Link copied.
ডিজিটাল স্বাধীনতায় শীর্ষে ও তলানীতে রয়েছে বিশ্বের যেসব দেশ!
cover
উৎস: প্রটোন ভিপিএন
কোন দেশ কতটা ডিজিটাল স্বাধীনতায় বিশ্বাসী তা নির্ণয় করতে বিশ্বের ৭০ টি দেশের ওপর জরিপ চালিয়ে ‘প্রোটন ভিপিএন’ এক প্রতিবেদন তৈরি করেছে। ডিজিটাল মাধ্যমের স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) এবং ফ্রিডম হাউস- এর ওপর ভিত্তি করে 'ডিজিটাল ফ্রিডম ইনডেক্স' প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে মাপকাঠি ছিলো, বিভিন্ন ডিজিটাল ওয়েবসাইটে দেশগুলোর নাগরিকরা কতটা সহজে প্রবেশ করতে পারেন। এছাড়া যে ৭টি বিষয় বিবেচনাধীন ছিলো তা হচ্ছে,
  1. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা 
  2. ওয়েবসাইটে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা
  3. বিভিন্ন কন্টেন্টের সীমাবদ্ধতা
  4. ব্যবহারকারীদের অধিকার লঙ্ঘন
  5. এডাল্ট সাইটে প্রবেশের অনুমতি
  6.  ভিপিএনের সহজলভ্যতা এবং 
  7. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বৈধতা।    

ডিজিটাল স্বাধীনতা তালিকার শীর্ষ ২০ দেশ
cover
উৎস: প্রটোন ভিপিএন
প্রথম অবস্থানে সুইডেন
এই সাতটি ক্যাটাগরির সবগুলোতেই সর্বোচ্চ পয়েন্ট পেয়ে তালিকার শীর্ষস্থান দখল করেছে সুইডেন। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ)- এর প্রতিবেদনেও সুইডেন গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সর্বোচ্চ স্কোর অর্জন করেছে। সুইডেন পৃথিবীর প্রথম দেশ যারা ১৭৭৬ সালে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য আইন পাশ করেছিল এবং সেই আইন আজও বলবৎ আছে।
cover
১২ তম যুক্তরাষ্ট্র ও ১৪ তম যুক্তরাজ্য
কেবল কানাডা ছাড়া আমেরিকান অন্য কোন দেশ স্থান পায়নি। এই প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য এই তালিকায় শীর্ষস্থান পায়নি যদিও তারা মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হিসেবে নিজেদের সুনাম বাড়াতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের ১২ ও ১৪ তম স্থান পাওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই দেশগুলো ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের অধিকার, নজরদারি, নিরাপত্তা, অনলাইন একটিভিজমের জন্য আইনি ও বেআইনি হয়রানি, শারীরিক ও সাইবার আক্রমণ ইত্যাদির কারণে কম স্কোর পেয়েছে। যদিও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের অধিকার- বলতে আসলে কি বোঝানো হয়েছে এবং এটার স্কোরিং কীভাবে হয়েছে সেটা প্রতিবেদনে পরিষ্কার করা হয়নি।
cover
দ্বিতীয় অবস্থানে পর্তুগাল
 প্রটোন ভিপিএনের 'ডিজিটাল স্বাধীনতার' এই তালিকার শীর্ষ দশে নেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি শীর্ষ ১২ দেশের মধ্যে এ তালিকায় শীর্ষে থাকা সুইডেন, জার্মানি ও পর্তুগালের গণমাধ্যম সবচেয়ে বেশি স্বাধীন। এই দেশগুলোর সাংবাদিকরাও সরকারের কঠোর সমালোচনা করতে পারেন কোনো হয়রানি ছাড়াই।
cover
৩য়, ৪র্থ, ৫ম ও ৬ষ্ঠ অবস্থানে যথাক্রমে সুইজারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, এস্তোনিয়া, স্পেন
এছাড়া সুজারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, এস্তোনিয়া এবং স্পেন খুব সহজেই নিজ নিজ দেশের জনগণের কাছে ইন্টারনেট পৌঁছে দিয়েছে। এ চারটি দেশের নেটিজেনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে এবং ইন্টারনেট বিলের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের জটিলতায় পড়েন না। ডিজিটাল স্বাধীনতা ভোগের ক্ষেত্রে এসব দেশের নাগরিকরা অনেক এগিয়ে ও অতি সন্তুষ্ট। 
cover
ডিজিটাল স্বাধীনতায় পরবর্তী দেশগুলোর তালিকা
ডিজিটাল স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের এ তালিকায় শীর্ষস্থানীয় অন্যান্য দেশগুলো যথাক্রমে, কানাডা, রোমানিয়া, পোল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান, জর্জিয়া, আর্জেন্টিনা ও হাঙ্গেরি।
ডিজিটাল স্বাধীনতায় তলানীতে শীর্ষ ২০ দেশ
cover
উৎস: প্রটোন ভিপিএন
১ম, ২য় ও ৩য় স্থানে যথাক্রমে চীন, কিউবা ও রাশিয়া
ডিজিটাল স্বাধীনতার এই প্রতিবেদনে চায়না, কিউবা ও রাশিয়া সর্বনিম্ন স্থান পেয়েছে। এই তিনটি রাষ্ট্রই সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা, ভিপিএন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে।
cover
১৭তম অবস্থানে বাংলাদেশ
ডিজিটাল স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের তলানীতে থাকা দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ ১৭তম অবস্থানে রয়েছে। ডিজিটাল মাধ্যমের স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) এবং ফ্রিডম হাউস- এর ওপর ভিত্তি করে 'ডিজিটাল ফ্রিডম ইনডেক্স' প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইনে দেশটির সরকারের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। অনলাইন মাধ্যমে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে সরকারের তরফ থেকে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট তৈরি করেছে। এ আইনের ফলে গণমাধ্যমগুলো সেল্ফ সেন্সরশীপ মনে করে যা স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রতিবন্ধকতা। 
cover
পরবর্তী দেশের তালিকা
এছাড়া মায়ানমার, ইথিওপিয়া এবং কিউবা ইন্টারনেট সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বাজে রাষ্ট্রের তালিকায় স্থান পেয়েছে। কিউবা ২০১৯ সালে বাসা-বাড়িতে এবং ব্যবসাস্থলে প্রাইভেট ওয়াইফাইয়ের বৈধতা দিয়েছে। মায়ানমারের সামরিক জান্তা ইন্টারনেটই বন্ধ করে দিয়েছে, যার অর্থ ওই দেশের মানুষ ডিজিটাল মাধ্যমে প্রবেশ করতেই পারে না। বেলারুশ, তুরস্ক এবং আরব আমিরাতসহ ১০ ভাগেরও বেশি রাষ্ট্র ভিপিএন বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া ৬০ ভাগেরও কম দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পুরোপুরি স্বাধীন। এই তালিকায় সর্বনিম্নে যে দেশগুলো আছে সেগুলো হচ্ছে যথাক্রমে, চীন, কিউবা, রাশিয়া, ভিয়েতনাম, আরব আমিরাত, মায়ানমার, বেলারুশ, তুরস্ক, বাহরাইন, উগান্ডা, সৌদি আরব, পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, ভেনেজুয়েলা, সিরিয়া, বাংলাদেশ, মিশর, লিবিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া।  
Source
  • https://protonvpn.com/blog/are-vpns-illegal/
  • https://www.pcmag.com/news/
  • https://rsf.org/en/ranking
  • https://freedomhouse.org/

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021