চাকরি ফেরত পেতে ২৩ বছর ধরে মালেকের লড়াই
সারাদেশ
চাকরি ফেরত পেতে ২৩ বছর ধরে মালেকের লড়াই
নাম আব্দুল মালেক। তিনি ১৯৯০ সহকারীত হশিলদার হিসেবে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগ দিয়েছিলেন। চাকরিরত অবস্থায় ১৯৯৮ সালের এপ্রিলে প্রতিবন্ধী মেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ছুটি নিয়ে গুড়ার গাবতলী উপজেলার উনঞ্চুরকী গ্রামের বাড়িতে আসেন তিনি।
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসার পেছনে ছোটাছুটি করতে প্রায় এক বছর চলে যায়। এদিকে, কর্মস্থলে দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে ওই বছরের ১২ আগস্ট তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে মালেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও হয়। বিষয়টি জানতে পেরে কর্মস্থলে গেলে তাকে সেখানে ঢুকতে দেননি কর্মকর্তারা।  জানা গেছে, ২০২১ সালের মার্চ মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দিনাজপুর কার্যালয়ে দায়ের হওয়া খাজনার ৩৮ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় আব্দুল মালেককে। দুই মাস কারাভোগের পর দিনাজপুর আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পান। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ২০১৩ সালে তার বিরুদ্ধে ওই মামলা করে দুদক। আব্দুল মালেক বলেন, 'আমি চাকরি ফেরত কিংবা সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী খোরপোশ ও ভাতা পেতে ১৯৯৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত দিনাজপুর জেলা প্রশাসক, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এসিল্যান্ড ও বিভাগীয় কমিশনার বরাবর একাধিকবার লিখিত আবেদন করেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। অবশেষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে আবেদন করি। পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাঠানো পত্রগুলোর একনলেজমেন্ট (এডি) সংরক্ষণে রেখেছি। বছর পর বছর হয়রানি করায় আমি এক প্রকার হাল ছেড়েই দিয়েছিলাম। তবে আমাকে গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি আদালতে ওঠে।'
দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ রবিউল করিম খান গণমাধ্যমকে বলেন, আব্দুল মালেককে বরখাস্ত-সংক্রান্ত কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলারও বিচার চলছে। তবে মালেকের আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হয়তো আবেদনের কপি সংশ্নিষ্টদের নজরে পড়েনি। আবেদনটি ফাইলে চাপা পড়ে থাকায় সমাধানও হয়নি। লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী রঞ্জিত কুমার দুর্নীতির মামলায় মালেকের পক্ষে লড়ছেন। তিনি বলেন, মালেকের বিরুদ্ধে ৩৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা ও বরখাস্ত করা হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁর সঙ্গে যা হয়েছে, তা অন্যায়। তিনি ২৩ বছর ধরে অফিসে অফিসে ঘুরেছেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ কেউ আমলে নেননি। আদালতে তিনি ন্যায়বিচারের জন্য লড়ছেন।
সারাদেশবগুড়া
আরো পড়ুন