Link copied.
ম্যারাথন দৌড়ের ইতিকথা
writer
অনুসরণকারী
cover
৪৯০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ। গ্রীসের এথেন্সে উৎকণ্ঠিত নারী পুরুষেরা। অনতিদূরে ম্যারাথনের ময়দানে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে তাদের সেনারা। প্রতিপক্ষ পারস্যের একিমিনিড বংশের মহাশক্তিশালী সম্রাট দারিয়ুস দ্য গ্রেট। পারস্যের জয় মানে এথেন্স তথা গ্রীসের স্বাধীন নগর রাষ্ট্রগুলির দাসত্ববরণ। এথেন্সের পতনের সাথে সাথে সমাপ্ত হয়ে যাবে এর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও, যা ফুল হয়ে ফুটতে এখনো অনেক দেরি।

হঠাৎ করে নগরবাসির চোখ আটকে গেল ধুলোর মেঘ উড়িয়ে ছুটে আসতে থাকা এক অবয়বের দিকে। এ ছিল গ্রিক এক সৈনিক। নগরে প্রবেশ করেই চড়া গোলায় সে ঘোষণা করল, “নিকি” (victory / বিজয়ের দেবী Nike থেকে উৎপত্তি)! আনন্দে মেতে উঠল এথেন্সবাসী। কিন্তু সুসংবাদ বয়ে নিয়ে আসা সৈনিক ক্লান্তিতে দ্রুতই ঢলে পড়ল মৃত্যুমুখে। ম্যারাথন থেকে এথেন্সে দৌড়ে সংবাদ বহন করে নিয়ে আসার এই কীর্তি স্মরণেই সৃষ্টি হয় ম্যারাথনের নামে মর্যাদাপূর্ণ এক দৌড় প্রতিযোগিতার।

পেছনের কথা: ব্যাটল অফ ম্যারাথন

ম্যারাথনের গল্প জানতে চলুন ফিরে যাই খ্রিষ্টের জন্মেরও প্রায় পাঁচশ বছর আগে। পারস্যের সিংহাসনে তখন মহা প্রতাপশালী সম্রাট দারিয়ুস। সাইরাস দ্য গ্রেটের বিজিত এশিয়া মাইনরের আয়োনিয়ান রাজ্যগুলি ছিল পারস্যের নিয়ন্ত্রণে। এই আয়োনিয়ানরা এককালে গ্রীস থেকে এশিয়া মাইনরে অভিবাসন করে, তাই গ্রীক সভ্যতা ও সংস্কৃতির সাথে তাদের নিবিড় যোগাযোগ ছিল। গ্রীসের মূল ভুখন্ডও তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল। কাজেই আয়োনিয়ানরা পারস্যের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার দাবিতে বিদ্রোহ করলে তাদের প্রতি গ্রীসের সহানুভূতি ছিল স্বাভাবিক ব্যাপার। দারিয়ুস কিন্তু এতে অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হলেন। ৪৯৩ খ্রিষ্টপূর্ব মোতাবেক আয়োনিয়ানদের চূড়ান্ত ব্যবস্থা করে তিনি মনযোগ দিলেন গ্রীসের দিকে। তার চোখে প্রধান শত্রু এথেন্সের নগর রাষ্ট্র, যাকে অনেক গ্রীকই তাদের নেতা হিসেবে বিবেচনা করে।

৩০০০০ (মতান্তরে ৬০০০) সেনা, অশ্বারোহী আর ৬০০ জাহাজ নিয়ে হিপিয়াস, ড্যাটিস আর আর্টাফার্নেস এসে পৌঁছলেন গ্রীসের অ্যাটিকা উপকূলে। এখানে এরেট্রিয়া নামে একটি গ্রীক নগর রাষ্ট্রের পতন ঘটে তাদের হাতে। বেশ কিছু নগরী বিশ্বাসঘাতকতা করে পারস্যের পক্ষে যোগ দিল। ড্যাটিস এরপর এথেন্সকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করলেন। এথেন্সের উত্তরপূর্বে ম্যারাথনের খোলা প্রান্তরের সামনে জাহাজ নোঙ্গর করল তার সেনারা। ড্যাটিসের উদ্দেশ্য আগুয়ান এথেনিয়ান বাহিনীকে এখানেই নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে এরপর উপকূল ঘুরে সাগরপথে দক্ষিণ দিক থেক এথেন্স নগরী আক্রমণ করা। শহরে থাকা বিশ্বাসঘাতকেরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ড্যাটিসের জন্য তারা নগরফটক উন্মুক্ত করে দেবে।  

শহরের এত কাছে শত্রুদের ঘাঁটির কথায় এথেন্স তখন আতঙ্কিত। তাড়াহুড়ো করে ১০০০০ সৈন্যের বাহিনী একত্রিত করা হল। ১০০০ করে দশটি ভাগ করে প্রতি ভাগের ভার দেয়া হল একজন করে জেনারেলকে, যাদের একজন অভিজ্ঞ যোদ্ধা মিলতিয়াদেস। সামরিক বাহিনীর সাথে বেসামরিক সরকারের যোগাযোগ বজায় রাখছিলেন ক্যালিমেকাস নামে এক কর্মকর্তা।

ছোট্ট শহর প্ল্যাটেয়া ১০০০ সৈনিক পাঠিয়েছিল সাহায্য করতে। কিন্তু গ্রীসের আর কোন রাষ্ট্রই এথেন্সের কাঁধে কাঁধ মেলানোর গরজ দেখাল না। অগাস্টের ৫/৬ তারিখের দিকে এথেনিয়ান বাহিনী ম্যারাথনের দিকে রওনা দিল। হেরোডেটাস বর্ণনা করেন যে, এর দিনকয়েক আগেই এথেন্স গ্রিসের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র স্পার্টার কাছে সহায়তা চেয়ে ফিডিপ্পাইড (Pheidippides) নামে এক সৈনিককে প্রেরণ করে। লম্বা দূরত্বে দৌড়াতে পারার জন্য তার সুনাম ছিল। যদিও ঘোড়ায় চড়েও স্পার্টা যাওয়া যেত, তবে এথেন্স আর স্পার্টার মধ্যে যে পথ ছিল সংক্ষিপ্ততম তা অশ্বারোহীদের জন্য উপযুক্ত ছিলনা।

কিন্তু স্পার্টার লোকেরা তখন ধর্মীয় আচার পালনে ব্যস্ত। পূর্ণিমার আগে তারা রওনা দিয়ে পারবে না। ততদিনে অগাস্টের ১১/১২ তারিখ হয়ে যাবে। এরপর স্পার্টার ম্যারাথন অবধি পৌঁছতে লেগে যাবে আরো দশদিনের মত। ততদিনে লড়াইয়ের ফলাফল নির্ধারিত হয়ে যাবে। ফিডিপ্পাইড এই নিরাশ হয়ে দৌড়ে ফিরে এলেন। দশ দিন বা তার থেকে কম সময়ে প্রায় ২৮০ মাইল পরিভ্রমন করে ব্যর্থতার খবর নিয়ে এলেন ফিডিপ্পাইড।   

স্পার্টা সময়মত আসতে পারবে না জানার পর এথেনিয়ান বাহিনীতে তর্ক বিতর্ক শুরু হল। দশজন জেনারেল একজন একজন করে প্রতিদিন সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাদের অর্ধেক চাইলেন অপেক্ষা করতে, বাকিরা মত দিলেন আগ বেড়ে পার্সিয়ানদের উপর আক্রমণ করা হোক। ক্যালিমেকাসের হস্তক্ষেপে হামলার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হল। চারজন জেনারেল তাদের দলের ভার ছেড়ে দিলেন মিলতিয়াদেসের দিকে। তাকেই সবাই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিল প্রধান জেনারেল হিসেবে।   
cover
এথনিয়ানদের মূল সমস্যা ছিল পার্সিয়ান অশ্বারোহী। ম্যারাথনের খোলা ময়দানে তারা মিলতিয়াদেসকে সহজেই কচুকাটা করে ফেলার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু ড্যাটিস এইখানে একটা ভুল করে বসেন। তিনি জাহাজে করে অশ্বারোহীদের পাঠিয়ে দেন এথেন্সের দিকে। তার ধারণা ছিল দ্বিগুণেরও বেশি পদাতিক নিয়ে তিনি এথেন্সের সেনাদের সহজেই হারিয়ে দিতে পারবেন। মিলতিয়াদের যখন দেখলেন অশ্বারোহী দল পারস্যের ক্যাম্পে অনুপস্থিত তিনি তখন রণসজ্জা করলেন। বাহিনীর সেরা যোদ্ধাদের রাখা হল দুই পাশে, সেই তুলনায় গ্রীক মধ্যভাগ ইচ্ছা করেই তিনি দুর্বল রাখেন।

সারিবদ্ধ গ্রীক ফ্যালানক্স পাথুরে দেয়ালের মত পার্সিয়ানদের দিকে অগ্রসর হল। তাদের তীরন্দাজদের বৃষ্টির মত তীর উপেক্ষা করে পার্সিয়ান পদাতিকদের খুব কাছে চলে এল গ্রীকরা। এরপর সবাই একসাথে হুঙ্কার ছেড়ে ছুটে গেল শত্রুর দিকে। মিলতিয়াদের যেভাবে আশা করেছিলেন সেভাবেই ড্যাটিসের সেনারা গ্রীকদের দুর্বল মধ্যভাগ ভেদ করে ভেতরে ঢুকে পড়ল। কিন্তু পার্শ্বভাগে শক্তিশালী গ্রীক যোদ্ধারা ড্যাটিসের রণসজ্জার দুই পাশ ছিন্নভিন্ন করে ঘুরে গেল ভেতরের দিকে।

পাশ থেকে চাপা খেয়ে হতভম্ব পার্সিয়ান সেনারা ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড় লাগাল নিজেদের জাহাজ বরাবর, পেছন পেছন তারা করে গেল গ্রীকরা। তবে ড্যাটিস অধিকাংশ জাহাজ নিয়ে নিরাপদেই সরে যান, ফেলে যান ৬৫০০ হতাহত। অন্যদিকে এথেন্স আর প্লাটেয়ার ক্ষতি ছিল ২০০ থেকেও কম। ক্যালিমেকাস ছিলেন নিহতদের তালিকায়।    
cover
কিংবদন্তী বলে, ম্যারাথনের ময়দান থেকে ২৫ মাইল বা ৪০ কিলোমিটার দূরে এথেন্স শহরে বিজয়ের সংবাদ পৌঁছে দিয়ে এক সেনাকে পাঠানো হয়েছিল। এই ব্যক্তিকেও অনেকে হেরোডেটাসের বর্ণিত ফিডিপ্পাইডকে এই কাজেই পাঠানো হয়েছিল। তিনি সংবাদ পৌঁছে দিয়েই মারা যান।

ড্যাটিস এরপর এথেন্সের নিকটবর্তী সৈকতে অবতরণের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু গ্রীকরা আবার দৌড়ে তাকে পরাস্ত করে। পার্সিয়ান জাহাজের আগেই তারা সেখানে পৌঁছে যায়, ফলে কয়েকদিন অচলাবস্থা চলার পর ড্যাটিস সেখান থেকে সরে যান। এথেন্স নিয়ে দারিয়ুসের অভিলাষ সফল হলনা। তবে এই লড়াই বীজ বুনে দিয়ে গেল ভবিষ্যতের এক মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতার, ম্যারাথন। 

ম্যারাথন দৌড়ের সূত্রপাত

প্রাচীন অলিম্পিক গেমসের কিন্তু ম্যারাথনের জন্য আলাদা কোন প্রতিযোগিতা ছিলনা। ৭৭৬ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে শুরু করে এই আসর চলেছিল ৩৯৪ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট প্রথম থিওডোসিয়াস গেমস বন্ধ করে দেয়ার আগ পর্যন্ত। নতুন করে বিশ্বজুড়ে সৌহার্দ্য আর সম্প্রীতির বার্তা দিতে ফরাসী শিক্ষাবিদ আর ঐতিহাসিক পিয়েরে ডি কুবার্তিন আর গ্রীক ব্যবসায়ী দেমেট্রিওস ভিকেলাস ১৮৯৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি।

কুবার্তিনের বন্ধু মাইকেল ব্রিল ব্যাটল অফ ম্যারাথন নিয়ে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। ১৮৭৯ সালে ইংরেজ কবি রবার্ট ব্রাউনিং ফিডিপ্পাইডকে নিয়ে কবিতাও লিখেছিলেন। বন্ধুর দ্বারা কুবার্তিন উদ্বুদ্ধ হলেন ম্যারাথনের ঘটনা স্মরণীয় করে রাখতে এক প্রতিযোগিতা আয়োজনের। ফলে ১৮৯৬ সালে এথেন্সে অনুষ্ঠিত প্রথম আধুনিক অলিম্পিক গেমসের আসরে ঢুকে পড়ল ম্যারাথন দৌড়।   
cover
দূরত্ব

ম্যারাথন থেকে এথেন্স আসতে পাড়ি দিতে হয় প্রায় ২৫ মাইল। ১৮৯৬ সালের অলিম্পিকে ম্যারাথন দৌড়ে ২৪.৮৫ মাইল দূরত্ব নির্ধারণ করা হয়। সূচনা করা হয়েছিল এথেন্সের ম্যারাথন সেতু থেকে, শেষ হয় অলিম্পিক স্টেডিয়ামে। ২৫ জন প্রতিযোগীর মধ্যে মাত্র ৯ জন দৌড় শেষ করতে পেরেছিলেন। বিজয়ী ব্যক্তি ছিলেন এক গ্রীক পশুপালক, স্পিরিডন লুইস। তিনি সময় নিয়েছিলেন ২ ঘন্টা ৫৮ মিনিট পঞ্চাশ সেকেন্ড।

পরবর্তী বছর ১৯ এপ্রিল ব্যাটল অফ ম্যারাথনের দৌড়ের কাহিনীতে উজ্জিবিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজন করা হয় বোস্টন ম্যারাথনের। অলিম্পিকের পর এইটিই ম্যারাথনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ আসর। এখানে নিউ ইয়র্কের জন ম্যাকডারমট ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট ১০ সেকেন্ড নিয়ে প্রথম হন।

১৮৯৬ সালে মোটামুটি ২৫ মাইল দৌড়াতে হলেও পরের কয়েকটি অলিম্পিকে এই দূরত্ব কয়েকবার পরিবর্তন হয়। ১৯০৮ সালে লন্ডন অলিম্পিকে ম্যারাথন শুরু হয় উইন্ডসর ক্যাসলের বাগান থেকে, যাতে রাজপরিবারের শিশুরাও তা দেখতে পারে। স্টেডিয়ামে শেষ হবার দাগ ছিল রয়্যাল বক্স, বা রাজপরিবারের সদস্যদের বসার জায়গা থেকে কিছুটা দূরে। ফলে তা টেনে নিয়ে তাদের সামনে ফেলা হয়। এতে করে পুরো দূরত্ব দাঁড়াল ২৬ মাইলের কিছু বেশি।কিন্তু পরের আসরে আবার তা পরিবর্তন হয়। এভাবে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন দূরত্বে অনুষ্ঠিত হয় ম্যরাথন। তবে ১৯২৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক ফেডারেশন (IAAF) লন্ডন অলিম্পিকের দূরত্বকে চূড়ান্ত বলে নির্ধারণ করে। ফলে স্বীকৃত ম্যারাথনের দূরত্ব দাঁড়ায় ৪২ ১৯৫ মিটার বা ২৬ মাইলের কিছু বেশি।   

ম্যারাথনের কথা

বর্তমান ম্যারাথন অন্যতম জনপ্রিয় একটি প্রতিযোগিতা। সারা পৃথিবীতে প্রতি বছর ৬৪ টি দেশে ৫০০ এর মত ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়।অলিম্পিক ম্যারাথন সব দৌড়বিদের স্বপ্ন, তার পরেই আছে বোস্টন ম্যারাথন। এছাড়া লন্ডন, শিকাগো, বার্লিন, নিউ ইয়র্ক, টোকিও আর আমস্টারডামের ম্যারাথন আসরও বেশ বিখ্যাত। অন্যান্য দৌড়ের থেকে ম্যারাথনে পার্থক্য হল এর জন্য আলাদা ট্র্যাক বানাতে হয়না, রাস্তাঘাটেই ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথমে শুধু পুরুষদের জন্য থাকলেও ১৯৭২ সালে বোস্টন ম্যারাথনে সর্বপ্রথম মহিলাদের ম্যারাথনে দৌড়ানোর সুযোগ করে দেয়। ১৯৮৪ সালের ৫ আগস্ট লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে প্রথম মহিলারা অলিম্পিক ম্যারাথনে দৌড়ানোর সুযোগ পান। ৫০ জন প্রতিযোগীর ৪৪ জন দৌড় শেষ করেন। বিজয় হন যুক্তরাষ্ট্রের জোয়ান বেনোয়া স্যামুয়েলসন।তিনি সময় নিয়েছিলেন ১ ঘন্টা ২৪ মিনিট ৫২ সেকেন্ড।
 
বর্তমান অলিম্পিক পুরুষ ম্যারাথনে চ্যাম্পিয়ন কেনিয়ার ইলিউদ কিপচোগে (Eliud kipchoge Rotich Ken)। রিও ২০১৬ অলিম্পিকে ২ ঘন্টা ৮ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড সময়ে তিনি দাগ অতিক্রম করেন। তার স্বদেশী জেমিমা জেলাগাট ২ ঘন্টা ২৪ মিনিট ৪ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে অলিম্পিকে মহিলা ম্যারাথনের মুকুট অধিকার করে আছেন। করোনা সংক্রমণের জন্য ২০২০ সালে টোকিও অলিম্পিক পিছিয়ে যাওয়ায় তাদের রাজত্ব এখনো কেউ ছিনিয়ে নিতে পারেনি।

অলিম্পিক ম্যারাথনে বিশ্বরেকর্ড টাইমের মালিক কেনিয়ারই আরেক অ্যাথলেট স্যামুয়েল ওয়াঞ্জিরু, তার সময় ছিল ২ ঘন্টা ৬ মিনিট ৩২ সেকেন্ড। মহিলাদের মধ্যে এই রেকর্ড ইথিওপিয়ার টিকি গেলানার, ২ ঘণ্টা ২৩ মিনিট ৭ সেকেন্ড। তবে সমস্ত প্রতিযোগিতা বিবেচনা করলে ম্যারাথনে বর্তমান বিশ্বরেকর্ডধারি পুরুষ ইলিউদ কিপচোগে, বার্লিন ম্যরাথনে তিনি ২ ঘণ্টা ১ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে। ২০১৭ সালে কেনিয়ার মেরি কেইটানি ২ ঘণ্টা ১৭ মিনিট ১ সেকেন্ডের টাইম করে মহিলাদের ম্যারাথনে বিশ্বরেকর্ড করেন।


cover
ম্যারাথনে সব অ্যাথলেটের মূল লক্ষ্য এখন দুই ঘণ্টার কমে দৌড় সমাপ্ত করা। ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর ভিয়েনার এক অনানুষ্ঠানিক ম্যরাথনে ইলিউদ কিপচোগে ১ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৪০ সেকেন্ড সময় নিয়ে একাজে সফল হলেও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আসর না হওয়ায় এই রেকর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধ হয়নি। প্রাচীন পারস্য আর গ্রীসের যুদ্ধ থেকে উৎপত্তি হলেও আজ ম্যারাথন দৌড় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি খেলা হিসেবে সম্মান পেয়েছে। পেশাদার অ্যাথলেট ছাড়াও অনেক সময়েই অন্যান্য ক্ষেত্রের নামিদামি ব্যক্তিরা এতে অংশ নেন। তাদের সবার উদ্দেশ্যই থাকে খেলার মধ্য দিয়ে বিভেদ দূর করে সকলকে একত্র করা।

References


Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021