Link copied.
ক্যাচ মিসে বাংলাদেশের জুড়ি মেলা ভার!
writer
অনুসরণকারী
cover
টি-২০ বিশ্বকাপ যেনো বিষফোঁড়া হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের জন্য। ব্যাটিং, বোলিং এমনকি ফিল্ডিংয়ে দৈন্যদশা অবস্থা দলটির। এই যেন নুন আনতে পান্তা ফুরানোর দশা। ব্যাটিং সামলাতে বোলিংয়ে, বোলিং সামলাতে ফিল্ডিংয়ে বেহাল দশা তাদের! ফিল্ডিং সাইড দলটিকে বারংবার ব্যাকপুটে ফেলে দিচ্ছে। এই যেনো যা ইচ্ছে তা অবস্থা! পুরো টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৬ ম্যাচে ৯ ক্যাচ ছেড়েছে তারা! এই তো সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ডু অর ডাই ম্যাচে ৩ ক্যাচ ও ১ স্ট্যাম্পিং মিসের খেসারত দিয়েছে বাংলাদেশ। জিতলে হয়তো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন টিকে থাকতো। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ৩ রানের ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে এক প্রকার ছিটকেই গেল দলটি।

ক্যারিয়ানদের বিপক্ষে রোস্টন চেইজের হাওয়া ভাসিয়ে দেওয়া দুইটি বলের একটিও তালু বন্দি করতে পারেননি মেহেদী হাসান। আফিফ হোসাইন জেসন হোল্ডারের ক্যাচ মিস না করলে হয়তো ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর কার্ড এত লম্বা হতো না। সেই হোল্ডার শেষ ওভারে মুস্তাফিজকে জোড়া ছক্কা হাঁকিয়ে ক্যারিয়ানদের সংগ্রহ ১৪২-এ দাঁড় করান। ম্যাচ শেষে কাপ্তান মাহমুদউল্লাহ এই রানগুলোর আক্ষেপের গল্পই শুনালেন সংবাদ সম্মেলনে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ২২ বলে ৪০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলা নিকোলাস পুরানকে বিনাশ করা যেতো শুরুতেই। ২ রানে ব্যাট করা পুরানকে স্ট্যাম্পিং করার সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন লিটন দাস। তার খেসারত পই পই করে দিয়েছে বাংলাদেশ।
cover
এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের বাজে ফিল্ডারের একজন এই লিটন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার ক্যাচ মিসের মাশুল ম্যাচ হেরে দিয়েছে টাইগাররা। সে ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দুই টপ স্কোরার ভানুকা রাজাপাকশেকে ১৪ রানে এবং ভয়ংকর হয়ে উঠা চারিথ আসালঙ্কাকে ৬৩ রানেই প্যাভিলিয়নের পথ দেখাতে পারতেন তিনি। কিন্তু আউট ফিল্ডে তার বাজে ফিল্ডিং বাংলাদেশকে ডুবিয়ে ছাড়ল। লিটনের হাত ফসকাতেই ম্যাচ ফসকে যায় বাংলাদেশের। এই দুই ব্যাটারই জম হয়ে উঠে তাদের জন্য। ৭৯ রানে ৪ উইকেট হারানো লঙ্কানদের ৮৬ রানের জুটি গড়ে দিয়ে জয়ের বন্দরে নিয়ে যায় তারা। আসালঙ্কাতো(৪৯ বলে অপরাজিত ৮০ রান) জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন।

এর পাঁচ দিন আগে, ক্যাপ্টেন মাহমুদউল্লাহ ওমানের যতিন্দর সিংয়ের ক্যাচ মিস করেন পাওয়ার প্লেতে। যদিও বাংলাদেশ ম্যাচটি জিতে নেয়। তবে মাহমুদউল্লাহ যখন ক্যাচটি মিস করেন ওমানের সংগ্রহ তখন ৫ ওভারে ৪০ রান। ১৫৪ রানের লক্ষ্যে দলটা দারুন ভাবেই এগুচ্ছিলো। ১০ রানে জীবন পাওয়া সিং থামেন ৪০ রানে। এই আসরে এখন পর্যন্ত ৬ ম্যাচে ৯ ক্যাচ মিস করা ফিল্ডারদের সবাই মোটামুটি দেশ সেরা ফিল্ডাদের তকমা গায়ে জড়ানো। সাকিব, মাহমুদউল্লাহ, উইকেটরক্ষক লিটন দাস, মেহেদী হাসান, আফিফদের থেকে এমন বাজে ফিল্ডিং প্রত্যাশিত ছিল না কারোরই। 
cover
২০১৮ সাল থেকেই ফিল্ডিংয়ে বেহাল দশা বাংলাদেশের। ২০২১ এসেও যা কাটিয়ে উঠতে পারেনি।! "ক্যাচ মিস তো, ম্যাচ মিস।" এমন উপকথার প্রমান এই বছর আটটি ম্যাচে দিয়েছে বাংলাদেশ। এইতো মার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজে ৬ ম্যাচে ১২টি ক্যাচ মিস করেছে ফিল্ডাররা। যার মধ্যে ওডিআই সিরিজের খুবই গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্তে ২টি ক্যাচ মিস করে। দ্বিতীয় ওডিআইতে মেহেদী হাসান, ল্যাথামের ক্যাচ মিস না করলে ম্যাচের ভাগ্যটা হয়তো বাংলাদেশের পক্ষেই কথা বলতো।

আর তিন টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ক্যাচ ছাড়ার সংখ্যা দাঁড়ায় সাতটিতে। যার মধ্যে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ফিন অ্যালেনের ক্যাচই ফেলা হয়েছে চার বার! শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেও বাজে ফিল্ডিংয়ের জন্য যথেষ্ট ভুগতে হয়েছে বাংলাদেশকে। প্রথম টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় টেস্টে একটি সেঞ্চুরি ও ফিফটি হাঁকানোর লঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নের ক্যাচ মিস হয়েছিল দুইবার। জীবন পেয়ে করুনারত্নেও করুনা দেখাননি। ব্যাট হাতে জবাব দিয়েছেন কড়ায়গণ্ডায়। সে সিরিজ বাংলাদেশ হেরেছিল ১-০ ব্যবধানে। হারের কারনটা তো স্পষ্টই!
cover
এরপরই মে মাসে আবার বাংলাদেশ সফরে আসে লঙ্কানরা। তৃতীয় ওডিআইতে লঙ্কান কাপ্তান কুশাল পেরেরার ৬৮, ৮০ ও ৯৯ রানে তিন তিনবার ক্যাচ ড্রপ করে ফিল্ডাররা। সাকিব দু'বার ও মুস্তাফিজ একবার চান্স ক্রিয়েট করেন তবে ৮০ রানে আফিফ ও ৯৯ রানে মাহমুদউল্লাহ তালু বন্দিত করতে ব্যর্থ হন। জুলাইতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ছয় ক্যাচ মিস করে দল। সিরিজ এক, তিন কিংবা পাঁচ ম্যাচের হিসেবে হোক, ক্যাচ মিস হবে কিন্তু হিসেব ছাড়া।

আউট ফিল্ডে বাংলাদেশের নির্ভরতার চার হাত খুঁজতে গেলে আগে নাম আসবে সাকিব মাহমুদউল্লাহর। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি আউট ফিল্ড ক্যাচ তাদেরই। তিন সংস্করণে ১৪৮টি ক্যাচ রিয়াদের, আর ৯৯টি ক্যাচ সাকিবের। কিন্তু এই বছর দুইজনই ফিল্ডিংয়ে বাজে ফর্মে আছেন। ৫টি করে ক্যাচ মিস করেছেন দু'জনই। উইকেটরক্ষকের ভূমিকায় থাকা অবস্থায় মুশি ছেড়েছেন ৩টি ক্যাচ। ভাল ফিল্ডার হিসেবে পরিচিত সৌম্য, আফিফ ও মেহেদী, প্রত্যেকেই তিনটি করে ক্যাচ ড্রপ করেছেন। অন্তত ১টি করে ক্যাচ ছাড়া উইকেটরক্ষক ও ফিল্ডারের সংখ্যা ২০ জন। 
cover
বাংলাদেশ এই বছর তাদের এক তৃতীয়াংশ ক্যাচ ছেড়েছে পিচের খুব কাছাকাছি জায়গায়। বোলার, উইকেটরক্ষক এবং স্লিপ ফিল্ডাররা মিলে ছেড়েছেন ১৬টি ক্যাচ, যা মোট ক্যাচ মিসের ৩৪ শতাংশ। মিড অন, মিড অফ, লং অন ও লং অফ মিলিয়ে ছেড়েছে ১২টি ক্যাচ। আশ্চর্যজনক ভাবে, ফাইন লেগে খুবই সহজ ৩টি ক্যাচ মিস করেছে তাদের ফিল্ডাররা। ক্যাচ মিসে সবচেয়ে বেশি হতাশায় ভোগে বোলাররা। এই বছর সে হতাশায় বেশি গ্রাস করেছে তাসকিনকে। দশ দশটি উইকেট থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তিনি। সাকিব এবং মুস্তাফিজ প্রত্যেকে বঞ্চিত হয়েছেন ছয়টি করে উইকেট থেকে। পাঁচটি ক্যাচ ছুটেছে মিরাজের ওভারে। এই বছরে বাংলাদেশের থেকে বেশি ক্যাচ মিস করেছে কেবল শ্রীলঙ্কা। তাদের ৫৫ মিসের পরে ৪৭ মিস নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান।

২০১৬-২০১৭ সালে বাংলাদেশ বিদেশে কিংবা দেশের মাটিতে ব্যর্থতার চাদরে আবদ্ধ ছিল। ২০১৯ সালে খেলা তাদের ১১ ম্যাচের ফলাফলের উপর ফিল্ডিংয়ে ব্যর্থতা সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল। ওডিআই বিশ্বকাপে রোহিত শর্মা, ডেবিড ওয়ার্নার ও বাবর আজমের ক্যাচ তালু বন্দি করতে পারলে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের পক্ষে বড় স্কোর দাঁড় করানো সম্ভব হতো না। তখন জয়ের ব্যাপারের অত্যাধিক আশাবাদী হতে পারত বাংলাদেশ। ক্যাচ মিসেই কপাল পুঁড়েছে তাদের।


cover
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এসেও তাদের এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা জারি রয়েছে। ফিল্ডিংয়ে উন্নতি হয়েও যেনো হচ্ছে। লাখ টাকার বিদেশি কোচ রেখেও উন্নতি সম্ভব হচ্ছে না। আসলে, ফিল্ডিংয়ে উন্নতি করতে হলে ক্রিকেটারদের কেবল ট্রেনিং সেশনেই ঘাম ঝরালে চলবে না, নিজের ফিল্ডিং ল্যাভেলকে উন্নত করতে হবে, অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কৌশল অবলম্বন করতে হবে। ফিল্ডিংয়ে আগ্রহ আর উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করতে হবে।

টি-টোয়েন্টির যুগে ফিল্ডিংয়েও এসেছে নতুনত্ব। এখন অনেক ছক্কার মার বুদ্ধিদীপ্ত আর ক্ষিপ্র ফিল্ডিং করে ক্যাচ বানিয়ে ছাড়ছেন অনেকে। শরীরের ভারসাম্য রেখে এসব ক্যাচ নেওয়ার কঠোর অনুশীলন করতে হবে ফিল্ডারদের। বাংলাদেশকে ক্যাচ মিসের এই বৃত্ত থেকে দ্রুতই বেরুতে হবে। না হয় ক্যাচ মিসের মাশুল দিতে দিতে হারের বৃত্তে চাপা পড়বে। 

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021