Link copied.
প্রমিলা বিশ্বকাপে বাংলাদেশ, বিশ্বমঞ্চে জমবে কেশকন্যাদের লড়াই
writer
অনুসরণকারী
cover
সাগর পাড়ের শহর তৌরাঙ্গার বে ওভাবে ২০২২ সালের ৪ মার্চ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে প্রমিলাদের ওডিআই বিশ্বকাপের দ্বাদশতম আসর। প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফাইনাল হবে ৩ এপ্রিল ক্রাইস্টচার্চের হেগলি ওভালে।এরমধ্যে আইসিসির এই মেগা ইভেন্টে ৩১ দিনে ৩১টি ম্যাচ হবে। নিউজিল্যান্ডের ছয়টি শহরের ৬ মাঠে বসবে বিশ্বকাপের এই আসর।বিশ্বকাপে নকআউট পর্বের সব ম্যাচেই থাকছে রিজার্ভ ডে। অংশগ্রহণ করা আটটি দল রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে প্রত্যেকের সঙ্গে প্রত্যেকে খেলাবে। সেখান থেকে শীর্ষ চার দল যাবে সেমিফাইনালে।
স্বাগতিক হিসেবে নিউজিল্যান্ড ও র‍্যাংকিং অনুয়ায়ী অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের টিকেট নিশ্চিত করেছিল অনেক আগেই। বাকি ৩ দলের জন্য আয়োজন করা হয়েছি কোয়ালিফাইং রাউন্ড। কিন্তু করোনার মহামারী নতুন ভ্যারিয়েন্টের কারনে জিম্বাবুয়ে অনুষ্ঠিত কোয়ালিফাইং রাউন্ড মাঝপথে এসে বাতিল করতে বাধ্য হয় আইসিসি। বাতিলের নীতি অনুযায়ী, র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা দল যোগ্য বলে গণ্য হবে মূল পর্বের জন্য। এতে প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভাগ্যও বদলেছে।
cover
আজকের প্রতিবেদনে জানার চেষ্টা করবো কোন দল শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে কতটুকু এগিয়ে আছে। তাদের শক্তি কেমন আর তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কি ইঙ্গিত দিচ্ছ। তবে চলুন দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক।

অস্ট্রেলিয়া
প্রমিলা ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দলটা যে অস্ট্রেলিয়া তা অস্বীকার করার মতো সুযোগ নেই! এই আসরের হট ফেভারিট দলটাও তারা। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বরাবরের মতো তাদের পক্ষেই সাফাই দিচ্ছে৷ বর্তমান ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের দিকে তাকালেই শীর্ষস্থানে তাদের নামটা চোখে পড়বে। অজি প্রমিলাদের ওডিআই বিশ্বকাপের ইতিহাসটা পুরুষদের মতোই উজ্জ্বল। ১১ আসরের ৬ বারই শিরোপা জিতেছে দলটি৷

সর্বশেষ ওডিআই বিশ্বকাপেও শিরোপা জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েছিল, যদিও সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে ট্রফি জয়ের স্বপ্নের সলিলসমাধি ঘটে। সে ম্যাচের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩০টি ওডিআই খেলে ২৮টিতেই জয় তুলে নিয়েছে। হেরেছে মাত্র দুইটিতে। ২০২১ সালে খেলা ৬টি ম্যাচের ৫টিতেই জিতেছে। কতটা শক্তিশালী হয়ে ২০২২ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে তা অনুমেয়!

অস্ট্রেলিয়ার শক্তির জায়গাটা ব্যাট হাতে অ্যালিশা হিলি, মেগ ল্যানিং কিংবা বেথ মুনি। বল হাতে আছেন, মিডিয়াম ফাস্ট বোলার মেগান শুট, ফাস্ট বোলার এলিসি পেরি, ফিংগার স্পিনার জেস জোনাসেন। অলরাউন্ডার অ্যাশলে গার্ডনারের সাথে পেরিতো আছেনই।
cover
প্রমিলা প্লেয়ারদের র‍্যাংকিং যাচাই করলে, ওডিআই ব্যাটিং র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ দশ জনের তিনজনই পাবেন তাদের। র‍্যাংকিংয়ের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যাটার হিলি, সাতে ল্যানিং ও আটে আছেন মুনি। বোলারদের তালিকায় শীর্ষ তিনে তাদেরই দুইজন। শীর্ষস্থান দখল করে আছেন জোনাসেন, তিনে আছেন শুট। আলরাউন্ডার র‍্যাংকিংয়েও তাদের একছত্র অধিপত্য। দশজনের তিনজনই তাদের। তিনে পেরি, ছয়ে গর্ডনারতো, নয়ে আছেন জোনাসেন। 

২০১৭ বিশ্বকাপের পর থেকে জোনাসেন আছেন দারুন ছন্দে। এই সময়ে ২৪ ম্যাচ খেলে ১৫.১২ গড়ে নিয়েছেন ৪৭ উইকেট। ইকনোমিক রেটও(৩.৬৬) চোখে পড়ার মতো। গত বিশ্বকাপের পর থেকে সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করা তৃতীয় বোলার তিনি। আর ব্যাট হাতে রীতিমতো ঝড় তুলে যাচ্ছেন অ্যালিশা হিলি। গত বিশ্বকাপের পর দলের ৩০ ম্যাচের সবগুলোতেই খেলেছেন। ৫৩.২৪ গড়ে রান করেছেন ১৫৪৪! বিশ্বকাপের সপ্তম শিরোপা কি তবে ঘরে তুলছে অজিরা?

ইংল্যান্ড
স্বাগতিক চ্যাম্পিয়নদের শিরোপা ধরে রাখারা লড়াইয়ে যেতে হচ্ছে র‍্যাংকিংয়ে দুই নম্বরে থেকে। তাতে কি? পরিসংখ্যান কিংবা র‍্যাংকিং দেখেতো আর শিরোপা তুলে দেওয়া হবে না! যে দল লড়াবে ভালো, জিতবে ফাইনাল তারাই হবে চ্যাম্পিয়ন। ১৯৭৩ সাল থেকে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা নারী ওডিআই বিশ্বকাপে মোট ৪ বার শিরোপা জিতেছে বৃটিশরা। এই আসরেও অস্ট্রেলিয়ার সাথে তাদেরই ফেবারিট মানা হচ্ছে।

বিশ্বকাপ মিশনের পূর্বমুহূর্তে ২০২১ সালে ভালোভাবে প্রস্তুতি সেরে নিয়েছে তারা। ১১ ওডিআই ম্যাচের ৮টিতে জয়ের মুখ দেখেছে। নিউজিল্যান্ডের ও ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ৪-১ ও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে এবং নিউজিল্যান্ডের মাটিতেও ২-১ ব্যবধানে জিতে সিরিজ নিশ্চিত করেছে। বিশ্বকাপের ফ্লাইট ধরার আগে অ্যাশেজে পূর্ন প্রস্তুতি নিতে পারবে ইংলিশরা। 
cover
২০১৭ বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের পর থেকে ইংল্যান্ডের পরিসংখ্যান ততোটা সাফল্যমণ্ডিত না। এই সময়কালে ২৪ ম্যাচ খেলে জিতেছে মাত্র ১৪টি, হারের সংখ্যা নেহাত কম না। তবে, সাম্প্রতিক তাদের পারফরম্যান্স ছন্দে ফেরার আভাস দিচ্ছে, এই ফর্ম নিয়ে বিশ্বকাপে যেতে পারলে, আরেকটা শিরোপা ঘরে তুলতে তেমন বেগ পেতে হবে না।

ইংল্যান্ডের শক্তিমত্তার কথা বললে, আগে আসবে ব্যাটিং র‍্যাংকিংয়ে চারে থাকা ট্যামি বিউমন্ট, দশে থাকা হিথার নাইটের কথা। এছাড়া অলরাউন্ডার নাটালি স্কাইভার ও অ্যামি জোন্স পরিবর্তন করে দিতে পারবেন যেকোন ম্যাচের স্কোরকার্ড। বোলিং র‍্যাংকিংয়ে সেরা দশের চারজন থ্রি লায়ন্সদের। পাঁচে থাকা স্পিনার সোফি এক্লেস্টোন গত বিশ্বকাপের পর থেকে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। ৩৩ ম্যাচে ২৩.০২ গড়ে শিকার করেছেন ৫০টি উইকেট। এছাড়া সাতে আছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার ক্যাথরিন ব্রান্ট, নয়ে ২০১৭ বিশ্বকাপের ফাইনালে ৪৬ রানে ৬ উইকেট নিয়ে শিরোপা জেতানো অ্যানিয়া শ্রাবসোল। দশে পেসার কেট ক্রস। এমন দলের পক্ষে কে বা বাজি ধরতে অনীহা দেখাবে?

দক্ষিন আফ্রিকা
২০০০ ও ২০১৭ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট দক্ষিন আফ্রিকা এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপের ফাইনালের গন্ডি মাড়াতে পারেনি। তবে আগের দলের চেয়ে এইবার বেশ শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে বিশ্বকাপে যাচ্ছে তারা। এই বছর(২০২১) পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩-০, ভারতের এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে। র‍্যাংকিংয়ে তাদের বর্তমান অবস্থান তৃতীয়।
cover
গত বিশ্বকাপের পর থেকে খেলা ৩৯ ম্যাচের ২৬টিতে জিতেছে প্রোটিয়ারা। দুটি ম্যাচ হয়েছিল টাই, আর একটি পরিত্যক্ত। এই সময়ে ব্যাট হাতে দক্ষিন আফ্রিকার হয়ে দারুন সাফল্য অর্জন করেছেন প্রমিলা ক্রিকেটের বর্তমান নাম্বার ওয়ান ব্যাটার লিজেল লি। ৩৪ ম্যাচে ৫৩.৮৫ গড়ে ২ শতক আর ১১ অর্ধশতকে করেছেন ১৫০৮ রান। বিশ্বকাপে দলের ব্যাটিং লাইনআপে স্বস্তির জায়গা তিনি। এছাড়া লরা ওলভার্ড, মিগনন ডু প্রিজও স্কোরকার্ড লম্বা করতে যথেষ্ট সামর্থ্য রাখেন। বোলিং ইউনিটে দলটা বেশ শক্তিশালী এবং অভিজ্ঞ। র‍্যাংকিং যাচাই করলে সেরা দশের তিন জনই তাদের ফাস্ট বোলার৷ চারে মারিজান কাপ, ছয়ে শাবনিম ইসমাইল ও আটে আয়াবোঙ্গা খাকা।

প্রোটিয়া অধিনায়ক মারিজান কাপ আবার ওডিআইতে নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার। বোলিংয়ের পাশাপাশি মিডেল অর্ডারের ব্যাট হাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারেন। ওডিআইতে দুই হাজারের অধিক রানের পাশাপাশি আছে ১৩৪ উইকেট। এছাড়া শীর্ষ দশে তাদের আরেক অলরাউন্ডার আছেন। সাতে থাকা দনে ভ্যান নিয়েকার্কও ব্যাট-বল হাতে দুর্দান্ত খেলছেন।

ভারত
২০১৭ বিশ্বকাপের ফাইনালে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে মাত্র ৯ রানের ব্যবধানে হেরে প্রথম বারের মতো শিরোপা জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে যায় আকাশী-নীলদের। ২০২০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালেও হারে তারা। পরপর দুইটি মেগা ইভেন্টের ফাইনাল খেলা দলটা আসন্ন বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের ব্যাপারে বেশ মরিয়া হয়ে আছে। শিরোপা জয়ের সম্ভাব্য তালিকায় উপরের দিকে তাদের নাম থাকাটা তাই স্বাভাবিক ব্যাপার।

র‍্যাংকিংয়ের চার নম্বর দলটা গত বিশ্বকাপের পর থেকে খেলা ৩৫ ম্যাচের ১৮টি জিতেছে। হেরেছে ১৭টি ম্যাচ। বিগত বছর গুলোর মধ্যে ২০২১ সালে সবচেয়ে বাজে অবস্থার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে তারা। টানা ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে দলটি। বছরের প্রথমে ঘরের মাঠে দক্ষিন আফ্রিকার কাছে ৪-১ ব্যবধানে, এরপর ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফরে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছে। তবে দলটির সামর্থ্য রয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর, বড় মঞ্চে তুলকালাম কান্ড ঘটানোর মতো যথেষ্ঠ শক্তিশালী প্লেয়ারও আছে।
cover
ব্যাট হাতে তাদের অধিনায়ক মিথিলা রাজ, বল হাতে পেস বোলিং অলরাউন্ডার ঝুলন গোস্বামী দলের দুই স্তম্ভ। প্রমিলাদের ওডিআই ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের মালকিন মিথিলা রাজ গত বিশ্বকাপের পর থেকে ৩৪ ম্যাচে ৫০.০৪ গড়ে ১ শতক আর ১০ অর্ধশতকে করেছেন ১২০১ রান। ব্যাটিং র‍্যাংকিংয়ে বর্তমানে তার অবস্থান তৃতীয়। ব্যাটিং ইউনিটে ভারতকে আরও শক্তিশালী বানিয়েছে স্মৃতি মান্ধানা, হারমানপ্রীত কৌর ও দীপ্তি শার্মার মতো ব্যাটাররা। বল হাতে র‍্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় বোলার গোস্বামীর সাথে, লেগ স্পিনার পুনম যাদব, মিডিয়াম পেসার শিখা পান্ডে, অফ স্পিনার দীপ্তি শর্মার উপর পুর্ন আস্থা রাখতে পারেন তাদের কাপ্তান।

গত আসরের পর থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গড়ে রান তুলেছেন স্মৃতি মান্ধানা। ৩০ ম্যাচে ৫৫.৫৩ গড়ে ১৪৪৪ রান করেছেন তিনি। শতক আছে দুটি, অর্ধশতক ১৩টি। এই সময়ে বল হাতে ভারতীয়দের মধ্যে সবচেয়ে সফল হয়েছে গোস্বামী। ২৮ ম্যাচে ২০ গড়ে ৪৫ উইকেটে মালকিন হয়েছেন। এই সময়ে আরেক ভারতীয় বোলার পুনম যাদবও তার পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ৩১ ম্যাচে নিয়েছে ৪৩ উইকেট। এমন শক্তিশালী দলের ঘুরে দাঁড়াতে যে বেশি সময় নেওয়ার কথা না তা না বললেও চলে!

নিউজিল্যান্ড
তৃতীয় বারের মতো ওডিআই বিশ্বকাপের আয়োজক হতে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড। সর্বশেষ ২০০০ সালে যখন আয়োজক হয়েছিল দাপুটে পারফরম্যান্সে সেবার শিরোপা জিতে নিয়েছিল। সেবারই প্রথম, আর ওইটাই শেষ। এরপর দুবার ফাইনাল খেললেও শিরোপা আর জেতা হয়নি। এইবার সে স্বপ্ন পুরনের আরেকটি সুযোগ এসেছে তাদের।

কিন্তু, তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স হতাশার চাদরে ঢাকা। তাদের স্বপ্নের আকাশে দেখা দিয়েছে কালো মেঘের ঘনঘটা। স্বাগতিক হওয়ায় চেনা মাঠ আর চেনা পরিবেশের সাথে, দর্শকদের সমর্থন, কালো মেঘের প্রভাব কিছুটা কাটাতে পারবে বলে আশাবাদী। এই এডভান্টেজ তাদের ম্যাচ জয়ে প্রভাবিত করবে দারুন ভাবে। তাদের বিগত বছরগুলোর পরিসংখ্যান ঘাটলে দেখা যায়, সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিতেছে ২০১৮ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর ৭টি সিরিজের একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি। এইবছর(২০২১) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি সিরিজই হেরেছে ৩-০ ব্যবধানে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও দুটি সিরিজ খেলেছে, একটি হেরেছে ৩-১ ব্যবধানে, অন্যটি ৪-১ ব্যবধানে।
cover
২০১৭ বিশ্বকাপের পর ৩৫টি ম্যাচ খেলা ব্ল্যাক ক্যাপসারা ২৩টিতে হেরেছে, জয়ে পেয়েছে ১২টিতে। দলের শক্তিমত্তার পাল্লায় ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে আছে কিউইরা। ব্যাটিং র‍্যাংকিংয়ের সেরা দশে আছেন কেবল অ্যামি স্যাটারথওয়েট(পঞ্চম), কিন্তু বোলার আর অলরাউন্ডারের তালিকায় শীর্ষে দশে খুঁজে পাওয়া যায়নি একজনকেও। তালিকায় দশ কিংবা বিশ তা কোন বিষয় না। তালিকার বাহিরেরও অনেক তারকারা রয়েছেন। তেমনই একজন সোফি ডিভাইন। কিউইদের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের অধিনায়ক। যিনি কিনা বছরের শুরুর দিকে ঘরোয়া লিগে প্রমিলা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড করেন। ওই ফরম্যাটে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ড এখন এককভাবে তার দখলে।

এছাড়া, নজর বন্দিতে রাখতে পারেন একসময়কার সেরা ব্যাটার সুজি বেটসকে। তিনি কেবল ব্যাটারই নন, দলের একজন ভরসামান পেস বোলিং অলরাউন্ডারও। বোলিং ইউনিটে ভরসা রাখতে হবে অফ ব্রেক বোলার লেহ ক্যাসপেরেক, ফাস্ট বোলার লি তাহুহু, লেগ স্পিন অলরাউন্ডার অ্যামেলিয়া কেরের উপর। সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তায় ভরা এক বিশ্বকাপ অপেক্ষা করছে কিউইদের জন্য।

বাংলাদেশ
স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের চেয়ে র‍্যাংকিংয়ে একধাপ এগিয়ে থাকা পঞ্চম স্থানের দলটা বাংলাদেশ। এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেললেও দলটি প্রথম বারের মতো অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে ওডিআই বিশ্বকাপে। বিশ্বকাপের মূলপর্বে অংশগ্রহণ করার আগে দলটিকে টপকাতে হতো কোয়ালিফাইং রাউন্ড।

কিন্তু মহামারী কল্যানে সে ঝামেলা এড়ানো গিয়েছে সহজেই। মাঝপথেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কোয়ালিফায়ারের খেলা। সে রাউন্ডে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্তভাবে। বিশ্বকাপে খেলার লক্ষ্যে শক্তিশালী দল গঠন করেই যে জিম্বাবুয়ে গিয়েছিল নিগার সুলতানারা। তা শুধু কাগজে-কলমেই নয়, মাঠের খেলায়ও প্রমাণ করেছেন টাইগ্রেসরা। প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে ২৬৯ রানে হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। যদিও তৃতীয় ম্যাচে এসে থাইল্যান্ডের কাছে হোঁচট খেয়েছে। তবুও, ২ জয়ে গ্রুপের শীর্ষেই ছিল বাংলাদেশ। 
cover
সাম্প্রতিক তাদের পারফরম্যান্স বিশ্বকাপে ভাল কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০১৮ সালে দক্ষিন আফ্রিকার কাছে ৫-০ ব্যবধানে হারের পর আর কোন সিরিজ হারেনি। ২০১৮ সালে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জিতেছে। ফিরতি সিরিজে পাকিস্তান সফরে ১-১ এ ড্র করেছে। এই বছরই জিম্বাবুয়েকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইট ওয়াশও করেছে।

ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো বাংলার প্রমিলারা অত বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় না। গত বিশ্বকাপের পর হিসাব করলে যেখানে এই দলগুলো ৩০ এর বেশি ম্যাচ খেলেছে, বাংলাদেশ তার অর্ধেকও খেলেনি। ১২ ম্যাচের ৬টিতে হেরেছে আর ৬টিতে জিতেছে।

বড় মঞ্চে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো আছেন পেস বোলার জাহানারা আলম, আলরাউন্ডার সালমা খাতুন আর রুমানা আহমেদ। বর্তমান অলরাউন্ডার র‍্যাংকিংয়ে ত্রয়োদশতম স্থানে আছেন রুমানা৷ জাহানারা তার ক্যারিয়ারে ৪০ ওডিআইতে নিয়েছেন ৩৮ উইকেট৷ এক সময় নেতৃত্ব দেওয়া সালমা খাতুনের ৩৭ ওডিআইতে আছে ৩৯৭ রান ও ৪১ উইকেট। ব্যাটিং সাইডে দলটাকে নির্ভর করতে হবে অধিনায়ক নিগার সুলতানা, ফারজানা হক, রুমানা আহমেদ, মুর্শিদা খাতুনদের উপর। ২০১৭ বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ খেলা ১২ ম্যাচেই ছিলেন ফারজানা ও রুমানা। এই ম্যাচগুলতো ৪২.৭৫ গড়ে ৩৪২ রান তুলেছেন ফারজানা, তার সতীর্থ রুমানা ৩০.৫০ গড়ে করেছেন ২৪৪ রান।
cover
রুমানা আহমেদ বল হাতেও দলের ভরসা যোগাবেন। তার লেগ ব্রেক বোলিং প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। গত বিশ্বকাপের পর খেলা ১২ ম্যাচে নিয়েছেন ১১ উইকেট। এই সময়কালে ১১ ম্যাচে সর্বোচ্চ ২০ উইকেট নিয়েছেন বামহাতি আর্থোডক্স বোলার নাহিদা আক্তার। সমানসংখ্যক ম্যাচে জাহানার আলম নিয়েছেন ১৩ উইকেট। এছাড়া বাংলাদেশের হয়ে বোলিং র‍্যাংকিংয়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা অফ ব্রেক বোলার খাদিজাতুল কোবরা, নব্য সদস্য রিতু মনি, লতা মন্ডলের উপর ভরসা রাখতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। মোটামুটি মানের দল নিয়ে বিশ্ব কাঁপাতে পারবে কি টাইগ্রেসরা? পারবে কি নতুন সম্ভাবনার জন্ম দিতে?

ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ওডিআই র‍্যাংকিংয়ের ৭ম দলটি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিশ্বকাপে অসাধ্য সাধনের রসদ আছে তাদের কাছে। অলরাউন্ডার স্টেফানি টেইলর, যিনি কিনা প্রমিলা ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম অলরাউন্ডার হিসেবে ৫০০০ রানের পাশাপাশি ১০০ উইকেটের ডাবল পূর্ণ করেছেন। এই সংস্করণে তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের মালকিন। এছাড়া ৫ হাজার রান তোলা দ্রুত ব্যাটারও তিনি। তাদের আরেক অলরাউন্ডার হেইলি ম্যাথুস। একজন জাত ওপেনার হলেও দুর্দান্ত অফ ব্রেক বোলিং করে থাকেন। এই ফরম্যাটে চৌদ্দশ রানের পাশাপাশি তার নামের পাশে আছে ৬৯টির বেশি উইকেট। এই দুই ক্যারিবিয়ান আছেন অলরাউন্ডার র‍্যাংকিংয়ের সেরা দশে। স্টেফানি আছেন চারে, ম্যাথুস আটে।
cover
ক্যারিয়ারনদের স্কোয়াডে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অভাব নেই। যেটার অভাব তাহলো ধারাবাহিকতা। এই বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকবেন আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটার ডিন্দ্রা ডটিন। যার ক্যারিয়ারে রানের সংগ্রহ ৩ হাজারের বেশি। প্রমিলাদের এই ফরম্যাটে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি অফ ব্রেক বোলার আনিসা মোহাম্মদও ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়। ১৭১ উইকেটের অধিকারি এই বোলার বিশ্বকাপে হবেন দলের বল হাতে বড় কর্তা। এছাড়া পেসার শাকিরা সেলমান তো ছড়ি ঘুরানোর অন্য আছেনই। এত অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নিয়েও খারাপ সময়ের মধ্য দিতে যেতে হচ্ছে ক্যারিবিয়ানদের। ২০১৭ বিশ্বকাপের পর থেকে খেলা ৩৫ ম্যাচের ২০টিতে হেরেছে তারা, জিতেছে ১৩টিতে। এমন পারফরম্যান্স নিয়ে বিশ্বকালে সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বেশি। সবশেষ, একটা যদি কিন্তুর ব্যাপার থেকেই যায়!

পাকিস্তান
২০১৭ বিশ্বকাপের পর থেকে দলটি যথেষ্ঠ ম্যাচ খেলেছে। কিন্তু তাদের পারফরম্যান্স সন্তুষ্ট হওয়ার মতো না। এই সময়কালে ৩৪ ম্যাচের ২১টিতেই হেরেছে৷ জিতেছে ১১টি, টাই হয়েছে ১টি। অন্যটি পরিত্যাক্ত। বর্তমান র‍্যাংকিংয়ে তাদের অবস্থান অষ্টম। এই বছর খেলা ৩ সিরিজের সবকয়টি হেরেছে। বছরের প্রথমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩-০, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরপর দুই সিরিজের ৩-২ ও ৩-০ ব্যবধানে হেরেছে।

ওয়ার্ল্ডকাপের কোয়ালিফায়ারের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে হারলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছিল থাইল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এই দুই ম্যাচে পেয়েছিল দুর্দান্ত জয়। তবে ব্যাটিং ও বোলিং দুই ইউনিটেই যে দলটার দুর্বলতা রয়েছে অনেক তা পুনরায় সামনে এসেছে এই রাউন্ডে। তুলনামূলক দুর্বল দল হলেও, এই দুই দলের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে ততোটা সফল ছিল না পাকিস্তান। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে তো দেড়শো রানের গন্ডিও মাড়াতে পারেনি। 
cover
বিশ্বকাপের দলের আশার ঘরে প্রদীপ জ্বলানোর মতো আছেন, টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ও কাপ্তান জাবেরিয়া খান, পেস বোলিং অলরাউন্ডার আলিয়া রিয়াজ, অফব্রেক বোলিং অলরাউন্ডার নাদিয়া দার। এছাড়া ব্যাট হাতে ওমাইমা সোহাইলও দলের খোরাক জোগাতে পারেন, ওডিআইতে ৫০ উর্ধ্ব উইকেট নেওয়া অর্থোডক্স বোলার নাশারা সান্ধু, আরেক অভিজ্ঞ স্পিনার আনাম আনিমও হতে পারেন দলের ত্রাতা।

বড় মঞ্চে তাদের প্লেয়াররা নিজেদের সবটুকু দিতে পারলে বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাসের দ্বার উন্মুক্ত হতে পারে পাকিস্তানের জন্য। 

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021