Link copied.
মধ্যমআয়ের দেশগুলোর মধ্যে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ
writer
১৮ অনুসরণকারী
cover
মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এই মুহূর্তে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার মাত্র ৫০ বছর পেরোনোর প্রাক্কালে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশ বেশ কিছু সূচকে পেছনে ফেলেছে ভারতসহ অনেক দেশকে। মধ্যম আয়ের দেশ—এই শ্রেণীকরণটি মূলত বিশ্বব্যাংকের। কোন দেশকে কী পরিমাণ ঋণ দেওয়া হবে, সেটি নির্ধারণ করতেই তারা দেশগুলোকে চার ভাগে ভাগ করে। মোট জাতীয় উৎপাদনে (জিএনআই) মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে দেশের বিভাজনটা এরকম:

কোনো দেশের মাথাপিছু আয় কমপক্ষে ১০৩৫ ডলার হলে সে দেশকে নিম্ন আয়ের দেশ বলা হয়। কোনো দেশের মাথাপিছু আয় ১০৩৬ ডলার–৪০৪৫ ডলার হলে সে দেশকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ বলা হয়। কোনো দেশের মাথাপিছু আয় ৪০৪৬ ডলার–১২,৫৩৫ ডলার হলে সে দেশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ বলা হয়। কোনো দেশের মাথাপিছু আয় ১২,৫৩৬ ডলারের বেশি হলে সে দেশকে উচ্চ আয়ের দেশ বলা হয়।

প্রতিবছরের ১ জুলাই বিশ্বব্যাংক এই শ্রেণীকরণের তালিকা প্রকাশ করে।  গেল মাসে সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, দেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে তাই নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ।  

জিডিপিতে বাংলাদেশ
মধ্যমআয়ের দেশ হিসেবে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এই মুহূর্তে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার মাত্র ৫০ বছর পেরোনোর প্রাক্কালে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশ বেশ কিছু সূচকে পেছনে ফেলেছে ভারতসহ অনেক দেশকে। গেল মাসে সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, দেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে তাই নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ। অন্যদিকে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, গেল ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৫.২ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। বৈশ্বিক মহামারির মধ্যে বাংলাদেশের এই জিডিপি প্রবৃদ্ধি এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

গেল ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৫.২ শতাংশ অর্জিত হয়েছে, যা অনেক সার্কভূক্ত দেশের চেয়ে অনেক বেশি ও ঈর্ষনীয় জিডিপি চিত্র। যেখানে সার্কভূক্ত দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানের জিডিপির প্রবৃদ্ধি হচ্ছে যথাক্রমে ৮.৩ শতাংশ, ৪.৮ শতাংশ, ২.৮ শতাংশ, ৪.১ শতাংশ, ৪.১ শতাংশ, ১৩.১ শতাংশ ও ৩.১ শতাংশ। এমনকি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ছিল তাক লাগানোর মতো। এ হার ছিল, ৮.১৫ শতাংশ। যা সার্কভূক্ত প্রতিটি ‍ দেশের জিডিপিকে ছাড়িয়ে গেছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে সার্কভূক্ত দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানের জিডিপির প্রবৃদ্ধি হচ্ছে যথাক্রমে ৪.১৮ শতাংশ, ০.৯৯ শতাংশ, ৬,৯৯ শতাংশ, ৫.৪৬ শতাংশ, ২.২৮ শতাংশ, ৬.৯৯ শতাংশ ও ৩.৯১ শতাংশ। এর আগের অর্থবছর ২০১৭-১৮ তে দেখা যায়, বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার একমাত্র মালদ্বীপ ছাড়া বাকী দেশগুলোকে ছাড়িয়ে গিয়ে এ হার ছিল ৭.৮৬ শতাংশ। যেখানে মালদ্বীপের প্রবৃদ্ধি ছিল ৮.১৩ শতাংশ। বাকীদের এ হার ছিল ভারত ৬.১২ শতাংশ, পাকিস্তান ৫.৮৪ শতাংশ, নেপাল ৬.৭ শতাংশ, ভুটান ৩.০৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কা ৩.৩১ শতাংশ ও আফগানিস্তান ১.১৯ শতাংশ। এছাড়াও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সার্কভূক্ত যেকোনো দেশের জিডিপির শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। এ হার ছিল ৭.২৮ শতাংশ।

নতুন অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ ৫.১ শতাংশ হতে পারে বলে বিশ্ব ব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে। বৈশ্বিক আর্থিক খাতের মোড়ল সংস্থাটির বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শীর্ষ দ্বিবার্ষিক প্রতিবেদনের জুন সংখ্যায় এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাটি বলছে, ভবিষ্যতে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফেরা, মাঝারি পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি ও তৈরি পোশাকের রপ্তানি বৃদ্ধির উপর ভর করে প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ‘ব্যক্তিগত ভোগ’ জোরালো থাকবে। তার ফলশ্রুতিতে ক্রমান্বয়ে হলেও প্রবৃদ্ধির গতি অব্যাহত থাকবে। ফলে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫.১ শতাংশ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬.২ শতাংশে উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। 
মাথাপিছু আয়ে বাংলাদেশ
cover
২০২০-২১ অর্থবছরে মাথাপিছু আয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাময়িক হিসাবে, বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বেড়ে ২,২২৭ মার্কিন ডলার হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের মাথাপিছু আয় বর্তমানে ২১৯১ ডলার। সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে মাথাপিছু আয় পাকিস্তানে ১৫৬০, নেপালে ১০৮৪, ভুটানে ৩১০০, শ্রীলংকায় ৩৮৩০, মালদ্বীপে ৯৯৩৪ এবং আফগানিস্তানে ৫৭০ ডলার।

২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ২০৬৪ ডলার। অন্যদিকে ভারতের মাথাপিছু আয় ২১৪০ ডলার। সার্কভূক্ত অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে মাথাপিছু আয় পাকিস্তানে ১২৬০, নেপালে ১০৮৪, ভুটানে ৩২৮০, শ্রীলংকায় ৩৬৭৯, মালদ্বীপে ৮১৫০ এবং আফগানিস্তানে ৫৮১ ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ১৯০৯ ডলার। যেখানে ভারতের মাথাপিছু আয় ছিল ২১০০ ডলার। সার্কভূক্ত অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে মাথাপিছু আয় পাকিস্তানে ১২৮৫, নেপালে ১০৭১, ভুটানে ৩৩১৬, শ্রীলংকায় ৩৮৫৩, মালদ্বীপে ১০৬২৭ এবং আফগানিস্তানে ৫০৭ ডলার। এসব অর্থবছরের দিকে তাকালে দেখা যায়, সার্কভূক্ত দেশের মধ্যে অনেক দেশের চেয়ে মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধির হার দ্রুতহারে বাড়ছে। অবস্থা বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে, অতি সত্ত্বর সূচকের শীর্ষে থাকা দেশগুলোতে ছাড়িয়ে যাবে।

তার আগের অর্থবছরে (২০১৭-১৮) মাথাপিছু গড় আয় ছিল ১৬৯৮ ডলার। এর পরের অর্থবছরে ছিল ১৫৬৪ ডলার। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে দেশে বার্ষিক মাথাপিছু আয় ছিল ৬৭৬ টাকা। সে হিসেবে একজনের দৈনিক আয় ছিল ১ টাকা ৮৫ পয়সা। সেখান থেকে ক্রমাগতভাবে বেড়ে বর্তমানে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১ লাখ ৯১ হাজার ৫২২ টাকা। দৈনিক হিসেবে প্রতিজন বর্তমানে ৫২৫ টাকা আয় করেন, যা আগের মাথাপিছু আয়ের তুলনায় ৯ শতাংশ বেড়েছে।

সরকার বলছে, দেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক সহনশীলতা রয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় ২০৪১ সালে এই আয় ১২,৫০০ ডলার হবে। মাথাপিছু আয় প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো সূত্র জানায়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলেই মাথাপিছু আয় বেড়েছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধি সব সময় ইতিবাচক থাকায় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে মাথাপিছু আয়।
স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশ
স্বাস্থ্য খাতে বেশ কিছু অর্জন এবং কিছু সূচকের অগ্রগতি ঘটলেও আমাদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে জনতুষ্টি আসেনি। না আসার অনেক কারণের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বাজেট স্বল্পতা, অব্যবস্থাপনা, দুর্বল অবকাঠামো, জনবলের ঘাটতি, অদক্ষতা, দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন, শিক্ষার মানের অবনমন এবং গবেষণার দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা। ২০১৭ সালের স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদনে দেখা যায়, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ব্যক্তির পকেট খরচ মালদ্বীপে ১৮, ভুটানে ২৫, শ্রীলঙ্কায় ৪২, নেপালে ৪৭, পাকিস্তানে ৫৬ আর ভারতে ৬২ শতাংশ এবং বাংলাদেশে ৬৭ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি। এর ফলে স্বাস্থ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে আমাদের দেশে প্রতিবছর প্রায় ৬০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে। 

বিশ্বব্যাংকের ২০১৮ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের মোট জিডিপির ২.৩৪ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যখাতে। যেখানে ভারতের বরাদ্দ হচ্ছে, ৩.৫৪ শতাংশ, পাকিস্তান ৩.২ শতাংশ, নেপাল ৫.৮৪ শতাংশ, ভুটান ৩.০৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কা ৩.৭৬ শতাংশ, মালদ্বীপ ৯.৪১ শতাংশ ও আফগানিস্তানের বরাদ্দ ছিল ৯.৪ শতাংশ। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে বছরে মাথাপিছু ব্যয় হয় মাত্র ৩২ ডলার। একই সময়ে এই খাতে পাকিস্তানে ব্যয় হয় ৩৮, নেপালে ৪৫, ভারতে ৫৯, ভুটানে ৯১, শ্রীলঙ্কায় ১৫১ ডলার। জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন বলছে, ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ৫ বছরের নিচে পুষ্টিহীনতায় ভুগেছে এমন শিশুর হার দেশে ৩০.৮ শতাংশ৷ সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে এই হার সবচেয়ে কম মালদ্বীপে, ১৯ শতাংশ। ভারতে এই হার ৩৪.৭, পাকিস্তানে ৩৭.৬, শ্রীলন্কায় ১৭.৩, ভুটানে ৩৩.৫ শতাংশ।  


৫০ বছরে শিশুস্বাস্থ্যের উন্নতিতে বাংলাদেশের অর্জন অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশে শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। স্বাধীনতার সময় শিশুমৃত্যুর হার ছিল ১৪১, এখন তা ২২ শতাংশ। তবে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম হার মালদ্বীপের, ৫ শতাংশ। বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। সরকার বলছে, দেশে মাতৃমৃত্যুর হার ১৬৫। জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচকের সর্বশেষ প্রকাশিত (২০২০) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই হার ১৭৩। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম অবশ্য শ্রীলঙ্কায়, ৩৬ শতাংশ। বাংলাদেশের অবস্থান ৫ম। 

cover
শিক্ষাখাতে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৫ শতাংশ। জাতিসংঘ-ঘোষিত এসডিজিতে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সাক্ষরতার হার শতভাগে উন্নীত করার বিষয়ে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপির সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে শিক্ষার হার ৭৫.৪ শতাংশ। এর মধ্যে নারীশিক্ষার হার ৭৬.৬ শতাংশ। আর এই বয়সীদের মধ্যে পুরুষের শিক্ষার হার ৭৪ শতাংশ। নারীশিক্ষার উন্নয়নে যে ভারত বা প্রতিবেশী অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশ ভালো করছে। অন্যদিকে ভারতের শিক্ষার হার রয়েছে ৭৪.৪ শতাংশ, পাকিস্তান ৫৯.১ শতাংশ, নেপাল ৬৭.৯ শতাংশ, ভুটান ৬৬.৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্ক ৯১.৭১ শতাংশ, মালদ্বীপ ৯৭.৭ শতাংশ ও আফগানিস্তানের শিক্ষার হচ্ছে ৪৩ শতাংশ। 

প্রচলিত আছে, শিক্ষাখাতে দেশের মোট বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে।কিন্তু বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত এই বরাদ্দ ১০-১২ শতাংশেই আটকে আছে।২০১৯-২০ অর্থবর্ষে শিক্ষায় বরাদ্দ ১১.৬৮ শতাংশ। এই বরাদ্দের হার তৃতীয় বিশ্বের অনেক অনুন্নত দেশের তুলনায়ও কম।

উচ্চশিক্ষা মূলত গবেষণাধর্মী শিক্ষা। কিন্তু উচ্চশিক্ষাতে গবেষণা নেই বললেই চলে। গবেষণার জায়গায় স্থান পেয়েছে সরকারি চাকরিপ্রাপ্তির লক্ষ্যে পড়াশোনা। শিক্ষকরা ব্যস্ত রাজনীতি ও বিভিন্ন লবিংয়ে। বিষয়জ্ঞান অর্জন থেকে শিক্ষার্থীরা চলে যাচ্ছে বহুদূরে। ফলে সরকার শিক্ষার্থীদের পেছনে যে ব্যয় করছে, তা শিক্ষার অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। গুণগত শিক্ষায়ও পিছিয়ে বাংলাদেশ। নেই হাতে-কলমে শিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ। ফলে চাকরির বাজারে গিয়ে সমস্যায় পড়ছে মানুষ। 


cover
নারী ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ
নারীর ক্ষমতায়ন মূলত অর্থনৈতিক ক্ষেত্র এবং রাজনৈতিক অবকাঠামোতে অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি মাধ্যম বা উপায়, যার মাধ্যমে নারীরা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে প্রকাশ করতে পারেন এবং নিজেদের অধিকারগুলো আদায়ে সচেষ্ট হতে পারেন। শিক্ষায় নারীদের শতভাগ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা, নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করা, আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নারীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাজনীতিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার জন্য সরকারের উদ্যোগ ও সাফল্য প্রশংসার যোগ্য। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশের কর্মসংস্থানে নারীদের ক্ষমতায়নের হার হচ্ছে ৩০.৬ শতাংশ। যেখানে সার্কভূক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারতের এ হার হচ্ছে ২০.৩ শতাংশ, পাকিস্তান ২০.১ শতাংশ, নেপাল ৫৫.৮ শতাংশ, ভুটান ৪০.৮ শতাংশ, শ্রীলঙ্কা ৩৩.৭ শতাংশ, মালদ্বীপ ২০.২ শতাংশ ও আফগানিস্তান ২১.৬ শতাংশ। 

নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে কোনো জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা এসএমই ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আবার নারী উদ্যোক্তারা বাংলাদেশ ব্যাংক ও এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক থেকে ১০ শতাংশ সুদে ঋণও নিতে পারছেন। বর্তমানে ৩০ লাখেরও বেশি নারী শ্রমিক পোশাক শিল্পে কর্মরত আছেন।কর্মজীবনে নারীদের অংশগ্রহণকে সহজ করার লক্ষ্যে মাতৃত্বকালীন ছুটি ৪ মাস থেকে ৬ মাসে উন্নীত করা হয়েছে। প্রান্তিক নারীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য খোলা হয়েছে গ্রামভিত্তিক কমিউনিটি ক্লিনিকের; মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিমের আওতায় গর্ভধারণ থেকে প্রসবকালীন সব খরচ, এমনকি যাতায়াত খরচও এখন সরকার বহন করে। যার ফলে মাতৃত্বকালীন মৃত্যুহার এখন প্রতি লাখে ১৭০ জন। এছাড়া খেলাধুলা, শিক্ষাখাত পরিচালনা পর্যায়ের পদ এমনকি যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বে বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে রোল মডেল। 


এই খাতগুলো ছাড়াও কৃষিখাতে বাংলাদেশের সাফল্য বরাবরই প্রশংসা পেয়ে এসেছে। কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে খ্যাতিও আছে এই দেশের। জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৩৮.৬ শতাংশ মানুষ বর্তমানে কৃষিকাজের সাথে যুক্ত। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে এই হার সবচেয়ে বেশি অবশ্য নেপালে, ৬৫ শতাংশ। ভারতে এই হার ৪২.৪, শ্রীলঙ্কা ২৪.৫, ভুটানে ৫৫.৩। 

মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে যে ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হবে বাংলাদেশ?
মধ্যম আয়ের দেশ হওয়া নিঃসন্দেহে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জন্য একটি মর্যাদার ব্যাপার। তবে মুদ্রার উল্টোপিঠও দেখতে হতে পারে আমাদের। মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের সামনে যেমন নতুন সম্ভাবনা ও সুযোগ তৈরী হবে তেমনি নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে, এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ায় রপ্তানী আয়, বৈদেশিক ঋণ ও প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা কমে যাওয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশী পড়বে পোশাক শিল্পের ওপর। গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের গবেষক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য রপ্তানীর ক্ষেত্রে সুবিধা কমে যাওয়াটাই হবে বাংলাদেশের সামনে প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ ।
cover
আগের মত সহজ শর্তে বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য পাবে না বাংলাদেশ। ড. ভট্টাচার্য বলছেন, "বাংলাদেশ আগের মত রেয়াতি সুদে ঋণ পাবে না। বাংলাদেশকে ক্রমান্বয়ে একটি মিশ্র অর্থায়নে যেতে হবে যেখানে উচ্চ সুদে বৈদেশিক ঋণ নিতে হবে।"






Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021