বিমান দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বাঁচলেন পাভেল, জঙ্গলে যেভাবে কেটেছে ১০ দিন
আন্তর্জাতিক
বিমান দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বাঁচলেন পাভেল, জঙ্গলে যেভাবে কেটেছে ১০ দিন
চলতি বছরের ২০ই জুন রাশিয়ার সাইবেরিয়ার ইয়াকুটিয়া এলাকায় ঘটে এক নির্মম ঘটনা। সেদিন ইয়াকুটিয়ার এক গহীন জঙ্গলে বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় রুপার খনিতে কাজ করা এক শ্রমিকসহ বিমানটির বিমানচালক এবং সহ-চালক। দুর্ঘটনার পর বিমানটির চালক ও সহ-চালকের ঝলছে যাওয়া দেহাবশেষ উদ্ধার করা গেলেও সেসময় মেলেনি সাথে থাকা সেই শ্রমিকের মৃতদেহ। 
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
এদিকে, ঘটনার ১০ দিন পর, অর্থাৎ ১ জুলাই পাওয়া যায় এক বিস্ময়কর খবর। বিমানের সেই যাত্রীকে জঙ্গল থেকে জীবিত উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা। জীবিত উদ্ধার হওয়া সেই খনির শ্রমিকের নাম পাভেল ক্রিভোশ্যাপকিন। দুর্ঘটনার দিন ছোট একটি বিমানে পাহাড়ের প্রত্যন্ত একটি রুপার খনিতে শ্রমিকদের জন্য খাবার নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সেদিন, এএন-২ বিমানের তিনিই ছিলেন একমাত্র যাত্রী।
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
বিমানটি দুর্ঘটনার পর আহত হয়ে জ্ঞান হারিয়েছিলেন পাভেল। তবে এর ২৪ ঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরে তার। আহত অবস্থায় পাভেল ওই জঙ্গলে কীভাবে এতোদিন বেঁচে থাকলেন, তা ভেবে অবাক হয়েছেন উদ্ধারকারী দল। আর অবাক হওয়াটাও স্বাভাবিক। কারণ, সাইবেরিয়ার ওই জঙ্গলটি যে নেকড়ে বাঘ আর দৈত্যাকৃতির কালো ভাল্লুকের আস্তানা। যদি এসব বন্য প্রাণীর হাত থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচেও যান, তবে টানা ১০ দিন খাদ্য-পানি ছাড়া তিনি কীভাবে লড়াই করলেন, এ নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
পাভেলকে উদ্ধার করে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, তখন তিনি সব খুলে বলেন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে পাভেল জানান, দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর তার যখন জ্ঞান ফেরে তখন চারপাশে শুধু ধোঁয়া দেখতে পান। ভাঙ্গা প্লেনের ভিতরেই ছিলেন তিনি। বিমানের কিছু অংশে তখনও আগুন জ্বলছিল। সেসময় শুধু ভেবেছিলেন, যেভাবেই হোক বিমান থেকে নিজেকে বের করতে হবে। আর বিমান থেকে বের হতে আহত শরীর নিয়েই ভাঙতে হয় বিমানের দরজার তালা।
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
বাইরে বের হয়ে প্রায় ৩ ঘণ্টা বিমানের পাশেই বসে ছিলেন পাভেল। তারপর কাছেই একটি নদীর পাড়ে এসে বসেন। আগুন জ্বালিয়ে সেখানেই রাত কাটান। পরদিন সকালে নদীর আশেপাশে একটু খোঁজাখুঁজি করেন তিনি। কিছুদূর পরেই চোখে পড়ে একটি কুঁড়েঘর। সেই একটি কুঁড়েঘরেই বাকি নয়দিন কাটান পাভেল। পাভেল জানান, সেই ছোট্ট কুঁড়ঘরটিরতে ছিল ন্যুডলসের কয়েকটি প্যাকেট। তাই পরের দিনগুলোয় যখনই ক্ষুধার যন্ত্রণা হয়েছে ঘরে থাকা ন্যুডলস খেয়েই ক্ষুধা মিটিয়েছেন তিনি।  
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
শরীরের প্রচণ্ড ব্যথায় কিছুই খেতে পারছিলেন না পাভেল। তবে ক্ষুধার জ্বালা মাঝে মাঝে এতোটাই তীব্র ছিল যে একপ্রকার বাধ্য হয়েই সেই ন্যুডলসগুলো খেতেন তিনি। তবে বিধ্বস্ত শরীর নিয়েই প্রতিদিন কুঁড়েঘর থেকে বের হয়ে একটি ছেড়া কাপড়কে পতাকা বানিয়ে উদ্ধারকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করতেন পাভেল। এভাবে টানা ১০ দিন নিজের সাথে সংগ্রাম করে মানসিকভাবে নিজেকে শক্ত রেখে বেঁচে ছিলেন পাভেল। তাই খারাপ আবহাওয়া এবং ঘন কুয়াশায় পথ ভুলে পাহাড়ে ধাক্কা লাগা সেই বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরও শুধু ইচ্ছাশক্তি ও ভাগ্যের সহায়তায় গেল ১ জুলাই উদ্ধারকর্মীদের নজরে আসেন পাভেল। সাথে সাথে তোকে নেয়া হয় হাসপাতালে। সেখানে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। নিজের দ্বিতীয় জীবনকে এখন উপভোগ করতে চান প্রাণভরে। 
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
আন্তর্জাতিকএক্সক্লুসিভরাশিয়া
আরো পড়ুন