Link copied.
দেশে করোনা সংক্রমণরোধে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে দ্বিতীয় ধাপের লকডাউন ও টিকাদান কর্মসূচি
cover
বাংলাদেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। যদিও সরকারের তৎপরতায় ২০২০ এর ১৭ মার্চ থেকে সবধরণের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শিথিল করে দেয়া হয় এবং লকডাউন ঘোষিত হয় তারপরও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সংক্রমণ। গত বছরের শেষ দিকে এসে সংক্রমণ কমতে থাকলে প্রশাসন  লকডাউন তুলে দিয়ে শুধুমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে সবধরণের গণপরিবহন এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয় । এ বছরের মার্চ থেকে করোনার সংক্রমণ আবার বেড়ে যায়। মার্চের প্রথমার্ধেই দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হাজারের ওপরে চলে যায়। বাড়তে থাকে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৬ মার্চের বুলেটিনে আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ জনের মৃত্যু খবর দেওয়া হয়, সেখানে এক মাস পর ২৫ এপ্রিলের বুলেটিনে ১০১ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়। করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় ৫ এপ্রিল থেকে আবার মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করার জন্য বাংলাদেশ সরকার গত ১৪ এপ্রিল থেকে লকডাউন বাস্তবায়ন করেছে।

২০২১ এর ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে সংক্রমণের হার অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধ্বি পেতে থাকে যার ধাক্কা আমাদের দেশেও লাগে। আবার গত ৭ ই ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশে সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি ১ হাজার ৫টি হাসপাতালে করোনার টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুর দিন থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি ছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। তবে নিবন্ধন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। আবার গত এপ্রিলে লকডাউনের ফলে টিকা দান কর্মসূচি়ও শিথিল করা হয়। তবে মে মাসে সেটি পর্যায়ক্রমে চালু হলেও করোনার সংক্রমণ উত্তরোত্তর বাড়ার ফলে আবার জুনের শেষে বন্ধ করে দেয়া হয়।  
cover
তবে দেশে গত শনিবার ৭ ই আগস্ট ২০২১ থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রথম দিন থেকে প্রায় ৩২ লাখ টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যসচিব ডা. মো. শামসুল হক বলেন, একেক দিন প্রায় ৩২ লাখ ৩০ হাজার ৬০০ জনকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম দিন থেকেই এরকম পরিমাণ টিকা দেওয়া হবে। সারা দেশে ৮১ হাজার ১৬৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী এ কাজে নিয়োজিত থাকবেন।
 
cover
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বোঝার একটি নির্দেশক হলো রোগী শনাক্তের হার। কোনো দেশে টানা অন্তত দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। তবে বাংলাদেশের করোনা সংক্রামণের পরিসংখ্যানের দিকে একটু চোখ রাখলেই আমাদের দেশে করোনার ভয়াবহতা পরিলক্ষিত হবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে মৃত্যুর হার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

করোনা সংক্রমণ রোধে লকডাউনের কার্যকারিতা:

৫ই এপ্রিল ২০২১ থেকে আবার কঠোর লকডাউন জারি করা হলে গত প্রায় এক মাস যাবৎ বাংলাদেশে কোভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণের হার অনেক কমে গেছে। একথা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে সরকার বিশাল সংখ্যার মানুষের জীবিকার কথা চিন্তা করে কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করছে। লকডাউনের সময় সুরক্ষা বিধিমালা মানার শর্তে যেমন কল-কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে, ঠিক তেমনি লকডাউনের দুই সপ্তাহ পরে একই শর্তে দোকানপাট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। লকডাউনের শুরুর দিকে সংক্রমণের হার ছিল ২২ থেকে ২৫ শতাংশ। সেই হার এখন ৬/৭ শতাংশে নেমেছে। এমনকি মৃত্যুর হারও অনেক কমেছে। এ থেকে এটি স্পষ্ট যে কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ হার কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হচ্ছে লকডাউন। সবার সহায়তায় এবং সরকারের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার কারণে লকডাউনের ফলে সরকারের পক্ষে সংক্রমণের চেইনটিকে ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ভারতে আবিষ্কৃত করোনার ডাবল বা ট্রিপল মিউটেন্ট ভাইরাসের সংক্রমণের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করা। এই ভাইরাস যেন বাংলাদেশের না ঢুকতে পারে সেটি নিশ্চিত করার জন্য সরকার এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে ভারতের সঙ্গে ২৮ দিনের জন্য সব বর্ডার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। যদিও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এই ভ্যারিয়েন্টটি স্বীকৃতি প্রদান করেনি তবে তারা এটা স্বীকার করেছে যে ইন্ডিয়ার এই ভ্যারিয়েন্ট ভাইরাস প্রায় ১৭টি জায়গায় পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ যেহেতু ঘনবসতিপূর্ণ দেশ, এই ভ্যারিয়েন্ট যদি আমাদের দেশে বিস্তার পায় তাহলে আমাদের অবস্থাও ভারতের মতোই হবে। 

 
cover
দেশের বিভিন্ন জেলায় লকডাউন দিয়েও ঠেকানো যায়নি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি। অন্যান্য জেলার তুলনায় উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তবর্তী এবং আশপাশের জেলাগুলোতে করোনার সংক্রমণ অপেক্ষাকৃত বেশি হয়েছে। রাজশাহী, খুলনা, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, নোয়াখালী, কুড়িগ্রাম, মাগুরা, দিনাজপুর প্রভৃতি সীমান্তবর্তী এবং সেসবের আশেপাশের জেলাগুলিতেও সংক্রমণ অপেক্ষাকৃত বেশি ছিল। আবার গত ২৫ মে লকডাউন তুলে দেয়া হলে জুনের মাঝামাঝি সময়ে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার আশংকাজনকভাবে বাড়তে থাকে আর ২৮ জুন থেকে সরকার আবারো লকডাউন ঘোষণা করে। আবার ১৫ জুলাই থেকে লকডাউন তুলে নেয়া হয় ইদ উল আযহার কারণে. ইদের পরপরই ২৩ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ ও লকডাউন দেয়া হয়। তবে ১১ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী কঠোর বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে সরকার। বর্তমানে সারা দেশে গণপরিবহনসহ খুলে গেছে সকল দোকানপাট ও শপিংমল। আগামী ১৯ আগস্ট থেকে দেশের সকল পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। 
টিকাদান কর্মসূচি ও করোনা রোধকরণ:

বাংলাদেশে এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা কোভিডের টিকা নিয়েছেন তাদের তুলনায় যারা নেননি তাদের মধ্যে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার ১০ গুণ বেশি। সরকারের রোগতত্ব, রোগ-নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআর এই গবেষণা চালিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসের আটটি টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। এগুলো হল: ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড, রাশিয়ার তৈরি স্পুৎনিক-ভি, চীনের সিনোফার্মের তৈরি টিকার বিবিআইবিপি-সিওরভি (BBIBP-CorV), চীনের সিনোভ্যাকের টিকা করোনাভ্যাক, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি ফাইজার ও জার্মান জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানি বায়োএনটেকের তৈরি করা কোমির্নাটি, মডার্নার স্পাইকভ্যাক্স, জনসন অ্যান্ড জনসনের জ্যানসেন কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন এবং চীনের ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল বায়োলজি অব দ্য চাইনিজ একাডেমি অব মেডিকেল সায়েন্স (আইএমবি ক্যাম্পস) উদ্ভাবিত নতুন একটি টিকা, যা এখনও পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর্যায়ে রয়েছে। ৭ ফেব্রুয়ারী থেকে দেশে শুরু হয় গণ টিকা কার্যক্রম। চলতি মাসেই যা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল গুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। এপর্যন্ত দেশে ভ্যাকসিন প্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা দেড় কোটি। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের তথ্য বলছে এবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ভ্যাকসিন এসেছে ১৯ দফায়। অ্যাস্ট্রোজেনেকা, ফাইজার, মর্ডানা ও সিনোফার্ম সহ মোট ৪ ধরনের ভ্যাকসিন পেয়েছে বাংলাদেশ। মোট প্রাপ্ত ভ্যাকসিনের সংখ্যা ২ কোটি ৮৩ লাখ ৪৩ হাজার ৯২০ ডোজ। 
cover
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে দুই ডোজ টিকা নেওয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির হার ৭ শতাংশ। আর টিকা না নেওয়া রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির হার ২৩ শতাংশ।
তবে ব্যাপারটি এরকম নয় যে টিকা দেয়ার সাথে সাথেই সেটি কার্যকর হবে। বিশেশজ্ঞদের তথ্যমতে টিকা দেবার পর মানবদেহ করোনাভাইরাসের জেনেটিক উপাদানগুলো চিনে নিতে এবং এ্যান্টিবডি ও টি-সেল তৈরি করতে বেশ খানিকটা সময় নেয়। তারপরই এগুলো ভাইরাসের দেহকোষে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বা আক্রান্ত কোষগুলোকে আক্রমণ করতে শুরু করে। "টিকার পুরো কার্যকারিতা তৈরি হতে কমপক্ষে দু-সপ্তাহ বা সম্ভবত আরো বেশি সময় লাগে" - বলছেন ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ইমিউনোলজিস্ট অধ্যাপক ড্যানি অল্টম্যান।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে দুই ডোজ টিকা নেওয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির হার ৭ শতাংশ। আর টিকা না নেওয়া রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির হার ২৩ শতাংশ। গবেষণায় আরো দেখা গিয়েছে, বাংলাদেশে টিকা না নেয়া যেসব মানুষ কোভিডে আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের মধ্যে ৩ শতাংশ রোগী মারা যান, অর্থাৎ প্রতি একশ জনে তিনজন। আর টিকা নেয়ার পরও যারা আক্রান্ত হন, তাদের মধ্যে মৃত্যুহার মাত্র ০.৩ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি এক হাজার জনে তিনজন। ১লা অগাস্ট প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়, টিকা নেয়ার আগে যারা কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের হাসপাতালে ভর্তির হারও টিকা গ্রহণের পর আক্রান্তদের তুলনায় বেশি। টিকা নেয়ার আগেই যারা কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে ২৩ শতাংশকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। আর যারা পূর্ণ ডোজ টিকা নেয়ার পর কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে ৭ শতাংশকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। যারা অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত তাদের মধ্যে যারা টিকা নেননি এমন কোভিড রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির হার আরো প্রায় ৩২ শতাংশ! পক্ষান্তরে, যারা টিকা নিয়েছেন কিন্তু অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত এমন কোভিড রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির হার মাত্র ১০ শতাংশ। গবেষণায় দেখা যায় যে, টিকা না নেয়া আক্রান্ত রোগীরা টিকা নেয়া রোগীদের তুলনায় শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত জটিলতায়ও বেশি ভুগে থাকেন। এই হার টিকা না নেয়া রোগীদের ক্ষেত্রে ১১ শতাংশ এবং টিকা নেয়া রোগীদের ক্ষেত্রে ৪ শতাংশ। গবেষণায় অংশ নেয়া টিকা না দেয়া আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৩ শতাংশের আইসিইউ এ ভর্তির দরকার হয়েছিল। আর পূর্ণ ডোজ টিকা নেয়ার পর মাত্র এক শতাংশ রোগীর আইসিইউ দরকার হয়েছিল।

দেশে এখন পর্যন্ত টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে সাড়ে তিন শতাংশ মানুষকে এবং দুটি পূর্ণ ডোজ দেওয়া হয়েছে মাত্র দুই দশমিক সাত শতাংশকে। এখন পর্যন্ত সর্বসাকুল্যে এক কোটির কিছু বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে। দেশে এখন মজুদ আছে প্রায় ৫৬ লাখ ডোজ টিকা, যা দিয়ে আরও ২৮ লাখ মানুষকে টিকার দুটি পূর্ণ ডোজ দেওয়া যাবে। দেশের ৭০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনতে আরও ১০ কোটি মানুষের জন্য ২০ কোটি ডোজ টিকা দরকার। গত চার মাসে দেশজুড়ে টিকা দেওয়া হয়েছে মাত্র এক কোটি ডোজ। এই গতিতে টিকাদান কর্মসূচি চললে ২০ কোটি ডোজ টিকা দিতে সময় লাগবে সাড়ে ছয় বছর। অতএব স্বাভাবিক ভাবেই দৈনিক টিকা দেওয়ার গতি বাড়াতে হবে বহুগুণ।
দেশে এখন পর্যন্ত টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে সাড়ে তিন শতাংশ মানুষকে এবং দুটি পূর্ণ ডোজ দেওয়া হয়েছে মাত্র দুই দশমিক সাত শতাংশকে। এখন পর্যন্ত সর্বসাকুল্যে এক কোটির কিছু বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে। দেশে এখন মজুদ আছে প্রায় ৫৬ লাখ ডোজ টিকা, যা দিয়ে আরও ২৮ লাখ মানুষকে টিকার দুটি পূর্ণ ডোজ দেওয়া যাবে।
পরিশেষে বলা যায় যে বাংলাদেশে বর্তমানে করোনা সংক্রমণ রোধে লকডাউন ও টিকা প্রদান খুবই উপযুক্ত ভূমিকা রাখছে। তবে লকডাউন দিয়ে সাময়িকভাবে সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও সামগ্রিকভাবে মৃত্যু কমানো সম্ভব নয়। কেননা, করোনাভাইরাস সহসা পৃথিবী ছেড়ে যাচ্ছে না এবং একটি ঢেউয়ের পর আরেকটি ঢেউ আসতেই থাকবে। আমরা জানি, একটি দেশের করোনা সংক্রমণের হার থেকেই এর বিস্তৃতি ও ভয়াবহতা বোঝা যায়। সেদিক থেকে ৩১ শতাংশের বেশি সংক্রমণের হার বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে দুঃসংবাদ। আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছি, মৃত্যুর সংখ্যা ও সংক্রমণের হার যত বেড়েছে এর চিকিৎসা ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনাও তত প্রকট হয়েছে। কঠোর লকডাউন দেওয়া হলেও মানুষ যথাযথভাবে তা মানছে না। দেশের মানুষকে দ্রুত টিকার আওতায় না এনে শুধু লকডাউনের ওপর নির্ভর করলে, সারা বছরই লকডাউন দিয়ে বসে থাকতে হবে। এতে জনজীবন অচল হয়ে পড়বে, ভেঙে পড়বে অর্থনীতি এবং শিক্ষাব্যবস্থা।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত বড় পরিসরে দেশব্যাপী কোনো সেরোসার্ভে চালানো হয়নি। আইইডিসিআর এবং আইসিডিডিআরবির পক্ষ থেকে যে দুটো সেরোসার্ভে চালানো হয়েছে তা শুধুমাত্র ঢাকা শহর এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের বস্তি এলাকার মানুষের শরীরে করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডির তথ্য দেয়। কোনোভাবেই তা গোটা দেশের সেরোপ্রিভ্যালেন্সের চিত্র তুলে ধরে না। মহামারির এই ১৬ মাসেও আমরা জানতে পারলাম না দেশের শহর এবং গ্রামাঞ্চলে কোভিডের সেরোপ্রিভ্যালেন্স কোন অবস্থায় রয়েছে। তবে সেরোসার্ভাইল্যান্সের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা হয়েছিল মহামারির একদম শুরুতেই। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র করোনাভাইরাসের একটি অ্যান্টিবডি টেস্ট কিট নিয়ে সামনে এগিয়ে আসলেও যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তা আর আলোর মুখ দেখেনি। দেশে উদ্ভাবিত এই কিট সময়মতো বাজারে আনতে পারলে হয়তো আজ স্বল্প খরচেই দেশে সেরোসার্ভে চালিয়ে দেশের মানুষের ইমিউন স্ট্যাটাস বা সেরোপ্রিভ্যালেন্স জানা যেত। 

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021