চীন-তাইওয়ান উত্তেজনা: ঐতিহাসিক বিরোধের নেপথ্য কারণ কী?
চীন
চীন-তাইওয়ান উত্তেজনা: ঐতিহাসিক বিরোধের নেপথ্য কারণ কী?
তাইওয়ান। ছোট্ট একটি দ্বীপ। উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত। বরাবরই ছোট্ট এই দ্বীপটি রয়েছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। চীন সরকার তাইওয়ানকে একটি বিচ্ছিন্ন নিজেদের প্রদেশ হিসেবে দেখে চীন। পাশাপাশি এই দ্বীপকে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অংশ হিসেবেই মনে করে দেশটি।
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
বন্ধুত্বের খাতিরে আমরা তাইওয়ানে এসেছি, এই অঞ্চলের শান্তির জন্য আমরা এখানে এসেছি।'
ন্যান্সি পেলোসি
চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং তার দীর্ঘ শাসনামলে বরাবরই চেয়েছেন তাইওয়ানকে চীনের একটি স্বীকৃত প্রদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে। আর এই কারণেই পশ্চিমাদের রক্তচক্ষুতে পরিণত হয়েছেন এই নেতা। তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের বিরোধিতা করে বরাবরই পাশে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অস্ত্র বিক্রি করে বহু বছর ধরেই অঞ্চলটিতে বলয় সৃষ্টি করে রেখেছে মার্কিনীরা। সম্প্রতি, তাইওয়ান সফর করছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। প্রশাসনিক দিক দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি তিনি। পেলোসির এশিয়া সফরের আগে থেকেই বিরোধিতা করে হুমকিধামকি দিয়ে আসছিল চীন। শেষপর্যন্ত মঙ্গলবার (২ আগস্ট) রাতে তাইওয়ানে অবতরণ করেন তিনি। চীন সরাসরি আক্রমণ না করলেও ২১টি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান উড়িয়েছে তাইওয়ানের আকাশে। এই প্রতীকী বিরোধিতার পরেও বুধবার থেকে ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ানে তার সফরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। তিনি বলেছেন, 'বন্ধুত্বের খাতিরে আমরা তাইওয়ানে এসেছি, এই অঞ্চলের শান্তির জন্য আমরা এখানে এসেছি।' 
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
ন্যান্সি পেলোসি যখন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন তখন মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন। কিন্তু দিনশেষে বিশ্ব দেখল চীন সাগরে মার্কিন রণতরী ও বিমানের বিশাল বহর। আর এটিকে চীনের একটি পরাজয় হিসেবে দেখছেন অনেকে। বার্তা সংস্থা বিবিসি ও আল জাজিরা তাইওয়ানের ভূমিতে পেলোসির অবরতণকে গত ২ যুগে চীনের সবচেয়ে বড় কূটনীতিক পরাজয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। চীনের উদ্দেশ্য ও পদক্ষেপ একদিকে আরেকটি যুদ্ধকে প্রতিহত করেছে ঠিকই, তবে আমাদের সামনে ফের একবার তাইওয়ান নিয়ে আলোচনার জায়গা তৈরি করে দিয়েছে। সংবাদমাধ্যম বরাবরই এই অঞ্চল নিয়ে চলা বিরোধের সংবাদ প্রচার করে আসছে। কিন্তু সেখানকার মানুষ কী চায় তা নিয়ে তেমন কথা হয় না। বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, তাইওয়ানের অনেক মানুষ তাদের স্ব-শাসিত দ্বীপটিকে একটি পৃথক জাতি হিসেবে বিবেচনা করে। তাদের স্বাধীনতা কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হোক বা না হোক তারা নিজস্বতা নিয়েই বাঁচতে চায়। আজ আমরা আলোচনা করব চীন-তাইওয়ান উত্তেজনার পেছনে থাকা ঐতিহাসিক কারণগুলো নিয়ে।
চীন-তাইওয়ান ইতিহাস
তাইওয়ানে প্রথম বসতি স্থাপনকারীরা ছিলেন অস্ট্রোনেশিয়ান উপজাতি, যারা আধুনিক দিনের দক্ষিণ চীন থেকে এসেছেন বলে মনে করা হয়। ২৩৯ সালে একজন চীনা সম্রাট এই অঞ্চলটি অন্বেষণ করার জন্য একটি অভিযাত্রী বাহিনী প্রেরণ করেন। আর এই সত্য ইতিহাসটিই বেইজিং তার জোরালো দাবিকে সমর্থন করতে ব্যবহার করে থাকে। তবে ১৬২৪ সাল থেকে ১৬৬১ সাল পর্যন্ত ডাচ উপনিবেশ বজায় ছিল তাইওয়ান অঞ্চলে। এরপর, ১৬৮৩ সাল থেকে ১৮৯৫ সাল পর্যন্ত চীনের কিং রাজবংশ অঞ্চলটি শাসন করতো। ১৭ শতক থেকে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চীনা অভিবাসী তাইওয়ানে পাড়ি জমাতে থাকেন। ভাবা হয় চীনা সাম্রাজ্যের অশান্তি ও কষ্ট থেকে বাঁচতে তারা এই কাজটি করতেন। তাদের বেশিরভাগই ফুজিয়ান (ফুকিয়েন) প্রদেশের হোকলো চাইনিজ বা হাক্কা চাইনিজ জনগোষ্ঠী। গুয়াংডংয়ে তাদের আদিনিবাস। আর ওই প্রাচীন লোকেদের বংশধররা এখন পর্যন্ত তাইওয়ান অঞ্চলের বৃহত্তম গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৭ শতক থেকে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চীনা অভিবাসী তাইওয়ানে পাড়ি জমাতে থাকেন। ভাবা হয় চীনা সাম্রাজ্যের অশান্তি ও কষ্ট থেকে বাঁচতে তারা এই কাজটি করতেন।
ছবি: বিবিসি
ছবি: বিবিসি
১৮৯৫ সালে, প্রথম চীন-জাপান যুদ্ধে জাপান জয়লাভ করলে শর্ত হিসেবে কিং সরকার তাইওয়ানকে জাপানের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, জাপান আত্মসমর্পণ করে এবং চীনের কাছ থেকে নেয়া ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ ফিরিূে দেয়। এরপর রিপাবলিক অফ চায়না (আরওসি) যুদ্ধে বিজয়ীদের মধ্যে এক পক্ষ হিসেবে তার মিত্র, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের সম্মতিতে ফের তাইওয়ানের শাসন শুরু করে। কিন্তু পরের বছরগুলোতে চীনে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে তৎকালীন নেতা চিয়াং কাই-শেকের সৈন্যরা মাও সেতুং-এর কমিউনিস্ট সেনাবাহিনীর কাছে পরাজিত হয়। 
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
১৯৪৯ সালে, চিয়াং তার কুওমিনতাং (কেএমটি) সরকারের অবশিষ্টাংশ এবং ১৫ লাখ লোক নিয়ে তাইওয়ানে গা ঢাকেন। সেই থেকে মেইনল্যান্ড চাইনিজ নামে পরিচিত এই দলটি বহু বছর যাবত তাইওয়ানের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে।
১৯৪৯ সালে চিয়াং তার কুওমিনতাং (কেএমটি) সরকারের অবশিষ্টাংশ এবং ১৫ লাখ লোক নিয়ে তাইওয়ানে গা ঢাকেন। সেই থেকে মেইনল্যান্ড চাইনিজ নামে পরিচিত এই দলটি বহু বছর যাবত তাইওয়ানের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। যদিও তারা ওই অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১৪ শতাংশ। চিয়াং তাইওয়ানে গিয়ে একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করেন যার প্রধান হিসেবে তিনি পরবর্তী ২৫ বছর নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে চিয়াং-এর ছেলে চিয়াং চিং-কুও ক্ষমতায় আসার পর আরও গণতন্ত্রীকরণ শুরু হয় তাইওয়ানে। তার শাসনে বিরক্ত হয়ে স্থানীয় জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এতে করে তাইওয়ানের ক্রমবর্ধমান গণতন্ত্র আন্দোলন চাপে পড়ে। তাইওয়ানের 'গণতন্ত্রের জনক' হিসেবে পরিচিত প্রেসিডেন্ট লি তেং-হুই সাংবিধানিক পরিবর্তনের দিকে জোর দেন। এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কারণে ২০০০ সালে প্রথম নন-কেএমটি প্রেসিডেন্ট হিসেবে চেন শুই-বিয়ান নির্বাচনে জয়লাভ করেন। 
তাইওয়ান নিয়ে মতবিরোধ
তাইওয়ান মূলত কী তা নিয়ে ব্যাপক মতবিরোধ রয়েছে। এটির নিজস্ব সংবিধান, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতা রয়েছে। এছাড়াও তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনীতে প্রায় ৩ লাখ সক্রিয় সৈন্য রয়েছে। ৭ দশক আগেকার নির্বাসিত চিয়াং-এর সরকার প্রথমে সমগ্র চীনের প্রতিনিধিত্ব করতে চেয়েছেন। এটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে চীনের সঙ্গে আসন অধিষ্ঠিত করে এবং অনেক পশ্চিমা দেশ দ্বারা একমাত্র চীনা সরকারের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। 
ছবি: বিবিসি
ছবি: বিবিসি
১৯৭৮ সালে, চীন তাইওয়ানের সাথে তার অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরের বছর বাণিজ্যের সুযোগ এবং সম্পর্ক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে বেইজিংয়ের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
কিন্তু ১৯৭০-এর দশকে কিছু দেশ আপত্তি জানায়, যে তাইপেই সরকারকে আর চীনের মূল ভূখণ্ডে বসবাসকারী কয়েক মিলিয়ন মানুষের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এরপর ১৯৭১ সালে, জাতিসংঘ বেইজিংকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেয় এবং আরওসি সরকারকে জোরপূর্বক ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপর ১৯৭৮ সালে, চীন তাইওয়ানের সাথে তার অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরের বছর বাণিজ্যের সুযোগ এবং সম্পর্ক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে বেইজিংয়ের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। তারপর থেকে কূটনৈতিকভাবে আরওসি সরকারকে স্বীকৃতি দেয় এমন দেশের সংখ্যা প্রায় ১৫-এ নামে। যাইহোক, বর্তমানে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সমস্ত বৈশিষ্ট্য থাকা সত্ত্বেও, একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা যা চীন থেকে স্বতন্ত্র। এতকিছুর পরেও তাইওয়ানের আইনি অবস্থান অস্পষ্ট রয়ে গেছে। 
তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক
১৯৮০-এর দশকে সম্পর্ক উন্নতি হওয়ায় চীন সফর এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করে তাইওয়ান। ১৯৯১ সালে এক ঘোষণার মধ্যদিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সাথে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটায়। চীন তথাকথিত 'এক দেশ, দুই নীতি' প্রস্তাব করে তাইওয়ানকে তাৎপর্যপূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের অনুমতি দেয়ার কথা জানায়। এতে প্রাথমিক শর্ত থাকে তাইওয়নাকে অবশ্যই বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণে আসতে হবে। এই একই নীতিতে ১৯৯৭ সালে চীন হংকংয়ে প্রবর্তনের প্রস্তাব দেয়। তাইওয়ান শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। তাইওয়ান বেইজিংয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তাইওয়ানের সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করে চীন।
১৯৯১ সালে এক ঘোষণার মধ্যদিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সাথে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটায়। চীন তথাকথিত 'এক দেশ, দুই নীতি' প্রস্তাব করে তাইওয়ানকে তাৎপর্যপূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের অনুমতি দেয়ার কথা জানায়।
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
২০০০ সালে, তাইওয়ান চেন শুই-বিয়ান তাইওয়ানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তিনি চীনের ঘোর বিরোধী ছিলেন। নতুন রাষ্ট্রপতি চেন এবং তার দল ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) প্রকাশ্যে তাইওয়নাকে 'স্বাধীনতা' বলে সমর্থন করেছিলেন। এরপর ২০০৪ সালে তিনি পুনঃনির্বাচিত হওয়ার বছরখানেক পর, চীন একটি তথাকথিত বিচ্ছিন্নতা বিরোধী আইন পাস করে। ওই আইন অনুসারে চীন থেকে 'বিচ্ছিন্ন' হওয়ার চেষ্টা করলে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার চীনের রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ২০০৮ সালে মা ইং-জিউ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন যিনি অর্থনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টা করেছিলেন।
২০০৪ সালে তিনি পুনঃনির্বাচিত হওয়ার বছরখানেক পর, চীন একটি তথাকথিত বিচ্ছিন্নতা বিরোধী আইন পাস করে। ওই আইন অনুসারে চীন থেকে 'বিচ্ছিন্ন' হওয়ার চেষ্টা করলে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার চীনের রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
 সাই ইং-ওয়েন, বিবিসি
সাই ইং-ওয়েন, বিবিসি
এর আট বছর পর, ২০১৬ সালে তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন তার স্থলাভিষিক্ত হন। স্বাধীনতাকামী তাইওয়ানের রাজনৈতিক দল ডিপিপি-এর নেতৃত্ব দেন তিনি। তিনি বেশকিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন যা বেশ সুনাম কুড়োয়। সাই ইং-ওয়েন ২০১৮ সালে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুঁশিয়ারি দেন। চীন বিরোধী মতবাদের জন্য ২০২০ সালে রেকর্ড ৮.২ বিলিয়ন ভোট পেয়ে ফের নির্বাচিত হন তিনি।
তাইওয়ানের স্বাধীনতা সমস্যা
বর্তমানে রাজনৈতিক অগ্রগতি একেবারে না হলেও, বেইজিং এবং তাইপেইর মধ্যে অর্থনীতির সংযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাইওয়ানের সরকারী পরিসংখ্যান অনুসারে ১৯৯১ থেকে ২০২১ সালের মে মাস পর্যন্ত চীনে তাইওয়ানের প্রায় ২০০ বিলিয়ন বিনিয়োগ রয়েছে। তাইওয়ানের অনেক মানুষ উদ্বিগ্ন এই ভেবে, যে তাদের অর্থনীতি এখন চীনের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। অনেক তাইওয়ানের নাগরিক বিশ্বাস করেন, ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে সেখানে চীনের সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা কম। কারণ চীন বরাবরই যুদ্ধ, ভোগ দখল থেকেও অর্থনৈতিক উন্নতির বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দেয়।
ছবি: বিবিসি
ছবি: বিবিসি
২০২২ সালের জুনের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে মাত্র ৫.২ শতাংশ তাইওয়ানি যতো দ্রুত সম্ভব স্বাধীনতা চান। অন্যদিকে চীনের সাথে ফের এক হওয়ার পক্ষে ১.৩ শতাংশ নাগরিক। এই হিসাবের বাইরের নাগরিকরা স্থিতাবস্থা বজায় রাখার কিছু রূপকে সমর্থন করেন।
চীন-তাইওয়ানের একটি বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তি ২০১৪ সালে 'সূর্যমুখী আন্দোলন' রচনা করে। ওই আন্দোলনে ছাত্র এবং কর্মীরা তাইওয়ানের পার্লামেন্ট দখল করেছিল যাকে তারা তাইওয়ানের উপর চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বলে প্রতিবাদ করে। ক্ষমতাসীন ডিপিপি এখনও তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার পক্ষে, যখন অন্য দল কেএমটি চীনের সাথে চূড়ান্ত একীকরণের পক্ষে। ২০২২ সালের জুনের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে মাত্র ৫.২ শতাংশ তাইওয়ানি যতো দ্রুত সম্ভব স্বাধীনতা চান। অন্যদিকে চীনের সাথে ফের এক হওয়ার পক্ষে ১.৩ শতাংশ নাগরিক। এই হিসাবের বাইরের নাগরিকরা স্থিতাবস্থা বজায় রাখার কিছু রূপকে সমর্থন করেন। তাইওয়ানের বৃহত্তম গোষ্ঠী স্বাধীনতা বা একীকরণের দিকে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য চলমান পরিস্থিতি বজায় রাখতে চান।
চীন-তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ
ওয়াশিংটনের দীর্ঘস্থায়ী নীতিটি কৌশলগত অস্পষ্টতার মধ্যে একটি। তারা মনে করে, যে চীন যদি তাইওয়ানে আক্রমণ করে তবে ওয়াশিংটন সামরিক হস্তক্ষেপ করবে। মূলত এটি চীনের 'এক-চীন নীতি'র বিরোধিতা ব্যতীত কিছুই নয়। যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে চীনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে তাইপেইয়ের পরিবর্তে বেইজিংয়ের সাথে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তবে এটি তাইওয়ানকে সরাসরি প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং জোর দিয়ে জানিয়েছে চীনের যে কোনো আক্রমণে পাশে থাকবে।
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
ওই অঞ্চলে মার্কিন নীতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউস জানায়, তাইওয়ানের বিষয়ে মার্কিন অবস্থান পরিবর্তন হয়নি এবং 'এক-চীন নীতির' বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি আগের মতোই রয়েছে। যদিও এসব তাইওয়ানের জন্য সামরিক সমর্থনের বিষয়ে বাইডেনের পূর্ববর্তী বিবৃতিগুলোর বিপরীত।
২০২২ সালের মে মাসে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে সামরিকভাবে রক্ষা করবে কিনা জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন ইতিবাচকভাবে উত্তর দিয়েছিলেন। ওই অঞ্চলে মার্কিন নীতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউস জানায়, তাইওয়ানের বিষয়ে মার্কিন অবস্থান পরিবর্তন হয়নি এবং 'এক-চীন নীতির' বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি আগের মতোই রয়েছে। যদিও এসব তাইওয়ানের জন্য সামরিক সমর্থনের বিষয়ে বাইডেনের পূর্ববর্তী বিবৃতিগুলোর বিপরীত। তাইওয়ান ইস্যুতেও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বেইজিং শুরু থেকেই তাইপেইয়ের জন্য ওয়াশিংটনের কাছ থেকে যে কোনো সমর্থনের নিন্দা জানিয়ে আসছে। ডেমোক্রেটরা ক্ষমতায় আসার পর থেকে ঘুমন্ত তাইওয়ান ইস্যুকে ফের জাগ্রত করা হয়। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক কৌশল বলা চলে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
চীনতাইওয়ান
আরো পড়ুন