সাতক্ষীরার বাউলকন্যা আসমা এখন ম্যাজিস্ট্রেট!
এক্সক্লুসিভ
সাতক্ষীরার বাউলকন্যা আসমা এখন ম্যাজিস্ট্রেট!
বাবা-মার সাথে আসমা, ছবি: ইন্টারনেট
বাবা-মার সাথে আসমা, ছবি: ইন্টারনেট
আমার বাবা মোতাহার হোসেন মন্ডল বাউল সম্প্রদায়ের একজন ব্যক্তি। আমাদের পরিবারে স্বচ্ছলতা ছিলো না। কিন্তু আমাদের ইচ্ছা ছিলো, আমাদের পথ আমরাই তৈরি করবো। কেউ যেন আমাদের পথ তৈরি করে না দেয়। এভাবেই নিজের অনুভূতি জানাচ্ছিলেন ৪০তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত বাউলকন্যা আসমা আক্তার মিতা। অভাবের মাঝেও খেয়ে না খেয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি। টিউশনি আর বৃত্তির টাকায় বই কিনে পড়ালেখা করেছেন ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত।সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম কিসমত ইলিশপুরের বাসিন্দা আসমার বাবা মোতাহার হোসেন মন্ডল একজন আধ্যাত্মিক সাধক মারফতি ফকির।  বাবার অভাবের সংসারেরও দ্যুতি ছড়িয়েছেন আসমা। গত (৩০ মার্চ) দুপুরে ৪০ তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর দেখা গেছে আসমা আক্তার মিতা ৪০ তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারে হয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট। আসমা জানান, তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে এই সফলতা অর্জন করেছেন। তিনি যেন কর্ম জীবনে নিজেকে সততার সাথে উৎসর্গ করে দেশের জন্য ও জনগনের কল্যানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন তার জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।
পরিবারের সদস্যদের সাথে আসমা, ছবি: ইন্টারনেট
পরিবারের সদস্যদের সাথে আসমা, ছবি: ইন্টারনেট
তিন ভাইবোনের মধ্যে আসমা খাতুন ছোট। একমাত্র ভাই ফয়সাল হোসেন রিকো ক্লাস ১০ পর্যন্ত পড়লেও এসএসসি পরীক্ষা দেননি। বর্তমানে সামান্য বেতনে বাস মালিক সমিতির স্টাটারের কাজ করে। সে সকলের বড়। বড় বোন রেশমা আক্তার লতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ২০১৫ সালে মাস্টার্স শেষ করেন। বর্তমানে তিনি চাকরি খুঁজছেন। আসমা আক্তার মিতা কলারোয়ার কে কে ইপি সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে এসএসসি পরিক্ষা দেন। এবং কাজিরহাট ড্রিগ্রি কলেজ থেকে ২০১২ সালে এইচএসসি পাশ করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আসমার। আসমার পিতা সুফি বাদ তরিকার সাধক দরবেশ মুহাঃ মোতাহার হোসেন জানান, কষ্ট করে মেয়েকে লেখাপড়া করিয়ে আজ আল্লাহর রহমত ও সকলের দোয়ায় এই সফলতা পেয়েছি। এবং তাদের মেয়ে যেন আরো বড়ো হয়ে এলাকায় মুখ উজ্জ্বল করতে পারে দেশের ও জনগনের কল্যানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন তার জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। আসমার মা বলেন, ভাত রান্না করে মেয়ের পাশে বসে থেকেছি। মেয়ে আমার সারারাত পড়েছে। আমিও রাত জেগেছি। কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাঃ জুবায়ের হোসেন চৌধুরী জানান, কলারোয়া উপজেলার ইলিশপুর গ্রামের মেধাবী ছাত্রী আসমা আক্তার ৪০ তম বিসিএস এডমিন ক্যডারে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন তার প্রতি রইল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে শুভ কামনা। জনগণের প্রতি সরকারি আমলাদের প্রতি বিশ্বাস রেখে তাদের কাছে নিজেদের সমস্যা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন আসমা। নিজেও প্রতিজ্ঞা করেছেন মানুষের সেবা করে যাওয়ার। 
এক্সক্লুসিভসাতক্ষীরা
আরো পড়ুন