পৃথিবীর যে ৭ প্রাণী সবচেয়ে বেশি স্মার্ট ও বুদ্ধিমান
আন্তর্জাতিক
পৃথিবীর যে ৭ প্রাণী সবচেয়ে বেশি স্মার্ট ও বুদ্ধিমান
প্রাণীদের সঙ্গে মানবজাতির বুদ্ধিমত্তার সম্পর্ক করা কঠিন বলে মনে হয়। তবে গবেষকরা মনে করেন এটি একটি ভুল ধারণা। যদিও বৈজ্ঞানিকভাবে মানুষের মস্তিষ্ক এবং প্রাণীর মস্তিষ্কের সাথে খুব একটা মিল নেই। আর এই কারণে বুদ্ধিমত্তার দিকদিয়েও মানুষের চেয়ে পিছিয়ে তারা।
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
তবে অনেক বিষয় বিবেচনা করে বলা যায়, প্রাণীরা খুব বুদ্ধিমান। এটি তাদের কার্যকলাপ দ্বারা সহজেই প্রমাণ করা যায়। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রাণীরা মানুষের চেয়ে বেশি মেধার পরিচয় দেয়। তাই কখনো ভাবা যাবে না যে আমরা মানুষ হিসেবে সবসময় বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে শীর্ষ অবস্থানে আছি। তবে আমাদের সঙ্গে প্রাণীদের বুদ্ধির পার্থক্য এই যে, আমরা চাইলেই মেধাবী প্রাণীদের যে কোনো কার্যক্রমকে পরাস্ত এবং প্রভাবিত করতে পারি। কিন্তু প্রাণীরা সেটি পারবে না। আজ আমরা ৭টি বুদ্ধিমান প্রাণী সম্পর্কে জানবো। 
স্কুইড
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
স্কুইডকে বিশ্বের সবচেয়ে মস্তিষ্কপ্রসূত অমেরুদণ্ডী প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাদের মস্তিষ্কের গঠন সমুদ্রের অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এদের কিছু জটিল বৈশিষ্ট্য প্রায় মানুষের মতোই। নিজস্ব বিকাশের জন্য তাদের নতুন দক্ষতা শেখার ক্ষমতাও রয়েছে। 
মাকড়সা
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
এটি এমন একটি উচ্চ বুদ্ধিমত্তার স্তরের ক্ষুদ্রতম প্রাণী। বিশেষ করে সাদা-গোঁফযুক্ত পোর্টিয়া স্পাইডারদের অন্যকে দেখে বিশেষ কিছু শেখার দক্ষতা রয়েছে বলে মনে করা হয়। প্রধানত আফ্রিকা, এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ায় এদের দেখতে পাওয়া যায়। মাকড়সার জাল টানলে অনেক লম্বা হয়, কিন্তু সহজে ছিঁড়ে না। এর প্রসারিত হওয়ার ক্ষমতা স্টিলের চেয়েও বেশি। পা এবং হাঁটার কৌশলের কারণে ওরা নিজেদের জালে নিজেরা আটকে যায় না। পৃথিবীতে প্রায় ৫০ হাজার প্রজাতির মাকড়সা আছে। মাকড়সা অনেক পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। এরা না খেলে পোকামাকড়গুলোর সংখ্যা খুব বেশি বেড়ে যেত। 
পিঁপড়া
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
আকারে খুব ছোট হলেও এরা উচ্চ বুদ্ধিমত্তার জন্য পরিচিত। পিঁপড়া পরিবেশের এমন বিপর্যয় সহ্য করতে পারে যা অন্য প্রজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিবে। এছাড়াও তারা সর্বদা বিশাল গোষ্ঠী নিয়ে বসবাস করে। আবার তারা সহজেই তাদের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পারে। পোকামাকড়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় মস্তিষ্কের অধিকারী পিঁপড়া। বিশ্বে পিঁপড়ার প্রায় ১২ হাজার প্রজাতি রয়েছে। এই প্রাণীটি তার শরীরের ওজনের চেয়েও ২০ গুণ বেশি ওজন বহন করতে পারে! পিঁপড়াদেরও একজন রাণী থাকে যার থেকে লক্ষাধিক বাচ্চা হয়। পিঁপড়ার কান নেই। তাই মাটির কম্পন থেকেই শব্দের ব্যাপারটি বুঝে নেয়। 
বেবুন
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
বেবুন হলো অনেক পুরনো বানর যা সবসময় শিম্পাঞ্জি এবং ওরাংগুটানদের জাতের সাথে সম্পর্কিত। যদি কখনও তাদের আচরণ লক্ষ্য করেন, আপনি দেখতে পাবেন যে তারা কীভাবে মানুষের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এমনকি গবেষণা থেকে দেখায় যে বেবুনগুলো তাদের নিজস্ব চাপ অনুভব করতে পারে এবং তারা জটিল সামাজিক ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে। এরা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সমালোচনামূলকভাবে চিন্তা করতে পারে। প্রাণী সমাজের ন্যায় বাস করায় বেবুনের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বেশি আলোচনা হয়।
সামুদ্রিক সীল
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
এক গবেষণায় দেখা গেছে, সামুদ্রিক সিংহের যুক্তিযুক্তভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা রয়েছে এবং এমনকি গাণিতিকভাবেও চিন্তা করতে পারে। এই সীল উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের শীতল উপকূলীয় জলে অবস্থিত আছে। উত্তর সমুদ্র সিংহ হিসাবেও পরিচিত। সীলরা পানিতে প্রচুর সময় ব্যয় করে।
ওরাংগুটান
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
ওরাংগুটানরা মানুষের অনুকরণ করতে পছন্দ করে। তারা সহজেই অনেক জটিল নতুন দক্ষতা শিখতে পারে এবং অন্যান্য প্রাণীদের তুলনায় আশেপাশের পরিস্থিতি আরও ভালভাবে বুঝতে পারে। এতে করে তারা কঠোর পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। 
কবুতর
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
আমরা কেউ কেউ কবুতরের বুদ্ধিমত্তার কথা শুনেছি। কিন্তু সত্যি বলতে তাদের জীবজগতে অবস্থান বৈশিষ্ট্যে অত্যন্ত ভালো। প্রাচীনকালে যুদ্ধক্ষেত্রে এগুলো ব্যবহার করার সম্ভাব্য কারণ। তাদের সারা জীবন মানুষ এবং স্থান মনে রাখার আশ্চর্য ক্ষমতা রয়েছে। কবুতরকে তথ্য আদান প্রদানে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। কবুতরের বাচ্চার বয়স ৪২ দিন হলেই তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু হয়। প্রথমে কবুতর পরিচালনাকারীর সাথে বাচ্চা কবুতরের একটা ভালবাসা সম্পর্ক তৈরি করা হয়। বাস্তব ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর জন্য, বিশেষ করে দূর পাল্লার গন্তব্য প্রেরণের জন্য, কবুতরগুলোর পায়ে বিশেষভাবে তৈরি প্লাস্টিকের কৌটায় সংক্ষিপ্ত আকারে পত্র লিখে কাগজ ভাজ করে পুরে দেয়া হয়।
আন্তর্জাতিকবিজ্ঞান
আরো পড়ুন