বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের কর্মঘণ্টা নিয়ে ইউজিসি'র নীতিমালা কতটা যৌক্তিক?
শিক্ষা
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের কর্মঘণ্টা নিয়ে ইউজিসি'র নীতিমালা কতটা যৌক্তিক?
"পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচিংলোড ক্যালকুলেশন নীতিমালা ২০২২" খসড়া অনুমোদন দিয়েছে ইউজিসি। এতে শিক্ষকদের জন্য সপ্তাহে চল্লিশ ঘণ্টা কর্ম পালনের জন্য বলা হয়েছে। এরমধ্যে ১৩ ঘণ্টা ক্লাসে থাকতে হবে। অর্থাৎ প্রতিদিন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায় আট ঘণ্টা অফিস করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে কর্মঘণ্টা দিয়ে কাজ করানো শুধু অযৌক্তিক নয়, বিশ্ববিদ্যালয় কনসেপ্টের সাথে কোনভাবেই যায় না। 
শিক্ষকতা বস্তুত কোন চাকরি নয় যে আট ঘণ্টা সময় দিলেই শেষ। শিক্ষকের কর্মঘণ্টা ঘুম বাদে দিন-রাত সকল সময়। গবেষণা, পাঠচিন্তা, গ্রন্থপাঠ, খাতা দেখা, অ্যাসাইনমেন্টসহ শিক্ষার্থীদের সকল মুল্যায়ন ও জ্ঞানসৃজন এসব কর্মের মধ্যেই থাকতে হয় শিক্ষকদের। আট ঘণ্টা নয় একজন শিক্ষককে দিনে কখনো কখনো ১৬ ঘণ্টা-১৮ ঘণ্টা শিক্ষা ও গবেষণা কাজে সময় দিতে হয়।
শিক্ষকতা বস্তুত কোন চাকরি নয় যে আট ঘণ্টা সময় দিলেই শেষ। শিক্ষকের কর্মঘণ্টা ঘুম বাদে দিন-রাত সকল সময়। গবেষণা, পাঠচিন্তা, গ্রন্থপাঠ, খাতা দেখা, অ্যাসাইনমেন্টসহ শিক্ষার্থীদের সকল মুল্যায়ন ও জ্ঞানসৃজন এসব কর্মের মধ্যেই থাকতে হয় শিক্ষকদের। আট ঘণ্টা নয় একজন শিক্ষককে দিনে কখনো কখনো ১৬ ঘণ্টা-১৮ ঘণ্টা শিক্ষা ও গবেষণা কাজে সময় দিতে হয়। আমি কখনো কখনো সন্ধ্যার পরেও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের গবেষণার কাজ দেখি। রাত ১টা/২টার সময়ও হোয়াটসঅ্যাপে শিক্ষার্থীদর গবেষণার সমস্যার সমাধান/পরামর্শ দিয়ে থাকি। এটাও আমার কর্মঘণ্টার সাথে যোগ হবে নিশ্চয়ই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ প্রায় সকলেই রাতভর পড়াশোনা করেন শুধু শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য। তাহলে কি ইউজিসি এসব অতিরিক্ত কাজের জন্য ওভারটাইম বিল দিবে? ১ ঘণ্টা ক্লাস করাতে হলে প্রয়োজন অন্তত দুই ঘণ্টা প্রস্তুতি, পড়াশোনা। আরো বেশি সময়ের প্রয়োজন হয় কখনো কখনো। কেননা, একটা ক্লাসের জন্য অনেক বই পড়তে হয়, গবেষণা করতে হয়। তাহলে ১৩ ঘণ্টা ক্লাসের জন্য কত ঘণ্টা প্রস্তুতি প্রয়োজন? বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জ্ঞানসৃজন করে জ্ঞান বিতরণ করেন। নতুন নতুন জ্ঞান তৈরি করেন যেসব জ্ঞান বাজারে কিনে পাওয়া যায় না।
নিশ্চয় ইউজিসি'র কর্মঘণ্টা নির্ধারণের সুপারিশ করেছেন একজন শিক্ষকের কর্ম-প্রতিবেশ না বুঝে বা বোঝার চেষ্টা না করে। একজন অধ্যাপক প্রশাসনিক দায়িত্ব পাওয়ার পর কখনো কখনো পুরো কর্মকর্তা বনে যান, শিক্ষকের চিরায়ত বৈশিষ্ট্য ভুলে যান। এজন্যই দেখি কোন কোন ভিসি মাঝে মাঝে ওসি বা ডিসির ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। আর শিক্ষকগণ ইউজিসি'র কোন পদে গিয়ে সচিব বনে যান।
নিশ্চয় ইউজিসি'র কর্মঘণ্টা নির্ধারণের সুপারিশ করেছেন একজন শিক্ষকের কর্ম-প্রতিবেশ না বুঝে বা বোঝার চেষ্টা না করে। একজন অধ্যাপক প্রশাসনিক দায়িত্ব পাওয়ার পর কখনো কখনো পুরো কর্মকর্তা বনে যান, শিক্ষকের চিরায়ত বৈশিষ্ট্য ভুলে যান। এজন্যই দেখি কোন কোন ভিসি মাঝে মাঝে ওসি বা ডিসির ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। আর শিক্ষকগণ ইউজিসি'র কোন পদে গিয়ে সচিব বনে যান। এটা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য দূর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি তৈরি করে। শিক্ষকের কর্ম স্বাধীন না হলে সৃজনশীল জ্ঞান উৎপাদন ও বিতরণ বাধাগ্রস্থ হতে বাধ্য। এজন্যই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে পৃথক পৃথক অধ্যাদেশ দিয়ে চারটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-কানুনে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বায়ত্তশাসনের ধারণাটি অবজ্ঞা করা হয়েছে। একদেশে দুই ধরনের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থাকতে পারে না। এটা সাংবিধানিকভাবে সাংঘর্ষিক। বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বায়ত্তশাসন ও বঙ্গবন্ধু প্রণীত সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কোন কিছু হলে মহামান্য হাইকোর্টের আশ্রয় নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।
লেখক: মাহামুদুল হক, শিক্ষক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এবং সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু পরিষদ।
শিক্ষাবেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
আরো পড়ুন