Link copied.
করোনাকালীন রমজানে যে সব শিক্ষা মেনে চলা জরুরি
writer
১৭ অনুসরণকারী
cover
মুসলিমদের সবচেয়ে পবিত্র মাস রমজান। প্রতিবছর সারা বিশ্বের প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ধর্মপ্রাণ মুসুল্লি প্রভুর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখেন। রমজান মাসকে বিশ্বজুড়ে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা দেখে থাকেন দানশীলতা, সংযম, আত্মশুদ্ধি ও প্রার্থনার মাস হিসেবে৷ একসঙ্গে নামাজ পড়া ও সারাদিনের রোজা শেষে ইফতার ভাগাভাগি করে নেয়াকেও দেয়া হয় সমান গুরুত্ব৷ 
অন্যান্য রমজানে কী হয়?
প্রতিবছর মুসলিম বিশ্বে দীর্ঘ এক মাস রোজা পালিত হয়ে থাকে। ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিজেদের পানাহার থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। একইসাথে রাতে মসজিদে গিয়ে তারাবীহ নামাজ আদায়ও এই রমজান মাসের নিয়মিত একটি ইবাদাত। শুধু রোজা রাখাই নয় মুসলিমরা কোরআন তেলাওয়াত, যিকির এবং যাবতীয় পাপাচার থেকে বিরত থেকে ও অসহায় দুস্থদের সেবাদান করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য চেষ্টা করে থাকে পুরো মাস। ইফতারে ঐতিহ্যের ছাপ দেখা যায় দেশে দেশে। একসাথে সকলে বসে ইফতার ভাগাভাগি করে নেয়াও রোজার আনন্দকে বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ। 
cover
করোনাকালে রোজা কেন ব্যতিক্রম?
গেল বছর (২০২০) করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর প্রথম ব্যতিক্রমী এক রমজান দেখেছিল মুসলিম বিশ্ব। এবারও একই পরিস্থিতিতে এসেছে ইসলামের পবিত্র এই মাসটি। করোনার প্রকোপ থেকে বাঁচতে দেশে দেশে বেশ কিছু বিধি নিষেধ মেনে চলার উপর নির্দেশ রয়েছে। এর মধ্যে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া, মসজিদে নির্দিষ্ট সংখ্যার বাইরে ভীড় না করা, সামজিক ও শারীরিক দূরত্ব মেনে চলাচল করা এবং একসাথে জড়ো না হওয়া অন্যতম। 
cover
এই বিধি নিষেধের কারণে রমজান মাসও যাচ্ছে ব্যতিক্রমী এক আবহের মধ্যে দিয়ে। কারণ মসজিদে নামাজ আদায় করায় বিধিনিষেধ থাকায় দেশে দেশে মুসুল্লিরা তারাবীহ ও অন্যান্য ফরজ নামাজ আদায় করতে পারছেন না করোনার এই সময়ে। একইসাথে চলাচল ও ভীড়বাট্টায় কড়াকড়ি থাকায় একসাথে বসে সেহরী ও ইফতার করার প্রচলনও অনেকটা ফিকে হয়ে এসেছে মহামারীর সময়টায়। আগের রমজানগুলোয় মানুষ দুস্থদের সেবায় সারা মাস নিজেদের নিয়োজিত রাখতো। এবার চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় অসহায় মানুষেরাও বঞ্চিত হচ্ছে সাহায্য পাওয়া থেকে। সব মিলিয়ে করোনা এক ব্যতিক্রমী রমজান নিয়েই উপস্থিত হয়েছে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে। 

করোনাকালে রমজানের শিক্ষা
মহামারীর দিনগুলোয় রমজান থেকে আমরা কোন শিক্ষা গুলো নিয়ে কাজে লাগাতে পারি সেটাই আলোচনা করা যাক এই লেখায়। 
  • খাবার খান তবে নষ্ট নয় 
কিছু দেশে, সমস্ত খাবারের এক তৃতীয়াংশ নষ্ট হয়। এটি পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং এটি ইসলামের শিক্ষার বিরুদ্ধেও যায়। আল্লাহ মুসলমানদের খাবার অপচয় এড়াতে পরামর্শ দেন - "খাওয়া-দাওয়া করুন তবে অতিরিক্ত পরিমাণে অপচয় করবেন না, কারণ যারা অপচয় করেন তাদের আল্লাহ পছন্দ করেন না" (কোরআন, ৭:৩১)। নবী করিম (সাঃ)ও খাবার নষ্ট করাটা পছন্দ করতেন না। রাসূল (সাঃ) বলেন, "আপনার খাবারের কোন অংশটি আশীর্বাদ বহন করে তা আপনি জানেন না।"  

করোনার এই সংকটময় দিনগুলোয় ইসলামের এই শিক্ষা আমরা কাজে লাগাতে পারি। রমজানে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য থেকে ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা অসহায় দুস্থ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করে থাকেন। করোনাকালে এই শিক্ষা কাজে লাগানো যায় আরো ব্যাপকভাবে। কারণ করোনায় চাকরি হারিয়ে অসহায় পড়েছে কর্মমুখী মানুষেরা। যে খাবারটা নষ্ট হচ্ছে সে খাবারটিই হতে পারে আরেকজনের এক বেলার বেঁচে থাকার সম্বল। 
cover
  • কম খান তবে পুষ্টিকর খাবারে জোর দিন 
এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে বিশ্বে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবারই আছে। কিন্তু কেউ অতিরিক্ত খায়, কেউ-বা খাবারই পায় না। রমজান তাই মাঝারি খাওয়ার অভ্যাস করতে বলে। 

 যেমনটি নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, একজন মুসলমানকে পরিমিতভাবে খাওয়া-দাওয়া করা উচিত, "তার খাদ্যের জন্য [পেটের এক তৃতীয়াংশ), তার পানীয়ের জন্য এক তৃতীয়াংশ এবং তার নিঃশ্বাসের জন্য এক তৃতীয়াংশ সংরক্ষণ করা উচিত।" (হাদীস, তিরমিযী)

 রমজান আপনাকে আপনার খাবারের উপর আরও নিয়ন্ত্রণ আনার শিক্ষা দেয় , যা আপনাকে আপনার ডায়েট নিয়ন্ত্রণ করতে এবং আপনার মুদি বিলের পরিমাণও হ্রাস করতে সহায়তা করে।  করোনাকালেও কাজে লাগাতে পারেন এই শিক্ষা। রোজা রেখে উপোস থাকার পর দিনশেষে যতটুকই খাবেন সেটা যেন পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার হয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এমন খাবারই খাওয়া উচিত রমজানে। তাতে করে করোনার বিরুদ্ধেও দেহে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।  
  • স্রষ্টার আরেকটু কাছে 
কোরআনে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই আল্লাহর স্মরণে অন্তরগুলি শান্তি পায়” (১৩:২৮)। 

আমরা যখন সক্রিয়ভাবে স্রষ্টাকে স্মরণ করি, তখন মন আমাদের উদ্বেগ এবং বিষন্নতা থেকে মুক্তি দেয়, আমাদের মধ্যে শান্তি এবং সুখ প্রচার করে যা আপনাকে আরও বেশি কেন্দ্রীভূত এবং উত্পাদনশীল হতে সহায়তা করতে পারে। 

 রমজানের বিভিন্ন ফজিলত থেকে আপনি যা কিছু করতে পারেন তা শেখার এবং সাধারণভাবে আপনার ধর্মীয় জ্ঞান বাড়ানোর জন্য এটি একটি ভাল সময়। একইসাথে করোনার সময়ে মানুষ প্রিয়জন হারিয়ে বা সামাজিকভাবে বিষন্নতা বৃত্তে আটকে গিয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছে। রমজানের এই শিক্ষা তাই বেশ কাজে দিতে পারে করোনার এই সময়ে। 

কুরআন ও সুন্নাহর প্রতিফলন আপনাকে স্রষ্টার নিকটবর্তী হতে এবং একজন মুসলিম হিসেবে আপনার কর্তব্যগুলি বুঝতে সাহায্য করবে। যে কোনো সীমালঙ্ঘনের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন, আপনার চরিত্রের উন্নতি করার জন্য কাজ করুন এবং নিজের এবং সারা বিশ্বের দুর্দশাগ্রস্তদের জন্য আন্তরিক দু’আ করুন।   

cover
  • অসহায়ত্বের সহায়তায় 
বিশেষ করে করোনাকালীন রমজানে অনেকে কাজহীন হয়ে পড়ায় চরম অভাবের মধ্যে রয়েছে। টানা লকডানের মধ্যে রোজা পালন করতে হচ্ছে অভাব অভাটনে। এমতাবস্থায় তাদের পাশে দাঁড়ানো একজন রোজাদারের জন্য ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্ব। নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, “ঈমানদাররা তাদের পারস্পরিক দয়া, মমতা এবং সহানুভূতিতে ঠিক একটি দেহের মতো। যখন কোনও একটি অঙ্গ ভুগছে, তখন পুরো শরীর জাগ্রত এবং জ্বর দিয়ে সাড়া দেয়, ”(হাদীস, বুখারী ও মুসলিম)। 

মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা করোনার এই কঠিন পরিস্থিতিটি সেইসব মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন যাদের আপনার সমর্থন সত্যিই প্রয়োজন। এই সমর্থনই হয়তো বা তাদের জীবন বাঁচানোয় সাহায্য করতে পারে অথবা তাদের উপকার হতে পারে। রাসূল (সাঃ) সবচেয়ে উদার ছিলেন এবং তিনি রমজানে আরও উদার ছিলেন। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করতে পারেন ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা।  

এই রমজানে, অনেকে প্রিয়জনদের সাথে থাকতে পারছে না করোনায় আক্রান্ত হয়ে। কিংবা এমনও অনেকে আছে চাকরি হারিয়ে দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। মানুষগুলো নিজেদের একাকী এবং বিচ্ছিন্ন বোধ করবেন। আপনি তাদের পৌঁছে গিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারেন। এই মানুষগুলো হতে পারে আপনার আত্মীয়, বন্ধুবান্ধব কিংবা প্রতিবেশীও। তাদের সাথে যোগাযোগ করুন। তাদের পাশে দাঁড়ান, বাড়িয়ে দিন সাহায্যের হাত। 

  • নির্জনে ইবাদাতের শিক্ষা 
করোনা মহামারী থেকে নিজেদের রক্ষা করতে বিশ্বজুড়ে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরায় জোর দেওয়া হচ্ছে। করোনাকালের রমজানে এই ব্যাপারটি দারুণভাবে কাজে লাগানো সম্ভব আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় করা ইবাদাতে। প্রিয় নবী রাসূল (সাঃ) তাঁর জীবদ্দশায় পাহাড়ের গুহায় গিয়ে নির্জন পরিবেশে ইবাদাত বন্দেগীতে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। রমজানের শেষ দশ দিনের সময়, তিনি "ইতিকাফ" নামে পরিচিত একটি আধ্যাত্মিক নির্জন ইবাদাত নিজেকে স্ব-বিচ্ছিন্ন রাখতেন। রাসূলের এই ইবাদাত আমরা করোনার এই সময়ে ভালোভাবেই কাজে লাগতে পারি শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে।  





  


Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021