Link copied.
একবিংশ শতাব্দীতে টেইলেন্ডারদের ব্যাটিং দক্ষতায় মান বাঁচানো ম্যাচের গল্প
writer
অনুসরণকারী
cover
ক্রিকেট ইতিহাসে অনেক ম্যাচের গল্প শোনা যায় যেখানে ব্যাটসম্যানরা হতাশ করলেও শেষে লেজের ব্যাটসম্যানদের দক্ষতায় ম্যাচের ফলাফল পাল্টে যায়। দল গঠনে সর্ব নিম্নস্তরের ৪ ক্রিকেটারকে আমরা সাধারণ বোলার হিসেবেই গণ্য করি। ব্যাটিংয়ে তাদের থেকে তেমন বড় কোন কিছু আশা করা হয় না। তবে ইতিহাস বলে ক্রিকেটে অনেক ম্যাচে তাদের দ্বায়িত্বশীল ব্যাটিং হয় ম্যাচ জিতিয়েছে না হয় ড্র করেছে। এমনি কিছু ম্যাচের গল্প নিয়ে সাজানো আজকের প্রতিবেদন। চলুন দেরি না করে একটু পড়ে নেওয়া যাক-

১. ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়া; হেডিংলি, ২০১৯;
ফলাফল: ইংল্যান্ড ১ উইকেটে জয়ী।
শেষ জুটিতে: বেন স্টোকস ১৩৫* ও জ্যাক লেচ ১*


অ্যাজেশের এই ম্যাচটি ছিল গত দশকের সেরা এক নাটকীয় ম্যাচ। উত্তেজনার পারদে ঠাসা ম্যাচটিতে যখন শেষ বল করতে প্যাট কামিন্স দৌঁড়ে আসছিলেন হেডিংলির গ্যালারি ভর্তি দর্শকেরা মাঝে তখন দেখা যায় পিনপতন নীরবতা। কী হতে যাচ্ছে? ম্যাচ কি এই অবস্থায় শেষ হবে নাকি ইংল্যান্ড জিতে যাবে? সব জল্পনা কল্পনার ইতি ঘটিয়ে বেন স্টোকস বাউন্ডারি হাঁকালে। অবিশ্বাস্য এক ম্যাচের জন্ম দিলেন। অনন্য এক ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে গেলেন।
এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৭ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। তবুও ৩৫৯ রানের পথ পাড়ি দিয়ে জয়ের স্বপ্ন বুনছিল তারা। এই যাত্রায় প্রথম জয়ের আশা জাগিয়ে ছিলেন জো রুট(৭৭) আর জো ডেনলি(৫০)। কিন্তু এরপর দলের প্রায় সবাই ব্যর্থ হয়ে একে একে যাওয়া আসার মাঝে থাকেন, দলকে ছেড়ে যান মাঝ সমুদ্রে। হাবুডুবু খাওয়া দলকে কিনারায় ভিড়ানো চেষ্টা চালাতে থাকেন বেন স্টোকস। যখন ৯ম উইকেটের পতন ঘটে স্টোকস তখন ব্যাট করছিলেন ৬১ রানে। দল তখন জয় থেকে ৭৬ রান দূরে।

শেষ উইকেটে জ্যাক লেচ হলেন স্টোকসের সঙ্গী। সেট ব্যাটসম্যান যখন দলকে কিনারায় নেওয়ার চেষ্টা করছেন, মাটি আঁকড়ে, উইকেটে থেকে নিজেকে সাবলীল করে নেওয়ার চেষ্টা করেন লেচ। স্টোকসকেও বিচলিত হতে দেননি তিনি। কোন ভুল না করে ১৭টি বল মোকাবেলা করেন ঠিক টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের মতো। এরই মধ্যে শতক তুলে নেন স্টোকস। সেঞ্চুরির পর তিনি আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেন। বড় বড় শট খেলে অজি বোলারদের দুশ্চিন্তায় ফেলে দেন। কিছুতেই আটকানো যাচ্ছিল না তাকে। স্টোকসের দেখাদেখি সাহস বেড়ে গেলো লেচের। কোন সুযোগ দিলেন না অজিদের। শেষমেশ, দুই জন মিলে ৭৬ রানের পথটা পাড়ি দিলেন। সে জুটির মাত্র ১ রান আসে লেচের ব্যাট থেকে।

২. দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম শ্রীলঙ্কা; ডুরবান, ২০১৯;
ফলাফল: শ্রীলঙ্কা ১ উইকেটে জয়ী
শেষ জুটিতে: কুশাল পেরেরা ১৫৩* ও ফার্নান্দো ৬*


ঘটনা ২০১৯ সালের প্রথম দিকে। ডুরবান টেস্টে দক্ষিন আফ্রিকার বিপক্ষে ফার্নান্দো ও পেরেরা শেষ উইকেটে গড়ে তোলেন ৭৮ রানের অপ্রতিরোধ্য জুটি। এর কিছু আগে, ৯ম উইকেটের পতনের সময় ৮৬ রানে ব্যাট করছিলেন পেরেরা। ডেইল স্টেইন, ভার্নন ফিল্যান্ডার ও কাগিসো রাবাদাকে নিয়ে সুসজ্জিত প্রোটিয়া বোলিং লাইন আপের কাছে তখন শেষ উইকেটটি তুলে নেওয়া ছিল সময়ের ব্যাপার। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২০০ রান তুলতে না পারা শ্রীলঙ্কা কিভাবে তাদের উপেক্ষা করে ৩০০ রানের পথ পাড়ি দিয়ে জয় তুলে নিবে? তা কল্পনাতেও মানাতে চায়নি অনেকে। তাও আবার শেষ উইকেটে দরকার ছিল ৭৮ রান। 
cover
সেসময়ে শেষ উইকেটে ব্যাট করতে নামা ফার্নান্দো যেনো হয়ে উঠেন পৃথিবীর সবচাইতে ধৈর্য্যশীল ব্যক্তি। তার ব্যাটিং ধরন, ধৈর্য্যশীল মেজাজ, পেরার সাথে ভালো বুঝাপড়া ভাবিয়ে তুলতে শুরু করে আফ্রিকানদের। ওইদিকে পেরার তুলে নেন শতক। শতকের পর তার মারমুখী ব্যাটিং ফার্নান্দোকেও সাহস যোগাতে থাকে। কৌশলী ব্যাটিংয়ে দৃষ্টি কাড়ার চেষ্টা করেন প্রোটিয়া বোলারদের। তার উইকেট নিতে মরিয়া হয়ে থাকা বোলারদের পিটিয়ে গুটিগুটি পায়ে জয়ের দ্বারপ্রান্তে দল নিয়ে যান পেরারা। দেড়শ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি। কৃতিত্বটা ২৭ বলে ৬ রান করা ফার্নান্দোও সমান ভাগে পাওয়ার যোগ্য।

৩. নিউজিল্যান্ড বনাম পাকিস্তান; আবুধাবি; ২০১৮
ফলাফল: নিউজিল্যান্ড ৪ রানে জয়ী
শেষ জুটিতে: আহজার আলি ৬৫ ও মোহাম্মদ আব্বাস ০*


খুবই উত্তেজনা পূর্ণ ম্যাচ ছিল এটি। যেখানে লো স্কোরিং ম্যাচের ভাগ্যটা ছিল পাকিস্তানের দিকে কিন্তু ক্ষণিকের ব্যবধানে সব কিছু তাদের বিপক্ষে চলে যায়। সিরিজের প্রথম ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড। তাদের দেওয়া টার্গেট পার করে উল্টো ৭৪ রানের লিড নেয় পাকিস্তান। নিজেদের শেষ ইনিংসেও কম রানে অলআউট হয়ে যায় কিউইরা। জয়ের জন্য পাকিস্তানের লক্ষ্য স্থির হয় ১৭৬ রান। এমন সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তালগোল পাকিয়ে পেলে তারা। ৫ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ১৪৭ রান। এরপরই শুরু হয় আসল বিপত্তি। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নিউজিল্যান্ডের স্পিনার অ্যাজাজ প্যাটেল।
cover
১৫৪ থেকে ১৫৫, ১ রানের ব্যবধানে পাকিস্তান হারায় ৩টি উইকেট। ম্যাচ ততক্ষণে জমে ক্ষীর। ব্যাট হাতে প্রাণপণে লড়ে যাচ্ছিলেন ওয়ান-ডাউনে নামা আজহার আলি। কিন্তু সতীর্থদের যেনো জোর করে আটকে রাখতে পারছিলেন না তিনি। ৭-১১তম ব্যাটসম্যানের সবারই ফিরেছেন খালি হাতে। শেষ উইকেটে পিচে আসা আব্বাস অবশ্য আজহারকে স্বস্তি দিয়েছেন। ১২ রানের দূরত্ব কমিয়ে ৪ রানে নিয়ে আসেন দুই জন। ১০ বলে কোন রান না করে তখন নন স্ট্রাকাইকে অপরাজিত তিনি। পাকিস্তানের গলার কাটা হয়ে দাঁড়ানো অভিষিক্ত অ্যাজাজ প্যাটেল তখন বল করছিলেন। ৫ উইকেটের স্পেল সম্পন্ন করতে তার প্রয়োজন ছিল ১টি উইকেট আর পাকিস্তানের জয়ের জন্য দরকার ৪ রান।

কব্জির মোচড়ে বল করলেন ৬৫ রানে ব্যাট করা আজহার আলির জন্য। বলটি সোজা গিয়ে হিট করে তার প্যাডে। জোড়ালো আবেদন জানান প্যাটেল। কালক্ষেপণ না করে আঙ্গুল উঁচিয়ে সম্মতি জানান আম্পায়ার। রিভিউ নিয়েও বাঁচা গেলো না। তীরে এসে তরী ডুবাল পাকিস্তান। ৪ রানের অবিশ্বাস্য জয়ে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।

৪. ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা; লর্ডস; ২০১৪
ফলাফল: ম্যাচ ড্র
শেষ জুটিতে: শামিন্দা এরাঙ্গা ০* ও নুয়ান প্রদিপ ০*


ক্রিকেটের আতুড়ঘর লর্ডস কালে কালে যে কত নাটকীয় ম্যাচের স্বাক্ষী হয়েছে তার ইয়াত্তা নাই। ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কা আর ইংল্যান্ডের মধ্যকার এমন এক স্মরনীয় ম্যাচ হয়েছিল লর্ডসে। ম্যাচের শেষ দিনের খেলায় ৯০ ওভারে ৩৯০ রান করতে হবে লঙ্কানদের। এই লক্ষ্য তাড়া করে পরাজয় এড়াতে হলে হয় জিততে হবে না হয় দিনের শেষ বল পর্যন্ত মাটি আঁকড়ে উইকেট ধরে খেলতে হবে। ড্র করার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা শ্রীলঙ্কা দিনের প্রথম সেশন শেষ করে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে। ১ উইকেট হারিয়ে ৯৯ রানে মধ্যাহ্ন ভোজে যায় তারা। চা'পানের বিরতিতে যাওয়ার আগে আরও দুইটি উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। তখন অর্ধশত রানে অপরাজিত ব্যাট করা সাঙ্গাকারার সঙ্গি ছিলেন থিরিমান্নে। পশ্চিম আকাশে সূর্য যখন আস্তে আস্তে হেলে পড়ছিল তখন শ্রীলঙ্কার শিবিরেও ঘটে ছন্দ পতনের শুরু হয়। স্টুয়ার্ট ব্রড, জেমস অ্যান্ডারসন আর ক্রিজ জর্ডান ত্রয়ী জোট বেঁধে হানা দেন লঙ্কান শিবিরে। 
cover
১৫৯ থেকে ১৯৪ রানে যেতে আরও ৩ উইকেট খুইয়ে দিশে হারা হয়ে পড়ে সফরকারীরা। দিন খেলায় তখনও ১২ ওভার বাকি। খেলা আরও জমে উঠে শেষ ওভারে। ওভারের প্রথম বলে স্ট্রাইকে থাকা রাঙ্গানা হেরাথকে বাউন্সার দেন ব্রড। বুঝে উঠার আগেই হেরাথের কব্জিতে লেগে বল হাওয়ায় ভাসতে শুরু করে। তালু বন্দি করতে ভুল করেননি উইকেটরক্ষক ম্যাট প্রিয়র। ইংল্যান্ডের তখন ৫ বলে মাত্র ১টি উইকেট প্রয়োজন। পঞ্চম বলে স্ট্রাইকে থাকা নুয়ান প্রদিপকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করেন ব্রড। জোরালো আবেদন জানালে আম্পায়ারও সাড়া দেন। কিন্তু বলটি যে ব্যাট টু প্যাডে হিট করেছিল তা নুয়ার বুঝার সাথে সাথে রিভিউ নিয়ে নেন। সফল রিভিউতে বেঁচে যান তিনি। হাড়হিম করা শেষ বলের উত্তেজনায় লর্ডস তখন পিনপতন নীরবতা পালন করছিল। বেঁচে ফেরা প্রদিপের আর ভুল করলেন না। ফিরিয়ে দিলেন ব্রডের ছোড়া শেষ বল। পরাজয় এড়িতে ম্যাচটি ড্র করতে সক্ষম হয় লঙ্কানরা।

৫. নিউজিল্যান্ড বনাম ইংল্যান্ড; অকল্যান্ড; ২০১৩
ফলাফল: ম্যাচ ড্র
শেষ জুটিতে: ম্যাট প্রিয়র ১১০* ও মন্টি পানেসার ২*


অনেকের মতে, নিউজিল্যান্ড সেদিন জিততে পারত। যদি আরও আগে ইনিংস ঘোষনা করত। ৪৮১ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করিয়ে ইংল্যান্ডকে ১৪৩ ওভার ব্যাট করার সুযোগ দেয় কিউইরা। চার সেশনে ব্যাটের সুযোগ পাওয়া ইংলিশরা চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে ৯০ রানে সংগ্রহ করতে ৪ উইকেট হারায়। শেষ দিনের প্রথম সেশনে ইয়ান বেলের ব্যাটে আশাজাগানিয়া স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ইংল্যান্ড। মধ্যাহ্ন ভোজে যাওয়ার আগে দলীয় ১৫৮ রানের ৪১ রান ছিল বেলের। কিন্তু চা'পানের বিরতিতে যাওয়ার আগে বোল্ট আর ওয়াগনারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৭ উকেটের পতন ঘটে। ফিরে যান বেল দ্বায়িত্ব তুলে নেন ম্যাট প্রিয়র। চা বিরতি থেকে ফিরে এসে স্টুয়ার্ট ব্রডকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন ম্যাট।
cover
ব্রডও ধৈর্য্যর পরিক্ষা দেন। ৭৭ বলে খেলেন ৬ রানের অনবদ্য ইনিংস। পার্টটাইম বোলার হিসেবে এসে এক ওভারে জোড়া আঘাত হানেন কেন উইলিয়ামসন। ব্রড আর অ্যান্ডারসনের উইকেট তুলে নেন ৩ বলের ব্যবধানে। ম্যাচ শেষ হওয়ার তখনও ৩ ওভার ১ বল বাকি। জয়ের জন্য তখন ব্ল্যাক ক্যাপসদের ১ উইকেট প্রয়োজন। শতরানে তখন ব্যাট করছিলেন প্রিয়র। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে পিচে তার সঙ্গি হন মন্টি পানেসার। জয় তখন বহুদূরে, হার এড়াড়ে প্রয়োজন উইকেটে টিকে থাকা। ১৯ বল খেলে ম্যাচ ড্র করা। তার ৬ বল খেলে ২ রানে অপরাজিত থাকেন পানেসার। দলকে পরাজয়ের লজ্জা এড়িয়ে অসাধারণ ম্যাচ উপহার দেওয়া প্রিয়রও অপরাজিত থাকেন ১১০ রানে।

৬. ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ; মুম্বাই, ২০১১;
ফলাফল: ম্যাচ ড্র!
শেষ জুটিতে: ভারুন আরন ৪ ও প্রজ্ঞান ওঝা ০*


টেস্ট ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় ম্যাচ হিসাবে টাই করার খুব কাছাকাছি গিয়েছিল ভারত আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার খেলাটি। ম্যাচের শেষ দিনে ৬৪ ওভারে ২৪৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা স্বাগতিক ভারত ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিলেও রবি রামপাল, মার্লন স্যামুয়েলদের অসাধারণ বোলিংয়ে ম্যাচের ভাগ্য দুলতে থাকে পেন্ডুলামের মতো। খেলা আরও জমে উঠে শেষ দুই ওভারে। যখন ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন ৬ রান আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ৩ উইকেট। 
cover
এমন উত্তেজনার মধ্যে ৬৩ তম ওভারের শেষ বলে রামপাল প্যাভিলিয়নের পথ দেখান ইশান্ত শর্মাকে। শেষ ওভারে ২ উইকেটে ৩ রান প্রয়োজন ছিল ভারতের। এডওয়ার্ডের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ২ রান সংগ্রহ করে ভারত। শেষ বলে নিয়েছিলেন ১ উইকেট। স্কোর সমান থেকে ম্যাচ শেষ হয়। মাত্র ১ রান আর ১ উইকেটের আক্ষেপে জয় তুলে নিতে পারেনি কোন দল।১৯৯৬ সালে ইংল্যান্ড আর জিম্বাবুয়ে মধ্যে স্কোর সমান থাকা অবস্থায় ম্যাচ শেষ হওয়ার পর এইটিই ছিল দ্বিতীয় সমতার ম্যাচ।

৭. ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া; মোহালি, ২০১০;
ফলাফল: ভারত ১ উইকেটে জয়ী
শেষ জুটিতে: ভিভিএস লক্ষ্মণ ৭৩* ও প্রজ্ঞান ওঝা ৫*


২১৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা ভারতের তাবুতে শুরুতে হানা দিতে শুরু করে হিলপেনস আর বলিঞ্জার। মাত্র ৭৬ রানের ৫ ব্যাটসম্যানের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটান তারা। ৬ষ্ঠ উইকেটে টেন্ডুলকারের সঙ্গি হন ভিভিএস লক্ষ্মণ। দুই জনে মিলে ৪৩ রানের জুটি গড়েন। টেন্ডুলকারের পতনের পর ধোনির মাত্র ২ রান করে রান আউট হওয়া ভারতীয়দের জয়ের স্বপ্ন ভাঙ্গতে শুরু করে। কিন্তু লক্ষ্মণের ব্যাট বলছিল ভিন্ন কথা। স্বপ্ন দেখতে বাধ্য করেছিল নতুন কিছুর। ৯ম উইকেটে আসা ইশান্ত শর্মাকে বলে কয়ে ব্যাট করেচ্ছিলেন তিনি। মন্ত্র দিচ্ছেন কি ভাবে মাটি আঁকড়ে থাকতে হবে। মন্ত্র ঠিক ভাবে রপ্ত করতে পেরেছেন ইশান্ত।
cover

মধ্যাহ্নের বিরতিতে যাওয়ার আগে ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন আর ৫৪ রান। অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল মাত্র ২ উইকেট। ভোজ সেরে ফিরে এসেই অর্ধশতক পূর্ণ করেন লক্ষ্মণ। তাদের দুইজনের জুটিও অর্ধশতক রানের গন্ডি পেরুলো। ভারতে স্কোর তখন ২০৫ রান। জয় থেকে মাত্র ১১ রান দূরে থাকা ভারতের আরেকটি উইকেটে পতন ঘটান হিলপেনস। ৯২ বলে ৩১ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলা ইশান্ত শর্মা ফেরেন সাঝ ঘরে। আবারও নড়েচড়ে উঠে ভারত শিবির। প্রজ্ঞান ওঝা আসেন শেষ উইকেটে। তিনিও হতাশ না করে দলের জয়ে অবদান রাখেন। ৭৩ রানের মহামূল্যবান ইনিংস খেলা লক্ষ্মণের সাথে তাল মিলিয়ে ১০ বলে ৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন দুইজন।

৮. দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ইংল্যান্ড; সেঞ্চুরিয়ান, ২০০৯; ১ম টেস্ট
ফলাফল: ম্যাচ ড্র
শেষ জুটি: পল কলিংউড ২৬* ও গ্রাহাম ওনিয়ন'স ১*

৯. দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ইংল্যান্ড; কেপ টাউন, ২০১০; ৩য় টেস্ট
ফলাফল: ম্যাচ ড্র
শেষ জুটি: গ্রায়েম সোয়ান ১০* ও গ্রাহাম ওনিয়ন'স ০*


দক্ষিন আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ২০০৯-১০ মৌসুমের টেস্ট সিরিজের ম্যাচ গুলো অন্যরকম এক অনুভূতির প্রকাশ ঘটায়৷ সে সিরিজের প্রথম টেস্টের মতো ৩য় টেস্টও ড্র হয় টানটান উত্তেজনার মাঝে। টেইলেন্ডারদের দক্ষতায় ম্যাচ দুইটিতে মান বাঁচে ইংলিশদের।
cover
প্রথম টেস্টে ৩৬৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২৭ রানেই ৩ উইকেট হারায় সফরকারীরা। এরপর চতুর্থ উইকেটে জনাথন ট্রট আর কেভিন পিটারসেনের ১৭৫ রানের জুটি সে হাল কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয় তারা। ১৭২ রান থেকে ২১৮ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ম্যাচের ১৯ বল আগে ৯ম উইকেটের পতন ঘটে। শেষ উইকেটে কলিংউডের সঙ্গী হন ওনিয়ন'স। ৯৯ বলে ২২ রানের ইনিংস খেলা কলিংউড তখন ওনিয়নসের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেন সঙ্গীর এমন ধৈর্য্যশীল ব্যাটিং দেখে নিজেও পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যান হয়ে যান। একে একে ১২ বল মোকাবেলা করে ম্যাচ ড্র করেন। মান বাঁচান দলের। স্বাক্ষী হন ঐতিহাসিক এক ম্যাচের।

তৃতীয় ম্যাচেও দলের শেষ মূহুর্তের ভরষা প্রথম ম্যাচের পর্দার আড়ালের নায়ক ওনিয়ন'স। কেপ টাউনে সে ম্যাচের চতুর্থ দিনে চা বিরতিতে যাওয়ার আগে ৪৬৬ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রায় ১২০ ওভারে ৪৬৬ রানের লক্ষ্যটা অনেক কঠিন হলেও হার এড়ানোর চেষ্টাই হবে সঠিক স্বীদ্ধান্ত। এমন ভাবনা থেকেই ধীরস্থির ব্যাটিং শুরু করে ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার। জুটি পূর্ণ করেন শত রানের। দলীয় ১০১ রানে অ্যালিস্টার কুকের বিদায়ের প্রথম উইকেট হারায় ইংলিশরা। এরপর ১৩২ রানে দিন শেষ করতে আরও দুই উইকেট খোয়ায় তারা।
cover
শেষ দিনে ৬ষ্ঠ উইকেটে ইয়ান বেল আর কলিংউডের জুটিতে চা-বিরতিতে যাওয়ার আগে ৫ উইকেটে ২৩০ রানের সংগ্রহ দাঁড়ায় তাদের। বিরতির পর ফিরে এসে অর্ধশত পূর্ণ করেন বেল। জুটির পূর্ণ হয় শতক। দলীয় ২৭১ রানে কলিংউড ফিরেন ৪০ রান করে। এরপর ২৭১ থেকে ২৯০ রানের পথ পাড়ি দিতে আরও ৩টি উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। শেষ খুটি বেলও(৭৮) ফিরে যান। ম্যাচ ড্র হতে তখনো ১৭ বল বাকি। শেষ উইকেটে পিচে তখন দুই টেইলেন্ডার সোয়ান ও ওনিয়ন'স। হ্যারিস, মরকেল আর স্টেইনকে প্রতিহত করে শেষ বল পর্যন্ত লড়ে যান দুই জন। উইকেট না দিয়ে দলকে হার এড়াতে সাহায্য করেন।

১০. ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম ইংল্যান্ড; অ্যান্টিগুয়া; ২০০৯
ফলাফল: ম্যাচ ড্র
শেষ জুটি: ড্যারেন পাওয়েল ২২* ও ফিদেল অ্যাডওয়ার্ডস ৫*


১২৮ ওভারে ইংল্যান্ডের দেওয়া ৫০৩ রানের অবিশ্বাস্য লক্ষ্য তাড়া করে ম্যাচ হারার শখ হয়তো প্রথম দিকে ছিল না ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এই ম্যাচের ফলাফলা ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে যাওয়াটা ছিল অস্বাভাবিক, এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের কথা চিন্তা করাটাও আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখা ছাড়া আর কি! ক্রিস গেইল আর ডেবন স্মিথের উদ্বোধনী জুটিতে মন্থর গতির ইনিংস ম্যাচ ড্র করার ইচ্ছারই বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। কিন্তু ম্যাচ জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে থাকা ইংলিশ বোলার স্টুয়ার্ড ব্রড, জেমস অ্যান্ডারসনের অগ্নি গোলা আর গ্রায়েম সোয়ামের স্পিন ভেল্কিতে মাতোয়ারা হয়ে পড়ে ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং লাইনআপ। সুযোগটা ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানরাই করে দিয়েছিল।
cover
চা বিরতিতে যাওয়ার আগে দুই সেট ব্যাটসম্যান রামনরেশ সারওয়ান(১০৬) ও শিবনারাইন চন্দরপলের(৫৬) উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। সেই সাথে ম্যাচ হারের শঙ্কাও জাগে। দিনের দশ ওভার বাকি থাকতে পতন ঘটে নবম উইকেট। শেষ উইকেট তুলে নেওয় তখন ইংল্যান্ডের সময়ের ব্যাপার ছিল। কিন্তু দুই টেইলেন্ডার ড্যারেন পাওয়েল আর ফিদেল অ্যাডওয়ার্ডস প্রাচীর গড়ে তোলেন। নাস্তানাবুদ করে ছাড়েন বোলারদের। বনে যান জাতি ব্যাটসম্যান। পাওয়ালের ৫৫ বলে ২২ ও ফিদেলের ২৬ বলে ৫ রানের অপরাজিত ইনিংসে সেবারের মতো মান বাঁচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ম্যাচ শেষ হয় ড্র অবস্থায়।

১১. বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান; মুলতান ২০০৩
ফলাফল: পাকিস্তান ১ উইকেটে জয়ী
শেষ জুটি: ইনজামাম উল হক ১৩৮* ও ইয়াসির আলি ১*


মুলতান টেস্ট পরাজয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম বিভীষিকাময় একটা অধ্যায়। টেস্ট ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও জয়ের স্বাদ ভোগ করতে পারেনি তারা। ২৬১ রানের টার্গেট দিয়ে পাকিস্তানকে প্রায় আটকেই ফেলেছিল বাংলাদেশ। খালেদ মাহমুদ, মোহাম্মদ রফিক আর মানজারুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১০০ রানের আগেই ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান। দলকে একাই শেষ পর্যন্ত টেনেছেন ইনজামাম উল হক। তার শতকে হাবুডুবু খেতে খেতে দল পৌঁছে যায় জয়ের দ্বারপ্রান্তে। জয় থেকে ৫ রান দূরে থাকতেই ৯ম উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। জয়ের স্বপ্ন আরও রঙিন হতে থাকে বাংলাদেশের। কিন্তু শেষ উইকেটে নামা ইয়াসির আলি উইকেট ছেড়ে আসেন নি। আস্থার প্রতিদান দিয়ে ৪টি বল সুন্দর ভাবে ডিফেন্স করেন তিনি। বাকি কাজটা সেরে নেন ইনজামামই। বাংলাদেশকে হারিয়ে জয় তুলে নেন ১ উইকেটে। ইনজামামের এই ইনিংসকে সর্বকালের সেরা ইনিংস গুলোর একটি বিবেচনা করা হয়।
cover
এই কয়েকটি ম্যাচ ছাড়াও টেইলেন্ডারদের ভুমিকায় জিতে যাওয়া অন্যতম আরও কয়েকটি ম্যাচ হলো- ২০০৭ সালে লর্ডসে ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার সিরিজের প্রথম টেস্টটি। যেখানে শেষ উইকেটে নামা শ্রীশান্তের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ভারত ম্যাচটি ড্র করে। ২০০৬ সালে কলোম্বোতে পারভেজ মোশারফের ২৯* ও লাসিথ মালিঙ্গার অপরাজিত ১ রানে ভর করে ১ উইকেটে দক্ষিন আফ্রিকাকে হারায় শ্রীলঙ্কা। ওই বছরই অ্যান্টিগুয়ায় দুই টেইলেন্ডার ফিদেল এডওয়ার্ডস(১) ও করে কলিমোরের(১) অপরাজিত ইনিংসে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ ড্র করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওল্ড ট্রাফোর্ডে ২০০৫ সালে ব্রেট লির ১৮* ও গ্লেন ম্যাকগ্রার ৫* রানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হার এড়াতে সক্ষম হয় অস্ট্রেলিয়া। 

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021