রায়োনসং রেসিডেন্স: 'ক্ষেপাটে' রাষ্ট্রপতির রহস্যঘেরা এক রাজপ্রাসাদ
আন্তর্জাতিক
রায়োনসং রেসিডেন্স: 'ক্ষেপাটে' রাষ্ট্রপতির রহস্যঘেরা এক রাজপ্রাসাদ
কিম জং উন
কিম জং উন
বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় ব্যক্তিদের একজন ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার ফার্স্ট সেক্রেটারি, উত্তর কোরিয়ার কেন্দ্রীয় সেনা কমিশন ও জাতীয় প্রতিরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান এবং কোরিয়ান পিপলস আর্মির সুপ্রিম কমান্ডার এবং উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি কিম জং উন। পৃথিবীর সবচেয়ে সুরক্ষিত ব্যক্তিদের মধ্যেও তিনি অন্যতম। গত বছর উত্তর কোরিয়ার প্রথম হাইড্রোজেন বোমার সফল পরীক্ষা চালানোর নায়কও তিনি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হুমকি, চাপ, ভাবনা নিয়ে তার তেমন মাথাব্যথা নেই। কারণ কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই জীবনযাপন করেন এই রহস্যময় প্রেসিডেন্ট। এখন পর্যন্ত বিশ্বনেতাদের বুড়ো আঙুল দেখাতে কার্পণ্য করেননি তিনি। রহস্যময় এই নেতার জীবনকে যদি একটি বই হিসেবে ধরা হয়, তবে তার প্রতিটি পাতায় পাওয়া যাবে রোমাঞ্চ আর অবাক করার মতো হাজারও তথ্য। তবে আজ আমরা আলোচনা করবো এই প্রেসিডেন্টের বাসভবন নিয়ে। কতটা নিরাপদ এই রাজপ্রাসাদ? কী রয়েছে এর ভেতরে? 
ছবি: গুগল
ছবি: গুগল
কিম জং উনের বাড়িটিকে বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উত্তর কোরিয়ার পিয়ং ইয়ং সিটিতে অবস্থিত কিং জংয়ের বাড়িটির নাম 'রায়োনসং রেসিডেন্স'। বাড়িটির চারপাশ জুড়েই রয়েছে নিরাপত্তার দেয়াল। তবে এটি সাধারণ কোনো দেয়াল নয়, এখানেও ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক সব পদ্ধতি। লোহার খাঁচার মাঝখানে গলিত কনক্রিট দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এই বাড়ির চারপাশের দেয়াল। যেকোনো ধরণের আক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম এই দেয়ালটি।
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
শুধু আক্রমণ নয়, স্বয়ং নিউক্লিয়ার রিয়েকশনেও এই বাড়িটির কোনো ক্ষতি হবে না বলে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞরা। যেকোনো দুর্ঘটনাতেই এই বাড়ির ভেতরে অবস্থান করা প্রতিটি সদস্য থাকবেন পুরোপুরি সুস্থ। কিম জং উনের এই প্রাসাদটিকে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরে রেখেছে প্রাসাদের অতন্দ্র সব প্রহরী। সন্দেহজনক কিছু আন্দাজ করতে পারলেই তারা সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিতে সদা প্রস্তুত থাকেন। 
প্রাসাদের ভেতরের দৃশ্য (ছবি: ইন্টারনেট)
প্রাসাদের ভেতরের দৃশ্য (ছবি: ইন্টারনেট)
অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য এই বাড়ির চারপাশে পুঁতে রাখা হয়েছে প্রাণঘাতী মাইন। যেগুলোর অবস্থান শুধু সেখানে নিয়োজিত সীমিত সংখ্যক মানুষেরই জানা। বাইরের কোনো মানুষের এসব তথ্য সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই। তাই অচেনা কেউ এই বাড়ির আশেপাশে যাওয়ার চেষ্টা করলেই নির্ঘাত মৃত্যুর সাথে সাক্ষাৎ করতে হবে।
এদিকে, কিম জং উনের বাসার চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপত্তা প্রাচীরটির মধ্যে দেয়া হয়েছে বৈদ্যুতিক সংযোগ। পুরো এলাকাজুড়ে রয়েছে উত্তর কোরিয়ান মিলিটারির বিভিন্ন ইউনিটের অসংখ্য নিরাপত্তা চৌকি। এতগুলো বলয় পেরিয়ে বাড়িটিতে প্রবেশ করা রীতিমতো অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু যদি কেউ প্রবেশের চেষ্টা করে সফলও হন, তবে তিনি আর এই বাড়ি থেকে বের হতে পারবেন না। কারণ অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটার আগেই বেজে উঠবে বাড়ির নিরাপত্তা এলার্ম। 
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
আর এলার্ম বাজার সাথে সাথেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়বে বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস। যা নাকে আসার সাথে সাথেই ডেকে আনবে নির্ঘাত মৃত্যু। এখানেই এই রহস্যময় প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার শেষ নয়। তার এই প্রাসাদের ভেতরে আছে বেশকিছু গোপন সুড়ঙ্গপথ। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, কিম জং উনের বাসভবনটির নিচে রয়েছে একটি আন্ডারগ্রাউন্ড রেলস্টেশন। যা দিয়ে বিপদের সময় তিনি চাইলেই পুরো পরিবার নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে লাপাত্তা হয়ে যেতে পারেন। 
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
অন্যদিকে, শুধু নিরাপত্তাই এই প্রাসাদের বিশেষত্ব নয়। এতো নিরাপত্তার মধ্যেও এই প্রাসাদে রয়েছে বিলাসিতা এবং সৌন্দর্যের ছোঁয়া। রায়োনসং রেসিডেন্স সাজানো হয়েছে নানারকম দামী আসবাবপত্র দিয়ে। এছাড়াও এর মধ্যে রয়েছে বাগান এবং মানুষের তৈরি কৃত্রিম লেক। সেই সঙ্গে এখানে বিনোদনের নানারকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাঁতারের জন্য রয়েছে সুবিশাল সুইমিংপুল। সুইমিংপুলে আবার রয়েছে ওয়াটার স্লাইডিংসহ বেশকিছু বিনোদনের ব্যবস্থা। 
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
বাড়িটির ভেতরে দৌঁড়ানোর জন্য বিশাল ট্র্যাকফিল্ডসহ রয়েছে বিশাল খেলার মাঠ। শুধু তাই নয়, ঘোড়ার রেসিং ট্র্যাক, শুটিং ক্লাবসহ আরও বেশকিছু সুযোগ সুবিধা রাখা হয়েছে এই প্রাসাদের ভেতর। জানা যায়, কিম ইল সাং-এর শাসনামলে এই প্রাসাদটি নির্মাণ করা হয়। এই প্রাসাদটি তৈরি করেছে কোরিয়ান পিপলস আর্মির কন্সট্রাকশন ব্রিগেড। আর এই প্রাসাদটির পুরো কাজ সম্পন্ন হয় ১৯৮৩ সালে।
আন্তর্জাতিকএক্সক্লুসিভউত্তর কোরিয়া
আরো পড়ুন