Link copied.
কেমন হবে করোনা পরবর্তী পৃথিবীর চাকরী ব্যবস্থা?
writer
অনুসরণকারী
cover
প্রতি ১০০ বছর পরপরই মহামারী আসে, নিয়ে আসে এক গাদা পরিবর্তন। ১৯১৮ এর স্প্যানিশ ফ্লু এমন অবস্থা করেছিলো যে, সব ঠিক হওয়ার পর দেখা গিয়েছে বাইরে কাজ করার মতো পুরুষ পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়েই নারীরা তখন কৃষিকাজ এবং বাকি পুরুষালি কাজে তাদের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ পায়। যেটি সমাজ ব্যবস্থার একটি বিশাল বড় পরিবর্তন। ১০০ বছর পর এসে এই করোনা আমাদের অনেক কিছু দেখাচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশা, মানুষের দূর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে অর্থনীতিতে। অর্থনীতি চাহিদা যোগান সামাল দিতে প্রতিটা দেশ হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। প্রচুর মানুষ চাকরী হারিয়েছে, আবার ঘরে বসে চাকরী করার দুয়ার ও খুলেছে। এই যে “রিমোট ওয়ার্ক” অথবা “হোম অফিস” এর ধারণা উন্মোচিত হয়েছে, সেটার ভবিষ্যৎ পরিবেশ ঠিক কেমন হবে করোনা উত্তর পৃথিবীতে, সেটার উত্তর খুজেছে একদল গবেষক। তার ফল হিসেবে তার বেশ কয়েকটি অবস্থার কথা চিহ্নিত করেছেন, সেগুলো জেনে আসা যাক।
কর্মীর সাথে কোম্পানী সুষ্ঠ যোগাযোগ রাখা
একজন কর্মীর সাথে তার মালিকের সুষ্ঠু যোগাযোগ থাকা বাঞ্ছনীয়। এতে সেই জায়গা কর্মীবান্ধব হিসেবে প্রকাশ পায়। করোনা প্রাক্কালে দেখা গেছে, মালিক পক্ষ যদি তার কর্মীর সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত হয় এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়, তাহলে সে কোম্পানীর উৎপাদন সক্ষমতা পাঁচগুণ বেড়ে যায়। অর্থাৎ কর্মীর স্বাস্থগত এবং অর্থনৈতিক অবস্থা যদি মালিকশ্রেণী সমান গুরুত্ব দেয়, সেক্ষেত্রে কর্মী তাকে কোম্পানীর একজন গুরুত্বপুর্ণ অংশ মনে করছে। এজন্য সে তার সক্ষমতার পুরো অংশটাই দিচ্ছে।
cover
যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া!
আপনি একটি জায়গায় কাজ করছেন। করোনা পরিস্থিতিতে মালিকপক্ষ আপনার সাথে তার চুক্তির বিষয়ে কোনো আলাপ আলোচনা করলো না। এর ফলে আপনি একটি অনিশ্চয়তার ভিতরে পড়তে পারেন। যেটি আপনার কাজের মূল্যায়ণে প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৩২% কর্মীর সাথে কোম্পানী তাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করেছে, যেখানে ২৮% লোকের সাথে খুব সামান্যই আলাপচারিতে করেছে এবং ৪০% এর সাথে কোনোরূপ আলোচনাই হয় নি।
cover
কাজের ক্ষেত্রে অস্থিরতা
উপরের পয়েন্টেই বলেছিলাম, যে একটি অনিশ্চয়তা তৈরী হতে পারে। এই অনিশ্চয়তার ফলে যে উদ্বিগ্নতা তৈরী হবে সেগুলো হতে পারে, সহকর্মীর সাথে খারাপ সম্পর্ক, কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। বিশ্ব অর্থনীতিতে চাকরি ক্ষেত্রে মানসিক হতাশার কারণে প্রতি বছর প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়। করোনাকালীন পৃথিবীতে একজন মানুষের চাকরী চলে যাওয়া, করোনার চাইতেও বেশী ক্ষতির সম্মুখীন করে তোলে। গবেষকরা প্রশ্ন রাখেন যে, “করোনাত্তোর পৃথিবীতে কোম্পানীর লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকার জন্য কি আমার কাজের উপর অনিশ্চয়তা অথবা উদ্বিগ্ন করে তুলছে?” সেটার উত্তর দেখেনিন নিচের ছবিতে।
cover
“বার্ন আউট”
চাকরীক্ষেত্রে একজন কর্মীর চাকরীর উপর মন উঠে যাওয়া, চাকরীটাকে ঘৃণা করা , এসব নিয়ে মেন্টাল স্ট্রেস খুব বেশী বেড়ে গেলে সেটাকে “বার্ন আউট” বলে চিহ্নিত করা হয়। এই বার্ন আঊট ধারণা বেশী আগের নয়, ১৯৭৪ সালে Herbert Freudenberger, তার , Burnout: The High Cost of High Achievement বইটিতে এই বিষয়ে সর্বপ্রথম ধারণা দেন। গবেষকরা এই বিষয়ে একটি জরিপ চালায় সেখানে দেখা যায় নারীরা বেশী সংখ্যায় বার্ন আউট হয়ে পড়ছে এই কোভিট ১৯ সংকটকালে।
cover
বার্নাউট কমাতে হলে শেয়ারিং বাড়াও
এই বার্ন আউট এর ফলে কর্মীদের মধ্যে যে অসন্তোষ বেড়ে ওঠে সেটা বেশ মাথা ব্যথার কারণ মালিক পক্ষের। এটার সমাধান কি? উত্তর একটাই, নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো। মালিক পক্ষের তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অবশ্যই তার কর্মির সাথে শেয়ার করবে। সেটা তাদের কল্যাণকর হোক বা না হোক। এটা সেই বার্ন আউটএর ইফেক্ট কমিয়ে আনবে।
cover
একটি নমনীয় কর্মপন্থা!
এই সংকটকালে বেশীর ভাগ কর্মীরাই একটি সহজ নমনীয় কর্মপন্থা চেয়েছে, যেখানে ভার্চুয়ালী অফিস তথা হোম অফিস করার সুযোগ টা আরো বেশী থাকবে। গবেষকরা একরকম একটি প্রশ্ন রেখেছিলেন তাদের কাছে, সেখানে দেখা যায়, ৫২% কর্মী চায় যে তাদের পোস্ট প্যান্ডেমিক অবস্থায় তারা যেনো “হোম অফিস” করার সুযোগ পায়। তারা মনে করে এতে কোম্পানীর খরচ কমবে এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে।
cover
ঝুঁকিও আছে!
ধরুণ আপনার কোম্পানী ফুল সাইট ওয়ার্কের সিদ্ধান্ত নিলো। আপনি ঘরে বসে কাজ করতে পারবেন না। আপনি কি করবেন?  আপনি নিশ্চয়ই অন্য কোম্পানীতে চাকরী খোঁজা শুরু করবেন যেখানে একটা ফ্লেক্সিবেল ওয়ার্ক প্ল্যান আছে। জরিপে দেখা যায়, যদি বেতনাদি এবং অন্য সুবিধাদি না বাড়ায় এবং ফুল সাইট ওয়ার্ক চালু করে তাহলে ৩০% কর্মী চাকরী পরিবর্তনের কথা ভাববেন। সুতরাং সেক্ষেত্রে সকল কোম্পানী মালিকদের একটি সিদ্ধান্তে আসা লাগবে। 
cover
বাসায় থেকে অফিস!
এই মহামারীর সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হচ্ছে হোম অফিসের ধারণা নিয়ে আনা। এই ব্যবস্থায় সুবিধা অসুবিধা অনেক আছে। তবে জরিপে অংশ নেয়া অর্ধেকের বেশী কর্মজীবী মনে করে মহামারী শেষ হওয়ার পরে গিয়েও সপ্তাহে কমপক্ষে তিনদিন হোম অফিস করার সুযোগ রাখা উচিত।
cover
অভিভাবকরা কী চায়!
উন্নত বিশ্বে একটি বড় অংশ চাকরিজীবী লোক আঠারো বয়সের উর্ধ্বে। এছাড়া একটি বড় অংশ আছে যাদের ছেলে মেয়েরা হাইস্কুলে পড়ে। সেইধরনের কর্মীরা একটা সুবিধাজনক স্থানে চাকরী চায়, যাতে তাদের বাচ্চাদের স্কুল, আবাসন নিয়ে খুব বেশী টেনশন করা না লাগে। ৮% লোক ফুল টাইম চাকরী সাপোর্ট করে। এছাড়া যাদের বাচ্চার বয়স আঠারো বছরের নিচে তারা বাকিদের তুলনায় তিনগুণ ফুল টাইম ওয়ার্ক মডেল পছন্দ করে।
cover
কিছু আশা এবং কিছু ভয়!
কর্মীরা এটা আশা করে প্যান্ডেমিক শেষ হয়ে গেলে তাদের কোম্পানী একটি নমনীয় ওয়ার্কপ্ল্যান, প্রতিযোগিতামূলক বেতন কাঠামো, তাদের সুরক্ষার বিষয়ে আরো বেশী গুরুত্বারোপ করবে। কর্মীরা এটা নিয়েও সন্দীহান যে, “রিমোট ওয়ার্ক” তার সহকর্মীদের সাথে দুরত্ব বাড়িয়ে দিবে, এবং ফুল সাইট ওয়ার্ক তাদের আবার কোনো অসুস্থতার প্রকোপ বাড়িয়ে দিতে পারে।
cover
শেষ পর্যন্ত কি হবে?!
উপরের পয়েন্ট গুলোয় আমরা অনেক গুলো সমস্যা পেয়েছি? এই সমস্যাগুলর সমাধা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই সমাধানের উপরেই কোম্পানীগুলোর ভবিষ্যৎ নর্ধারণ করছে। তো কোম্পানী গুলো পাঁচটি পলিসি নিয়ে এসেছে। গবেষকরা সেগুলোর জনপ্রিয়তা যাচাই করে করে র‍্যাংক করেছেন। সেগুলো হলো-

  • ঠিক কতপক্ষণ অফিস করতে হবে হবে এবং তার কাছ থেকে কোম্পানী কী চায় সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে।
  • কর্মপন্থা চালানোর জন্য বলিষ্ঠ, সঠিক মানের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।
  • Listening and Response strategy: এটার ফলে কর্মীদের ভিতরকার অবস্থা বোঝা যাবে, কোন অবস্থা ঠিক চলছে কোনটা নয়।
  • কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে। এজন্য ছোট টিম করে দিয়ে তাদের নিয়ে এক সাথে আড্ডা দেয়। একটি সঠিক গাইডলাইন দিয়ে দেয়া, যাতে সে তার প্রোটোকল বজায় রেখে চলতে পারে।
  • ডিজিট্যাল ইকুইপমেন্ট ব্যাবহারে সঠিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে। হোম অফিস বা রিমোট ওয়ার্ক প্লেসের ক্ষেত্রে পুরো নতুন একটি পলিসি ঠিক করা। 
cover
তথ্যসূত্র
"Mickensy and company" নামক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের "What employees are saying about the future of remote work" শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধ অবলম্বনে।
  • https://www.mckinsey.com/business-functions/organization/our-insights/what-employees-are-saying-about-the-future-of-remote-work

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021