রান্নার জ্বালানি থেকে বায়ু দূষণ, বাড়ছে শিশু মৃত্যুহার
জাতীয়
রান্নার জ্বালানি থেকে বায়ু দূষণ, বাড়ছে শিশু মৃত্যুহার
গৃহস্থালির বায়ু দূষণ (HAP) নিম্ন এবং নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে (LMICs) একটি উল্লেখযোগ্য জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ। এটি বেশ কয়েকটি কারণে ঘটে থাকে তবে, রান্নার জ্বালানীর ব্যবহারে যেমন: পিট, কাঠ এবং কয়লা’তে সবচেয়ে বেশি। বিশ্বব্যাপী প্রায় ২.৬ বিলিয়ন মানুষ রান্নার জন্য অনিরাপদ জ্বালানি ব্যবহার করে এবং তাদের বেশিরভাগই LMICs-এ বাস করে।
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
যার মধ্যে ৪৫% কাঠ এবং ২৭% কৃষি জ্বালানী ব্যবহার করে। এটি অল্পবয়সী শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে যা বাংলাদেশে বর্তমান পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর উচ্চ মৃত্যুহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। অনিরাপদ জ্বালানি ব্যবহার করার জন্য ৭৯% মায়েরা মাঝারি ভাবে (Moderately) এবং ১.২১% মায়েরা উচ্চভাবে হাউজহোল্ড এয়ার পলিউশন এর সাথে সম্পৃক্ত। এই গবেষণায় পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। এক মাসের কম বয়সী শিশু যাদের মৃত্যুহার ১০০০ এ ২৫%, এক বছরের নিচের বয়সী শিশু যাদের মৃত্যুহার ৩৫%, এবং পাঁচ বছরের নিচের বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার ৩৮%। এছাড়াও এই গবেষণায় দেখা যায় যেসব শিশুদের মায়ের বয়স ২৫-৩৫ এর মধ্যে এবং যারা দরিদ্র তাদের শিশুদের তিন স্তরেই মৃত্যুহার বেশি। যেসব মায়েরা নিরাপদ জ্বালানি ব্যবহার করে তাদের তুলনায় যারা অনিরাপদ জ্বালানি ব্যবহার করে তাদের শিশুদের (০-১ মাস বয়সী) মৃত্যুহারের সম্ভাবনা ৩.৪৪গুন বেশি এবং ১২ মাস বা ১ বছরের নিচে বয়সী শিশুদের মৃত্যুহারের সম্ভাবনা ২.৩৯গুন বেশি। 
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, যেসব মায়েরা হাউজহোল্ড এয়ার পলিউশন এর সাথে সম্পৃক্ত নয় তাদের তুলনায় যারা উচ্চ ভাবে সম্পৃক্ত তাদের শিশুদের (০-১ মাস বয়সী) মৃত্যুহারের সম্ভাবনা ৪.৩৩ গুন বেশি এবং ১২ মাস বা ১ বছরের নিচে বয়সী শিশুদের মৃত্যুহারের সম্ভাবনা ২.০৫ গুন বেশি। এর কারণ হলো, প্রায়ই দেখা যায় রান্নার কাজে জড়িত বা রান্না করার সময় মায়েদের সাথে তাদের ছোট বাচ্চারা থাকে। এটির সত্যতা এবং কম ওজনের জন্মের ও প্রি—টার্ম জন্ম সহ অন্যান্য প্রতিকুল ফলাফল দেখা গেছে গত এক দশক আগে সংগৃহীত তথ্যের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত বাংলাদেশের পূর্ববর্তী গবেষণায়। এছাড়াও গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে প্রাথমিক বা মাধ্যমিক শিক্ষিত, মাঝারিভাবে গণমাধ্যমের সংস্পর্শে আসা ও দরিদ্র মায়েদের বাচ্চাদের মধ্যে নবজাতক, এক বছরের নিচের শিশু এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী মৃত্যুর হার বেশি দেখা গেছে এবং এই মৃত্যুহার মেয়ে শিশুদের তুলনায় ছেলে শিশুদের মধ্যে বেশি। 
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
পাঁচ বছরের কম বয়সী এই তিন স্তরের শিশুদের মৃত্যুর একটি উচ্চতর অংশ গ্রামীণ এলাকা, রংপুর ও ঢাকা বিভাগের মায়েদের শিশুদের মধ্যেও পাওয়া গেছে।  গবেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশে নবজাতক যাদের বয়স এক মাসের নিচে এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ব্যবহৃত অনিরাপদ জ্বালানি। নিরাপদ জ্বালানি ব্যবহার বাড়ানোর জন্য প্রশাসনিক কৌশলগত উদ্যোগ গুলোকে জাতীয় স্তরের নীতি এবং নির্ধারণে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন । মানবস্বাস্থ্যের উপর ব্যবহৃত অনিরাপদ জ্বালানির বিরূপ প্রভাব, বিশেষ করে শিশু স্বাস্থ্য, মায়েদের তাদের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের রান্নার জায়গায় না আনতে অনুপ্রাণিত করার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত। 
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
গবেষকরা হলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের মোঃ বাদশা আলম, সুপ্রিয়া আচার্য্য, এসএম.আশিক মাহমুদ, জেসমিন আক্তার তানিয়া, মোঃ মোস্তারিদ আলী খান, মোঃ সাইফুল ইসলাম, ড.মোঃ নুরুজ্জামান খান। উল্লেখ্য যে, ২০০০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে MDG উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সময়কালে পাঁচ বছরের কম বয়সী মৃত্যুহার কমাতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। SDG-3 এর লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী (প্রতি ১০০০ জীবিত জন্মে ২৫%) এবং নবজাতকের (১০০০ জীবিত জন্মে ১২%) মৃত্যুর হার হ্রাস করা। গবেষকরা মনে করেন এই গবেষণার ফলাফল SDG এর লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখবে।
রিপোর্টার:  শাহাদত হোসেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
জাতীয়বিশেষ প্রতিবেদনগবেষণা
আরো পড়ুন