যে ৫ উপায়ে বুঝবেন আপনি আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগছেন
বিশেষ প্রতিবেদন
যে ৫ উপায়ে বুঝবেন আপনি আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগছেন
আপনার আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকলে তা অন্যদের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠবে এবং আপনাকে বৃহত্তর সাফল্য অর্জন থেকে বিরত রাখবে। ফোর্বস ম্যাগাজিনে এ নিয়ে লিখেছে ক্যারিয়ার ও লিডারশীপ কোচ ক্যাথি ক্যাপ্রিনো। কীভাবে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থেকে মুক্তি পাওয়া যায় সেগুলোর বিস্তারিত তার ভাষায় তুলে ধরা হলো। গত ১৬ বছর ধরে আমি মানুষের বিশেষ আচরণ, বৈশিষ্ট্য এবং ওইসব কারণগুলো নিয়ে নিবিড়ভাবে গবেষণা করেছি যা মানুষদেরকে তাদের ক্যারিয়ারের সফলতা অর্জন থেকে বিরত রাখে। এছাড়া নির্দিষ্ট ওই পদক্ষেপগুলো পর্যবেক্ষণ করেছি যেগুলোর কারণে লোকেরা তাদের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর পেশাদার সফলতা অর্জনে সমর্থ্য হয়েছে। 
ছবি: ফোর্বস ম্যাগাজিন
ছবি: ফোর্বস ম্যাগাজিন
আমরা যে সফলতা অর্জন করতে চাই তার জন্য আমাদের সক্ষমতার সাথে সাথে আরও অনেক বিষয় জড়িত। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভাগ্য। এছাড়া একটি সুস্থ্য মানসিকতা যা আমাদের জীবনে সফলতা এবং ভাগ্য প্রসারিত করতে সহায়তা করে। একইসাথে আমাদের সংযোগ এবং নেটওয়ার্ক, সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় উপস্থিত থাকা, ভালো পরামর্শদাতা এবং পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া, অপরিহার্য দক্ষতা প্রসারিত করার উপর ধারাবাহিকভাবে মনোনিবেশ করাসহ প্রফেশনাল বিভিন্ন উপায়-উপকরণ এক্ষেত্রে কাজে লাগে। কিন্তু এই কারণগুলোর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হল আপনি কীভাবে নিজের ভেতরটাকে দেখেন এবং নিজের উপর আপনার আত্মবিশ্বাসের স্তর, আপনার নিজের সম্পর্কে ধারণা এবং আপনার প্রতিভা। আত্মবিশ্বাস সাফল্য এবং সুস্থতার মূল চাবিকাঠি। এছাড়া ইতিবাচক শক্তিকে আলিঙ্গন করার এবং সীমাবদ্ধতাগুলো এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতা, আরামদায়ক জীবন যাপন থেকে থেকে বের হয়ে আসার সাহস, নিজের উপর বিশ্বাস রাখা এবং নিত্য নতুন সুযোগ তৈরির মাধ্যমে অর্থপূর্ণ ও সামগ্রিকভাবে জীবন ও সমাজে প্রভাব ফেলতে সাহায্য করে আত্মবিশ্বাস।  
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
আপনি কি মনে করেন আপনার জীবনে আত্মবিশ্বাসের কোনো অভাব রয়েছে? আপনি কি আপনার বিশ্বাস অর্জনে ব্যর্থ হন বা আপনি কি আসলে আপনার কাজের মধ্যে বড় কিছু করার যোগ্য? মানুষের আত্মবিশ্বাসের স্তরের একটি সূচক বা এর অভাবকে বলা ‘ইমপোস্টার সিন্ড্রোম।’ যখন মানুষ ইমপোস্টার সিন্ড্রোমের অভিজ্ঞতা অর্জন করে, তখন তারা বিশ্বাস করে তারা যে ভূমিকা পালন করছে তারা সত্যিই এর যোগ্য নয়। তারা বুঝতে পারে, তারা যে সাফল্য পেয়েছে তা তাদের নিজস্ব যোগ্যতার কারণে নয়। এটি সত্যিকার অর্থেই নিজেকে সীমাবদ্ধ করে ফেলে। দুর্ভাগ্যবশত, চাকরিজীবী মহিলাদের একটি বড় অংশ ‘ইমপোস্টার সিন্ড্রোমে ভোগেন। একটি সাম্প্রতিক কেপিএমজি গবেষণায় দেখা গেছে, ৭৫ শতাংশ চাকরিজীবী নারী তাদের কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে ইমপোস্টার সিন্ড্রোমের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং ৮৫ শতাংশ কর্মজীবী নারী বিশ্বাস করেন, কর্পোরেট জগতে আমেরিকান নারীদের অভিজ্ঞতা এমনই। গবেষণায় বলা হয়, ইমপোস্টার সিন্ড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের কোনো সাফল্যকে নিজের কঠোর পরিশ্রম, দক্ষতা, ক্ষমতা এবং অভিজ্ঞতার ফলাফল হিসেবে দেখে না। বরং, নিজের সাফল্যকে ভাগ্য বা সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় উপস্থিত থাকার মাধ্যমে ফল মনে করে।
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
যখন আমাদের আত্মবিশ্বাসের অভাব হয়, তখন এটি কেবল নিজের কাছেই নয়, বরং আপনার ম্যানেজার, সহকর্মী, কর্মচারী এবং অংশীদারসহ আপনার চারপাশের অন্যান্য লোকেদের কাছেও এটি খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রতীয়মান হয়। বলা হয়ে থাকে ‘সবকিছুই শক্তি’ এবং এটি অবশ্যই সত্য যখন আপনার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি আপনার শক্তি অনুভব করতে সক্ষম হয়। আমরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বুঝতে পারি সামনে থাকা ব্যক্তি আত্মবিশ্বাসী কিনা। এমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপায় রয়েছে যেভাবে একজনের আত্মবিশ্বাসের অভাব অন্যদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আত্মবিশ্বাসের অভাব পেশাগতভাবে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমরা যা চাই তা অর্জনের জন্য আমাদের সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি আমাদের সম্পর্ক এবং অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও আমাদের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। যে পাঁচটি উপায়ে আত্মবিশ্বাসের অভাব মানুষের কাছে প্রতীয়মান হয় এবং তা থেকে মুক্তির উপায় বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
  
নিজের চিন্তা খোলাখুলিভাবে শেয়ার করতে দ্বিধাবোধ
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
নিজের চিন্তাভাবনায় আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকলে সেগুলো শেয়ার করা থেকে আপনি বিরত থাকেন, ফলে আপনার প্রকল্পগুলোতে সর্বোচ্চ স্তরে অবদান রাখা থেকে আপনি বিরত থাকেন। যদি আপনি ক্রমাগত আপনার ধারণা এবং মতামতের শক্তি এবং গুরুত্ব নিয়ে সন্দেহ করেন তবে আপনি আপনার প্রকল্পগুলোকে সঠিক এবং উত্পাদনশীল উপায়ে পরিচালনার ক্ষমতা হারাবেন। এবং আপনার কথা আর শোনা হবে না। পরামর্শ: নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, "আমি কি সভা-সমাবেশগুলোতে আমার চিন্তা-ভাবনা প্রকাশ না করে পিছিয়ে থাকি? আমি কি আমার চিন্তাভাবনা বা মতামত প্রকাশ করতে দ্বিধা বোধ করি এই ভয়ে যে, আমাকে উপহাস করা হবে বা সেগুলোকে নেতিবাচকভাবে দেখা হবে? যদি তাই হয়, তবে আপনি ভয়ের কারণে আপনার কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষা, দূরদৃষ্টি এবং আইডিয়াগুলো আটকে রাখছেন যা আপনার নিজের এবং আপনার দলের সফলতার কারণ হতো। 
নিজের সফলতা নিয়ে আপনি বিরক্ত
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
আরেকটি উপায়ে যে আমাদের আত্মবিশ্বাসের অভাব অন্যদের কাছে স্পষ্ট হয় তা হচ্ছে নিজেকেই প্রশ্ন ও সন্দেহ করা। আমি অনেক নতুন ম্যানেজারদের সাথে কাজ করেছি, যারা আগে এই মানুষ পরিচালনা বা নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পাননি এবং তারা প্রায়ই নিজেদের পরিচালনার বিষয়ে গভীরভাবে অনিরাপদ বোধ করতেন। তারা ভয় পায় যে তাদের ব্যবস্থাপনাগত অভিজ্ঞতার অভাব হয়তো তাদের প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত ব্যর্থতার দিকে নিয়ে যাবে। পরামর্শ: নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, ‘আপনি কি আপনার সাম্প্রতিক উপস্থাপনা বা কোনও প্রকল্পের নেতৃত্ব দেয়ার কার্যক্রমে আচ্ছন্ন বা এটি আপনার মন থেকে বের করতে পারছেন না? আপনি কি অন্যদের জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কীভাবে উপস্থাপনা করেছিলেন এবং যখন আপনি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পান তখন তাদের কথাই আবার বিশ্বাস করেন না? আপনি কি সারাক্ষণ ওই ছোট ছোট বিষয়গুলো ভাবতে থাকেন যা আপনি মনে করেন যথেষ্ট ভালভাবে পরিচালনা করেননি?  
আপনি নিজের এবং অন্যদের ব্যাপারেও কঠোর সমালোচক
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
একজন থেরাপিস্ট হিসাবে আমি শিখেছি, আমরা যেভাবে অন্যদেরকে দেখি এবং কথা বলি তা আমাদের নিজের সম্পর্কে আমরা কেমন অনুভব করি তার সরাসরি প্রতিফলন। অন্য কথায়, দয়ালু-প্রেমময় এবং উদার লোকেরা সাধারণত প্রথমে নিজেকে ভুলত্রুটিকে গ্রহণ করে এবং নিজেকে ক্ষমা করে দেয়। এই অনুভূতিগুলোই অনিবার্যভাবে অন্যদের ক্ষেত্রেও তাদের উপলব্ধি হয়। অন্যদিকে, যারা নিরলসভাবে অন্যের সমালোচনা করে তারা সাধারণত নিজেদের উপর ভয়ানক কঠোর হয়। আপনি নিজের সম্পর্কে কেমন মূল্যায়ন করেন তা মূলত এটি দিয়েই শুরু হয়। পরামর্শ: নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, ‘আমি কি অন্যদের খুব সমালোচনা করি, এবং আমি সহজেই মানুষের মধ্যে দোষ খুঁজে পাই বা কোনোভাবে তাদের অভাব খুঁজে পাই? আমি কি মানুষের উপর অনেক বেশি রাগ করি? অথবা অনুভব করি যে তারা আমার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে না? যদি তাই হয়, তবে কি আমি নিজের প্রতিও একই রকম? আমি কি নিজের উপর অত্যন্ত কঠোর এবং প্রায়ই পারফেকশনিস্ট ওভারফাংশনিং (নিখুঁতভাবে সবকিছু করতে চাওয়ার চাহিদা) আচরণ করি? 
আপনি অন্যদের সাফল্যকে হুমকি মনে করেন
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
আমরা সকলেই এমন লোকদের চিনি যারা অন্যের সাফল্য খুশি হওয়ার ভীতি বা হুমকি অনুভব করে। তারা তাদের শব্দ, আচার-আচরণ, মুখের অভিব্যক্তি এবং শরীরী ভাষার মাধ্যমে (প্রায়ই অনিচ্ছাকৃতভাবে) প্রকাশ করে, তারা অন্যের সৌভাগ্য এবং সাফল্যে ঈর্ষান্বিত। যদি আপনি দেখতে পান যে আপনি অন্য মানুষের উন্নতি এবং সফলতা দেখে খুশি নন, তবে সম্ভবত আপনার নিজের আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে। পরামর্শ: নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, যখন আমার সহকর্মীরা তাদের সফলতার জন্য প্রশংসিত হয় এবং তারা স্বীকৃতি পায় তখন আমি কেমন বোধ করি? এটা কি আমাকে আনন্দিত করে তোলে, নাকি আমি আমার নিজের অর্জন নিয়ে হুমকি এবং অনিরাপদ বোধ করি এবং তাদের কারণে নিজেকে ছোট ভাবি? 
আপনি নিজের প্রতিভা সম্পর্কে অবগত নন
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
নিজেরা প্রতিভা সম্পর্কে অজ্ঞতাকে আমি ‘পাওয়ার গ্যাপ’ হিসেবে উল্লেখ করি। এটিই আসলে সবচেয়ে বড় পাওয়ার গ্যাপ। সাতটি ক্ষতিকারক পাওয়ার গ্যাপের মধ্যে এটিই প্রথম যা ৯৮ শতাংশ পেশাদার নারী এবং ৯০ শতাংশ পুরুষকে তাদের কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে বাধা দেয়। আমার সাম্প্রতিক গবেষণার অনুসারে, এই বিশেষ সমস্যাটি মহিলাদের মধ্যে আরও স্পষ্টভাবে দেখা যায়। আমার জরিপের ৬৬ শতাংশ নারী এই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। এখানে সমস্যাটি হলো আপনি আপনার প্রতিভা এবং দক্ষতাগুলো চিনতে বা সেগুলো নিয়ে কথা বলতে পারেন না। ফলে এসবের জন্য সময় দেয়াই হয়ে উঠে না। পরামর্শ: আপনি যদি আপনার কাছে যা ভাল লাগে তা উল্লেখ না করেন, আপনার নির্দিষ্ট প্রতিভাগুলো প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকেন, তবে আপনি নতুন কোনো ভূমিকা এবং প্রকল্পে কাজ করার সময় হতাশ হবেন যা আপনার জন্য অর্থপূর্ণ হতো এবং আপনাকে সমৃদ্ধ করতো। আপনি আজ যেখানে আছেন তারচেয়ে উপরে এবং আরও দূরে যাওয়ার সম্ভাবনাকে নিজেই অবরুদ্ধ করবেন। কারণ আপনি নিজেকে বৃহত্তর নেতৃত্বের জন্য যোগ্য বলে মনে করেন না। এই স্বীকৃতির অভাব আপনার বর্তমান প্রতিষ্ঠানেও আপনার উন্নতির গতিপথকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।

ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
আত্মবিশ্বাস সাফল্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা আপনাকে অনেক দূরে নিয়ে যাবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিলিটারি একাডেমির পারফরমেন্স সাইকোলজি প্রোগ্রামের পরিচালক ড. নাট জিনসার সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সত্যিকারের আত্মবিশ্বাস হচ্ছে নিজের এবং নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত এক অনুভূতি। আত্মবিশ্বাসী লোকেরা ঠিক কী করে এবং কেন বেশিরভাগ লোক হতাশ হয়? আমি নিয়মিত অবাক এবং বিস্মিত হয়েছি এমন লোকদের দেখে, যারা স্বীকার করে ব্যক্তিগত এবং পেশাগত সাফল্যের জন্য আত্মবিশ্বাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তারপর স্বীকার করে, তারা এটি তৈরি করার জন্য কিছুই করে না যেন যখন তাদের প্রয়োজন হয় তখন তারা ‘আত্মবিশ্বাস’ কাজে লাগাতে পারে। জিনসার আরও বলেন, তাদের যা করতে হবে তা হলো তাদের আত্মবিশ্বাসের উপর কাজ করা যেমন তারা তাদের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করে। তারা যেমন তাদের শারীরিক ফিটনেস বা তাদের পেশাগত দক্ষতা অর্জন করতে সময় এবং শ্রম দেয় সেভাবেই আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সময় এবং শক্তি প্রয়োজন। সৌভাগ্যবশত, আত্মবিশ্বাস বিকাশের জন্য খুব কম সময় এবং প্রচেষ্টা প্রয়োজন কিন্তু এর উপকার অনেক বিশাল।
সূত্র: ফোর্বস ম্যাগাজিন  
বিশেষ প্রতিবেদনজীবনযাপন
আরো পড়ুন