ইবির হলে ল্যাম্পপোস্ট থাকলেও নেই ল্যাম্প
শিক্ষা
ইবির হলে ল্যাম্পপোস্ট থাকলেও নেই ল্যাম্প
সাদ্দাম হোসেন হলে ল্যাম্পপোস্ট থাকলেও আলো জ্বলছে না। আবার বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তন থেকে জিয়া মোড় পর্যন্ত হলের সীমানা দেয়ালে নেই কোনও ল্যাম্পপোস্ট। এসব বাতিগুলোর সংস্কার নেই কয়েক বছরেও। দিনের আলোর শেষে যেন সৌন্দর্য হারিয়ে মলিন হয়ে পড়ে সাড়ে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীর আবাসিক হলটি
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
সৌন্দর্য বৃদ্ধিকরণে হলের বাহিরের দিকে সারি সারি সোডিয়াম আলোর পয়েন্ট রয়েছে। তবে নেই কোনও লাইট। হল গেটের সামনে ছাউনিসহ বসার স্থান থাকলেও সেখানেও নেই কোনও আলোর ব্যবস্থা। বাগানে বসার স্থানে ও সৌন্দর্য বর্ধনের লাইটগুলো অকেজো হয়ে যেন মিলিয়ে গিয়েছে। হলের চতুর্পাশে হ্যালোজেন লাইট নেই বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। কিছু হ্যালোজেন লাইট থাকলেও তা অকেজো হয়ে পরে আছে দিনের পর দিন। হলের ভেতরে বাগানে আলোর ঘাটতি নিয়ে অসন্তোষ অনূভুতি প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী রাসেল বলেন, হলের বাগানে চারদিকে আলো নেই। সন্ধ্যার পর সবগুলো লাইট জ্বলে না আবার আলোও কম থাকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আশরাফুল আলম থাকাকালীন হলের সৌন্দর্য ও আলো বৃদ্ধিতে সোডিয়াম লাইট ও সরঞ্জামাদি বসানো হয়েছিল। তবে কিছুদিনের মধ্যে হল বন্ধের পর লাইটগুলো চুরি হয়ে যায় বলে জানান হল কর্মকর্তা। কিন্তু চুরি যাওয়ার ঘটনা নিয়ে কে বা কারা করেছে জানতে চাইলে কোনও সদ্যুত্তর মিলেনি। এবিষয়ে হলের সহকারী রেজিস্ট্রার জাহিদুল ইসলাম বলেন, লাইটগুলো লাগানো হয়েছিল কিন্তু বন্ধে সব লাইট চুরি হয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রশাসন থেকেও টাকা দেয়নি তাই লাইট লাগানো হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, আলোর ঘাটতি পূরণে হলের প্রতিটি তলায় ২৪টি করে লাইটের পয়েন্ট রয়েছে। পয়েন্টগুলোতে নেই পর্যাপ্ত লাইট লাগানোর হোল্ডারও। হলের উত্তর ব্লকের লেভেল-৩ এ ১১টি পয়েন্টে সকেট পর্যন্ত নেই। তাছাড়া আলো জ্বলছে না আরো ৪টি বাল্বে। সকল তলাতে এভাবেই স্বল্প আলোতে দিনযাপন করতে হয় বলে জানান অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা। পরিচর্যার অভাবে লাইট সংস্কারের ছোয়া লাগছে না, অভিযোগ সাদ্দাম হল শিক্ষার্থীদের। তাছাড়া বেশ কিছু ওয়াশরুমে ও বেসিন গুলোতে আলোর স্বল্পতার কারণে ভোগান্তিতে ভুগছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সময়মত উদ্যোগ না নেওয়ায় ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। খবর নিয়ে জানা যায়, হলের সকল রুমে নেই জেনারেটরের সংযোগ। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে সময় কাটাতে হয় তাদের। এতে ব্যহত হয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। হলের ১০২নং রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী রুমান ইসলাম বলেন, রাতে বিদ্যুৎ না থাকলেও জেনারেটর চালু থাকে। কিন্তু আমাদের রুমে জেনারেটর সংযোগ না থাকায় অন্ধকারে থাকতে হয়। পরীক্ষা থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। দিনের আলোই শুধু ভরসা।
আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান বলেন, কয়েকবার করে অভিযোগ খাতায় লিখেও সিড়িতে লাইট পাইনি। তাছাড়া ওয়াশরুমের বেসিনগুলোতে লাইট নেই। রাতে অন্ধকার হয়ে থাকে। হল প্রভোস্ট অধ্যাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, কর্মকর্তাদের নিয়ে হলে লাইটগুলো লাগানোর ব্যবস্থা নিব। পুরাতন হল হওয়ার কারনে লাইট সহ হলের অনেক কিছুই এখন নষ্ট হয়ে আছে। তাছাড়া ফান্ডের স্বল্পতার জন্য কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।
শিক্ষাইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
আরো পড়ুন