এক্সক্লুসিভ
পৃথিবীর ১৫০টি দেশে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছেন নাজমুন নাহার!
বিশ্বের প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে লাল সবুজের পতাকা হাতে পৃথিবীর ১৫০টি দেশ ভ্রমণের রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশের নাজমুন নাহার। নাজমুন নাহার গত ২১ বছর ধরে বেশিরভাগ দেশেই সড়কপথে এসব দেশ ভ্রমণ করেন। তিনি ভূষিত হয়েছেন আন্তর্জাতিক ‘পিস টর্চ অ্যাওয়ার্ড’ পদকে। পেয়েছেন ‘ডটার অব দ্য আর্থ’ উপাধিও। ইতিমধ্যে কোটি- কোটি মানুষের হৃদয়ে সাড়া জাগিয়েছেন! শুধু তাই নয় পৃথিবীব্যাপী তিনি পেয়েছেন ব্যাপক পরিচিতি। ভূষিত হয়েছেন বহু সম্মাননায়। ‘পতাকা কন্যা’খ্যাত নাজমুন নাহার বলেন, ‘২১ বছর ধরে আমি স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা পৃথিবীর এক দেশ থেকে আরেক দেশে নিয়ে যাচ্ছি। দেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকেও বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। তা অব্যাহত থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পৃথিবীর পথে পথে আমার এই অভিযাত্রার সঙ্গী যেন ১৭ কোটি মানুষের ভালবাসা। পৃথিবীর পথে পথে আমার প্রতিটি অর্জনে একটি সোনার বাংলাদেশ যেন মিশে থাকে। আমি খুব আনন্দিত, আমার চোখে পানি, অনেক কষ্টের পর এই অর্জন। এটা শুধু আমার নয়, এই অর্জন সকল বাংলাদেশি মানুষের।’
যেভাবে ভ্রমণের টাকা জোগাড় করতেন
বিশ্বজয়ী বাংলাদেশি পতাকাবাহী পরিব্রাজক নাজমুন নাহার বলেন, স্কলারশিপ নিয়ে ২০০৬ সালে যখন সুইডেনে পড়াশোনা করতে যাই তখন পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম কাজ করি। কাজের মাধ্যমে কিছু টাকা রেখে দেই এবং সেই টাকা দিয়ে ভ্রমণ করতাম। সবাই পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করে গাড়ি-বাড়ি করেন। কিন্তু আমি আমার উপার্জনের টাকা দিয়ে ভ্রমণ করতাম। খুব কম খরচে কীভাবে ভ্রমণ করা যায় সেটা গবেষণা করে বের করতাম। জোন ভাগ করে ভ্রমণ করতাম যাতে ১০ বা ১৫ ল্যান্ডলকড্ দেশগুলো একসঙ্গে ঘুরতে পারি। একটা দেশে বিমানে যাওয়ার পর ১০-১৫ দেশ সড়ক পথে ভ্রমণ করতাম। পৃথিবীর বেশীরভাগ দেশই সড়ক পথে ভ্রমণ করেছি।
বিশ্ব ভ্রমণের মিশন
নাজমুন নাহার বলেন, ভ্রমণে প্রকৃতি দেখার পাশাপাশি আমার একটা মিশন ছিল। বাংলাদেশের পতাকার সাথে বিশ্ব শান্তির বার্তা বহন করেছি। no war only Peace, save the planet, stop child marriage, women empowerment: ভ্রমণের সময় এই শদ্বগুলো পৃথিবীর মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছি। আমার লক্ষ্য ভ্রমণের মাধ্যমে বিশ্বশান্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়া। পুরো পৃথিবী একটা হুমকির মধ্যে আছে। যুদ্ধ নয় শান্তি চাই, বাল্যবিবাহ রোধ করা ও পৃথিবীর পরিবেশকে বাঁচানোর জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
ভ্রমণ কেন জরুরি
তরুণ প্রজন্মের জন্য ভ্রমণ কেন জরুরি প্রশ্নে নাজমুন নাহার বলেন, ভ্রমণটা হচ্ছে একটা শিক্ষা। যা অর্জনের জন্য অবশ্যই পরিশ্রমী হতে হবে। পরিশ্রম করে অর্জন করতে হবে। ছোট স্বপ্নগুলো একসময় বড় স্বপ্নে পরিণত হয়। সেই বড় স্বপ্ন পূরনের জন্য চেষ্টা করতে হবে। ১৫০ দেশের পর পুরো বিশ্ব ভ্রমণে আরো ৪৭টি দেশ বাকি আছে। বাকি দেশগুলোও পর্যায়ক্রমে ভ্রমণের ইচ্ছে আছে। সেটাই আমার স্বপ্ন, এর জন্য ম্যাপ, পড়াশোনা ও কাজ করে যাচ্ছি।
এক্সক্লুসিভ
আরো পড়ুন