Link copied.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে কারণে রক্তক্ষয়ী ‘ভিয়েতনাম’ যুদ্ধে জড়িয়েছিল
writer
অনুসরণকারী
cover
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের মানুষের স্বাধীনতার ইতিহাস কমবেশি সবারই জানা। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হাত থেকে নিজেদের পবিত্র ভূখণ্ডকে মুক্ত করতে সেখানকার মানুষ দীর্ঘ ২১ বছর যাবত সংগ্রাম করে আসছিলেন। উনিশ শতকের শেষেদিকে ঐ অঞ্চলের দখল নিয়েছিল ফ্রান্স। সেখানে উপনিবেশ স্থাপন করে রীতিমত বর্বরতা চালিয়ে আসছিল দেশটি। অতঃপর প্রেক্ষাপট কিছুটা পাল্টে যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে। যদিও এর কিছুকাল পূর্বে বর্বরতার সীমা অতিক্রম করা জাপান ঐ ভূখণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অঞ্চল দখল করে নিয়েছিল। যদিও তারা ফরাসিদের পুরোপুরি তাড়িয়ে দিতে পারেনি। বরঞ্চ ভাগাভাগি করে শাসনকার্য পরিচালনা করে দুই দেশ। কিন্তু তখনও বসে নেই ঐ অঞ্চলের মানুষ।

চীনা বিপ্লব থেকে কিছুটা আশার আলো দেখেছিলেন সেখানকার মানুষ। কিন্তু সে আলোর প্রতিফলন খুব অল্প সময়ে পুরা ভূখণ্ডে ছড়ায়নি। বরঞ্চ এটি ছিল স্বাধীনতাকামী মানুষদের রক্তাক্ত ইতিহাসের সূচনা মাত্র। বলছিলাম ভিয়েতনামের কথা, যাদের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস দীর্ঘদিন যাবত পৃথিবীর বিভিন্ন জনপদকে স্বাধীনতা অর্জনে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল।
ভিয়েতনামের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয় প্রথম ইন্দোচীন যুদ্ধের মধ্যদিয়ে। আর শেষ হয় দ্বিতীয় ইন্দোচীন যুদ্ধে যা মূলত ভিয়েতনাম যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত। সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং চীনের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভিয়েতনামের স্বাধীনতা সংগ্রাম সফল করতে ১৯৪১ সালের মে মাসে ‘ভিয়েত মিন’ প্রতিষ্ঠা করেন হো চি মিন। বাংলায় এর অর্থ দাঁড়ায় ‘ভিয়েতনামের স্বাধীনতা সংঘ’। সংগঠনটি স্বাধীনতাকামী মানুষদের একত্রিত করে বিভিন্ন বাহিনী গঠন করে। বিশেষ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য সেখানে ছিলেন 'রেড নেপোলিয়ন' খ্যাত জেনারেল ভো নগুয়েন। মূলত তার নেতৃত্বে ১৯৪৩ সালে জাপানের বিরুদ্ধে গেরিলা আক্রমণ শুরু করে 'ভিয়েত মিন' বাহিনী। যদিও এই যুদ্ধে তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো অর্জন ছিল না। বরঞ্চ ১৯৪৫ সালে বাও দাইকে রাজা ঘোষণা করে ভিয়েতনামকে নিজেদের একটি রাজ্য হিসেবে ঘোষণা করে জাপান। দুই সাম্রাজ্যবাদী দেশের শাসনের ফলে শুধুমাত্র ১৯৪৪ এবং ১৯৪৫ সালের দুর্ভিক্ষে ২০ লক্ষ ভিয়েতনামী নাগরিক মৃত্যুবরণ করেন।

ততদিনে হো চি মিনের 'ভিয়েত মিন' সংগঠনের সদস্য কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তাদের সামনে দেশকে প্রথমবারের মতো দখলমুক্ত করার সুযোগ আসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষেদিকে। কোনঠাসা অবস্থায় থাকা জাপানকে তাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি বিপ্লবী নেতা হো চি মিন। আগস্টের মধ্যেই তার সংগঠনের নেতৃত্বাধীন গেরিলা বাহিনী ভিয়েতনামের একাধিক শহর দখল করে নেয়। অতঃপর ১৯৪৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর তারিখে হ্যানয় শহরে ভিয়েতনামের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন হো চি মিন। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব ভিয়েতনাম’ বা (ডিআরভি) নামে অভ্যুদয় ঘটে নতুন ভিয়েতনামের। অন্যদিকে, রাজা বাও দাইকে পদচ্যুত করে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করা হয় হো চি মিনকে। এখানেই শেষ হতে পারত ভিয়েতনামীদের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা সংগ্রাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এর থেকেও মারাত্মক যুদ্ধ অপেক্ষা করছিল তাদের জন্য।
cover
১৯৪৯ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে পুনরায় ভিয়েতনামের ক্ষমতা দখল করে নেয় ফরাসিরা। আবারো ক্ষমতায় বসানো হয় বাও দাইকে। কিন্তু সংগ্রাম চালিয়ে যায় 'ভিয়েত মিন' সংগঠনটি। ততদিনে চীনের সাহায্য অর্জন করে তারা। চীনের সমর্থন পাওয়ার পর সোভিয়েত ইউনিয়নও হো চি মিনকে সমর্থন জানায়। শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাও দাই সরকারের পক্ষ নেয়। চীন, সোভিয়েত ইউনিয়ন সহ সবকটা কমিউনিস্ট দেশ মিলে 'ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব ভিয়েতনামকে স্বীকৃতি প্রদান করে। ততদিনে এটি উত্তর ভিয়েতনাম হিসেবেই বেশি পরিচিতি পায়। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় সাইগন সহ দক্ষিণ ভিয়েতনামের নেতৃত্বাধীন বাও দাই সরকারকে স্বীকৃতি দেয় কমিউনিস্ট বিরোধী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ অন্যান্য দেশ। অতঃপর ১৯৫৪ সালে 'ভিয়েত মিন' বাহিনীর সঙ্গে সর্বশেষ সম্মুখ যুদ্ধে পরাজিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিয়েতনাম থেকে বিদায় নেয় ফরাসিরা। তারা ভিয়েতনাম ছেড়েছিল ঠিকই তবে দুই ভিয়েতনামকে এক করে দিয়ে যায়নি। যার ফলে অমীমাংসিত থেকে যায় ভূখণ্ড এবং অধিকার ভাগাভাগি।

একই বছর জেনেভা চুক্তির মধ্যদিয়ে দুই ভিয়েতনামকে আলাদা করা হয়েছিল। উত্তর ভিয়েতনামের নেতৃত্বে থাকেন হো চি মিন এবং দক্ষিণে বাই দাও। এছাড়াও জেনেভা সম্মেলনে ঠিক হলো ১৯৫৬ সালে ভোটের মাধ্যমে দুই ভিয়েতনামকে এক করা হবে। যে সীমারেখা দিয়ে দুই ভিয়েতনামের মানুষকে আলাদা করা হয়েছিল সেটি 'সেভেনটিন্থ প্যারালাল' নামে পরিচিত ছিল। সীমানা ভাগের পর দুই ভূখণ্ডেই হো চি মিনের জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। বিশ্ববাসী ধরেই নিয়েছিল ভোটে তার জয় আসন্ন। যদিও ভিয়েতনামের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর তাকে সাহায্য করে ভিয়েতনামেরই একজন পুঁজিবাদী নেতা। এভাবেই ভিয়েতনাম যুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে জড়িয়ে পড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যাদের গোলার আঘাতে শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় 'ইন্দোচীন' বা ভিয়েতনাম যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধের স্থায়িত্ব ছিল আরে অর্ধ-যুগেরও বেশি সময়। যে যে কারণে মার্কিনিরা ভিয়েতনাম যুদ্ধে জড়িয়েছিল সে সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
ডোমিনো তত্ত্ব

১৯৫০ এর দশকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় কূটনৈতিক এবং সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টিকে মার্কিন সরকার ডোমিনো তত্ত্ব দ্বারা বিশ্লেষণ করে। জেনেভা চুক্তিতে একমত না হওয়ার পেছনে মার্কিনিদের কমিউনিস্ট বিদ্বেষী মনোভাব যেমন ছিল তেমনি ছিল এই অঞ্চলে সোভিয়েত এবং চীনা প্রভাব বৃদ্ধির আশঙ্কা। দেশটি কখনোই মেনে নিতে পারতো না দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় (তখনও ফরাসি উপনিবেশ ছিল) সাম্যবাদের জোয়ার বয়ে যাক। আর সেটির অনুপ্রেরণা চরম মাত্রার কমিউনিস্ট দেশ চীন বা সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে আসবে এমনি মেনে নেয়া একপ্রকার অসম্ভব ছিল মার্কিনিদের জন্য। কারণ ততদিনে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধ বেড়েই চলেছিল তাদের।
cover
ডোমিনো তত্ত্বের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসনের ব্যাখ্যা ছিল যে, এশিয়া অঞ্চলের অন্যান্য দেশ সমূহ সোভিয়েত ইউনিয়ন কিংবা কমিউনিস্ট চীনের মতাদর্শ অনুসরণ করে বিপ্লব সৃষ্টি করবে যেমনভাবে পূর্ব ইউরোপের দেশ সমূহ ইতোমধ্যেই সোভিয়েত আধিপত্যে চলে গিয়েছে। অন্ততপক্ষে পুঁজিবাদী অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার পক্ষে থাকা রাজনৈতিক মতাদর্শ, নেতা এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য এটি ছিল একপ্রকার হুমকি। ঠিক এই কারণে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ার জেনেভা চুক্তিতে সাক্ষর না করে 'ডোমিনো তত্ত্ব' আহ্বান করেন। ১৯৫৪ সালের ৭ এপ্রিল তারিখে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত সংবাদসম্মেলনে এশিয়ার ভবিষ্যৎ কমিউনিস্টদের দখলে চলে যাবে বলে ইঙ্গিত করেন তিনি। যদিও সামরিক হস্তক্ষেপের অনুমোদন দেয়ার বিষয়ে তখনও সুস্পষ্ট কিছু বলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি পুঁজিবাদী, বিশ্বাসঘাতক দিন দিয়েমকে দক্ষিণ ভিয়েতনামের ক্ষমতায় টিকে থাকতে ঠিকই সাহায্য করেছিলেন।
রাজনৈতিক কারণ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই কম্যুনিজম ঢুকে পড়ার আতঙ্ক দানা বাঁধতে শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো ততদিনে সোভিয়েত ইউনিয়নের সান্নিধ্যে কমিউনিস্ট দেশের তকমা পেতে শুরু করেছিলো। ১৯৫০ এর দশকে জোসেফ ম্যাকার্থি রাজনৈতিক মঞ্চে প্রবেশ করলেন। তখন কম্যুনিজম নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে পৌঁছেছিলো। কারণ এর এক বছর আগে সোভিয়েত ইউনিয়ন নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালায়। আবার ঠিক একই সময়ে চীনের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে জয়লাভ করেন মাও সে তুং। যা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ আরো বাড়িয়ে দেয়।
cover
রিপাবলিকান ম্যাকার্থি সহ মার্কিন নাগরিকদের উল্লেখযোগ্য অংশ বিশ্বাস করতেন চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সফলতার পেছনে সোভিয়েত ইউনিয়নের কারসাজি ছিল। সবমিলিয়ে দেশে এবং বিদেশে কম্যুনিজম রুখতে উঠেপড়ে নামে মার্কিন সরকার। আর প্রথম দিক থেকে এর নেতৃত্ব দেয় জোসেফ ম্যাকার্থি। এতে করে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই লাখ লাখ নাগরিক বেকারত্ব লাভ করেন। কাজ হারিয়ে অর্ধাহারে, অনাহারে মৃত্যুবরণ করার মতো সংবাদও এসেছিল তখনকার সময়ে পত্রিকার পাতায়। নিজ ভূখণ্ডে মার্কিনিরা সাম্যবাদ দমনে যতটা কঠোরতার পরিচয় দিয়েছিল ততটাই নিষ্ঠুরতা দেখিয়েছিল দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় চলমান কমিউনিস্ট বিপ্লবের বিপক্ষে। আর এই কারণেই জেনেভা চুক্তিতে সাক্ষরের উদ্দেশ্যে হাতে কলম তোলেননি প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ার।
প্রতিশোধ এবং সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন

প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ারের পর হোয়াইট হাউসের কর্তা নিযুক্ত হন জন এফ কেনেডি। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কোনো ক্যাথলিক হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এই ডেমোক্রেট নেতা। তার প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি ছিল পূর্বের প্রশাসনের তুলনায় আরো বেশি অগ্রগামী। প্রশাসন পরিবর্তিত হলেও ভিয়েতনামের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। কেনেডির উপদেষ্টামণ্ডলি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় মার্কিন বলয় বৃদ্ধি করার জন্য সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের পক্ষে একমত হন। সবার উদ্দেশ্য ছিল একই। যে কোনো মূল্যে কম্যুনিজম ধ্বংস করা।
cover
১৯৬২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে, কেনেডি প্রশাসন দক্ষিণ ভিয়েতনামে সামরিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে একটি কমান্ড গঠন করে। মিলিটারি অ্যাসিস্ট্যান্স কমান্ড অব ভিয়েতনাম হিসেবে পরিচিতি পায় এটি। সকলপ্রকার অনুমোদন পেতেও দেরি হয়নি। ঐ বছর কয়েক হাজার মিলিটারি পরামর্শদাতা দক্ষিণ ভিয়েতনামে প্রেরণ করেছিল কেনেডি প্রশাসন। ১৯৬৩ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ষোল হাজারে। যদিও সে বছর খুন হন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি। লী হার্ভি অসওয়াল্ড তাকে গুলি করে হত্যা করেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ারেন কমিশনের রিপোর্টে দাবি করেছিল। ধারণা করা হয় সাবেক এই জেনারেল অসওয়াল্ড সোভিয়েত ইউনিয়নের গুপ্তচর হিসেবে তাকে খুন করেন। এর সাথে ভিয়েতনামে সামরিক সহায়তা প্রেরণের উপযুক্ত সম্পর্ক দেখছেন ইতিহাসবিদেরা।
টনকিন উপসাগরে হামলার প্রতিশোধ

১৯৬৩ সালের নভেম্বরে জন এফ কেনেডি হত্যাকাণ্ডের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন লিন্ডন জনসন। দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে কেনেডির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নিমিত্তে বাকি কাজগুলোতে হাত লাগান তিনি। আর এই সমস্ত কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল দক্ষিণ ভিয়েতনামে মার্কিনপন্থী সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘায়ত করা। আর এটি করার জন্য শুধুমাত্র মিলিটারি পরামর্শক নিয়োগ যথেষ্ট ছিল না। দরকার ছিল সৈন্য প্রেরণ করা। প্রেসিডেন্ট জনসন যখন নিজের প্রশাসনের উপদেষ্টাদের নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করছিলেন ঠিক তখনি উত্তর ভিয়েতনামের 'ভিয়েত মিন' বাহিনী ঘটায় এক ভয়াবহ ঘটনা।
cover
১৯৬৪ সালের প্রথমদিকে ভিয়েতনামের টানকিন উপসাগরে নিয়মিতভাবে পাহারা দিত মার্কিন নৌবাহিনী। সেখানে টহলরত যুদ্ধজাহাজে হামলার অভিযোগ আনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়াও বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে বলেও শোনা যায়। এই ঘটনার পুরো দায় উত্তর ভিয়েতনামের উপর চাপিয়ে দিয়ে সেখানে সামরিক শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা করে জনসন প্রশাসন। কংগ্রেসে এই সংক্রান্ত একাধিক বিল পাস করার পর দক্ষিণ ভিয়েতনামে হাজার হাজার মার্কিন সেনা পৌঁছাতে থাকে। সে সময় যুদ্ধজাহাজে হামলাকে কেন্দ্র করে উত্তর ভিয়েতনামে বিমান হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বিমান বাহিনী।
সামরিক ঘাঁটি স্থাপন

ততদিনে ভিয়েতনামে একাধিক বিমানঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল 'ডা নেনগ'এ অবস্থিত ঘাঁটিটি। ১৯৬৫ সালের মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট জনসনের এক আদেশক্রমে বিমানঘাঁটি পাহারা দেয়ার জন্য বিপুলপরিমাণ সৈন্য সহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ যাত্রা করে ভিয়েতনামের উদ্দেশ্যে। সেবারই প্রথমবারের মত বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছিল দেশটি। বছর শেষে হিসেব অনুযায়ী দেখা যায় শুধুমাত্র ১৯৬৫ সালে ১,৮৪,০০০ মার্কিন সেনা সদস্য উপস্থিত ছিলেন ভিয়েতনামে।
cover
আর এই সংখ্যা প্রতিবছর বাড়তেই থাকে। ১৯৬৬ সালে সৈন্য সংখ্যা দ্বিগুণ করে মার্কিন সরকার। সেবার হিসেব অনুযায়ী ভিয়েতনামে মার্কিন সেনাসদস্য ছিলেন ৩,৮৫,০০০ জন যা পরের বছর ৪,৯০,০০০ এ গিয়ে ঠেঁকে। যদিও ততদিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছিল ব্যাপক আন্দোলন। ১৯৬০ এর দশকে সে সময়ের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তর সামরিক ব্যয়ের নজির ঘটায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই যুদ্ধে ব্যয়ের প্রভাব মার্কিন জনজীবনে মারাত্মকভাবে প্রভাব ফেলে। এতে করে আস্তে আস্তে সরে আসতে চেষ্টা করে দেশটি। প্রেসিডেন্ট জনসন বিপুল পরিমাণ সৈন্য প্রেরণের বিষয়টিকে বৈশ্বিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করতেন।

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021