এক্সক্লুসিভ
১০ টাকার চিতই পিঠায় ৩০ পদের ভর্তা!
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতে সারা বছরই পিঠা বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে শীতকালে পিঠা বিক্রির অনেক বেড়ে যায়। সন্ধ্যার পর থেকেই এসব পিঠার দোকানে ভিড় করে পিঠা প্রেমীরা। ফুটপাতে যে কয়েক রকমের পিঠা বিক্রি হয় তার মধ্যে চিতই অন্যতম। রাজধানীর বাবুবাজার ব্রিজের নিচে পিঠা বিক্রি করেন মামুন। তিনি বলেন, আমরা দুই ভাই মিলে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে দোকান সাজাই এবং সন্ধ্যার পর ক্রেতাদের সমাগমে জমজমাট হয়। আমি ও আমার ভাই মিলে প্রতিদিন এখানে পিঠা বিক্রি করি। আমাদের ইমামগঞ্জে আরেকটি দোকান রয়েছে। সেখানে আমার বাবা পিঠা বিক্রি করেন। দুই দোকানে মিলে প্রতিদিন প্রায় ৬২ কেজি চাল দিয়ে পিঠা তৈরি করে বিক্রি করি। তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি চিতই পিঠা ১০ টাকা দরে বিক্রি করি তার সঙ্গে ৩০ পদের ভর্তা ফ্রি দেই। যার যে রকম পছন্দ সে রকম ভর্তা দিয়ে পিঠা খেয়ে থাকেন। ভর্তার জন্য আলাদা টাকা দিতে হয় না। বিভিন্ন পদের ভর্তা খাওয়ার জন্যই মানুষ এখানে ভিড় করেন। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পিঠা বিক্রি করি। আমরা পিঠার সঙ্গে ফ্রি দিচ্ছি, শুঁটকি ভর্তা, ধনেপাতা ভর্তা, কালিজিরা ভর্তা, মরিচ ভর্তা, আলু ভর্তা, পেঁয়াজ ভর্তা, বেগুন ভর্তা, শিম ভর্তা, নোনা ইলিশ ভর্তা, চিংড়ি মাছ ভর্তা, বাদাম ভর্তা ইত্যাদি। ৩০ রকমের ভর্তা দিয়ে পিঠা খেতে মানুষ সন্ধ্যার পর থেকেই ভিড় করেন মামুনের পিঠার দোকানে। আবার অনেককে এই দোকান থেকে পরিবারের সদস্যদের জন্য পিঠা নিয়ে যেতে দেখা যায়। বৃহস্পতিবার (০৬ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, মামুনের পিঠার দোকানে পিঠা খেতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় করছেন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা আতিকুর রহমান জানান, প্রায় দিনই এখানে পিঠা খেতে আসি। মামুনের দোকানে ৩০ পদের ভর্তা দিয়ে পিঠা খাওয়া যায়। তাইতো মনে হয় বাড়িতে বানানো পিঠাই খাচ্ছি। স্থানীয় দিনমজুর হাফিজ মিয়া জানান, সারাদিন কাজ করে সন্ধ্যা হলেই এখানে পিঠা খাওয়ার জন্য চলে আসি। বিভিন্ন রকম ভর্তা দিয়ে পিঠা খাই। বেশ ভালো লাগে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীর ফুটপাতে পিঠার ব্যবসা জমে উঠেছে। এগুলোর মধ্যে কিছু ভালোমানের এবং কিছু নিম্নমানের রয়েছে। মূল সড়কের পাশেই ফুটপাতে পিঠা তৈরির সময় অনেক সময় ধুলোবালি মিশে যায়। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।  
এক্সক্লুসিভ
আরো পড়ুন