নার্সারির গ্রাম: প্রতি মৌসুমে চারা বিক্রি করে ১৫ কোটি টাকা আয়
বিশেষ প্রতিবেদন
নার্সারির গ্রাম: প্রতি মৌসুমে চারা বিক্রি করে ১৫ কোটি টাকা আয়
এক গ্রামেই গড়ে উঠেছে আড়াই শতাধিক নার্সারি। বিভিন্ন ধরনের সবজির চারা উৎপাদন করে ইতোমধ্যেই গ্রামটি ‘চারা নগর’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। কর্মসংস্থান হয়েছে হাজারো মানুষের। বলছিলাম বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার শাহ নগর গ্রামের কথা। যে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ নার্সারি করেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন ২ যুগেরও বেশি সময় ধরে।
ছবি: রিদ্মিক নিউজ
ছবি: রিদ্মিক নিউজ
শামসুল আলম নামের স্থানীয় এক কৃষক এই গ্রামে সর্ব প্রথম চারা নার্সারি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর তার সাফল্যে উৎসাহ পায় স্থানীয়রা। একে একে ঐ এলাকায় গড়ে উঠে চারা নার্সারি। বর্তমানে প্রায় আড়াই শতাধিক নার্সারিতে উৎপাদন হচ্ছে উচ্চ ফলনশীল বিভিন্ন জাতের সবজির চারা । এসব নার্সারিতে হাইব্রিড জাতের মরিচ, পেঁপে, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটোর চারা উৎপাদিত হচ্ছে। 
বর্তমানে প্রায় আড়াই শতাধিক নার্সারিতে উৎপাদন হচ্ছে উচ্চ ফলনশীল বিভিন্ন জাতের সবজির চারা । এসব নার্সারিতে হাইব্রিড জাতের মরিচ, পেঁপে, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটোর চারা উৎপাদিত হচ্ছে। বর্তমানে দেশের ২৮ টি জেলায় সরবারহ করা হচ্ছে এসব চারা।
ছবি: রিদ্মিক নিউজ
ছবি: রিদ্মিক নিউজ
বর্তমানে দেশের ২৮ টি জেলায় সরবারহ করা হচ্ছে এসব চারা। নার্সারির মালিকেরা জানান, প্রতিবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত সবজির চারা বেশি উৎপাদিত হয়। মানসম্পন্ন হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষকরা এসে চারা নিয়ে যান। অনেকেই আবার মোবাইল ফোনে অর্ডার করে কুরিয়ারের মাধ্যমে চারা সংগ্রহ করেন।
ছবি: রিদ্মিক নিউজ
ছবি: রিদ্মিক নিউজ
জেলার সারিয়াকান্দি এলাকা থেকে সবজির চারা কিনতে আসা নরেন কুমার জানান,আমার ১ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করবো। এর আগেও এখান থেকে চারা নিয়ে লাভবান হয়েছি। মান ভালো হওয়ায় আমি প্রতি বছরই এখান থেকে চারা কিনি। সততা নার্সারির মালিক ও শাহনগর নার্সারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে আড়াই শতাধিক নার্সারিতে সবজির চারা উৎপাদিত হচ্ছে। প্রতি কেজি বীজে গড়ে ১ লাখ ২০ হাজার টি চারা উৎপাদিত হয়। প্রতিটি নার্সারিতে গড়ে ৫ কেজি বীজের চারা উৎপাদন হচ্ছে। সেই হিসেবে এবার প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি সবজির চারা পাওয়া যাবে। প্রতিটি চারা গড়ে ১ টাকা দরে বিক্রি করলে ১৫/২০ কোটি টাকা বিক্রি করা সম্ভব।

চলতি মৌসুমে আড়াই শতাধিক নার্সারিতে সবজির চারা উৎপাদিত হচ্ছে। প্রতি কেজি বীজে গড়ে ১ লাখ ২০ হাজার টি চারা উৎপাদিত হয়। প্রতিটি নার্সারিতে গড়ে ৫ কেজি বীজের চারা উৎপাদন হচ্ছে। সেই হিসেবে এবার প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি সবজির চারা পাওয়া যাবে।
সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম, সততা নার্সারির মালিক ও শাহনগর নার্সারি মালিক সমিতি
ছবি: রিদ্মিক নিউজ
ছবি: রিদ্মিক নিউজ
শাহনগর নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, স্থানীয় কৃষক শামসুল আলম প্রথমে স্বল্প পরিসরে সবজির চারা উৎপাদন শুরু করেন। পরে তার থেকে উৎসাহ পেয়ে নব্বইয়ের দশকে শাহ নগরের অনেক কৃষক চারা উৎপাদনে উৎসাহী হন। গত তিন দশকে এখানে সবজির চারা উৎপাদনে বিপ্লব ঘটেছে।

ছবি: রিদ্মিক নিউজ
ছবি: রিদ্মিক নিউজ
শাজাহানপুরের শাহনগর গ্রামটি চারা নগর হিসেবেই বেশি পরিচিত। প্রায় ৩০ বছর আগেও ওই গ্রামের কৃষকরা চারা নার্সারি শুরু করে। জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত তারা চারা বিক্রি করে থাকেন। দেশের ২৪ থেকে ২৮ টি জেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা এখান থেকে চারা সংগ্রহ করে থাকেন
উপপরিচালক দুলাল হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বগুড়া
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক দুলাল হোসেন বলেন, শাজাহানপুরের শাহনগর গ্রামটি চারা নগর হিসেবেই বেশি পরিচিত। প্রায় ৩০ বছর আগেও ওই গ্রামের কৃষকরা চারা নার্সারি শুরু করে। জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত তারা চারা বিক্রি করে থাকেন। দেশের ২৪ থেকে ২৮ টি জেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা এখান থেকে চারা সংগ্রহ করে থাকেন। অনেকে অনলাইনেও তাদের কাছ থেকে চারা সংগ্রহের অর্ডার দেন। 
রিপোর্টার: খালিদ হাসান, বগুড়া
আরও পড়ুন: মহাস্থানহাট: ৩০০ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে যে বাজার এখনও জমজমাট! 
ভাসু বিহার: অযত্ন-অবহেলায় ভ্রমণে আগ্রহ হারাচ্ছেন পর্যটকরা 
বিশেষ প্রতিবেদনসারাদেশবগুড়া
আরো পড়ুন