ইউক্রেনীয় 'মুজাহিদিন': প্রথম চেচেন যুদ্ধে ইউক্রেনীয় স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা
আন্তর্জাতিক
ইউক্রেনীয় 'মুজাহিদিন': প্রথম চেচেন যুদ্ধে ইউক্রেনীয় স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা
১৯৯৪ সালের ৯ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৬ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত রাশিয়া এবং রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত (কিন্তু কার্যত স্বাধীন) মুসলিম–অধ্যুষিত 'ইচকেরিয়া চেচেন প্রজাতন্ত্রে'র মধ্যে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যেটি 'প্রথম চেচেন যুদ্ধ' নামে পরিচিত। ১৯৯৫ সালে ইচকেরিয়ার তদানীন্তন প্রধান মুফতি আহমাৎ কাদিরভ রাশিয়ার বিরুদ্ধে 'জিহাদ' (বা উত্তর ককেশিয়ান আঞ্চলিক পরিভাষায়, 'গাজাওয়াৎ') ঘোষণা করেন এবং এর মধ্য দিয়ে উক্ত যুদ্ধটি একটি ধর্মীয় আবরণ লাভ করে। 
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামি পরিভাষায় সাধারণত অমুসলিমদের বিরুদ্ধে মুসলিমদের যুদ্ধকে 'জিহাদ' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় এবং জিহাদে অংশগ্রহণকারী মুসলিম যোদ্ধাদেরকে 'মুজাহিদিন' (একবচনে 'মুজাহিদ') হিসেবে অভিহিত করা হয়। কিন্তু যদি কোনো জিহাদে কিছু অমুসলিম যোদ্ধা মুসলিমদের পক্ষে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে, সেক্ষেত্রে ব্যাপারটা কেমন হবে? প্রথম চেচেন যুদ্ধ চলাকালে ঠিক এই ব্যাপারটিই ঘটেছিল।
চিত্র: ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে চেচনিয়ার গ্রোজনিতে একদল ইচকেরীয় যোদ্ধা; চিত্রসূত্র: Mikhail Yevstafiyev via Wikimedia Commons
চিত্র: ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে চেচনিয়ার গ্রোজনিতে একদল ইচকেরীয় যোদ্ধা; চিত্রসূত্র: Mikhail Yevstafiyev via Wikimedia Commons
প্রথম চেচেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও সংক্ষিপ্ত বিবরণ
ঊনবিংশ শতাব্দীতে বর্তমান চেচনিয়ার ভূখণ্ড রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয় এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অঞ্চলটিকে পার্শ্ববর্তী ইঙ্গুশেতিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে 'চেচেনো–ইঙ্গুশ স্বায়ত্তশাসিত সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র' (সংক্ষেপে 'চেচেনো–ইঙ্গুশেতিয়া') সৃষ্টি করা হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের প্রাক্কালে ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বরে সোভিয়েত বিমানবাহিনীর প্রাক্তন কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জওহর দুদায়েভের নেতৃত্বে 'অল–ন্যাশনাল কংগ্রেস অফ দ্য চেচেন পিপল' দলভুক্ত মিলিট্যান্টরা একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে চেচেনো–ইঙ্গুশেতিয়ার শাসনক্ষমতা দখল করে নেয়। ১৯৯১ সালের অক্টোবরে একটি বিতর্কিত গণভোটের মাধ্যমে দুদায়েভ চেচেনো–ইঙ্গুশেতিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে 'চেচেন প্রজাতন্ত্রে'র স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ১৯৯১ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত একটি গণভোটে ইঙ্গুশেতিয়ার জনসাধারণ চেচেন প্রজাতন্ত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পক্ষে ভোট দেয় এবং ১৯৯২ সালের জুনে ইঙ্গুশেতিয়া চেচেন প্রজাতন্ত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়।
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
আনুষ্ঠানিকভাবে, চেচেনো–ইঙ্গুশেতিয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্ববৃহৎ ইউনিয়ন প্রজাতন্ত্র 'রুশ ফেডারেটিভ সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে'র অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং সোভিয়েত সংবিধান অনুসারে ইউনিয়ন প্রজাতন্ত্রগুলোর অধীনস্থ স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্রগুলোর স্বাধীনতা ঘোষণার এখতিয়ার ছিল না। সুতরাং রাশিয়া চেচনিয়াকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৯৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত চেচনিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল, কিন্তু এসময় প্রজাতন্ত্রটি কার্যত স্বাধীন ছিল এবং অঞ্চলটির ওপর রুশ কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। এদিকে দুদায়েভের নেতৃত্বাধীন চেচেন সরকার চেচনিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয় এবং জাতিগত সংঘাত, রাজনৈতিক সঙ্কট, অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ও সংগঠিত অপরাধ চেচনিয়ায় নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়। ইতোমধ্যে ১৯৯৪ সালের জানুয়ারিতে প্রজাতন্ত্রটির নাম পরিবর্তন করে 'ইচকেরিয়া চেচেন প্রজাতন্ত্র' রাখা হয়। উভয় পক্ষের অবহেলা ও অদূরদর্শিতার কারণে রাশিয়া ও ইচকেরিয়া আলোচনার মাধ্যমে চেচেন সঙ্কট নিরসন করতে ব্যর্থ হয়। এমতাবস্থায় রাশিয়া দুদায়েভকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্দেশ্যে ইচকেরিয়ার অভ্যন্তরে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদেরকে সহায়তা করতে শুরু করে। ১৯৯৪ সালের নভেম্বরে উমর আভতুরখানভের নেতৃত্বাধীন চেচেন 'অস্থায়ী পরিষদ' রুশ সৈন্যদের সহায়তায় ইচকেরীয় সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করে, কিন্তু এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এমতাবস্থায় ১৯৯৪ সালের ৯ ডিসেম্বর রুশ রাষ্ট্রপতি বোরিস ইয়েলৎসিন 'চেচেন প্রজাতন্ত্রের ভূখণ্ডে অবৈধ সশস্ত্র দলগুলোর কার্যক্রম দমনের জন্য ব্যবস্থাবলি' বিষয়ক একটি অধ্যাদেশ জারি করেন এবং ১১ ডিসেম্বর রুশ সৈন্যরা ইচকেরিয়ার ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। প্রায় আড়াই মাসব্যাপী তীব্র যুদ্ধের পর ১৯৯৫ সালের মার্চে রুশ সৈন্যরা ইচকেরিয়ার রাজধানী গ্রোজনি দখল করে নেয় এবং রুশপন্থী একটি সরকারকে চেচনিয়ার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করে।
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
কিন্তু ইচকেরিয়ার স্বাধীনতার সমর্থকরা রুশদের বিরুদ্ধে তীব্র অপ্রচলিত ও অপ্রতিসম যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং ইচকেরিয়ার বাকি অংশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা/ধরে রাখা রুশদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। চেচেন মিলিট্যান্টদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রুশরা ব্যাপক সামরিক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ১৯৯৬ সালের ২১ এপ্রিল রুশ বিমান হামলায় ইচকেরীয় রাষ্ট্রপতি দুদায়েভ নিহত হন, কিন্তু তাতে যুদ্ধের সামগ্রিক ফলাফলের ওপর কোনো প্রভাব পড়ে নি। ১৯৯৬ সালের ৬ আগস্ট চেচেন মিলিট্যান্টরা গ্রোজনি আক্রমণ করে এবং সেখানে মোতায়েনকৃত রুশ সৈন্যদের অবরুদ্ধ করে ফেলে। এমতাবস্থায় ৩০ আগস্ট রাশিয়া ও ইচকেরিয়ার মধ্যে 'খাসাভইয়ুর্ত চুক্তি' সম্পাদিত হয়। এই চুক্তি অনুসারে রাশিয়া ইচকেরিয়া থেকে সমস্ত সৈন্য প্রত্যাহার করে নিতে সম্মত হয় এবং ইচকেরিয়ার স্বাধীনতার প্রশ্ন পাঁচ বছর স্থগিত থাকবে বলে উভয় পক্ষ একমত হয়। এভাবে প্রথম চেচেন যুদ্ধে ইচকেরিয়ার নিকট রাশিয়া পরাজিত হয় এবং কার্যত স্বাধীন হিসেবে থেকে যায়। পরবর্তীতে ১৯৯৯–২০০০ সালে সংঘটিত দ্বিতীয় চেচেন যুদ্ধের সময় রাশিয়া ইচকেরিয়া অধিকার করে নেয় এবং 'চেচেন প্রজাতন্ত্র' রুশ নিয়ন্ত্রণাধীনে চলে যায়।
চিত্র: প্রথম ও দ্বিতীয় চেচেন যুদ্ধ চলাকালে সৌদি আরব থেকে আগত মিলিট্যান্ট ইবন আল–খাত্তাব চেচনিয়ায় আরব মুজাহিদিনের অধিনায়ক ছিলেন; চিত্রসূত্র: Medium
চিত্র: প্রথম ও দ্বিতীয় চেচেন যুদ্ধ চলাকালে সৌদি আরব থেকে আগত মিলিট্যান্ট ইবন আল–খাত্তাব চেচনিয়ায় আরব মুজাহিদিনের অধিনায়ক ছিলেন; চিত্রসূত্র: Medium
প্রথম চেচেন যুদ্ধে বিদেশি স্বেচ্ছাসেবক যোদ্ধাগণ
প্রথম চেচেন যুদ্ধ চলাকালে বিশ্বের কোনো রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ইচকেরিয়াকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে নি, কিন্তু রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা (যেমন: তুরস্ক) চেচেন মিলিট্যান্টদের সহায়তা প্রদান করে। তদুপরি, বিভিন্ন মতাদর্শের বিদেশি স্বেচ্ছাসেবকরা নানাবিধ কারণে ইচকেরিয়ায় এসে চেচেন মিলিট্যান্টদের সঙ্গে মিলে রুশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। সৌদি আরব, জর্দান ও অন্যান্য আরব রাষ্ট্র, তুরস্ক, ইরান, আফগানিস্তান প্রভৃতি মুসলিম–অধ্যুষিত রাষ্ট্র থেকে এবং রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত উত্তর ককেশাসের অন্যান্য মুসলিম–অধ্যুষিত প্রজাতন্ত্রগুলো থেকে আগত ধর্মীয় আদর্শে উদ্বুদ্ধ স্বেচ্ছাসেবকরা এই যুদ্ধে চেচেন মিলিট্যান্টদের পক্ষে ও রুশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। অনুরূপভাবে, তুরস্কভিত্তিক উগ্র তুর্কি জাতীয়তাবাদী মিলিট্যান্ট গ্রুপ 'বোজকুর্তলার'–এর (Grey Wolves) সদস্যরা বৃহত্তর তুর্কি জাতীয়তাবাদী ও সম্প্রসারণবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই যুদ্ধে চেচেন মিলিট্যান্টদের পক্ষে ও রুশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। চেচেন মিলিট্যান্টদের ঘোষিত 'জিহাদে'র আহ্বানের সঙ্গে উক্ত বিদেশি স্বেচ্ছাসেবকদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ ছিল সামঞ্জস্যপূর্ণ, কারণ উক্ত বিদেশি স্বেচ্ছাসেবকরা ছিল মুসলিম। কিন্তু তাদের পাশাপাশি একদল অমুসলিম স্বেচ্ছাসেবকও এই যুদ্ধে চেচেন মিলিট্যান্টদের পক্ষ নিয়ে রুশদের বিরুদ্ধে 'জিহাদে' অংশগ্রহণ করে। এরা ছিল প্রধানত ইউক্রেনীয় উগ্র জাতীয়তাবাদী সংগঠন 'উক্রায়নস্কা নাৎসিওনালনা আসাম্বলেয়া – উক্রায়নস্কা নারোদনা সামুবোরোনা' বা 'ইউএনএ–ইউএনএসও'র সদস্য (ইউক্রেনীয়: Українська Національна Асамблея-Українська Народна Самооборона, 'УНА-УНСО'; ইংরেজি: Ukrainian National Assembly – Ukrainian People's Self-defense, 'UNA-UPS')। এই গ্রুপটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শত শত ইউক্রেনীয় মিলিট্যান্ট স্বেচ্ছাসেবক/মার্সেনারি হিসেবে প্রথম চেচেন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
ইউএনএ–ইউএমএসওর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
ইউএনএ–ইউএনএসও ইউক্রেনভিত্তিক একটি উগ্র জাতীয়তাবাদী সংগঠন। ১৯৯০ সালের জুনে তদানীন্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ইউক্রেনীয় সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের লভোভ/লভিভ শহরে ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ, লেখক ও মিলিট্যান্ট দিমিত্রো কোরচিনস্কির নেতৃত্বে 'ইউএমএ' নামক একটি উগ্র জাতীয়তাবাদী সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। এদিকে ১৯৯০ সালের নভেম্বরে ইউক্রেনীয় সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিয়েভে আরেকটি ইউক্রেনীয় উগ্র জাতীয়তাবাদী সংগঠন 'ইউএনএস' প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ডিসেম্বরে ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ ইউরি–বোহদান সুখেভিচ সংগঠনটির নেতা নিযুক্ত হন। উল্লেখ্য, সুখেভিচের বাবা রোমান–তারাস সুখেভিচ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জার্মান সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা 'Abwehr'–এর বিশেষ সামরিক ইউনিটের সদস্য এবং জার্মান–সমর্থিত (পরবর্তীতে পশ্চিমা–সমর্থিত) সোভিয়েতবিরোধী ইউক্রেনীয় মিলিট্যান্ট গ্রুপ 'ইউপিএ'র অন্যতম শীর্ষ সামরিক নেতা ছিলেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের প্রাক্কালে সৃষ্ট বিশৃঙ্খল অবস্থার সুযোগে ইউএনএস বেশ কয়েকটি আধা–সামরিক স্কোয়াড গঠন করে এবং প্রধানত আফগান যুদ্ধে (১৯৭৯–১৯৮৯) অংশগ্রহণকারী সোভিয়েত সশস্ত্রবাহিনীর প্রাক্তন ইউক্রেনীয় সৈন্যরা এই স্কোয়াডগুলোর সদস্য হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সঙ্কটগুলোয় ইউএনএস–এর স্কোয়াডগুলো অংশগ্রহণ করে এবং এগুলো একযোগে 'ইউএনএসও' নামে পরিচিতি লাভ করে। এদিকে ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বরে ইউএমএর নাম পরিবর্তন করে 'ইউএনএ' রাখা হয়। ইউএনএ এবং ইউএনএসওর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংযোগ ছিল এবং সংগঠন দুইটি একত্রে 'ইউএনএ–ইউএনএসও' নামে পরিচিতি অর্জন করে। ১৯৯৪ সালে এটি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সংগঠনটি সৃষ্টির পর থেকে এটির সদস্যরা লিথুয়ানিয়া, নাগর্নো–কারাবাখ, প্রিদনেস্ত্রোভিয়ে, আবখাজিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া–হার্জেগোভিনা, চেচনিয়া, কসোভো, দক্ষিণ ওসেতিয়া ও অন্যান্য বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। 
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
ইউএনএ–ইউএনএসওর রাজনৈতিক আদর্শ ও অবস্থান অত্যন্ত জটিল প্রকৃতির। সংগঠনটি একইসঙ্গে ইউক্রেনীয় উগ্র জাতীয়তাবাদী ও বৃহত্তর স্লাভিক জাতীয়তাবাদী। সংগঠনটি রাশিয়ার মস্কোর পরিবর্তে ইউক্রেনের কিয়েভকে স্লাভিক বিশ্বের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখতে আগ্রহী। সংগঠনটি আদর্শিক দৃষ্টিকোণ থেকে উগ্র ডানপন্থী এবং কমিউনিজমের তীব্র বিরোধী। সংগঠনটি গণতন্ত্রের বিরোধী এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রত্যক্ষ শাসনের পক্ষপাতী, কিন্তু সংগঠনটি ইউক্রেনে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন গণতান্ত্রিক নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। সংগঠনটি ইহুদিবিদ্বেষী ও রুশবিদ্বেষী, এবং ইউক্রেনের অভ্যন্তরে রুশপন্থী 'বিচ্ছিন্নতাবাদী' আন্দোলনগুলোকে কঠোরভাবে দমন করার পক্ষপাতী। সংগঠনটির রাজনৈতিক ঘাঁটি পশ্চিম ইউক্রেনে অবস্থিত এবং উক্ত অঞ্চলটি ঐতিহাসিকভাবে ইউক্রেনীয় উগ্র জাতীয়তাবাদের কেন্দ্রভূমি হিসেবে পরিচিত। মুসলিমদের সম্পর্কে ইউএনএ–ইউএনএসওর দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত কৌতূহলোদ্দীপক। সংগঠনটির সঙ্গে ইউক্রেনীয় অর্থোডক্স চার্চের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান এবং সংগঠনটি সাধারণভাবে মুসলিমদেরকে (যাদের সবাইকেই তারা 'তুর্কি' হিসেবে অভিহিত করে) স্লাভিক জাতিগোষ্ঠীর প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। ক্রিমিয়া উপদ্বীপ ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণাধীনে থাকা অবস্থায় সংগঠনটি ইসলাম ধর্মাবলম্বী ক্রিমিয়ান তাতারদের মধ্যে কোনো ধরনের স্বাধীনতাকামী/বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের ঘোরতর বিরোধী ছিল। কিন্তু সংগঠনটি কেবল যে মুসলিম–অধ্যুষিত ইচকেরিয়ার স্বাধীনতাকামী/বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে তাই নয়, সংগঠনটির সদস্যরা সরাসরি ইচকেরিয়ার পক্ষে যুদ্ধেও অংশ নিয়েছে। 
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
চেচেন 'জিহাদে' ইউএনএ–ইউএনএসওর ভূমিকা
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, মুসলিমবিদ্বেষী ইউএনএ–ইউএনএসও কেন মুসলিম–অধ্যুষিত ইচকেরিয়ার 'জিহাদে' অংশগ্রহণ করলো? এর উত্তর হচ্ছে: ইচকেরিয়া ও ইউএনএ–ইউএনএসও উভয়েই রাশিয়াকে নিজেদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে বিবেচনা করতো। সুতরাং ইচকেরিয়া ও ইউএনএ–ইউএনএসওর মধ্যেকার রাজনৈতিক মৈত্রীর ভিত্তি ছিল সুপ্রাচীন সেই রাজনৈতিক কৌশল – "আমার শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু"। অবশ্য শুধু আদর্শিক ও রাজনৈতিক হিসেবনিকেশ প্রথম চেচেন যুদ্ধে ইউএনএ–ইউএনএসওর জড়িত হওয়ার একমাত্র কারণ ছিল না। ইউক্রেনের কিয়েভে বসবসরত চেচেন সম্প্রদায় শুরু থেকেই ইউএনএ–ইউএনএসওর কার্যক্রমের অর্থায়ন করে আসছে এবং সংগঠনটির বেশকিছু বিদেশি 'অ্যাডভেঞ্চারে'ও অর্থায়ন করেছে। তদুপরি, চেচেন যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ইউক্রেনীয় স্বেচ্ছাসেবকদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। সুতরাং, আদর্শিক/রাজনৈতিক কারণের পাশাপাশি আর্থিক লাভের আকাঙ্ক্ষাও এই যুদ্ধে ইউএনএ–ইউএনএসএর অংশগ্রহণের অন্যতম একটি কারণ ছিল বলে ধারণা করা যায়। ১৯৯৩ সালে ইউএনএ–ইউএনএসওর অন্যতম শীর্ষ নেতা ও ইউক্রেনীয় উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ আনাতোলি লুপিনোস 'চেচেন প্রজাতন্ত্রে'র রাষ্ট্রপতি দুদায়েভকে 'ইউএনএসওর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক মহল' কর্তৃক প্রণীত বেসামরিক জনসাধারণের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ পরিচালনা বিষয়ক নির্দেশিকা হস্তান্তর করেন এবং এর মধ্য দিয়ে চেচেন প্রজাতন্ত্র ও ইউএনএ–ইউএনএসওর মধ্যে প্রথম সংযোগ স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালের আগস্টে ইউএনএ–ইউএনএসওর প্রধান দিমিত্রো কোরচিনস্কির নেতৃত্বে সংগঠনটির বেশ কয়েকজন নেতা গ্রোজনি সফর করেন এবং ইচকেরীয় উপ–রাষ্ট্রপতি জেলিমখান ইয়ান্দারবিয়েভ ও ইচকেরীয় সশস্ত্রবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ আসলান মাসখাদভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। উল্লেখ্য, ইয়ান্দারবিয়েভ ও মাসখাদভ উভয়েই পরবর্তীতে ইচকেরিয়ার রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
ইয়ান্দারবিয়েভ ও মাসখাদভের সঙ্গে বৈঠকের সময় কোরচিনস্কি প্রতিশ্রুতি দেন যে, তিনি ইচকেরিয়ার জন্য ইউক্রেন থেকে বিমানবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর একদল বিশেষজ্ঞকে রিক্রুট করবেন এবং ঠিক হয় যে, উক্ত ইউক্রেনীয় 'বিশেষজ্ঞ'দেরকে প্রতি মাসে ৩,০০০ মার্কিন ডলার বেতন প্রদান করা হবে। এই উদ্দেশ্যে ইচকেরিয়া ইউএনএ–ইউএনএসওর নেতা আন্দ্রি শকিলের নেতৃত্বাধীন 'ইউরেশিয়া' সেন্টারে অর্থ হস্তান্তর করে। ১৯৯৪ সালের নভেম্বরে ইচকেরীয় সরকারের বিরুদ্ধে রুশ–সমর্থিত চেচেন 'অস্থায়ী পরিষদে'র অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সময় কোরচিনস্কি গ্রোজনিতে ছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি ইচকেরীয় সৈন্যদের হাতে বন্দি রুশ সৈন্যদের জিজ্ঞাসাবাদে অংশগ্রহণ করেন। এদিকে ১ ডিসেম্বর রুশ বিমান হামলায় ইচকেরীয় বিমানবাহিনী সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায় এবং এর ফলে ইউক্রেন থেকে বিমানবাহিনী বিশেষজ্ঞ রিক্রুট করা অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায়। একই সময়ে চেচেন মিলিট্যান্টরা ইউক্রেন থেকে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ক্রয়ের পরিকল্পনা বাতিল করে। প্রথম চেচেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউএনএ–ইউএনএসও ইচকেরিয়ার পক্ষে যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য 'প্রমিথিউস' নামক একটি স্বেচ্ছাসেবক দলকে চেচনিয়ায় প্রেরণ করে এবং 'ইউরেশিয়া' সেন্টার দলটির ব্যয় বহন করে। 'প্রমিথিউস' দলভুক্ত মিলিট্যান্টরা ইতিপূর্বে জর্জিয়ায় সামরিক প্রশিক্ষণ লাভ করেছিল। রুশ গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুসারে, উক্ত মিলিট্যান্টদের অল্প একটি অংশ ছিল ইউএনএ–ইউএনএসওর উগ্র আদর্শবাদী সদস্য, আর বাকিরা ছিল মূলত অপরাধ জগতের লোক, যাদেরকে ইউএনএ–ইউএনএসও চেচেন যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য রিক্রুট করেছিল এবং যাদেরকে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছিল। ১৯৯৫ সালে ইউএনএ–ইউএনএসও সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত 'ভাইকিং ব্রিগেড' চেচনিয়ায় প্রবেশ করে এবং চেচেন মিলিট্যান্টদের পক্ষে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। যদিও ইউক্রেনীয় স্বেচ্ছাসেবক দলটিকে 'ব্রিগেড' নামকরণ করা হয়েছিল, কিন্তু কার্যত এটি কখনো ব্রিগেডের আকৃতি লাভ করে নি। প্রায় ৩০০ জন ইউক্রেনীয় স্বেচ্ছাসেবক উক্ত ব্রিগেডের অংশ ছিল। তারা গ্রোজনির যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং চেচনিয়ার অন্যান্য অংশে রুশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। তদুপরি, তাদের একাংশ (যারা আফগান যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল) চেচেন মিলিট্যান্টদের সামরিক প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতে থাকে। প্রথম চেচেন যুদ্ধ চলাকালে অন্তত ১০ জন ইউক্রেনীয় স্বেচ্ছাসেবক রুশ সৈন্যদের হাতে নিহত হয়। রুশ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে, ইউক্রেনীয় রাজনীতিবিদ (পরবর্তীতে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী) আরসেনি ইয়াৎসেনিউক প্রথম চেচেন যুদ্ধের সময় চেচেন মিলিট্যান্টদের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, যদিও ইয়াৎসেনিউক এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। 
চিত্র: প্রথম চেচেন যুদ্ধ চলাকালে ওলেক্সান্দর মুজিচকো চেচেন মিলিট্যান্টদের পক্ষে যুদ্ধরত 'ভাইকিং ব্রিগেডে'র অধিনায়ক ছিলেন; চিত্রসূত্র: IBTimes UK
চিত্র: প্রথম চেচেন যুদ্ধ চলাকালে ওলেক্সান্দর মুজিচকো চেচেন মিলিট্যান্টদের পক্ষে যুদ্ধরত 'ভাইকিং ব্রিগেডে'র অধিনায়ক ছিলেন; চিত্রসূত্র: IBTimes UK
ভাইকিং ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন ইউক্রেনীয় উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক কর্মী ওলেক্সান্দর মুজিচকো। রুশ তদন্ত কমিটির ভাষ্য অনুসারে, উক্ত যুদ্ধের সময় মুজিচকো অন্তত ২০ জন রুশ যুদ্ধবন্দিকে খুন করেছেন। যুদ্ধ শেষে ইচকেরীয় সরকার 'ইচকেরিয়ার স্বাধীনতা রক্ষা'য় মুজিচকো অবদানের জন্য তাঁকে ইচকেরিয়ার অন্যতম শীর্ষ সামরিক সম্মাননা 'হিরো অফ দ্য ন্যাশন' অর্ডারে ভূষিত করে। শুধু তাই নয়, প্রথম চেচেন যুদ্ধ শেষে ইউক্রেনে প্রত্যাবর্তনের পর মুজিচকো একটি হত্যাপ্রচেষ্টার দায়ে গ্রেপ্তার হলে ইচকেরীয় রাষ্ট্রপতি মাসখাদভ তাঁকে মুক্তি প্রদানের জন্য তদানীন্তন ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রপতি লিওনিদ কুচমার নিকট আবেদন জানান এবং মুজিচকোকে মুক্তি দেয়া হয়। প্রথম চেচেন যুদ্ধে ইউক্রেনীয় উগ্র জাতীয়তাবাদীদের ভূমিকা কেবল সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ ও সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। উদাহরণস্বরূপ, যুদ্ধ চলাকালে ১৯৯৫ সালের জুনে চেচেন মিলিট্যান্ট কমান্ডার শামিল বাসায়েভের নেতৃত্বে একদল চেচেন মিলিট্যান্ট রাশিয়ার স্তাভ্রোপোল সীমান্ত প্রদেশের বুদিয়োন্নোভস্ক শহরে আক্রমণ চালায় এবং সেখানকার প্রায় দেড় হাজার বেসামরিক মানুষকে একটি হাসপাতালে জিম্মি করে। রুশ সৈন্যরা জিম্মিদের উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয় এবং উক্ত জিম্মি সঙ্কট নিরসনের জন্য রুশ সরকার 'শান্তিপূর্ণভাবে' চেচেন সঙ্কট সমাধানের লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়। ধারণা করা হয় যে, ইউএনএ–ইউএনএসওর নেতা লুপিনোস বুদিয়োন্নভস্কে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের পরিকল্পনা প্রণয়নে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তদুপরি, ইউএনএ–ইউএনএসও চেচেন মিলিট্যান্টদের পক্ষে জনমত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। তারা ইউক্রেনের বড় বড় শহরগুলোয় চেচনিয়ার প্রতি সমর্থন প্রকাশের উদ্দেশ্যে কমিটি গঠন করে এবং 'চেচেন–প্রেস' তথ্য কেন্দ্র স্থাপন করে।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনীয় লেখক আন্দ্রি মিরোনিউকের প্রদত্ত তথ্য থেকে অনুমান করা যায় যে, ইউক্রেনীয় সরকার এই যুদ্ধে পুরোপুরিভাবে নিরপেক্ষ ছিল না, বরং ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থা বা ইউক্রেনীয় সশস্ত্রবাহিনীর অন্তত কিছু কর্মকর্তা চেচনিয়ায় ইউএনএ–ইউএনএসওর কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
প্রথম চেচেন যুদ্ধে ইউক্রেনীয় স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণের প্রতি ইউক্রেনীয় সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। তদানীন্তন ইউক্রেনীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম চেচেন যুদ্ধকে রাশিয়ার একটি 'অভ্যন্তরীণ বিষয়' হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং ইচকেরিয়ার প্রতি কোনো ধরনের সমর্থন প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকে। তদুপরি, তারা জানায় যে, তারা রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইউক্রেনীয় নাগরিকদের হস্তক্ষেপের বিরোধী। কিন্তু ইউক্রেনীয় সরকার ইউক্রেনীয় স্বেচ্ছাসেবকদের চেচনিয়ায় গমন রোধ করার জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে নি। শুধু তাই নয়, ইউক্রেনীয় লেখক আন্দ্রি মিরোনিউকের প্রদত্ত তথ্য থেকে অনুমান করা যায় যে, ইউক্রেনীয় সরকার এই যুদ্ধে পুরোপুরিভাবে নিরপেক্ষ ছিল না, বরং ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থা বা ইউক্রেনীয় সশস্ত্রবাহিনীর অন্তত কিছু কর্মকর্তা চেচনিয়ায় ইউএনএ–ইউএনএসওর কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সামগ্রিকভাবে, অন্তত কয়েক শত ইউক্রেনীয় উগ্র জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক প্রথম চেচেন যুদ্ধের সময় চেচেন মিলিট্যান্টদের পক্ষ নিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। অবশ্য এখন ছক পাল্টে গিয়েছে এবং চলমান রুশ–ইউক্রেনীয় যুদ্ধে রুশবিরোধী চেচেন মিলিট্যান্টরা ইউক্রেনের পক্ষ নিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। মুসলিম চেচেনদের 'জিহাদে' মুসলিমবিদ্বেষী অর্থোডক্স ইউক্রেনীয় উগ্র জাতীয়তাবাদীদের অংশগ্রহণের এই ঘটনাটি একটি বিষয়কেই স্পষ্ট করে তোলে যে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্বার্থের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নেই। 
তথ্যসূত্র:
  1. Andrew McGregor. "Radical Ukrainian Nationalism and the War in Chechnya." North Caucasus Weekly, Volume 7, Issue 13. https://jamestown.org/program/radical-ukrainian-nationalism-and-the-war-in-chechnya-2/
  2. Oleg Tereshchenko. "How UNA-UNSO Earned Money." Ukrayna Kriminalnaya. 10 May 2005. https://cripo.com.ua/investigations/p-4958/
  3. Sergei Doroshenko. "Ukrainian Mercenaries in Chechnya." Segodniya.ru. 5 October 2004. https://www.segodnia.ru/content/26261 

লেখক: হিমেল রহমান
আন্তর্জাতিকইউক্রেন
আরো পড়ুন