ক্যানসারের চিকিৎসায় বিপুল দেনায় স্বামী, ফ্ল্যাটে সস্ত্রীক ‘আত্মহত্যা!
আন্তর্জাতিক
ক্যানসারের চিকিৎসায় বিপুল দেনায় স্বামী, ফ্ল্যাটে সস্ত্রীক ‘আত্মহত্যা!
ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পুলিশ দেখে, এসি চলছে। শোয়ার ঘর প্রবল ঠান্ডা। বিছানায় পড়ে আছে পাশাপাশি দু’টি মরদেহ! তার আগে মঙ্গলবার সকালে বাঁশদ্রোণী থানায় একটি ইমেইল আসে। তাতে বলা হয়, ‘আমাদের সময় শেষ। আমরা চাই না, আমাদের মৃত্যু নিয়ে কোনও আলোচনা হোক।’ এমন একটি ইমেল আসার পরে আত্মহত্যা রুখতে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে পুলিশ। বাসাও খোঁজে পায় পুলিশ।
যুগলের পরিচয়
মৃতদের নাম হৃষীকেশ পাল ও রিয়া সরকার। দু’জনেরই বয়স তিরিশের কোঠায়। পুলিশের ধারণা, তারা আত্মহত্যা করেছেন। তাদের মোবাইল থেকে নম্বর নিয়ে আত্মীয়-বন্ধুদের খবর দেয় পুলিশ। হৃষীকেশের বাড়ি ছিল আরামবাগে। তার বাবা-মা বহু দিন আগেই মারা গিয়েছেন। এক দিদিও মারা যান ক্যানসারে। রিয়া থাকতেন কেষ্টপুরে। বাবা মারা যাওয়ার পরে তার মা রিয়ার বোনকে নিয়ে সেখানেই থাকেন। বোন বাবার চাকরি পেয়েছেন। 
আত্মহত্যার নেপথ্যে
২০১৯ সালে রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয় হৃষীকেশের। হৃষীকেশ আগে একটি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থায় কাজ করতেন। কিন্তু চাকরি পাকা হওয়ার আগেই হাইওয়েতে গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়েন তিনি। হাতে ও চোখে গুরুতর চোট লাগে। ফলে চাকরি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। চিকিৎসায় খরচ হয় মোটা টাকা। এরপরে রক্তের ক্যানসার ধরা পড়ে হৃষীকেশের। রিয়া একটি পার্লারে কাজ করতেন। পরে হৃষীকেশের সঙ্গে ব্রহ্মপুরে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। রেজিস্ট্রি করে বিয়েও সারেন তারা। এরই মধ্যে লকডাউনে শুরু হয় প্রবল আর্থিক অনটন। ক্যানসারের চিকিৎসা চালাতে নানা জায়গা থেকে হৃষীকেশ ও রিয়া টাকা ধার করেন বলে পুলিশ জেনেছে। সব মিলিয়ে তাদের প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার দেনা রয়েছে।
চিকিৎসকের বক্তব্য
ক্যানসার চিকিৎসক সুবীর গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ পরিণতি জেনেও যখন স্বেচ্ছায় একসঙ্গে থাকতে চাইছেন, তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ানোটা সামাজিক অশিক্ষা। এই প্রবণতা বন্ধ হোক। ক্যানসার রোগীকে দূরে না ঠেলে বেশি করে পাশে দাঁড়ানো উচিত। এই ব্যাধির সঙ্গে লড়েও বিয়ে করার বা এমনিই একসঙ্গে থাকার প্রচুর উদাহরণ দেখেছি। এটাও তেমনই। কিন্তু শেষে লড়াই ছেড়ে আত্মহত্যাটা মানা যায় না।
আন্তর্জাতিকভারত
আরো পড়ুন