‘নিরাপদ প্রসব সেন্টারে’ সিজার করতো ধাত্রী, ক্লিনিক সিলগালা
অপরাধ
‘নিরাপদ প্রসব সেন্টারে’ সিজার করতো ধাত্রী, ক্লিনিক সিলগালা
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় নিরাপদ প্রসব সেন্টার নামে একটি ভুয়া ক্লিনিকে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। কাগজপত্র না থাকায় ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেয়া হয়। বুধবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বউবাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত। 
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
তিনি জানান, ভুয়া ওই ক্লিনিকটিতে নরমাল ডেলিভারির প্রলোভনে রোগী এনে টাকা হাতিয়ে নিত ফাহিমা শাহাদাত ও তার স্বামী শাহাদাত হোসেন। সম্প্রতি ওই ক্লিনিকে এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ওই ক্লিনিকে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ক্লিনিকের কোনো অনুমোদন না থাকায় তা সিলগালা করে দেয়া ও পরিচালক শাহাদাত হোসেনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া সামান্য ধাত্রীর প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে অপচিকিৎসা করার অপরাধে ফাহিমা শাহাদাতের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। জানা যায়, ফাহিম স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে খুলে বসেন নিরাপদ প্রসব সেন্টার নামে একটি ক্লিনিক। সেখানে ফাহিমা নিজেই করাতেন অন্তঃসত্ত্বা নারীদের প্রসব বা সিজারিয়ান সেকশন বা সি–সেকশন। চলতি মাসের ১৩ তারিখ এখানে প্রসব করানোর সময় এক নারীর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর প্রশাসন এই ক্লিনিক সম্পর্কে জানতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত বলেন,  ফাহিমা নিজে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার এবং প্রসব করতেন। ক্লিনিকটির কোনো অনুমোদন ছিল না। ১৩ জানুয়ারি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রসব করাতে গিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক প্রসূতি মারা যান এখানে। কোনোরকম অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসকের উপস্থিতি ছাড়া প্রসব করাতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা এভাবে করতে পারেন না। মেডিকেল প্র্যাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৮২ অনুযায়ী শাহদাতকে অর্থদণ্ড এবং ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর ফাহিমার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হবে।
অপরাধসারাদেশস্বাস্থ্যচট্টগ্রাম
আরো পড়ুন