরিচিত । অ্যারাবিকা নামের মিহি, হালকা ও চমৎকার সুভাসপূর্ণ কফি জাতটি ইথিওপিয়াতে জন্ম নেয় । বিশ্বের প্রায় ৭০% কফিই এই জাতের হয়ে থাকে, এই কফির দামও অপেক্ষাকৃত বেশি হয়ে থাকে । অপরদিকে রোবাস্তা কফিটি কিছুটা তিতকুটে স্বাদের ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন সমৃদ্ধ হয়ে থাকে, যা সাধারণত ইন্সট্যান্ট কফি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া, পিবেরি নামের আরেকধরনের কফি ফলের ধরণ আছে, যা মাত্র ৫% কফি গাছে পাওয়া যায় । কফির ভিতরে থাকা দুটি বীজের শুধুমাত্র একটি নিষেক হলে ব্যতিক্রমী এই কফিটি পাওয়া যায় । সংগ্রহের পর সাধারন কফি বীজ থেকে পিবেরি বীজ হাতের মাধ্যমে আলাদা করে ফেলা হয়। 
কফি আবিষ্কারের মজার ইতিহাস
দীর্ঘ ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষ কফি পান করে আসছে। সর্বপ্রথম পঞ্চদশ শতাব্দীতে ইয়েমেনে কফি পানের প্রমাণ পাওয়া যায়। তৎকালীন ইয়েমেনের এক সুফি সাধক আব্দুল নুরুদ্দীন আবুল আল হাসান আল সাদিলি ইথিওপিয়া ভ্রমনকালে একদিন একটি সুন্দর পাখিকে নাম না জানা একটি লাল রঙের ফল খেতে দেখেন। যা তার মনে কৌতুহল এর উদ্রেক ঘটায় । সেই কৌতুহল নিবারণ করতে গিয়ে তিনি নিজেও সে ফল চেখে দেখেন। আর অজানা সেই ফলের স্বাদ তাকে দেয় এক স্বতেজ অনুভূতি।আর এভাবেই চমৎকার স্বাদের কফি আবিষ্কৃত হয় ।
কফি নিয়ে আরো একটি মজার তথ্য প্রচলিত রয়েছে । নবম শতকে ইথিওপিয়ায় বাস করতো খালদি নামের এক মেষপালক । নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ছাগল চড়াতে গিয়ে সে তার পালটির মধ্যে অত্যাধিক দুরন্তপনা লক্ষ্য করছিল । সে খেয়াল করলো তার ছাগলেরা লাল জামের মতো একটি ফল খাচ্ছিল যা তাদের অদ্ভুত আচরনের উৎস । খালদি সাথে সাথে সেই ফলটি নিয়ে স্থানীয় মসজিদের ইমামের কাছে যায় এবং ইমাম ধরেই নেনে ফলগুলো শয়তানের কোন প্রলোভন । তাই তিনি সেই ফলগুলিকে তৎক্ষণাৎ আগুনে ছুঁড়ে দেন। কিছুক্ষণ পর সেই পোড়া বীজগুলি থেকে আসতে লাগলো দারুন সুঘ্রাণ । ইমাম ও তার ছাত্ররা ভেবে দেখলেন বীজগুলো সিদ্ধ করে খেয়ে দেখলে কেমন হয় ? আর তারা ঠিক তেমনটাই করলেন । তাই ধরে নেয়া যায় এটাই ছিল পৃথিবীতে প্রথম তৈরি এক কাপ কফি ।
রকমারি কফির সন্ধানে
সকাল ঘুম ঘুম চোখে আমরা এক কাপ কফি হাতড়ে বেড়াই। সারাদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমে পর এক কাপ কফিতে চুমুক দিলে সারাদিনের ব্যস্ততা যেনো বাষ্প হয়ে কফির ধোয়ার সাথে উড়ে যায়। সেই প্রিয় পানীয়টি ঠিক কত রকমের হয়ে থাকে তা হয়ত অনেকেরই অজানা । তো আসুন এবার জেনে নেওয়া যাক খুবই জনপ্রিয় কিছু কফির নাম ।
  • অ্যামেরিকানো কফি (Americano coffee ) 
  • এসপ্রেসো কফি (Espresso coffee)
  • ক্যাপাচিনো কফি (Cappuccino)
  • ল্যাটে কফি (Latte coffee)
  • আইরিশ কফি (Irish coffee)
  • ভারতীয় ফিল্টার কফি (Indian filter coffee)
  • মকা চিনো কফি (Moca chino coffee)
উপরে উল্লেখিত ৭ টি কফির মধ্যে পৃথিবীব্যাপী সবচেয়ে বেশি পান করা হয় অ্যামেরিকানো কফি । যাকে ব্ল্যাক কফিও বলা হয়ে থাকে। অ্যামেরিকানো কফির পর সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে এসপ্রেসো কফি । জেনে রাখা ভালো, এসপ্রেসো একটি ইতালিয়ান শব্দ যার অর্থ 'প্রেস করে' বা 'চাপ দিয়ে'। ফুটন্ত গরম পানি ও কফিকে বিশেষ মেশিনে একসাথে মিশিয়ে প্রচণ্ড চাপ দিয়ে বের করা হয় এক কাপ এসপ্রেসো । ছোট কাপে তা পরিবেশন করা হলেও, সাধারন একটি কফির কাপ থেকে এসপ্রেসোর একটি কাপে তিনগুন বেশি ক্যাফেইন থাকে। তাই কফির পছন্দের তালিকায় সবার উপরের সারিতে অ্যামেরিকানোর পর এর অবস্থান । এক কাপ ল্যাটে কফিতে কফি এক্সট্র্যাক্টের চেয়ে দুধের অনুপাত অত্যধিক বেশি থাকে, যা স্বাদের বিশেষত্ব এনে দেয়। আইরিশ কফিতে যোগ করা হয় সামান্য পরিমান হুইস্কি, আইরিশদের হুইস্কির প্রতি ভালোবাসা এখানেও প্রকট । ক্যাপাচিনো কফিতে কফি ও দুধের সাথে চকোলেট বা ভ্যানিলা মিক্স করা হয়ে থাকে । এভাবে এক কাপ কফির সকল উপাদান একই থাকলেও অনুপাতের ভিন্নতা অন্য কফিগুলোকে বিশেষ নাম এনে দিয়েছে । 
বিষ্ঠা থেকে কফি
কফির দেশ ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে গেলে দেখা মিলবে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি এক বিচিত্র ধরনের কফির । যার ঘ্রাণে বিমোহিত হবেন যে কেউ, যদিও স্বাদেই তার প্রধান বিশেষত্ব ! তবে সেই কফি তৈরির প্রক্রিয়া জানলে তার অপূর্ব ঘ্রাণে বিমোহিত হলেও তা চেখে দেখতে হয়তো একটু দ্বিধা কাজ করবে ।
এই কফির নাম 'কোপি লুয়াক', 'সিভেট' নামের স্তন্যপায়ী এক ধরণের বিড়াল অথবা বন্য হাতির পরিপাকতন্ত্র হয়ে এই কফি মানুষের কাছে পৌঁছায় । মনমতো এক কাপ কফি, কফিপ্রেমিকদের কাছে পৌঁছে দিতে কফি উৎপাদকেরা নানান প্রকার কৌশল ব্যবহার করে থাকলেও এই কফি তৈরির প্রক্রিয়াটি একটু ভিন্নতর এবং প্রাকৃতিকও বটে ।
cover
সিভেট নামক বিড়ালটি কফি গাছ থেকে খুঁজে খুঁজে সবচেয়ে ভালো বীজগুলি খেয়ে থাকে।কিন্তু তা হজম করতে পারে না । পরিপাকতন্ত্র দিয়ে যাওয়ার সময় স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতে কফি চেরিগুলো গাঁজানো হয়, পুরোপুরি পরিপাক না হওয়া সেই বীজ সিভেটের বিষ্ঠার সাথে বেরিয়ে আসে যা বালি, জাভা ও সুলাভেসি দ্বীপের বনের বিভিন্ন স্থান থেকে কফি আহরণকারীরা আহরণ করে থাকেন । পরবর্তীতে বীজগুলি অত্যন্ত যত্ন সহকারে বিষ্ঠা থেকে আলাদা করে নেয়া হয় । যা থেকে প্রক্রিয়াকরনের মাধমে তৈরি করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে সুগন্ধি এবং দামি ‘লুয়াক কফি’। এক পাউন্ড লুয়াক কফি ১০০-৬০০ ডলার(৮০০০-৫০০০০টাকা) পর্যন্ত বিক্রি হয়! নারী সিভেট বিড়ালের তুলনায় পুরুষ সিভেট বিড়াল থেকে পাওয়া বীজ বেশি উৎকৃষ্ট হয়ে থাকে।
কফি বনাম চা
চা এই দেশের সভ্যতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি
ইওরেজ ওরঅয়েল
তবে কফির জনপ্রিয়তার কারনে সেই কথাটি দিনে দিনে কিছুটা হলেও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে । বর্তমানে পরিবার এবং বন্ধু বান্ধবের সাথে আড্ডায় চা এর বদলে কফি তার প্রাধান্যের জায়গাটি জুড়ে নিচ্ছে । সময়ের সাথে সাথে পছন্দের পানীয়ের জায়গাটি আরো অদলবদল হচ্ছে । ২০১৯/২০ সালের একটি তথ্য থেকে জানা যায়, সেবছর বিশ্বে প্রায় ১৬৯.৩৪ মিলিয়ন ব্যাগ কফি বিক্রি হয়েছে, যা ২০১৮/১৯ এর তুলনায় 0.7% বেশি । একটি মাত্র কারণে চা এগিয়ে আছে; চায়ে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও পলিফেনল প্রচুর পরিমাণে থেকে থাকে । যদি আপনি প্রতিদিন চা ও কফি উভয়টাই পান করে থাকেন, তাহলে তাতে কোনো ক্ষতি নেই, বরং এ অভ্যাস আরো ভালো । তবে আপনি যেটাই পান করেন না কেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে পান করতে হবে, অন্যথায় নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে । স্বাস্থ্যকর বলতে, অধিক চিনি বা প্রতিদিন খুব বেশি পরিমান কফি খাওয়া থেকে বিরত থাকার কথা বলা যায় । 
কফির পুষ্টিগুণ
কফিতে রয়েছে ভিটামিন বি১,ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়াম ।যা আপনার পুষ্টি চাহিদার খানিকটা পূরণ করতে সহায়তা করবে। এছাড়াও কফিতে রয়েছে বিভিন্ন উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট যা আপনাকে করে তুলবে আরো বেশি সতেজ । চলুন জেনে নেই কফির যত গুনের কথা । 
কফি হচ্ছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যৌগগুলির একটি আশ্চর্যজনক মিশেল
ওয়াল্টার উইলেট,ম্যানেজিং ডাইরেক্টর , হ্যাভার্ড স্কুল অফ পাবলিক হেলথ
  • মেদ কমাবে কফি?
বাড়তি ওজন নিয়ে চিন্তিত? এই দুশ্চিন্তার একটি চমৎকার সমাধান হতে পারে ব্ল্যাক কফি ! যা শরীরের বাড়তি মেদ কমাতে খুবই কার্যকরী । জনপ্রিয় ব্ল্যাক কফিতে ক্যালরির পরিমান একেবারে কম । তাছাড়া এই কফিতে ক্লরোজেনিক এসিড নামে একটি ঊপাদান রয়েছে, যা শরিরে গ্লুকোজ উৎপাদনে বাধা দেয় । ফলে নতুন ফ্যাট কোষ উৎপন্ন হতে পারে না । প্রতিদিন রাতের খাবারের পর এক কাপ ব্ল্যাক কফি পান হতে পারে আপনার মেদ কমানোর ম্যাজিক ফর্মুলা  ।
cover
  • মানসিক ও শারিরিক চাপ থেকে পরিত্রান পেতে কফি
মানসিক ও শারিরিক চাপ থেকে একটুখানি পরিত্রান পেতে নিয়মিত পান করতে পারেন এক কাপ কফি । যা আপনাকে একটু হলেও মানসিক ও শারিরিকভাবে প্রশান্তি এনে দিবে । গবেষণায় প্রমানিত, কফিতে থাকা ক্যাফেইন মস্তিস্কে ডোপামিন এর মাত্রা বাড়িয়ে আনন্দদায়ক এবং প্রশান্তিময় অনুভূতি তৈরি করে এবং দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস হ্রাসে সহায়তা করে । জেনে রাখা ভালো, ডোপামিন আমাদের আনন্দায়ক অনুভূতির জন্য এককভাবে দায়ী ।
cover
  • ত্বকের যত্নে কফি
দিনভর বাইরে থাকার কারণে ত্বকে নানা রকম সমস্যা দেখা দেয় । তাই ত্বককে বাইরের দূষণ থেকে রক্ষা করতে এবং সুস্থ রাখতে ব্যবহার করা যায় কফির ফেসপ্যাক । যা আপনার ত্বকে পুষ্টি জুগিয়ে উজ্জলতা আনতে সাহায্য করবে । ত্বকের শুষ্কতা, বয়সরেখা, কালো দাগ প্রভৃতি সমস্যা দূর করে ত্বককে ঝলমলে রাখতে এই প্রাকৃতিক ফেসপ্যাকগুলো অনেক জনপ্রিয় ।
cover
  •  ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কফির কার্যকারিতা
গ্লুকোজের বৃদ্ধিই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার প্রধান লক্ষণ । গবেষকরা জানিয়েছেন, কফি গ্রহণের মাত্রা বাড়ালে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকখানি কমে যায় । গবেষণায় আরো দেখা গেছে, দিনে যারা এক কাপের বেশি কফি পান করেন তাদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ১১ শতাংশ কমে যায় । বেশি বেশি কফি পান আপনাকে ব্লাড সুগার বৃদ্ধির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে ।
  • মনোযোগ বাড়াতে কফি 
কফিতে থাকা ক্যাফেইন কোলাহলপূর্ণ অবস্থাতেও আপনার মনোযোগ অটুট রাখতে সাহায্য করে । গবেষণায় দেখা গেছে মানসিক চাপের সময় ২০০মিলি গ্রাম ক্যাফেইন শরীরে গেলে তা আপনার মনোযোগ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে । তবে প্রতিদিন ৪০০মিলি গ্রাম থেকে বেশি ক্যাফেইন গ্রহন হ্রদরোগের কারন হতে পারে । কফির ক্যাফেইন স্নায়ুতন্ত্রের উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। কফিতে চুমুক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের ক্রিয়া বৃদ্ধি পায় যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়িয়ে আপনাকে মনোযোগী করে তুলতে সাহায্য করবে ।
cover
কফি পানে কিছু সতর্কতা
উপরে কফি সম্পর্কে এতো এতো উপকারী তথ্য দেখে মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, আচ্ছা! কফির কি কোন অপকারিতা নেই ? উত্তরে বলতে হচ্ছে হ্যাঁ! কফি পানে কিছু সতর্কতা আপনাকে মানতেই হবে । কফি পান আপনার শরীরকে চাঙ্গা করে তুললেও অনেক সময় তা আপনার নিদ্রাহীনতার কারন হতে পারে ।প্রতিদিন ৩ কাপের অধিক কফি পান তা স্বাভাবিক ঘুম ব্যাহত করতে পারে । কফিতে থাকা ক্যাফেইন এমন একটি পণ্য যা মাত্রাতিরিক্ত গ্রহনে নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায় । 
অনেক সময় কফি পান আপনার মেজাজকে চড়া করে তুলতে পারে । কফিতে থাকা ক্যাফেইন শরীরের এড্রেনালিন নামক একধরনের হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় । যার ফলে শরীরে অনুভুতির মাত্রা অনেকখানি বেড়ে গিয়ে তা মুহূর্তেই আপনার মেজাজ খারাপ হওয়ার কারন হয়ে দাঁড়ায় । 

পুরো বিশ্বজুড়ে দিনে দিনে কফি প্রেমিকদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।শত ক্লান্তির এক প্রান্তে আমরা ধোয়া উঠা এক কাপ কফি হাতে তুলে নেই,কখন এক কাপ কফিতে চুমুক দিয়ে হারিয়ে যাই ফেলে আসা কোনো কফি হাউসের আড্ডায় কিংবা কখন পাশাপাশি বসে কফির উষ্ণতার সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় প্রিয় মানষের সাথে কাটানো একটু ভালো মুহূর্ত । কফির নানা রকম উপকারতা থাকলেও অতিরিক্ত কফি পান থেকে বিরত থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।কফির মাত্রাতিরিক্ত টনিক যাতে আপনার সুস্বাস্থ্যের টনক নাড়তে দেরি না করিয়ে দেয় !

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021