Link copied.
করোনাকালে বিশ্ববাসীর ভ্রমণ স্বাধীনতা: শীর্ষ ১০ শক্তিশালী পাসপোর্টধারীর তালিকায় রয়েছে যেসব দেশ
writer
অনুসরণকারী
cover
প্রতিবারের মতো এবারও বিশ্বের শক্তিশালী এবং দুর্বল পাসপোর্টের তালিকা ‘হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স’ প্রকাশ করেছে লন্ডনে অবস্থিত বৈশ্বিক নাগরিকত্ব ও আবাসনের পরামর্শক সংস্থা হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স । ২০০৬ সাল থেকে নিয়মিতভাবে বিশ্বের ভ্রমণবান্ধব পাসপোর্টের তথ্য প্রকাশ করে আসছে এই সংস্থা। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের র‍্যাংকিং এবং বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) সংগৃহীত বিশ্বের ১৯৯টি পাসপোর্ট ও ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্যে ভিসামুক্ত ও অন অ্যারাইভাল ভিসায় প্রবেশের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে হেনলি পাসপোর্ট । যদিও করোনা মহামারির কারণে নাগরিকদের ভ্রমণে প্রণীত সাময়িক বিধি নিষেধকে বিবেচনার বাইরে রাখা হয়েছে এই তালিকায়। মহামারি পরবর্তী বিশ্ববাসীর ভ্রমণ স্বাধীনতা কেমন হবে তার একটা ধারণা পাওয়া যায় সাম্প্রতিককালে প্রকাশিত এই তালিকা থেকে।

হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের চেয়ার ক্রিস্টিয়ান এইচ ক্যালিন বলেন, “যদিও আমরা জানি না যে কতদিনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা চলবে, এটা স্পষ্ট যে বৈশ্বিক গতিশীলতা কমপক্ষে এই বছরের বাকি সময়ে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।” তিনি আরো বলেন, "অনেক দেশে একটি বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলা করার ক্ষমতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ দেখা দিয়েছে, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অগ্রাধিকার গ্রহণের সাথে সাথে।" হেনলির একচেটিয়া গবেষণা এবং বিশ্লেষণ হতে দেখা যায় যে, কোভিড পরবর্তী আন্তর্জাতিক স্তরের অবসর ভ্রমণ ১০% এরও কম এবং এটি মূলত আঞ্চলিক ভ্রমণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই নতুন যুগে পাসপোর্টের বৈষম্যও বাড়ছে। জাপানি পাসপোর্টধারীদের ভিসা-মুক্ত বা ভিসা-অন-অ্যারাইভাল আফগানিস্তানের নাগরিকদের চেয়ে ১৬৭ টি বেশি গন্তব্যে রয়েছে, যারা র‍্যাংকিংয়ের একেবারে নীচে রয়েছে কারণ তারা আগাম ভিসার প্রয়োজন ছাড়া মাত্র ২৬ টি স্থানে যেতে পারে। হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স বলছে, সূচক শুরু হওয়ার পর থেকে দেশগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় ব্যবধান।
cover
১. জাপান
বিশ্বের ভ্রমণবান্ধব পাসপোর্টের এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে এশিয়ার আধিপত্য। তালিকায় ৪র্থ বারের মতো সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টধারী দেশ হিসেবে নিজের নাম সবার উপরে ধরে রেখেছে জাপান। সর্বশেষ ২০১৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড এবং সুইজারল্যান্ডের মতো দেশগুলোর সাথে ৫ম স্থান ভাগ করে নিয়েছিল দেশটি, এরপর আর ১ এর ঘর থেকে নামাতে পারে নি কোনো দেশ। জাপানের পাসপোর্ট ধারীদের বিশ্বের ১৯৩ টি দেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে আগে থেকে কোন ভিসা নিতে হয় না।
cover
২. সিঙ্গাপুর
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির পাসপোর্ট বহনকারীকে ভিসামুক্ত ও অন অ্যারাইভাল ভিসায় ১৯২টি দেশ ভ্রমণের সুবিধা দেয়। এর আগে ২০০৫ সালে দেশটির পাসপোর্টের মেয়াদ কমিয়ে আনা হয় ৫ বছরে যা আগে ছিল ১০ বছর।
cover
৩. জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়া
পাসপোর্টের শক্তি বিবেচনায় সেরা দশের তালিকায় এশিয়ার পর শুধু ইউরোপের জয়জয়কার। তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে যৌথভাবে রয়েছে জার্মানি এবং দক্ষিণ কোরিয়া। দেশ দুটির পাসপোর্ট হাতে থাকলে ১৯১টি দেশে ভিসামুক্ত ও অন অ্যারাইভাল সুবিধা উপভোগ করা যায়।
৪. ফিনল্যান্ড, ইতালি, স্পেন ও লুক্সেমবার্গ
হেনলি ইনডেক্সের ১৬ বছরের ইতিহাসে, পাসপোর্টের শক্তি বিবেচনায় ইইউ দেশগুলো সূচকে নিজেদের জোরালো অবস্থান টিকিয়ে রেখেছে। ইউরোপের চারটি দেশ ফিনল্যান্ড, ইতালি, স্পেন এবং লুক্সেমবার্গ তালিকায় একত্রে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। দেশ চারটির সবার স্কোর ১৯০। অর্থাৎ এই দেশগুলোর পাসপোর্ট দিয়ে বিশ্বের ১৯০টি স্থানে যাওয়া যাবে।
cover
৫. অস্ট্রিয়া ও ডেনমার্ক
পঞ্চম স্থানে যৌথভাবে স্থান করে নিয়েছে দুইটি দেশ অস্ট্রিয়া এবং ডেনমার্ক। যাদের স্কোর ১৮৯ অর্থাৎ ভিসা ছাড়া পাসপোর্টধারীরা ১৮৯টি দেশে ভ্রমণের সুবিধা পাবে।
৬. ৬ষ্ঠ স্থানে রয়েছে ৫টি দেশ
তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে উঠে এসেছে পাঁচটি দেশের নাম। দেশগুলো হলো আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, পর্তুগাল, সুইডেন এবং ফ্রান্স। এই দেশগুলোর পাসপোর্ট বহনকারীরা ভিসামুক্ত ও অন অ্যারাইভাল ১৮৮টি দেশ ভ্রমণের সুবিধা ভোগ করবে।
cover
৭. সপ্তম স্থানে ৫টি দেশ
বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য একসাথে সপ্তম অবস্থানে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। দেশগুলোর পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৭টি গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারবে ভিসা ছাড়াই।
cover
৮. অষ্টম স্থানে ৪টি দেশ
চেক রিপাবলিক, মাল্টা, গ্রিস এবং নরওয়ে এই চারটি দেশের নাম রয়েছে তালিকার অষ্টম স্থানে। দেশগুলো ভিসামুক্ত ও অন অ্যারাইভাল ১৮৬টি দেশে ভ্রমণের সুবিধা দিচ্ছে।
৯. অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা
অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডা দেশ দুটি তালিকায় নবম স্থানে। তালিকায় তাদের স্কোর ১৮৫ অর্থাৎ ১৮৫টি গন্তব্যে তারা ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ পাবে।
cover
১০. হাঙ্গেরী
সেরা দশে সর্বশেষ যে দেশটির নাম আসে তা হলো হাঙ্গেরী। এই দেশের পাসপোর্ট দিয়ে ১৮৪টি দেশ ভ্রমণ করা যাবে।
cover
সার্কভুক্ত দেশের উল্ল্যেখযোগ্য অবস্থান
সার্কের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের অধিকারী দেশটি হলো মালদ্বীপ। র‍্যাংকিং-এ তাদের অবস্থান ৬৪ তম। দেশটিকে ভিসামুক্ত ও অন অ্যারাইভাল সুবিধা দেয় ৮৭টি দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালদ্বীপের পর রয়েছে ভারতের অবস্থান। আরো দুটি দেশের সাথে একত্রে ৯০তম অবস্থানে রয়েছে ভারতের নাম। ভারতের পাসপোর্টধারীরা ৫৮টি দেশ ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ পাবে। চলতি বছরের সর্বশেষ সূচকে ভুটান এর স্থান ৯৫ তম যার ভিসা-ফ্রি স্কোর ৫৩, শ্রীলঙ্কার স্থান ১০৫ তম, যার ভিসা-ফ্রি স্কোর ৪২ এবং নেপালের ভিসা-ফ্রি স্কোর ৩৮, তালিকায় এর অবস্থান ১০৯ তম।
cover
তালিকার তলানিতে যারা
তালিকার সর্বশেষ নামটি আফগানিস্তানের। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির অবস্থান ১১৬ তম। মাত্র ২৬টি দেশ ভ্রমণের সুবিধা পাবে দেশটির পাসপোর্ট বহনকারীরা। পাকিস্তানের অবস্থান ১১৩ তম। দেশটির পাসপোর্ট দিয়ে ৩২টি দেশ ভ্রমণ করা যাবে বিনা ভিসায় অথবা অন অ্যারাইভাল ভিসায়। ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনের ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধা কিছুটা বেশি হলেও র‍্যাংকিংয়ের তলানিতেই রয়ে গেছে তাদের অবস্থান।
cover
বাংলাদেশের অবনমন
সূচকে সুদান ও লেবাননের পাশাপাশি বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬ তম। র‍্যাংকিং-এ পূর্ববর্তী বছর অপেক্ষা অবনমন ঘটেছে বাংলাদেশের। এই বছরেরই দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০ তম। অন্যদিকে ২০২০ সালে বাংলাদেশ নামটি ছিল তালিকার ৯৮ তম অবস্থানে। বাংলাদেশের পাসপোর্ট হাতে থাকলে ৪১টি দেশে ভিসামুক্ত ও অন অ্যারাইভাল সুবিধা পাওয়া যায়। হেনলির তথ্য অনুযায়ী ভুটান, ইন্দোনেশিয়া, গাম্বিয়া, লেসোথো, কুক আইল্যান্ডস, ফিজি, ভানুয়াতু ও ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে বাংলাদেশিদের৷ শ্রীলঙ্কায় যাওয়া যাবে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন ভিসার মাধ্যমে৷ এশিয়ার দেশেগুলোর মধ্যে মালদ্বীপ, নেপাল, তিমুর লেস্টেতে বাংলাদেশি পাসপোর্টে অন অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণ করা যায়৷

এছাড়া আফ্রিকার কেইপ ভার্দ, কমোর্স দ্বীপপুঞ্জ, গিনিয়া-বিসাউ, কেনিয়া, মাদাগাস্কার, মৌরিতানিয়া, মোজাম্বিক, রুয়ান্ডা, সেনেগাল, সিচেলেস, সিয়েরা লিয়ন, সোমালিয়া, টোগো, উগান্ডায় রয়েছে এমন সুবিধা৷ ওসেনিয়া অঞ্চলের সামোয়া, টুভালু আর দক্ষিণ অ্যামেরিকার বলিভিয়াতেও যাওয়া যাবে অন অ্যারাইভাল ভিসাতে।
cover
সময়ের সাথে এগিয়ে গেছে যে দেশগুলো
সময়ের সাথে সাথে, হেনলি পাসপোর্ট সূচকে ছোট বার্ষিক পদক্ষেপগুলি একটি বড় প্রভাব ফেলে আসছে এবং গত দশকে চীন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলি সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখিয়েছে। ২০১১ সালের ভিসা-মুক্ত/ভিসা-অন-অ্যারাইভাল স্কোর ৪০ থেকে ২০২১ সালে ৭৮ টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধা অর্জন করে নিয়েছে চীন, র‍্যাংকিংয়ে উঠে এসেছে ৭২ তম স্থানে। তবে সূচকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্কোরে ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী হল সংযুক্ত আরব আমিরাতের। ২০১১ সালে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ৬৭ তম দেশ হিসেবে ৬৫টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধা পেয়েছে। আজ ১৭৫ টি গন্তব্যে উল্লেখযোগ্য ভিসা-মুক্ত স্কোর সহ এটি এখন ১৫ তম স্থানে রয়েছে।

cover
বিশ্বব্যাপী দেশগুলির সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার জন্য আমিরাতের চলমান প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তাছাড়া ইতিমধ্যেই করোনা মহামারীর ফলে সৃষ্ট ভ্রমণ খাতে তৈরি শূন্যতাকে পূর্ণতা দেয়ার জন্য নানা সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহন করেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।


তথ্যসূত্র: 

  • https://www.visualcapitalist.com/how-powerful-is-your-passport-in-a-post-pandemic-world/

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021