দেশে প্রতি বছর ১০ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মায়
জাতীয়
দেশে প্রতি বছর ১০ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মায়
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধযোগ্য রক্তস্বল্পতাজনিত বংশগত রোগ। বাবা-মা উভয়ে যদি ত্রুটিপূর্ণ জিন বহন করেন তাহলে তাদের সন্তান থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারে। সচেতনতার অভাবে আমাদের দেশে এই রোগের বাহকের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। ব্যাপক জনগোষ্ঠী এখনো এই রোগ সম্পর্কে সচেতন নয় এবং বাহক নির্ণয় হয়নি। ফলে বাহকের সংখ্যা দিনকে দিন বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে থ্যালাসেমিয়া রোগের প্রতিষ্ঠিত কোনো ডাটা নেই। তবে আমাদের পর্যবেক্ষণ, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১০ থেকে ১২ শতাংশ মানুষ এই থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক, কিন্তু তারা থ্যালাসেমিয়ার রোগী নন। প্রতি বছর এই রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে ১০ থেকে ১২ হাজার শিশু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান মতে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৭ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক। থ্যালাসেমিয়া বাহকদের পরস্পরের মধ্যে বিয়ের মাধ্যমে প্রতি বছর নতুন করে ৭ হাজার থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুর জন্ম হচ্ছে। থ্যালাসেমিয়া রোগীরা প্রতি মাসে এক থেকে দুই ব্যাগ রক্ত গ্রহণ করে বেঁচে থাকে। চিকিৎসা না করা হলে এ রোগীরা রক্তশূন্যতায় মারা যায়। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, আমরা ব্যাপক সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে এখনো সচেতন করতে পারিনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই রোগটিকে গুরুত্ব দিয়েছে। এই রোগ প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারিভাবে জেলা উপজেলা পর্যায়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। বাহক নির্ণয় করতে হবে এবং বাহকে বাহকে বিয়ে বন্ধ করতে পারলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। থ্যালাসেমিয়া রোগের একমাত্র চিকিৎসা—বোনম্যারু ট্রান্সপ্ল্যান্ট, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তবে আমাদের দেশে থ্যালাসেমিয়ার রোগীদের মধ্যে এখনো বোনমেরু ট্রান্সপ্ল্যান্ট এখনো শুরু হয়নি। অন্য যে চিকিৎসা তাও ব্যয়বহুল।
জাতীয়স্বাস্থ্য
আরো পড়ুন