গণিতে সন্তানের আতঙ্ক? উত্তরণের ৪ উপায়
জীবনযাপন
গণিতে সন্তানের আতঙ্ক? উত্তরণের ৪ উপায়
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
গণিত এমন একটা বিষয় যা দেখলেই অনেক শিশুর ঘুম হারাম হয়ে যায়। কিন্তু গবেষণায় দেখা যায়, গণিতের প্রতি এই ভীতি ছোট বয়সেই কাটিয়ে দেয়া প্রয়োজন। আর তা কিন্তু খুব কঠিন কাজও নয়। একসময় গণিত নাম শুনেই আতঙ্কিত হয়ে পড়া এবং বিদ্যালয়ে গণিত বিষয়ে বারবার অকৃতকার্য হওয়া এক শিশুও কিন্তু জীবনের এক পর্যায়ে বিজ্ঞানী হয়ে বিশ্ব দরবার কাঁপিয়েছেন। তিনি আর কেউ নন, তিনি অ্যালবার্ট আইনস্টাইন। ফলে বলাই যায়, আপনার সন্তানের ক্ষেত্রেও কিছু কৌশল অবলম্বন করলেই এই ভীতি দূর করা সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন অভিভাবকদের ধৈর্য এবং সহানুভূতি। সন্তানের গণিত ভীতি দূর করতে অভিভাবকগণ যে ৪ পন্থা অবলম্বন করতে পারে, তাই আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়।
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
সন্তানের গণিত-ভীতি দূর করার ৪ উপায়
  • আপনার ছোট্ট সন্তানটি গণিতে দুর্বল হলে তার সামনে নিজের গণিত-ভীতি প্রকাশ না করাই ভালো। আপনাকে মনে রাখতে হবে, আপনার সন্তান কিন্তু সাহায্যের জন্য সবসময় আপনার দিকেই চেয়ে থাকবে। আর এমন সময়ে আপনার উচিৎ তাকে নানাভাবে উৎসাহিত করা। তাই আপনি নিজেও যদি মনের ভেতর গণিত ভীতি নিয়ে থাকেন, তবে কখনোই তা নিজের সন্তানের সামনে বলবেন না। তার সামনে গণিত নিয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য না করে সবসময় চেষ্টা করবেন কিভাবে গণিতের ইতিবাচক দিকগুলো তার সামনে তুলে ধরা যায়, এতে তার মনের সাহস বাড়বে।
  • গণিতকে খেলাধূলার মাধ্যমে সন্তানের সামনে তুলে ধরুন। যাতে এই বিষয়টির প্রতি তার আকর্ষণ বাড়ে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ব্লক, ধাঁধা, কার্ড গেম এবং এমনকি ভিডিও গেম থেকেও গণিতের প্রতি সন্তানের বা ছোট্ট শিশুদের আগ্রহ বাড়ানো যায়। ঘরে নানা ধরনের গাণিতিক ধাঁধার মজার মজার সমাধান তাদের মাধ্যমে করানোর চেষ্টা করুন। খেলার আনন্দে ক্রমশ গণিতের প্রতি তাদের একটা টান তৈরি হবে। এই ধরনের খেলা শিশুর মস্তিষ্ককে আরও মসৃণ করে তোলে, সাথে তারা ধীরে ধীরে নিজেদের মস্তিষ্কের ব্যবহার করা শুরু করে। এছাড়াও শিশুরা যত বেশি লুডো, দাবা কিংবা সংখ্যাযুক্ত খেলায় নিজেদের যুক্ত করবে, গণিতে তারা ততবেশি সবল হয়ে উঠবে বলেই জানা যায়।
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
  • বাসার বিভিন্ন কাজকর্মের মধ্যে দিয়ে আপনার সন্তানের গণিত ভীতি ধীরে ধীরে কাটিয়ে ফেলতে পারেন। যেমন: একটি কেক তৈরিতে কত কেজি ময়দা, কতটুকু বেকিং পাউডার কিংবা কয়টা ডিম লাগবে তা নির্ণয় করতে দিন আপনার ঘরে থাকা শিশুকে। কিংবা আপনার ঘরের মেঝেতে কত বর্গফুটের কার্পেট প্রয়োজন এসব আলোচনা আপনার সন্তানের সাথে করুন। তাকে কার্পেটের পরিমাণ মনে রাখতে পরামর্শ দিন। এসব কাজের মধ্যে দিয়ে খুব অল্প বয়সেই সে যেমন নিজের গুরুত্ব বুঝবে, তেমনি অংক মনে রাখতে সে নিজের মাথা খাটানোও শুরু করবে।
  • বাসার সাপ্তাহিক বাজার কিংবা দৈনিক বাজারে আপনার সন্তানকে সাথে রাখার চেষ্টা করুন। কত কেজি মাছ বা কতটুকু চাল নিচ্ছেন তাকে দেখান। তাকে বুঝানোর চেষ্টা করুন কত গ্রামে ১ কেজি হয় বা ১০০ টাকায় ১ কেজি মাছ কেনা হলে ২ কেজি মাছ কিনতে কত টাকার প্রয়োজন। বাজার শেষে রসিদে লেখা মূল্য সঠিকভাবে যোগ করা হয়েছে কিনা তা নিয়ে তার সাথে আলোচনা করুন। এভাবে প্রাত্যহিক জীবনে গণিতের ব্যবহারগুলোর সাথে তাকে পরিচয় করিয়ে দিন। তাহলে দেখবেন, শুধু গণিত ভীতিই নয়, আপনার সন্তান ও এবং আপনার মধ্যে একটি পারস্পরিক সম্পর্কও তৈরি হবে।
জীবনযাপন
আরো পড়ুন