Link copied.
ক্রীড়াজগতে সর্বোচ্চ আয়ে শীর্ষে রয়েছে যে ১০ খেলোয়াড়!
writer
অনুসরণকারী
cover
সভ্যতার পরিবর্তনে প্রায় সকল পেশাজীবী মানুষের আয় বেড়ে চলেছে। ২০০ বছর আগেও ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে যেমন কেউ ভাবত না তেমনি সেখানকার মানুষদের নিয়েও তেমন একটা ভাবত না কোনো খেলোয়াড়, দেশ বা প্রতিষ্ঠান। বলতে গেলে ২০০০ সালের পর থেকে খেলাধুলার জগতে পেশাদারিত্ব বেড়েছে কয়েকগুণ। এই পেশায় সংশ্লিষ্ট সকলের অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। কারণ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বুঝতে পেরেছে প্রচারেই প্রসার। আর প্রচারের জন্য সবচেয়ে লাভজনক মাধ্যম হতে পারে স্বীকৃত ক্রিকেট, ফুটবল, বাস্কেটবল সহ বিভিন্ন ধরণের খেলাধুলা।
আর এই ধারণা থেকেই বিনিয়োগ বেড়েছে ক্রীড়াঙ্গনে। বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এখন সরাসরি খেলোয়াড়ের পকেটে যায়। দুই দশক আগে পারিশ্রমিকের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এখন এমনটা দেখা যায় না। কারণ খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক প্রায় সকলেই এক একজন এক একটা ব্রান্ড। আমরা জানি প্রতিটি ব্রান্ডেরই একটা ভ্যালু থাকে। খেলাধুলা পছন্দ করেন কিংবা খবরাখবর রাখেন এমন মানুষদের নিকট খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিয়ে বেশ কৌতুহল রয়েছে। তাই আমরা আজ সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড়দের নিয়ে আলোচনা করব। প্রথমেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আয়কারী অ্যাথলেটদের দিয়ে শুরু করা যাক।
বাংলাদেশে এগিয়ে রয়েছেন যারা

বাংলাদেশী খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় করেন ক্রিকেটাররা। কারণ ফুটবল, হকি সহ অন্যান্য খেলাধুলোয় ব্যাপক অর্থায়ন ঘটেনা এখানে। আর ক্রিকেটারদের আয় নির্ভর করে কেন্দ্রিয় চুক্তির উপর। স্বীকৃত ক্রিকেটের তিন ফর্মেটে আলাদা আলাদা চুক্তি করে বিসিবি। পারিশ্রমিকও তাকে ফর্মেট অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন। বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের মধ্যে বেতনভাতা অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি আয় করেন বলা চলে তামিম ইকবাল খান। ওয়ানডে দলের কাপ্তান তামিম ইকবাল শুধুমাত্র বিসিবি থেকে কেন্দ্রিয় চুক্তি বাবদ পেয়ে থাকেন ৫৭,০০০ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, ম্যাচ ফি বাবদ পান আরো ১৩,১০০ ডলার করে। যদিও বছর শেষে ম্যাচের উপর নির্ভর করে কয়েকগুণ বাড়ে ম্যাচ ফি এর পরিমাণ।
cover
আয়ের দিকদিয়ে সবার থেকে এগিয়ে রয়েছেন টি-টোয়েন্টি দলের কাপ্তান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। বিসিবির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী তার বেতন ৬০,০০০ ডলার। অন্যদিকে, ম্যাচ ফি বাবদ ১৩,১০০ ডলার তো রয়েছেই। যদিও মাস কয়েক আগে টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষনা দিয়েছিলেন এই ক্রিকেটার। সেক্ষেত্রে টেস্টের উল্লেখযোগ্য ফি কমায় মোট আয়ের ক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে গেছেন মাহমুদুল্লাহ। এদিকে, প্রায় সকল ফর্মেটে সমানভাবে খেলে যাওয়া মুশফিকের বেতনও ৫৭,০০০ ডলার। ম্যাচ ফি এর ১৩,১০০ ডলার হিসেব করলে তিনি যে পরিমাণ ম্যাচ খেলেন তাতে বলা যায় সর্বোচ্চ আয়ের তালিকায় শুরুতেই রয়েছেন মুশফিক। চলতি বছর তিনি প্রায় সকল ফর্মেটেই ক্রিকেট খেলেছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।
cover
এবার আসা যাক সাকিব আল হাসান প্রসঙ্গে। বিসিবির কেন্দ্রিয় চুক্তিতে ফিরেছেন দেশসেরা এই ক্রিকেটার। এর আগে বছরখানেকের জন্য নিষিদ্ধ হয়ে ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন তিনি। যদিও কেন্দ্রিয় চুক্তিতে তার আয়ের হিসেবনিকেশ তামিমের মতোই। দুজনের বেতন এবং ম্যাচ ফি একই। তবে ক্রিকেটের বাইরে বিজ্ঞাপন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে সাকিব যা আয় করেন তার ধারেকাছে নেই বাংলাদেশ দলের অন্য কেউ। কারণ দেশে বিদেশে অনেক অনেক বিনিয়োগ করেছেন তিনি। চলমান ব্যবসা রয়েছে তার। প্রতিষ্ঠা করেছেন সাকিব আল হাসান ক্রিকেট একাডেমিও।
cover
সর্বোচ্চ আয়কারী খেলোয়াড় যারা

যুক্তরাষ্ট্রীয় সাময়িকী ফোর্বস ইতোমধ্যেই ২০২১ সালে সর্বোচ্চ আয়কারী খেলোয়াড়দের তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময় পর পর তালিকা প্রকাশ করে তারা। এই ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন, বেতনভাতা এবং বিবিধ আয়ের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়। আর তাই এবারের তালিকায় ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। কোভিড-১৯ এর সময়ে এসে প্রায় সকল খেলাধুলায় বেতন কাটছাঁট করেছিল ক্লাবগুলো। তবুও কমেনি আয়ের পরিমাণ।
cover
কনর ম্যাকগ্রেগর

৩৩ বছর বয়সী এই কুস্তিগির জন্মগ্রহণ করেন আয়ারল্যান্ডে। ২০২১ সালে ফোর্বসের হিসেবনিকেশে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি আয় করা ক্রিড়াবিদ নির্বাচিত হয়েছেন কনর ম্যাকগ্রেগর। গত এক বছরে তার আয় ছিল ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ইউএফসি ছাড়াও তার আরো কয়েকটি আয়ের উৎস রয়েছে। খেলাধুলার বাইরে তার সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস তারই প্রতিষ্ঠিত হুইস্কি প্রতিষ্ঠান থেকে। এরপর তালিকায় রয়েছে ড্রাফটকিং, ভিডিও গেম ডায়েস্টোপিয়া, কনটেস্ট অব হিরোস এবং পোশাক ব্রান্ড রুটস অব ফাইট। মোটামুটি পেশাদার জীবনের পাশাপাশি ব্যবসায়ীক জীবনেও সফলতা অর্জন করছেন কনর ম্যাকগ্রেগর।
লিওনেল মেসি

চলতি বছরের মে মাসে ফোর্বসের তালিকা অনুযায়ী দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় করা ক্রিড়াবিদ নির্বাচিত হয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তী লিওনেল মেসি। বর্তমানে প্যারিস সেন্ট জার্মেইন বা পিএসজিতে খেললেও ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটা সময় কাটিয়েছেন কাতালান ক্লাব বার্সেলোনায়। চলতি বছর তার মোট আয় ছিল ১৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যার মধ্যে ৯৭ মিলিয়ন এসেছে ফুটবল থেকে। মেসির খেলাধুলার বাইরেও আয়ের ভিন্ন ভিন্ন উৎস রয়েছে। দ্য লিও মেসি নামক একটি পোশাকের ব্রান্ড রয়েছে তার। উল্লেখযোগ্য হারে আয়ের কারণে তার মোট আয়ও বেড়ে দাঁড়িয়েছে।
cover
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়েছেন ২০১৮ সালে। রিয়ালে থাকাকালীন প্রায়শই সর্বোচ্চ আয়কারী ক্রিড়াবিদ নির্বাচিত হতেন তিনি। অতঃপর য়্যুভেন্তাস হয়ে চলতি বছর পাড়ি জমিয়েছেন নিজের সাবেক ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। ম্যানইউ তাকে ২ বছরে ৭০ মিলিয়ন পরিশোধ করবে বেতন এবং বোনাস মিলিয়ে। যদিও ইতোমধ্যে ১২৫ মিলিয়ন আয় করে মেসির পরে তৃতীয় জায়গাটি দখল করেছেন রোনালদো। ফোর্বস ধারণা করছে ২০২২ সালে মেসিকে ছাড়িয়ে যাবেন তিনি। ফুটবল থেকে আয় ছাড়াও বিভিন্ন খাত থেকে প্রতিবছর প্রায় ৬০ মিলিয়নেনও বেশি আয় করেন রোনালদো যা ক্রিড়াবিদদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ডেক প্রেসকট

আমেরিকান ফুটবল তারকা ডেক প্রেসকট ২০২০ সালে ডালাস কাউবয়েসের সঙ্গে ৪ বছরের চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী ক্লাবটি তাকে বেতন হিসেবে ১৬০ মিলিয়ন, বোনাস হিসেবে ৬৬ মিলিয়ন এবং ৩২ মিলিয়ন বিবিধ পরিশোধ করবে। মূলত এই চুক্তির কারণেই শত মিলিয়ন আয়কারী ক্রীড়াবিদের তালিকায় উঠে এসেছেন ডেক প্রেসকট। ২০২১ সালে তার সর্বমোট আয় ১০৭.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বেতন, বোনাসের বাইরে বিজ্ঞাপন বাবদ আরো ১০ মিলিয়নের মতো আয় করেন এই তারকা।
cover
লেব্রন জেমস

মার্কিন বাস্কেটবল তারকাদের মধ্যে একমাত্র ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করা ক্রীড়াবিদ হলেন লেব্রোন জেমস। ৩৬ বছর বয়সী এই তারকার বাৎসরিক বেতন প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলার হলেও অত্যধিক বোনাসের কারণে তার আয় শত মিলিয়নের কাছাকাছি পৌঁছায়। নাইকি, পেপসিকো, ব্লেজি পিৎজ্জার মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকায় বেতনের বাইরেও মোটামুটি অর্থ আয় করেন লেব্রন। তিনি ২০০৩ সালে হাইস্কুল শেষ করেই এনবিএ বাস্কেটবলে খেলার সুযোগ পান। খুব অল্প বয়সে পেশাদার বাস্কেটবলে নাম লেখানোর কারণে হয়ে উঠেন ইতিহাসের অন্যতম মেরা ক্রীড়াবিদদের একজন। গত বছর তার মোট আয় ছিল ৯৬.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
cover
নেইমার জুনিয়র

২০১৭ সালে ২২০ মিলিয়ন মূল্যে বার্সেলোনা থেকে পিএসজিতে পাড়ি জমান ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। পিএসজিতে গিয়েই পান অকল্পনীয় বেতন। ২০১৮ সালে আবার যখন তিনি পিএসজি ছাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন আবারো বেতন বাড়ায় কাতার ভিত্তিক পরিচালিত ক্লাবটি। বর্তমানে পিএসজির সর্বোচ্চ বেতনভোগী ফুটবলার নেইমার। ইতোমধ্যে একাধিকবার শত মিলিয়ন আয়ের তালিকায়ও জায়গা পেয়েছেন তিনি। যদিও এবার তালিকায় ষষ্ঠে অবস্থানে রয়েছেন। গত বছর তার মোট আয় ছিল ৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যার মধ্যে ৭৬ মিলিয়ন এসেছে ফুটবল থেকে। বাকি ১৮ মিলিয়ন বিজ্ঞাপন সহ অন্যান্য উৎস থেকে পেয়েছেন নেইমার।
দরজার ফেদেরার

৯০.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে তালিকায় নেইমারের পরেই অবস্থান করছেন টেনিস কিংবদন্তী রজার ফেদেরার। চলতি বছর একাধিক গ্রান্ড স্ল্যাম মিস করলেও আয়ের দিক থেকে জোকোভিচ, নাদালদের তুলনায় ৩ গুণ এগিয়ে রয়েছেন ফেদেরার। চলতি বছর শুধুমাত্র কাতার ওপেনে অংশগ্রহণ করে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার কারণে বিপুল পরিমাণ আয় করেছেন। ফোর্বসের মতে টেনিস থেকে মাত্র ০.০৩ শতাংশ আয় হয়েছে তার। বাকি অর্থ এসেছে রোলেক্স, ক্রেডিট সুইস এবং ইউনিকলের বিজ্ঞাপন থেকে।
cover
লুইস হ্যামিল্টন

নিঃসন্দেহে তিনি ফর্মুলা ওয়ান এর জগতে এক নম্বর তারকা। সর্বমোট ৭ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হ্যামিল্টনের বাৎসরিক আয় ৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৩ সাল থেকে মার্সিডিজের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ তিনি। ২০১৮ সালে ২ বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী বাৎসরিক ৩০ মিলিয়ন বেতনের পাশাপাশি ২০ মিলিয়ন বোনাসও যুক্ত ছিল। সবমিলিয়ে শুধুমাত্র মার্সিডিজের কাছ থেকেই তার বাৎসরিক আয় ৫০ মিলিয়নের অধিক। ফোর্বসের হিসেবে ফর্মুলা ওয়ানের বাইরেও বিজ্ঞাপন সহ বিবিধ আয় ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এখন অবধি ক্যারিয়ারে সর্বমোট ২৮৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন লুইস হ্যামিল্টন। 
টম ব্রেডি

টম ব্রেডি আমেরিকান ফুটবলের কিংবদন্তী তারকাদের একজন। ৪৪ বছর বয়সী এই তারকা বর্তমানে ট্যাম্পা বে বুকেনার্সের সঙ্গে ৪ বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ রয়েছেন। চুক্তি অনুযায়ী ২ বছর অন্তর অন্তর বেতন হিসেবে প্রায় ৪০ মিলিয়ন পাবেন তিনি। ফলশ্রুতিতে চুক্তির প্রথম বছরেই বোনাস সহ সর্বমোট ৭৬ মিলিয়ন পকেটে পুরে নিয়েছেন টম ব্রেডি। আমেরিকান ফুটবলের এই কিংবদন্তী একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে যেমন প্রতিষ্ঠিত তেমনি একজন ব্যবসায়ী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে সুনাম কুড়িয়েছেন।
cover
কেভিন ডুরেন্ট

মার্কিন বাস্কেটবল তারকাদের মধ্যে বেতনের দিকদিয়ে সপ্তম অবস্থানে রয়েছেন কেভিন ডুরেন্ট। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ আয়ের দিকদিয়ে রয়েছেন সকল ক্রীড়াবিদদের মধ্যে ১০ম অবস্থানে। ২০১৯ সালে ব্রোকলিন নেটসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর থেকে এনবিএর ষষ্ঠ সর্বোচ্চ বেতনভোগী খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি। তার বাৎসরিক বেতন ৪০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। বাস্কেটবল খেলোয়াড় হিসেবে তার মার্কেট ভ্যালু ২০০ মিলিয়ন ধরা হলেও ফোর্বসের হিসেবে তার আয় ছিল ৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা তাকে তালিকায় দশতম অবস্থানে রেখেছে।

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021