Link copied.
২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রের মাছের সমপরিমাণ হবে প্লাস্টিক বর্জ্য!
writer
অনুসরণকারী
cover
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণতা এখন পুরো বিশ্বের মাথাব্যথার কারণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কয়েক দফা শিল্প বিপ্লবের কারণে বেড়েছে প্লাস্টিকের মতো পণ্যের ব্যবহার। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান সমূহ লাভ বাড়িয়ে, ক্রেতাদের জন্য বিপণন সুবিধাজনক করলেও এসব প্লাস্টিকের পণ্য পরিবেশের জন্য কতটুক ক্ষতিকর সে সম্পর্কে অনেক অনেক গবেষণা ইতোমধ্যেই হয়েছে। ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ৮০ শতাংশ নানানভাবে পতিত হচ্ছে সমুদ্রে। ফলশ্রুতিতে সমুদ্র সমূহে প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ প্রচুর বেড়েছে। পরিবেশবাদীরা সারাবিশ্বে প্রতিনিয়ত প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার সীমিত করার জন্য আন্দোলন করে আসলেও বৃহৎ অর্থনীতির দেশসমূহ তেমন কর্ণপাত করছে না। আর এই কারণেই কোকাকোলা, নেসলের মতো প্রতিষ্ঠান এখনো প্লাস্টিকের বোতলে পানীয় বিপণন করে চলছে। 
cover
২০১৬ সালে বিবিসি'র এক গবেষণায় জানা যায় ২০৫০ সালের মধ্যে উপকূলীয় সমুদ্রে মাছের চেয়েও প্লাস্টিক বর্জ্য থাকবে বেশি। সে সময় বিষয়টি নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। পরিবেশবাদী এবং ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে তর্কতর্কি পৌঁছেছিল জাতিসংঘের অধিবেশন। মুখে মুখে অনেক রাষ্ট্রপ্রধান প্লাস্টিক ব্যবহারের বিকল্পের কথা বললেও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ঠিকি অবাধে নিজেদের উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি সহ অনেক দেশই প্লাস্টিকের বর্জ্য যাতে সমুদ্রে পতিত না হয় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখছে। গৃহীত হয়েছে নানারকম ব্যবস্থা! কিন্তু অনুন্নত, উন্নয়নশীল দেশ সমূহ এখনো এসবের বিকল্প পরিশোধন ব্যবস্থা করতে পারেনি। জাতিসংঘ বরাবরই সচেতন করেই দায় সারছে। কিন্তু যথাযথ বিনিয়োগের অভাবে প্রতিনিয়ত সমুদ্রে চলে যাচ্ছে প্লাস্টিকের পণ্য। তাহলে কী বিবিসি'র করা ভবিষ্যৎবাণী সঠিক হবে? এসবের উত্তর খুঁজতেই আমাদের আজকের আলোচনা। 
কী পরিমাণ প্লাস্টিক ব্যবহার হচ্ছে? 

প্রতিদিন যে পরিমাণ প্লাস্টিক ব্যবহৃত হচ্ছে সে হিসেব শেষ করা অসম্ভব। তবে পরিবেশবাদী সংগঠনের বরাত দিয়ে আমরা কিছু হিসেবনিকেশ পেতে পারি। ব্রিটিশ ভিত্তিক পত্রিকা ফেরিসের জরিপ অনুযায়ী প্রতি মিনিটে কমপক্ষে একটি প্লাস্টিক বহনকারী ট্রাক সমুদ্রে ময়লা ফেলছে। আর ঐ হিসেবে প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন টুকরো! অন্যদিকে, বাৎসরিক হিসেব অনুযায়ী ১২.৭ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে ফেলা হয় যা বিশ্বজুড়ে ১ বছরে ব্যবহৃত মোট প্লাস্টিকের ৭৯ শতাংশ। আর এই অধিক পরিমাণ প্লাস্টিকের মধ্যে শুধুমাত্র ২৬৯,০০০ টন সমুদ্রের পানিতে ভেসে থাকে। 
cover
বিজ্ঞানীদের দাবি, সমুদ্রের সবথেকে নিরাপদ সার্ফেসেও পৌঁছে গেছে প্লাস্টিকের বর্জ্য। এখন অবধি আনুমানিক ৫.২৫ ট্রিলিয়ন ম্যাক্রো এবং মাইক্রো টুকরা প্লাস্টিক সমুদ্রে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করেন গবেষকরা। আর এই হিসেব অনুযায়ী সমুদ্রের প্রতি বর্গমাইলে ৪৬,০০০ টুকরো প্লাস্টিক বর্জ্য রয়েছে। যদিও এমন অত্যধিক প্লাস্টিক বর্জ্যের পেছনে অধিক পরিমাণে প্লাস্টিক উৎপাদনকে দায়ী করা হয়। প্রতিবছর প্রায় ৩৮১ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদিন হয় সারা বিশ্বে। ২০৩৪ সাল নাগাদ এই পরিমাণ দ্বিগুণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা। 
যুক্তরাজ্য প্রতি বছর প্রায় ১.৭ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক ব্যাগেজ ব্যবহার করে। ফলশ্রুতিতে শুধুমাত্র ব্রিটেনের উপকূলে প্রতি মাইলে গড়ে ৫০০০ টুকরা প্লাস্টিক এবং ১৫০টি ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল পাওয়া যায়। যদিও এই দিক থেকে যুক্তরাজ্যের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে প্রতিবছর ৩৮ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপাদন এবং ব্যবহার হয়ে থাকে। তবে দেশটিতে বছর শেষে উৎপাদিন প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮০ মিলিয়ন টনে। সমুদ্রে ভাসমান প্লাস্টিক বর্জ্যের জটের আকার প্রায় ১.৬ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার যা টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের চেয়েও বড়। জরিপে দেখা যায় পৃৃথিবীতে প্রতি মিনিটে ১ মিলিয়ন প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহারের পর ডাস্টবিনে ফেলা হয়। 
cover
আর এত এত বর্জ্য সমুদ্রে ফেলার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সামুদ্রিক প্রাণী সমূহ। পৃথিবীর ৯৭ শতাংশ পানির উৎস এবং খাদ্যচক্রের সবচেয়ে বড় ভান্ডারের যখন এই হাল তখন সত্যিই এটি ভবিষ্যতে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সমুদ্রের পানিতে প্রতি ১ বর্গকিলোমিটার জুড়ে ৪ বিলিয়র মাইক্রো ফাইবার পরিমাণ প্লাস্টিক কণা রয়েছে। আর এত এত দূষণের কারণে প্রতিবছর ১ মিলিয়ন সি-বার্ড এবং ১ লাখের বেশি সামুদ্রিক প্রাণী মৃত্যুবরণ করে। যদিও সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এবং আত্মঘাতী তথ্য হলো প্রায় প্রতিটি ছোট সামুদ্রিক কচ্ছপের পাকস্থলীতে প্লাস্টিক থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। 
পৃথিবীর মানুষ প্রতিবছর প্রায় ৫০০ বিলিয়ন প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করছে বলে তথ্য উঠে এসেছে। আর গড়ে প্রতিটি মানুষ ১৫০টি করে প্লাস্টিকের ব্যাগ ডাস্টবিনে ফেলে। অথচ এত এত উৎপাদন এবং বর্জ্যের বিপরীতে মাত্র ৯% প্লাস্টিক পুনরায় ব্যবহারের জন্য রিসাইকেল করা হয়। যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে সমুদ্রের পানিতে ২০৩৪ সালের মধ্যে প্রতি ৩টি মাছের বিপরীতে ১টি করে প্লাস্টিক থাকবে যা ২০৫০ সালের মধ্যে ১:১ হয়ে যাবে। এছাড়াও প্লাস্টিকের ক্ষুদ্রকণা থেকে ছড়ানো বিষক্রিয়া সমুদ্রের পানিতে যে বিষক্রিয়া তৈরি করছে প্রতিনিয়ত তাতে ২০৫০ সালের আগেই সমুদ্রে অফুরন্ত মাছের ভান্ডার অর্ধেকটাই শেষ করে দিতে পারে। 
পুনরায় ব্যবহারের জন্য কী ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে? 

প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর চেয়েও পুনরায় ব্যবহার, পোড়ানো এবং বাতিল করার প্রবণতা দেখা গিয়েছে সচেতন সমাজে। পরিবেশবাদীরা সবাই কমবেশি এই কয়েকটি ব্যবস্থার সঙ্গে একমতও হয়েছেন। যদিও বৃহৎ অর্থনীতির দেশ সমূহ যে হারে উৎপাদন এবং ব্যবহারে মনোযোগী সে তুলনায় ধ্বংস হচ্ছে না বা হবেও না। বর্তমানে যে হারে উৎপাদন এবং ধ্বংস করা হচ্ছে তা যদি এভাবেই চলতে থাকে তাহলে ২০৫০ সালের মধ্যে মাত্র ৩৩ বিলিয়ন মেট্রিকটন প্লাস্টিক বর্জ্য ধ্বংস করা সম্ভব। অথচ ২০১৮ সালের মধ্যে শুধুমাত্র প্লাস্টিকের বোতল বিক্রি হয়েছে ৪৮০ বিলিয়নের মতো। আর প্রতিবছর যে পরিমাণ উৎপাদন, ব্যবহার হচ্ছে সে তুলনায় ধ্বংসপ্রাপ্ত বর্জ্যের পরিমাণ কিছুই না। 
cover
জাতিসংঘের মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে ৮.৫৩ বিলিয়ন মেট্রিকটন প্লাস্টিক পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করা হবে যা মোট বর্জ্যের ২৫.৭ শতাংশ। এছাড়াও ১২.৩৯ বিলিয়ন মেট্রিকটন ভস্মীভূত করা হবে। মোট বর্জ্যের ৩৭.৩ শতাংশ পুড়িয়ে ফেললেও যে পরিবেশের জন্য যে মঙ্গলজনক হবে তা কিন্তু না। কারণ এত এত বর্জ্য পোড়ানোর কারণে বায়ুমণ্ডল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বাড়তে পারে বৈশ্বিক তাপমাত্রা। আবার ১২.২৮ বিলিয়ন মেট্রিকটন বা ৩৭ শতাংশ প্লাস্টিক ব্যবহারের জন্য নিষিদ্ধ এবং বাতিল ঘোষণা করবে বলেও অঙ্গীকার করেছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার। এতে করে অন্ততপক্ষে প্লাস্টিকের ব্যবহার এবং উৎপাদন অনেকটাই সীমিত করা সম্ভব হবে। 
প্লাস্টিক ধ্বংসের পরিকল্পনা সত্যিই কী বাস্তবায়ন হবে?

১৯০৭ সালে লিও বেকিল্যান্ড, ব্যাকেলাইট আবিষ্কারের মধ্যদিয়ে প্লাস্টিকের বিপ্লব সংগঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অর্থনীতির চাকা সচল করতে দেশসমূহ ভীষণভাবে তড়িঘড়ি করে। গত এক দশক ধরে জাতিসংঘসহ বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশের নেতারা প্লাস্টিক ধ্বংস এবং উৎপাদন হ্রাস করতে রাজি হলেও ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি মনে করে আগামী ২০ বছরে কোনোভাবেই প্লাস্টিকের উৎপাদন কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। ২০৪০ সালের মধ্যে প্লাস্টিকের উৎপাদন ৫৪০ মিলিয়ন মেট্রিকটন ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। আর এর কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সমূহকে। 
cover
শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্লাস্টিকের অর্থনৈতিক গুরুত্ব পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় আগামী ১০ বছরের ব্যবধানে প্লাস্টিকের মার্কেট ভ্যালু বেড়ে দাঁড়াবে ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ২০১৮ সালের হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৫২৩ বিলিয়ন ডলারের প্লাস্টিক ছিল যা ২০২৭ সালে ৭৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। তবে তেলের বাজার যে প্লাস্টিকের উৎপাদন অব্যাহত রাখবে তা বোঝা গেছে চলতি বছর। কোভিড-১৯ এর কারণে বিমানের জ্বালানি বিক্রি অত্যধিক কমে যাওয়ায় বোতলজাত তেলের চাহিদা বেড়েছে বিশ্ব বাজারে। এছাড়াও তেলের দরপতনের কারণেও বিপণন ব্যবস্থাপনায় ছাড় দিতে নারাজ তেল শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলে। যদিও এটি পৃথিবীতে কার্বন নিঃস্বরণ কমানোর বিনিয়োগও প্রাকৃতিকভাবে কমিয়ে দিয়েছে। 
এমন পরিস্থিতিতে তেল শিল্প নিজের গতিবিধি পরিবর্তন করেছে এবং পেট্রোকেমিক্যালের মতো উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে ছুটছে যা বাস্তবিক অর্থে প্লাস্টিকের চাহিদা আরো বাড়াতে পারে। আর এই খাতে এক্সন মোবিল, শেলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যেই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে বসে আছে। কার্বন ট্র্যাকারের তথ্যমতে মোবিল শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে ইতোমধ্যেই ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং যন্ত্রাংশে ৪০০ বিলিয়নের অধিক খরচা করেছে। এতে করে বোঝাই যাচ্ছে শুধুমাত্র তাদের হাত ধরেই অতিরিক্ত ৮০ মেগাটন প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়বে আগামী এক দশকে। 
cover
যদিও এই ক্ষেত্রে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, চীনের তৎপরতার বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিকালে নিউ ইয়র্ক টাইমসের গবেষণায় উঠে এসেছে এক ভয়াবহ তথ্য। দেশটি আফ্রিকান দেশ কেনিয়ার সাথে প্লাস্টিক বর্জ্য রপ্তানি এবং পণ্য আমদানি বিষয়ক চুক্তি সাক্ষর করেছে। চুক্তি অনুযায়ী কেনিয়া পুরো আফ্রিকায় কিছু নির্দিষ্ট আমেরিকান পণ্য বিপণন করবে অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্লাস্টিকের বর্জ্য সেখানে রপ্তানি করবে। এদিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ইতোমধ্যেই ৮০০ ট্রিলিয়ন ইউরো কর আরোপ করেছে বিভিন্ন প্লাস্টিকের পণ্যের উপর যেগুলো পুনরায় ব্যবহারের সুযোগ নেই।

অন্যদিকে, চীন রিসাইকেল করা যাবে না এমন পণ্য উৎপাদন থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে। সবমিলিয়ে বলা যায় এত এত অনিশ্চয়তার মাঝেও আশার আলো দেখতে শুরু করেছে প্লাস্টিকের ব্যবহার রোধের বিষয়টি। আর আমাদেরকেও নিজেদের জায়গা থেকে সর্বদা চেষ্টা করা উচিত প্লাস্টিক সীমিতকরণে। অন্যথায় যা দূষণ হয়েছে তা দশ হাজার বছরেও কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে না আমাদের পক্ষে। 

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021