Link copied.
বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতি ও ব্যবসায় চিহ্নিত হয়েছে যে শীর্ষ ১০ ঝুঁকি!
cover
“ঝুঁকি” ব্যবসার অন্যতম আলোচনার বিষয়, ব্যবসায় জড়িত বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিগুলির কারণে প্রায়শই ব্যবসা পরিচালনা করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। উদ্যোক্তাদের কখনও কখনও পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে দক্ষতা এবং বিচক্ষণতার সাথে ঝুঁকি মোকাবেলা করতে হয়। ব্যবসা বড় বা ছোট যাই হোক সবাইকেই ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়। কেউ যখন কোনও ব্যবসার জন্য পরিকল্পনা করেন তখন থেকেই ঝুঁকি শুরু হয়। ব্যবসার আয়ের গতি কমে যাওয়ার একটা প্রধান কারণ হল অনেক উদ্যোক্তা ঝুঁকি নিতে অতিরিক্ত ভয় পান। ব্যবসা একটা স্থিতিশীল জায়গায় এসে পড়ার পর তাঁরা আর নতুন করে কিছু চেষ্টা করতে চান না। কারণ তাঁরা ভয় পান ব্যবসার বর্তমান লাভজনক অবস্থা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কোনো ব্যবসা সফল হলে সেটির বিস্তার করা মালিকের কর্তব্য এজন্য যদি নতুন শাখা খুলতে চান তিনি, তবে তাকে বেশ কিছু টাকা খরচ করতে হবে। সেইসাথে বর্তমান ব্যবসায় দেয়া সময়ের বেশ কিছুটা সেখানে বরাদ্দ করতে হবে। তাছাড়া নতুন কর্মচারী নিয়োগ, মার্কেটিং ইত্যাদি বেশ কিছু কাজ করতে হবে। এরপরও ১০০ ভাগ নিশ্চয়তা নেই যে নতুন ব্যবসায় তিনি পুরোনোটার মতই লাভবান হবেন। আবার অনেকেই সম্পূর্ণ নতুন ধরণের ব্যবসার দিকে ঝুঁকে পড়েন।


cover
একজন সত্যিকার সফল উদ্যোক্তা সব সময় নিজের ব্যবসার প্রসার বাড়াতে চান। আর এজন্য হিসাব করে ঝুঁকি নেন। পে পাল এর আরেক প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের কথাই ধরা যাক, পে পাল দিয়ে আর্থিক লেনদেনের চেহারা পাল্টে দেয়ার পর তিনি কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেননি। টেসলা, স্পেস এক্স একে একে অনেক ব্যবসার দিকে হাত বাড়িয়েছেন তিনি। একারণেই বিশ্বের সেরা উদ্যোক্তাদের একজন হতে পেরেছেন মাস্ক।

সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে শীর্ষ ১০টি ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি দেশের জন্য আলাদাভাবে শীর্ষ পাঁচটি ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। মূলত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এসব ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য শীর্ষ পাঁচটি ঝুঁকি হচ্ছে:

  1. জ্বালানির দামজনিত অভিঘাত
  2. সুশাসনজনিত ব্যর্থতা
  3. বেকারত্ব বা কর্মসংস্থানের অভাব
  4. আর্থিক খাতের ব্যর্থতা
  5. নগর-পরিকল্পনার ব্যর্থতা।

অর্থনীতি ও ব্যবসায় খাতে ৩৫০ জন ঝুঁকি বিশ্লেষকের মতামত নিয়ে ডব্লিউইএফ সমীক্ষা করেছে, এতে দুই-তৃতীয়াংশ বিশ্লেষক জানান, অর্থনৈতিক মন্দাবস্থাই হবে আগামী দেড় বছরের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। অথচ করোনার আগে ডব্লিউইএফের এ–সংক্রান্ত আরেকটি জরিপে বলা হয়েছিল, বিভিন্ন দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সংঘাতই ২০২০ সালের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। তাতে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যযুদ্ধকেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণ ও জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ শীর্ষ ঝুঁকির তালিকায় ছিল। 
অর্থনীতি ও ব্যবসায় খাতে ৩৫০ জন ঝুঁকি বিশ্লেষকের মতামত নিয়ে ডব্লিউইএফ সমীক্ষা করেছে, এতে দুই-তৃতীয়াংশ বিশ্লেষক জানান, অর্থনৈতিক মন্দাবস্থাই হবে আগামী দেড় বছরের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
cover
ঝুঁকির বিন্যাস ও প্রশমন করার উপায়

অর্থনীতিবিদগণ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরণের ঝুঁকির প্রকারভেদ উল্লেখ করেন। তবে ব্যবসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে অর্থনৈতিকভাবে সাস্টেইনিবিলিটি রক্ষা করা, নাহলে ঝুঁকির সবচেয়ে বেশি আশংকা থাকে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এমন কিছু ঝুঁকি আছে, যেগুলো সবার ওপর বর্তায়। এ ক্ষেত্রে ঝুঁকি এককভাবে কোনো বিনিয়োগকারীর ওপর পড়ে না। এ ধরনের ঝুঁকি পদ্ধতিগত ঝুঁকি। এ ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে মুদ্রাস্ফীতিজনিত বা ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো ঝুঁকি। আবার আরেকটি রয়েছে সুদহার। এ ধরনের ঝুঁকি সব বিনিয়োগকারীর ওপর আসে। অন্যদিকে কিছু ঝুঁকি আছে যেগুলো বিনিয়োগকারীরা একটু সতর্ক হলে রেহাই পাবেন। এ ধরনের ঝুঁকিকে অপদ্ধতিগত ঝুঁকিও বলা হয়ে থাকে। এ ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ব্যবসায় ঝুঁকি, আর্থিক ঝুঁকি, তারল্য ঝুঁকি, পুনর্বিন্যাস ঝুঁকি ও বাজার ঝুঁকি।

  • প্রথমত, একজন বিনিয়োগকারী অনিশ্চয়তার কারণে মুদ্রাস্ফীতিজনিত বা ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এ ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন হন। মুদ্রাস্ফীতির ফলে বিনিয়োগকারীর ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। দেখা যায়, বিনিয়োগকারী আগের অর্থ দিয়ে একই পরিমাণ পণ্য কিনতে পারবেন না। এতে তার মুনাফা ও লভ্যাংশ কম পাবেন।
  • দ্বিতীয়ত, বাজারে সুদের হার পরিবর্তন হলে সুদের হারসংক্রান্ত ঝুঁকি তৈরি হয়। সুদের হার কমে গেলে বিনিয়োগ থেকে লাভের পরিমাণ কমে যায়। আর বাড়লে বিনিয়োগ থেকে লাভের পরিমাণ বেড়ে যায়। সুদের হার পরিবর্তিত হলে বিনিয়োগের বাজারমূল্য পরিবর্তিত হয়। যদি কোনো বিনিয়োগের বাজারমূল্য সুদের হারের ফাংশন হয়, তবে ওই বিনিয়োগ থেকে মুনাফা পাওয়া ক্ষেত্রে অনিশ্চিয়তার সৃষ্টি হয়।
  • তৃতীয়ত, অনিশ্চিত ব্যবসায়িক পরিবেশের কারণে বিনিয়োগ থেকে মুনাফার অনিশ্চয়তাকে ব্যবসায়িক ঝুঁকি বলে। ব্যবসায়িক ঝুঁকি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার ভুল সিদ্ধান্ত বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব, অদক্ষতা, দেশীয় মুদ্রার বিনিময় মূল্যের প্রতিকূল পরিবর্তন, নতুন প্রতিযোগিতর আবির্ভাব ইত্যাদি কারণেও বৃদ্ধি পেতে পারে। ব্যবসায়িক ঝুঁকি পরিহারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ না করে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ করা যেতে পারে।
cover
  • চতুর্থত, কোনো প্রতিষ্ঠান তার আর্থিক দায়গুলো পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানটি তার শেয়ার মালিকদের লভ্যাংশ দিতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বিনিয়োগ থেকে ফেরত পাওয়ার এই অনিশ্চয়তাকে আর্থিক ঝুঁকি বলে। যে প্রতিষ্ঠানে ঋণের পরিমাণ বেশি, সুদের শর্ত কঠিন, সুদের হার বেশি সে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ঝুঁকি তত বেশি। এ ক্ষেত্রে আর্থিক ঝুঁকি পরিহারের উপায় এমন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা, যাদের মূলধন কাঠামোয় ঋণ-মূলধনের অনুপাত কম। প্রতিষ্ঠান যত কম ঋণ নেবে, তার আর্থিক ঝুঁকির পরিামণ তত কম। আবার প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য বা প্রদত্ত সেবার প্রকৃতির ওপরও বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নির্ভর করে। আর্থিক ঝুঁকি পরিহারের আরেকটি উাপায় হচ্ছে স্বল্পমেয়াদের জন্য বিনিয়োগ। উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের শীর্ষ ই-কমার্স ই-ভ্যালির পতন উল্লেখ করা যেতে পারে। তাদের ঋণ-মূলধনের অনুপাত এতই বেশি যে, কোনো বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানই তাদের উপর বিনিয়োগ করতে রাজি হয় নি। ফলস্বরূপ তাদের কোম্পানি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর ছয় মাসও টিকতে পারে নি।
  • পঞ্চমত, তারল্য ঝুঁকি। অর্থাৎ বিনিয়োগ বিক্রয় করা না গেলে যে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয় তাকে তারল্য ঝুঁকি বলে। যেকোনো সম্পত্তিই বিক্রয় করা যায়। সম্পত্তির চলতি বাজারমূল্য থেকে কিছু বাট্টা দিতে হয়। তবে বাট্টা দেওয়ার অনিশ্চয়তাও রয়েছে। সম্পত্তি বিক্রি করতে হলে যত বাট্টা দিতে হবে, তারল্য ঝুঁকি তত বেশি। বাজারের প্রকৃতির ওপর তারল্য ঝুঁকি নির্ভর করে। বাজার নিষ্ক্রিয় হলে সে ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি বেড়ে যায়। বাজার নিষ্ক্রিয় হওয়ার পেছনের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যোগাযোগের অভাব, ক্রেতা ও বিক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়া, সম্পত্তি নতুন ধরনের হওয়া। যেসব সম্পত্তির সক্রিয় বাজার আছে, সেসব সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করে তারল্য ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।
  • ষষ্ঠ পয়েন্টে উল্লেখ করা যায় যে মূল বিনিয়োগ থেকে যে হারে আয় পাওয়া যায়, প্রাপ্ত আয় যদি একই হারে বা তার চেয়ে বেশি মুনাফার হারে বিনিয়োগ করা না হয় তাহলে পুনর্বিনিয়োগে ঝুঁকি তৈরি হয়। যেসব বিনিয়োগ থেকে পুনর্বিনিয়োগের জন্য নগদ প্রবাহ পাওয়া যায় না, সেসব বিনিয়োগের পুনর্বিনিয়োগ ঝুঁকি নেই। যে বিনিয়োগ চলতি সময়ে অর্থ পাওয়া যায় না, সেসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করলে পুনর্বিনিয়োগ ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। অন্যদিকে স্থাবর সম্পত্তি দীর্ঘমেয়াদি সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করলেও পুনর্বিনিয়োগ ঝুঁকি কমানো যায়। 
cover
উদ্যোক্তাগণ ঝুঁকি মোকাবেলা করতে সক্ষম হবেন যদি নিচের কারণগুলি সম্পর্কে ভাল ধারনা রাখেন। নীচে বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আলোচিত দশটি ঝুঁকি বা চেলেঞ্জের বিষয় রয়েছে যার সাথে প্রতিটি উদ্যোক্তাকে মুখোমুখি হতে হয়;

প্রতিযোগী ঝুঁকি

প্রতিযোগিতা ব্যবসার অন্যতম একটি ঝুঁকি। একচেটিয়াভাবে যারা বাজার দখল করে আছে বা ইতিমধ্যে যার ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত , নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে একজনকে তাদের সাথে প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতেই হবে।এই ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য সঠিক SWOT (Strengths, Weaknesses, Opportunities, and Threats) বিশ্লেষণ চালানো উচিত এবং প্রতিযোগিতার আক্রমণগুলি মোকাবেলা করার কৌশলগুলি রপ্ত করা উচিত।

প্রযুক্তিগত ঝুঁকি

প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তনশীল । পরিবর্তিত সময়ের জন্য প্রত্যেক ব্যবসাকেই প্রযুক্তিগত ঝুঁকি মোকাবেলা করতে হয়। ভবিষ্যৎকে সঠিকভাবে হিসাব করা উদ্যোক্তাদের পক্ষে সব সময়ই সহজ নয়। তাই শুধু আজকের জন্য পরিকল্পনা নয়, আগামীকালের নতুন প্রযুক্তির জন্যও একজনকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

রাজনৈতিক এবং আইনি ঝুঁকি

সবক্ষেত্রেই এই ঝুঁকি বিদ্যমান কিন্তু বিশেষ করে ব্যবসার ক্ষেত্রে এটি প্রায়শই অনিশ্চিত পরিবেশে তৈরি করে। হঠাৎ করেই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা আইন/ বিধান পরিবর্তন ব্যবসাকে বড় ধরনের ঝুঁকির সামনে ফেলে দেয়। বহুজাতিক ব্যবসায় এই ঝুঁকির মাত্রা সবচেয়ে বেশি কারন প্রতিটি দেশে তাদের ব্যবসা আছে । এই বিষয়ের সঠিক সমাধানের জন্য ব্যবসায়ীদের নমনীয় নীতিমালা থাকা উচিত যাতে সরকার তার কোনও নীতি পরিবর্তন করলেই পরিবর্তনগুলি অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

অর্থনৈতিক ঝুঁকি

এই ধরনের ঝুঁকিটির একটি ভাল উদাহরণ হল সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক মন্দা যা বিশ্বব্যাপী দেখা গিয়েছিল। এই ঝুঁকিটি একটি চক্রের মত যা উচ্চ সমৃদ্ধি- মন্দার সময়কাল ও বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে। সঠিকভাবে এর পূর্বাভাস পাওয়া যাবে না কিন্তু প্রাথমিক পরিকল্পনার সময় এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

আর্থিক ঝুঁকি

আর্থিক ঝুঁকি যে কোন ব্যবসার একটি চলমান ঝুঁকি। সফলভাবে একটি ব্যবসা চালানোর জন্য উদ্যোক্তাদের একটি ভাল আর্থিক জ্ঞান থাকা জরুরি। অর্থের নগদ প্রবাহ পরিচালনা, চাহিদা এবং প্রয়োজন অনুসারে সরবরাহ করা সহ আর্থিক সকল সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে গ্রহণ করা নতুন উদ্যোক্তার জন্য বেশ চেলেঞ্জিং। বড় বা ছোট প্রতিটি সিদ্ধান্তই মুনাফা এবং একটি কোম্পানির আর্থিক অবস্থার উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখে তাই এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মচারী ঝুঁকি

একটি ব্যবসা সফল হওয়ার জন্য জনবল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে একটি। উদ্যোক্তাদের দায়িত্ব হচ্ছে একটি শক্তিশালী ব্যবস্থাপক টীম গড়ে তুলে দেয়া যারা কর্মীদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে। কোনও সংস্থা তার কর্মীদের সাহায্য ছাড়া তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারে না। কোনো গুরুত্বপূর্ণ কর্মীর পদত্যাগ বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ দিনে কর্মীদের কাজ না করার সিদ্ধান্ত ব্যবসার ক্ষেত্রে অনেক বড় ঝুঁকির ব্যাপার। কর্মচারী বেতন বৃদ্ধি, সন্তুষ্টি, নিম্ন আউটপুট বা প্রশিক্ষণ ইত্যাদি নানা বিষয় মাথায় রাখলে কর্মচারী ঝুঁকি কিছুটা হাতের নাগালে রাখা যায়।

কৌশলগত ঝুঁকি 

যে কোন কৌশল যে কোন কারনে ব্যর্থ হতে পারে। তাই ব্যবসায় কৌশল নির্ধারণ করতে হবে বিচক্ষণতার সাথে। উদ্যোক্তাদের দূরদর্শিতা থাকতে হবে যাতে তারা সঠিকভাবে পরিকল্পনা করতে পারে।

স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি

ব্যবসায়ীর দায়িত্ব হলো তার কর্মীদের সঠিক পরিবেশ সরবরাহ করা যাতে তাদের কোনও ধরণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি না হয়। যদি কোনও সংস্থা একটি নির্দিষ্ট গাইডলাইন অনুশীলন করতে ব্যর্থ হয় তবে এটি কোম্পানির জন্য আইনি ও ইমেজ সংকট তৈরি করতে পারে।

পরিবেশগত ঝুঁকি

পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকিই পরিবেশগত ঝুঁকি । এর অধীন সকল ঝুঁকি সবসময় নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। প্রাকৃতিক সম্পদের অভাব এই ঝুঁকির অন্যতম কারন।এই ঝুঁকি অতিক্রম করার সেরা বিকল্প হচ্ছে ব্যবসা শুরুর আগে সঠিক গবেষণা করা।

অপারেশনাল ঝুঁকি

প্রশাসনিক পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকি অপারেশনাল ঝুঁকি। পুরানো আইটি সিস্টেম, দুর্বল সাপ্লাই চেইন এবং অগোছালো রেকর্ড কিপিং অপারেশনাল ঝুঁকি তৈরি করে। এই সমস্যাগুলি কোম্পানির জন্য অনেক বড় বড় সমস্যা বয়ে আনে। এক্ষেত্রে রিস্ক ফ্যাক্টরটি কমিয়ে আনার জন্য ব্যবসার সবকিছুতে নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
cover
বাংলাদেশের জন্য চিহ্নিত ব্যবসায়িক ঝুঁকিসমূহ

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিকস ফোরাম (ডব্লিও ই এফ) কিছু দিন পূর্বে বৈশ্বিক ঝুঁকি প্রতিবেদন ফান্ড শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহে ঝুঁকিসমূহ চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহে ব্যবসা-বাণিজ্যে ৫টি ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। এই পাঁচটি ঝুঁকির শতকরা হার প্রকাশ করে দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদনের মূল ভাষ্য হলো, সুশাসনের অভাবই দক্ষিণ এশিয়ায় ব্যবসা করার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। এ ছাড়া জ্বালানি প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা, বেকারত্ব, আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, জলবায়ুগত পরিবর্তন মোকাবেলায় ব্যর্থতা ও সক্ষমতার অভাবও এই অঞ্চলে ব্যবসা করার অন্যতম অর্থনৈতিক ঝুঁকি।

প্রতিবেদনে উল্লেখিত পাঁচ ঝুঁকি

জ্বালানি দামের অভিঘাত ৬৭%, রাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থার ব্যর্থতা ৬৭%, আর্থিক খাতের সঙ্কট ৫০%, বেকারত্ব/আশিংক বেকারত্ব ৫০% ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ব্যর্থতা ৫০%। আগামী ১০ বছরের জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ের সর্বোচ্চ ৫ ঝুঁকির বিষয় : সুপেয় পানির সংকট ৩৯.৮%, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ব্যর্থতা ৩৬.৭%, ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ২৬.৫%, খাদ্য সংকট ২৫.২%, গভীর সামাজিক অস্থিরতা ২৩.৩%।

ব্যবসা করার ঝুঁকি একেক দেশে একেক রকম। এর মধ্যে জরিপে বাংলাদেশের নির্বাহীরা বলেছেন, ব্যবসা করার জন্য এ মুহূর্তে তাদের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো সুশাসনের অভাব। সুশাসনের অভাব বলতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা ও অচলাবস্থা এবং সর্বগ্রাসী দুর্নীতিকে বুঝিয়েছেন মতামত প্রদানকারীরা। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ঝুঁকির বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ ক্ষেত্রে সুশাসনের অভাবের পাশাপাশি জ্বালানি খাতের অনিশ্চয়তাকে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ঝুঁকির প্রসঙ্গে গবেষণা সংস্থা সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেকে এখন সুশাসনজনিত সমস্যা পাশ কাটিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছেন। এর সঙ্গে দেশের উৎপাদনশীল খাত বড় হচ্ছে। সে কারণেই সম্ভবত তাঁদের কাছে জ্বালানির দামই প্রধান ঝুঁকি, সুশাসন নয়। দেশে এখন অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। ফলে সুলভে ও সহজে বিদ্যুৎসহ অন্যান্য জ্বালানির নিশ্চয়তা দিতে হবে। জরিপটি করার সময় দেশে এলএনজির ব্যবহার শুরু হয়নি। এলএনজি আমাদের জ্বালানি সমস্যার সমাধান অনেকটাই দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, সব খাতের জন্য ঝুঁকি এক রকম হবে না। তৈরি পোশাক বা উৎপাদনশীল খাতের ঝুঁকি আর ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের ঝুঁকি এক রকম হবে না। তবে পরিশেষে এটি বলা যায় যে ব্যবসার একটি নির্দিষ্ট অবকাঠামো বিদ্যমান থাকলে এবং পরিমিত শ্রম ও মেধা, কৌশল নিয়ে কাজ করলে ব্যবসার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। 

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021