ইউক্রেন-রাশিয়া যে ইস্যুতে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে!
আন্তর্জাতিক
ইউক্রেন-রাশিয়া যে ইস্যুতে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে!
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
ব্যাপক যুদ্ধ উত্তেজনায় রয়েছে ইউরোপের দুই প্রতিবেশি দেশ ইউক্রেন-রাশিয়া। রাশিয়া ‘যেকোনো মুহূর্তে’ ইউক্রেনে হামলা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি বলেছেন, আমরা এখন এমন এক পর্যায়ে আছি, যেখানে রাশিয়া যেকোনো সময় ইউক্রেনের ওপর হামলা চালাতে পারে। এছাড়াও সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা বলছে, ইউক্রেনের পূর্ব সীমান্তে আনুমানিক এক লাখ রুশ সৈন্যের অবস্থান। মস্কো তার প্রতিবেশী দেশটির বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের মূলে আসলে কারণটা কী?
ইউক্রেন-রাশিয়ার দ্বন্দ্বের শুরু
নব্বইয়ের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে এর অন্যতম দুই অংশীদার রাশিয়া-ইউক্রেনের সম্পর্ক সব সময়ই একধরনের উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। একদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধান উত্তরসূরী হিসেবে রাশিয়া সবসময় ইউক্রেন সংক্রান্ত বিষয়কে নিজেদের মনে করেছে অন্যদিকে স্বাধীন দেশ হিসেবে ইউক্রেনের পশ্চিমা ঘেঁষা নীতি। স্নায়ুযুদ্ধকালীন বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে এসে ইউক্রেন মোটামুটি দু'পক্ষের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কৌশলে এগিয়ে চললেও ২০১৪ থেকে পরিস্থিতি বদলে যেতে থাকে, কিয়েভের তৎকালীন সরকার ইউরোর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বদলে রাশিয়ার পাল্টা প্রস্তাবে সায় দিলে সেখানে দানা বাঁধে ইউরোময়দান আন্দোলন, ক্ষমতাচ্যুত হন রুশপন্থি রাষ্ট্রপতি ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ। 
যে কারণে যুদ্ধের মুখোমুখি প্রতিবেশি এই দুই দেশ
ক্রিমিয়া দখল

২০১৩-১৪ সালের ইউরোমাইদান বিপ্লব এর প্রভাবে ইউক্রেনের রুশপন্থি প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ ক্ষমতা ছেড়ে রাশিয়ায় পালিয়ে গেলে তদস্থলে একটি তীব্র রুশবিরোধী ও পশ্চিমাপন্থি সরকার ক্ষমতা লাভ করে এবং তারা ইউক্রেনে রুশ ভাষা নিষিদ্ধকরণসহ বিভিন্ন রুশবিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর জেরে কিছুদিন পর ২০১৪ সালের মার্চে ক্রিমিয়া দখলে নেয় রুশ সেনারা। রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রশ্নে ক্রিমিয়ায় মার্চ মাসে গণভোটও করা হয়, যাতে ৯৬ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটারই রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে ভোট দেয়।
ক্রিমিয়া এক সময় রাশিয়ার মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করার পর রাশিয়া ২০১৮ সালে বিচ্ছিন্নকারী ক্রেচ প্রণালীর উপরে ব্রিজ নির্মাণ করে তাদের কুবান অঞ্চলের সঙ্গে ক্রিমিয়াকে সংযুক্ত করে, যা উক্ত অঞ্চলে রাশিয়ার নৈতিক এবং সামরিক অবস্থান পাকাপোক্ত করে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস আইন প্রণেতাদের আভাস দিয়েছেন—ইউক্রেনের সীমান্তে রাশিয়ার ‘ক্রমবর্ধমান হুমকিমূলক আচরণ’-এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভবত আরও সামরিক সহায়তা এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করা হবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি , ছবি: ইন্টারনেট
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি , ছবি: ইন্টারনেট
ইউক্রেনের জাহাজে হামলা
বর্তমানে ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার নৌবাহিনীর কৃষ্ণসাগর বহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি রয়েছে। এরপর ক্ষমতা প্রদর্শন করতে ঐ প্রণালীতে একই বছরের ২৫ নভেম্বর ইউক্রেন নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজে গুলি চালিয়ে তিনজন নাবিককে আহত করার মাধ্যমে জাহাজগুলোকে আটক করে রাশিয়া, যাকে কেন্দ্র করে পুনরায় রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তখন ইউক্রেন সরকার রুশ পদক্ষেপ মোকাবিলায় পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ২৬ নভেম্বর থেকে ৩০ দিনের সামরিক আইন জারি করে।

ন্যাটোর অন্তর্ভূক্ত হতে ইউক্রেনের দৌড়ঝাঁপ
২০১৪ সালে ক্রিমিয়া অঞ্চল হারানোর পর ন্যাটোর সদস্য হতে কোমর বেঁধে নেমেছে দেশটি। সে বছরের ২৩ ডিসেম্বর জোট নিরপেক্ষ অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগ করে ইউক্রেন। এই সিদ্ধান্তের কড়া নিন্দা জানিয়েছিল রাশিয়া। ২০১৮ সালে ইউক্রেনকে অ্যাস্পিয়ারিং মেম্বার করে ন্যাটো। ২০২১ সালের শুরুর দিকে ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল স্টলটেনবার্গ ঘোষণা করেন, ন্যাটোর পূর্ণ সদস্য হওয়ার জন্য ইউক্রেন এখন ক্যান্ডিডেট। এমনকি এ বছরের শুরুতে ন্যাটো থেকে তাদের পূর্ণ সদস্য হওয়ার ব্যাপারে সবুজ সংকেতও দেওয়া হয়েছিল। যা রাশিয়ার জন্য যথেষ্ট চিন্তার বিষয় যেহেতু এতে চিরশত্রু যুক্তরাষ্ট্র অত্যাধুনিক সব মারণাস্ত্র নিয়ে তার ঘাড়ে চেপে বসার সুযোগ পাবে।
ইউক্রেন সশস্ত্র ড্রোন সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্র, লিথুয়ানিয়া, ফ্রান্স ও তুরস্কের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে অস্ত্র ক্রয় করছে। ইউক্রেনের কেনাকাটার তালিকায় ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী এবং উড়োজাহাজ বিধ্বংসী সিস্টেম, যুদ্ধের ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম এবং সাইবার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রয়েছে। এ ছাড়া ইউক্রেন ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে আগ্রহী, যেগুলো একই সঙ্গে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
ইয়াল্টা ইউরোপিয়ান স্ট্র্যাটেজি (ইয়েস)’এর শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,"আমি মনে করি এর সম্ভাবনা আছে । 
রাশিয়ান সৈন্য, ছবি: ইন্টারনেট
রাশিয়ান সৈন্য, ছবি: ইন্টারনেট
ইউক্রেন
২০১৪ সালে গণআন্দোলনের মুখে ইউক্রেনে রুশপন্থি ভিক্তর ইয়ানুকোভিচ সরকারের পতন হলে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নেয় রাশিয়া। শুধু তাই নয়, একই বছর রুশপন্থি বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়ে ইউক্রেনের পুব সীমান্তের দোনবাস অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় রাশিয়া। ইউক্রেনের পূর্বে রাশিয়া ও পশ্চিমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। দেশটিতে যেমন রয়েছে রুশপন্থি মানুষ তেমনি রয়েছে পশ্চিমাপন্থিও। সাবেক সোভিয়েতভুক্ত এ দেশের মোট জনসংখ্যার ১৭ শতাংশের বেশি রুশভাষী।
দ্বন্দ্বের মূল কেন্দ্রবিন্দু ক্রিমিয়া

সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘রুটির ঝুড়ি’ খ্যাত বর্তমান ইউক্রেনের উত্তর অংশ ৯ম শতক থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিয়েভান রুশের অংশ ছিল, ১৩শ শতকে মোঙ্গল আক্রমণে যার পতন ঘটে। এরপর ১৪৪১ সালে বৃহত্তর তুর্কি জাতির অন্তর্গত তাতাররা ক্রিমিয়ায় বসতি স্থাপন করে এবং চেঙ্গিস খানের একজন বংশধরের নেতৃত্বে ‘ক্রিমিয়ান খানাত’ প্রতিষ্ঠা করে। ১৪৭৫ সালে খানাতটি ওসমানীয় সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হলেও রাষ্ট্রটির যথেষ্ট স্বাধীনতা ছিল। ১৭৬৮–৭৪ সালের রুশ–ওসমানীয় যুদ্ধের পর রাষ্ট্রটি ওসমানীয় সাম্রাজ্যের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা লাভ করলেও কার্যত রুশ সাম্রাজ্যের অধীনে চলে যায়। পরিশেষে ১৭৮৩ সালে রাশিয়া সরাসরি ক্রিমিয়া দখল করে নেয় এবং তখন থেকেই অঞ্চলটি রাশিয়ার অংশ হয়ে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ক্রিমিয়ান তাতারদের একাংশ জার্মান আক্রমণকারীদের সহায়তা করে এবং এর শাস্তিস্বরূপ সোভিয়েত সরকার ১৯৪৪ সালে তাদের মধ্য এশিয়া ও সাইবেরিয়ায় নির্বাসিত করে। ভূখ-টির নাম পরিবর্তন করে ক্রিমিয়ান প্রদেশ রাখা হয়, যা রুশ প্রজাতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ন্যাটো, ছবি: ইন্টারনেট
ন্যাটো, ছবি: ইন্টারনেট
দুই দেশের যুদ্ধাবস্থায় বহিঃশক্তিগুলোর অন্তর্ভূক্তি
সাম্প্রতিক সময়ে সৃষ্ট দুই দেশের মধ্যকার এই যুদ্ধাবস্থায় বহিঃশক্তিগুলোর অন্তর্ভুক্তি কামনা করেছে ইউক্রেন। ইতোমধ্যেই এই ইস্যুতে ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্য পদ দেয়ার আহ্বানের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জেলেনস্কি সশরীরে বিদেশ সফরে গিয়ে বিদেশি দেশের সাহায্য চাচ্ছে। ন্যাটোর সহযোগিতা কামনা করছে। ইউক্রেনকে  রুশ আগ্রাসন থেকে রক্ষায় সরব যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমের দেশগুলো।  ২৪ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে রুশ সংবাদমাধ্যম স্পুতনিক জানিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি ও আরও বেশ কয়েকটি দেশ জাতিসংঘে রাশিয়াকে সতর্ক করে বলেছে, ইউক্রেনের সীমান্ত অতিক্রম করলে রাশিয়াকে 'চরম মূল্য' দিতে হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সামরিক কর্মকর্তাদের বলেছেন, ইউক্রেন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়ে পিছু হটার সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, পশ্চিমের দেশগুলো আগ্রাসী নীতি থেকে সরে না আসলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।  
রাশিয়ার আরও অভিযোগ—ন্যাটো ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে সংঘাতে ঠেলে দিচ্ছে। 'এসব উত্তেজনা সৃষ্টির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত আছে' উল্লেখ করে পুতিন বলেছেন, 'তারা কি মনে করে আমরা অলস বসে থাকবো?'

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ছবি: ইন্টারনেট
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ছবি: ইন্টারনেট
ইউক্রেন থেকে রাশিয়ার প্রত্যাশা
টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া চায় ইউক্রেনকে যেন কখনই ন্যাটো সামরিক জোটের সদস্য না করা হয়। শুধু ইউক্রেন নয়, রাশিয়ার ককেশীয় প্রতিবেশী জর্জিয়াকেও ন্যাটোর সদস্য না করার দাবি জানিয়েছে রাশিয়া। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তাকে পুতিন দেখছেন 'ঘরের দরজায় ঘটে যাওয়া' ঘটনা হিসেবে। রাশিয়ার ফেডারেশন কাউন্সিলের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ভ্লাদিমির ঝাবারভ বলেছেন, 'বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ৫ লাখ ইউক্রেনিয়ানের রুশ পাসপোর্ট আছে। বিদ্রোহীদের নেতা যদি রাশিয়ার সহায়তা চান তাহলে আমরা নিশ্চয় তা ফিরিয়ে দেব না।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ছবি:ইন্টারনেট
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ছবি:ইন্টারনেট
ইউরোপের অবস্থান
প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের ওপর রাশিয়া ভাসছে। মস্কো এটাকে খুব ভালোভাবেই কাজে লাগায়। রাশিয়ার গ্যাস ও জ্বালানি তেলে ইউরোপে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে ইউরোপের অনেক দেশ ‘ওয়াশিংটন প্রথম’ নীতি থেকে সরে এসেছে। জার্মানি ও ইউরোপের বাকি দেশগুলো রাশিয়ার জ্বালানির ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ইউক্রেনের জন্য তারা সাধ্যের মধ্যে থাকা ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানির এ ভরসাকে ঝুঁকিতে ফেলবে না। ইউরোপের অনেক দেশই প্রথাগত সম্পর্কের বাইরে গিয়ে রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক ভালো রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। জার্মানি তাদের মধ্যে অন্যতম। 

পুতিন মনে করেন, বর্তমানে ইউক্রেনের ক্ষমতাসীনরা 'রুশবিরোধী' কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তিনি ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর 'সামরিক হস্তক্ষেপের' বিরুদ্ধে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, এমনটি চলতে থাকলে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২০২১ সালের পরিসংখ্যান মতে, ইইউ জোটভুক্ত দেশে জ্বালানি রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে রাশিয়া।  
যুক্তরাষ্ট্র পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, ইউক্রেনকে রক্ষায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইউক্রেন আক্রান্ত হলে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে 'যা কেউ কখনো দেখেনি।'
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ছবি: ইন্টারনেট
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ছবি: ইন্টারনেট
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন: যুক্তরাষ্ট্র

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইউক্রেন আক্রান্ত হলে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে 'যা কেউ কখনো দেখেনি।' যুক্তরাষ্ট্র পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, ইউক্রেনকে রক্ষায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ইউক্রেনে মার্কিন সেনা পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে এখনো 'আলোচনা হয়নি' বলেও জানান তিনি।
ইউক্রেনের বক্তব্য:

ইউক্রেন মনে করে নিজেদের রক্ষায় তারা প্রস্তুত। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আমরা নিজেরাই এই যুদ্ধে লড়বো।  ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, আমরা ন্যাটোতে ইউক্রেনের যোগদানের বিষয়ে সরাসরি কোন সাড়া পাইনি। ইউক্রেন এ জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুত আছে।
রাশিয়ার বক্তব্য: 

প্রেসিডেন্ট পুতিন রাশিয়া ও ইউক্রেনকে 'এক জাতি' বলে ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, মস্কো কোনো দেশ আক্রমণের পরিকল্পনা করছে না,  'এসব উত্তেজনা সৃষ্টির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত আছে' উল্লেখ করে পুতিন বলেছেন, তারা কি মনে করে আমরা অলস বসে থাকবো?

আন্তর্জাতিকআক্রমণরাশিয়া
আরো পড়ুন