বাবুশকা জেড: ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ান প্রোপাগান্ডার লেডি আইকন
আন্তর্জাতিক
বাবুশকা জেড: ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ান প্রোপাগান্ডার লেডি আইকন
যে কোনো যুদ্ধে প্রোপাগান্ডা থাকবেই। যুদ্ধে লিপ্ত দুই পক্ষ ছাড়াও সেখানে সুবিধাবাদী পক্ষ যারা অস্ত্র, বাণিজ্য, ঋণসহ ব্যাপক অনুদান নিয়ে হাজির হন তারাও কমবেশি যুদ্ধকালীন প্রোপাগান্ডা বা অপপ্রচারে সামিল হন। 
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধেও প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর ভূমিকায় রয়েছে একাধিক পক্ষ। তবে যুদ্ধের আসল দুই পক্ষও কম অপপ্রচার চালায়নি। কারণ রাশিয়া এখানে নেতৃত্বস্থানীয় পক্ষ হিসেবে সারাবিশ্বে কুখ্যাতি পেয়েছে। আর ইউক্রেন রয়েছে আক্রান্তের ভূমিকায়। যাইহোক রাশিয়ার বিপক্ষে থাকা আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলোও এক হয়ে ইউক্রেনের পক্ষে ব্যাপক অপপ্রচার চালিয়েছে। এই কাজে বসে নেই রাশিয়াও। বলতে গেলে, সমসাময়িক যুদ্ধের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও আলোচিত প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে পরমাণু সমৃদ্ধ এই দেশটি।  
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
ইউক্রেনের দুটি রুশ ভাষাভাষী অঞ্চলে স্বাধীনতা ঘোষণা করে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল দেশটি। শুরু থেকেই পশ্চিমাদের সহায়তায় বিশ্ববাসীর ব্যাপক সহানুভূতি পেলেও দিন দিন রাশিয়ান প্রোপাগান্ডা সেগুলোকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি আলোচিত রাশিয়ান অপপ্রচারের অংশ হিসেবে জনপ্রিয়তা পায় বাবুশকা জেড নামক এক সোভিয়েত সমর্থক মহিলার কর্মকাণ্ড। তিনি ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হওয়ার পর তার হাতে থাকা লাল সোভিয়েত পতাকা মাটিতে ফেলে পা দিয়ে পিষে দিয়েছিল সৈন্যরা। ওই ভিডিও ভাইরাল হলে রাশিয়ান মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। ওই নারীর মূর্তি তৈরি করা হয় দখলকৃত মারিউপোলে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসি ওই নারীকে নিয়ে সরেজমিনে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। ওই আলোকে আমরা আজ রাশিয়ার প্রোপাগান্ডা আইকন খ্যাত বাবুশকা জেড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। 
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ইউক্রেনীয় নারী দুইজন ইউক্রেনীয় সেনার সঙ্গে কথা বলছিলেন। তখন তার হাতে ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের লাল পতাকা। তখন সৈন্যরা তাকে বলে, তারা সাহায্য করতে এবং খাবারের একটি ব্যাগ দিতে এসেছে। কিন্তু খাবার দেয়ার পর ওই বৃদ্ধার হাত থেকে পতাকাটি সরিয়ে নেয় সৈন্যরা। সোভিয়েত পতাকা কেড়ে নিয়ে তারা সেটিকে মাটিতে ফেলে দেয় ও পা দিয়ে মাড়ায় তারা। নিজ দেশের সেনাদের এমন দুর্ব্যবহারে অপমান বোধ করে খাবার ফিরিয়ে দেন ওই তিনি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এই পতাকার জন্য আমার বাবা-মা মারা গিয়েছিলেন।'
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এই পতাকার জন্য আমার বাবা-মা মারা গিয়েছিলেন।
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
এই ভিডিওটির বাস্তব প্রেক্ষাপট যাই হোক না কেন, ক্রেমলিনের জন্য এই বিষয়টি ছিল একেবারে খাঁটি সোনার মতো। কারণ যুদ্ধের শুরু থেকে রাশিয়া যে পরিমাণ প্রোপাগান্ডার শিকার তার পরিপ্রেক্ষিতে এটি তাদের জন্য বেশ বড় একটি বিষয়বস্তু হয় দাঁড়ায়। ক্রেমলিন তাকে সোভিয়েত তথা রুশপন্থি হিসেবে ব্যাপক প্রচার করতে শুরু করে। তারা ভেবেছিল এই যুদ্ধে তিনি রাশিয়ানদের মুক্তিদাতার ভূমিকায় দেখছেন। প্রকৃতঅর্থে, রুশভাষী অঞ্চলসহ ইউক্রেনের বেশিরভাগ মানুষই ইউক্রেনের স্বাধীন ভূখণ্ডে রুশ হামলার বিপক্ষে। আর এই কারণে রুশ সংবাদমাধ্যম ওই নরীর হাতে থাকা সোভিয়েত পতাকার বিষয়টি দিয়ে বোঝাতে চেয়েছিল, এই যুদ্ধে ইউক্রেনীয়দের সমর্থন রয়েছে। রুশদের চোখে এসব ইউক্রেনীয় নাগরিকদের বেশিরভাগই মনে মনে সোভিয়েত ভক্ত। কিন্তু বাস্তবে তা অনেকটাই ভিন্ন। পতাকা কাণ্ড ও বাবুশকার আইকনোগ্রাফি প্রকাশ করে প্রতিটি রাশিয়ানকে 'মাদার রাশিয়া' নামে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র। 
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
রাশিয়ান কর্মকর্তারা ইউক্রেনের শহর মারিউপোলে তার একটি মূর্তি উন্মোচন করে।
যাইহোক, ক্রেমলিনের ওই পরিকল্পনা সফল হয়েছিল। কয়েকদিনের মধ্যে, অর্থোডক্স হেডস্কার্ফ, অনুভূত বুট এবং মোটা স্কার্ট পরা এক বৃদ্ধার আইকনোগ্রাফি সুদূর সাইবেরিয়া থেকে মস্কো, পূর্বদিকে সাখালিন দ্বীপ পর্যন্ত দেয়ালে দেয়ালে লাগানো হয়। সংবাদমাধ্যমেও ওই নারীর অনেক সাহসী ছবি প্রকাশ হতে থাকে। তিনি এখন ম্যুরাল, প্ল্যাকার্ড, পোস্টকার্ড, ভাস্কর্য এবং বাম্পার স্টিকারে অমর হয়ে আছেন। তাকে নিয়ে অনেক গান ও কবিতা উৎসর্গ করা হয়েছে। এমনকি রাশিয়ান কর্মকর্তারা ইউক্রেনের শহর মারিউপোলে তার একটি মূর্তি উন্মোচন করে। যদিও পরবর্তীতে এক বোমা বিস্ফোরণে সেটি ভেঙ্গে পড়ে। 
ওই নারীর আসল পরিচয়
গত সপ্তাহেও সবাই ওই নারীর ছবি দেখেছিল ঠিকই, তবে তার আসল পরিচয় জানতো না কেউই। বাবুশকা জেড কী বেঁচে আছেন নাকি যুদ্ধে মারা গিয়েছেন সে সম্পর্কে ব্যাপক সন্ধিহান ছিল বিবিসি। সরেজমিনে গিয়ে তার নাম জানা যায়, আনা ইভানোভনা। তিনি উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভের নিকটবর্তী ভেলিকা ড্যানিলভিকা গ্রামে বসবাস করেন। তার বয়স এখন ৬৯ বছর। ইভানোভনা যে বাড়িতে থাকেন সেখানে তার স্বামী ও কিছু কুকুর, বিড়াল ও খরগোশ দেখতে পান বিবিসির প্রতিবেদকরা। তাকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের শিরোনাম, ছাপানো ছবি, তৈরি মূর্তি দেখানো হলে তিনি অবাক হন। নিজেকে যেন চিনতেই পারছিলেন না ইভানোভনা। মারিউপোলে নির্মিত মূর্তির ছবি দেখে তিনি বলেন, 'আমাকে কি এতটাই বয়স্ক দেখাচ্ছে? মূর্তিটা যেন একটা অপরিচিত লোক আমার দিকে তাকিয়ে আছে!' 
আমাকে কি এতটাই বয়স্ক দেখাচ্ছে? মূর্তিটা যেন একটা অপরিচিত লোক আমার দিকে তাকিয়ে আছে!
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
আমি খুঁশি ছিলাম যে রাশিয়ানরা আসবে এবং আমাদের সাথে যুদ্ধ করবে না। আমি খুঁশি যে আমরা আবার একত্রিত হব।
অথচ রাশিয়ান মিডিয়া আমাদেরকে যে বাবুশকা জেডের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছিল তিনি ছিলেন, এই যুদ্ধে রাশিয়ার সমর্থক। কিন্তু বিবিসি আমাদেরকে যার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি সাধারণ একজন বৃদ্ধা যার যুদ্ধের পক্ষপাত নিয়ে কোনো মাথাব্যাথা ছিল না। তিনি জানান, যুদ্ধের শুরুতে তার নাতিনাতনিরা সবাই নিরাপত্তার জন্য পোল্যান্ড চলে গিয়েছেন। এই বক্তব্যের পর তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, কেন তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের লাল পতাকা হাতে নিয়ে সৈন্যদের অভ্যর্থনা জানালেন? উত্তরে ইভানোভনা বলেন, তাকে ভুল বোঝানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন যে, তিনি দুই ইউক্রেনীয় সৈন্যকে রাশিয়ান সৈন্যদের সাথে খাবারের প্রস্তাব দিয়ে বিভ্রান্ত করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে একেবারে সন্দেহজনক উত্তর দিয়ে বলেন, 'আমি খুঁশি ছিলাম যে রাশিয়ানরা আসবে এবং আমাদের সাথে যুদ্ধ করবে না। আমি খুঁশি যে আমরা আবার একত্রিত হব।' 
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
ইভানোভনা তার বক্তৃতায় রাজনৈতিক উপপাদ্য রাখেননি ঠিকই। তবে তিনি এমন একটি কথা বলছেন, যাতে ভেতরগতভাবে তার সোভিয়েত প্রীতির বিষয়টি কিছুটা হলেও বোঝা যায়। পতাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লাল পতাকাটি সোভিয়েত ইউনিয়নের পতাকা নয়, এটি রাশিয়ারও নয়। বরঞ্চ এটি প্রত্যেক পরিবারে, প্রতিটি শহরে, প্রতিটি প্রজাতন্ত্রে ভালোবাসা এবং সুখের পতাকা। এই পতাকা নিয়ে যারা রক্তপাতের কথা বলে তারা ভুল।' তিনি যখন এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলছিলেন তখন চারপাশে ব্যাপক গোলাগুলি চলছিল। অর্থাৎ, তিনি সেখানে যুদ্ধের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। তাকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের যুদ্ধবাজ পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'আমি যদি পুতিনের সাথে কথা বলতে পারতাম তবে বলব, আপনি একটি ভুল করেছেন। আমরা ইউক্রেনীয় শ্রমিকরা, আমরা এই যুদ্ধের জন্য কী এমন করেছি? আমরা যারা সবচেয়ে বেশি ভুগছি।' 
পুতিন একজন রাষ্ট্রপতি। একজন জার, একজন রাজা, একজন সম্রাট।
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
ইভানোভনা সোভিয়েত ইউনিয়নের সময়কার বাসিন্দা। তিনি শুধু পুতিনের যুদ্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেও প্রকাশ্যে রাশিয়ান নেতার নীতিগত পদক্ষেপের সরাসরি সমালোচনা করতে নারাজ ছিলেন। তিনি বলেন, পুতিন একজন রাষ্ট্রপতি। একজন জার, একজন রাজা, একজন সম্রাট।’ অর্থাৎ, সোভিয়েত প্রীতি এখনও রয়েছে ৬৯ বছর বয়সী ইভানোভনার মধ্যে। যাইহোক, তিনি পুতিনের গুণগান করুক আর না করুক মস্কোয় তার সুখ্যাতি রয়েছে বেশ। অন্যদিকে, পুতিনের নির্দেশে শুরু হওয়া যুদ্ধে তার গ্রাম প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পথে। 
ইউক্রেনীয়রা এই প্রোপাগান্ডাকে কিভাবে দেখছে?
শুধু এক পক্ষের কথা শুনে এই আলোচিত প্রোপাগান্ডা নিয়ে একটি সিদ্ধান্তের উপনীত হওয়া অনুচিত। অন্ততপক্ষে, যুদ্ধের ইস্যুতে এমন পক্ষপাতী সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। ওই নারীর কথা শতভাগ বিশ্বাস করাও সম্ভব না। তবে তার কথায় স্পষ্ট যে, তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের কট্টরপন্থী ভক্ত। তিনি পুতিনের এই যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তাকে জার বলে সম্বোধন করেন। যুক্তি তর্ক দিয়ে দেখলে বলা যায়, তিনি সোভিয়েত ভক্ত এবং পুতিন তার ওই ইউনিয়নের জার! এই প্রসঙ্গে ইউক্রেনের সংস্কৃতি মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়েছে বিবিসি। মন্ত্রী ডিমিট্রো গালকো বলেন, রুশ প্রোপাগান্ডা সবকিছুকে এক মাত্রিক করে তোলে। তারা সত্যকে এড়িয়ে চলে, প্রকৃত ব্যক্তিদের সম্পর্কে চিন্তা করে না। তারা আন্নাকে বা তার মতো অনেক ইউক্রেনীয় নারীর ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে মোটেও আগ্রহী নয়। রাশিয়া যদি পারত তবে তারা তাকে ছিনিয়ে নিতো। এমনকি তাকে মমি করে সমাধিস্থ করে রাখতো। 
রুশ প্রোপাগান্ডা সবকিছুকে এক মাত্রিক করে তোলে। তারা সত্যকে এড়িয়ে চলে, প্রকৃত ব্যক্তিদের সম্পর্কে চিন্তা করে না।
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
ইভানোভনা বিবিসিকে জানিয়েছেন তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। তিনি অভিযোগ করেন ইউক্রেনীয়রা তাকে রাশিয়ার গুপ্তচর বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আক্রমণ করছেন। তার প্রতিবেশীরা তাকে এড়িয়ে চলে। যুদ্ধের সময় অনেক অনুদান পাননি তিনি। ওই নারী ইউক্রেনীয়দের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বলেন, 'আমি খুশি নই যে তারা আমাকে বিখ্যাত করেছে। কারণ ইউক্রেনে এখন তারা আমাকে বিশ্বাসঘাতক বলে মনে করে।' বিবিসির ওই সাক্ষাৎকারের আগে ইভানোভনা জানতেন না তাকে নিয়ে পুরো পৃথিবীতে কী কী ঘটছে। তবে তিনি তার বাড়ি থেকে প্রস্থানের সময় সাংবাদিক দলকে লাল সোভিয়েত পতাকাটি দিয়ে দিতে আগ্রহ দেখান। এই পতাকার জন্য ভবিষ্যতে ফের কখনও ঝামেলায় পড়তে চান না বলেই এই পদক্ষেপ নেন ওই নারী।
আমি খুশি নই যে তারা আমাকে বিখ্যাত করেছে। কারণ ইউক্রেনে এখন তারা আমাকে বিশ্বাসঘাতক বলে মনে করে।
প্রোপাগান্ডা যুদ্ধে জয়ী ইউক্রেন
বাবুশকা জেডের গল্পে আমরা প্রোপাগান্ডা ছাড়ানোর উদ্দেশ্য ও রাশিয়ার কৃতকর্ম কিছুটা জানতে পেরেছি। তবে ইউক্রেন যে প্রোপাগান্ডা বিতর্কে পিছিয়ে নেই তাও স্পষ্ট। বরং পশ্চিমাদের সহায়তায় যুদ্ধের শুরু থেকে ইউক্রেন এমন সব গুজব রটিয়েছিল যাতে করে বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ তাদের পক্ষে অবস্থান নেয়। ইউক্রেনের পক্ষে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে একটি জুম মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়। এটি আয়োজন করে, কিয়েভ ভিত্তিক বিজ্ঞাপন সংস্থা বান্দার। ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে দেশটির ডিজিটাল তথ্য মন্ত্রণালয়। আর এজেন্সিটিকে অর্থায়ন শুরু করে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়। জুসের বোতল থেকে শুরু করে হোম অ্যাপ্লায়েন্স বিক্রির ওয়েবসাইট, এমনকি ২১টি ইউক্রেনীয় শহরে ৫০০ এর বেশি বিলবোর্ডে দেখানো হয় কিভাবে যুদ্ধের সময় একজন ইউক্রেনীয় নাগরিক আত্মরক্ষার জন্য ককটেল ছুঁড়ে মারছে। যদিও ওই বিলবোর্ডগুলোর অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইলের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়। 
ইউক্রেনের পক্ষে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে একটি জুম মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়। এটি আয়োজন করে, কিয়েভ ভিত্তিক বিজ্ঞাপন সংস্থা বান্দার।
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
তথ্য বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষাবিদরা বলছেন, ইউক্রেনের সংঘাত যতোই বেড়েছে, দেশটির যোগাযোগ কৌশল আরও মসৃণ এবং পেশাদার হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন তার প্রধান কৌশলটি অতিরঞ্জিত মিথকে প্রসারিত করা থেকে দূরে সরিয়ে সাধারণ মানুষের সাহসের দিকে মনোনিবেশ করেছে। এতে করে সাধারণ মানুষ রাশিয়ার আক্রমণের মুখে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিল। ওই এজেন্সি আরও একটি কাজ করেছিলো যাতে করে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ কম আতঙ্কিত হন। তারা যুদ্ধে নিহত সৈনিকদের ছবি ভাইরাল হতে দেয়নি, সুপারম্যানের পোশাক পরা জেলেনস্কির ছবি ভাইরাল করাসহ আরও অনেক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এমনকি তাদের অনুপ্রেরণামূলক মেসেজে ঘরে বসেও যাতে নাগরিকরা আতঙ্কিত না হন সেরকম কিছু গুজব রটানো হয়।
ইউক্রেনের সংঘাত যতোই বেড়েছে, দেশটির যোগাযোগ কৌশল আরও মসৃণ এবং পেশাদার হয়ে উঠেছে।
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা যায় ওই ভিডিওটি মূলত একটি গেমসের ভিডিও। শুধু যুদ্ধের শুরুতে ইউক্রেনীয়দের সাহস যোগাতে এমন প্রোপাগান্ডা ছড়ায় ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী।
ঘোস্ট অব দ্য কিয়েভের কথা আমরা সবাই কমবেশি জানি। রুশ আগ্রাসনের পর ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি ভিডিও ভাইরাল হয় যাতে দেখা যায় একজন ইউক্রেনীয় পাইলট একাই অনেকগুলো রুশ যুদ্ধ বিমানকে ভূপতিত করেন। ওই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা যায় ওই ভিডিওটি মূলত একটি গেমসের ভিডিও। শুধু যুদ্ধের শুরুতে ইউক্রেনীয়দের সাহস যোগাতে এমন প্রোপাগান্ডা ছড়ায় ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। আর এই কাজে তারা শতভাগ সফল। এপ্রিলে ওই পাইলটকে কিয়েভের একজন সুপারহিরো-লিজেন্ড নামে পরিচয় করিয়ে দিলেও দুই মাস পর জানা যায় চরিত্রটি ইউক্রেনীয়রা নিজেরাই তৈরি করেছে। শুধু তাই নয়, খেরসনের গণভোট নিয়েও প্রোপাগান্ডা ছড়ায় বান্দার। এছাড়াও পশ্চিমা বিশ্বের বিখ্যাত জায়গাগুলোতে ইউক্রেনের পতাকার রঙয়ে ডিজাইন করানোর উদ্যোগ নেয় এই সংস্থাটি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে শুরু করে করে ইউরোপের সকল ফুটবল লিগের সম্প্রচারে ইউক্রেনের পতাকার আদলে ডিজাইন যুক্ত করার ব্যবস্থা করে তারা। এখন পর্যন্ত যুদ্ধ প্রোপাগান্ডার দৌঁড়ে ইউক্রেনকে টিকিয়ে রেখেছে এই এজেন্সিটি।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, সোফিয়া বেটিজা, স্ব্যাটোস্লাভ খোমেনকো, মরগান মেকার
আন্তর্জাতিকইউক্রেনরাশিয়া
আরো পড়ুন