সারাদেশ
পিঁয়াজু বিক্রি করেই কোটিপতি গাজীপুরের মাসুদ
দরিদ্র পরিবারে জন্ম। জীবন চালাতে ৩০০ টাকা পুঁজি দিয়ে শুরু করেছিলেন ২ টাকা মূল্যের পিঁয়াজু বিক্রি। প্রায় দুই দশক ধরে পিঁয়াজু বিক্রি করে এখন তিনি কোটিপতি। বলা হচ্ছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পিঁয়াজু বিক্রেতা মাসুদ খানের কথা। সুস্বাদু পিঁয়াজু খেতে তার দোকানে দূর দূরান্ত থেকে আসেন বিভিন্ন স্থানের মানুষ। দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে মেলেছে মাসুদের দেখা। কালিয়াকৈর উপজেলার বড়ইতলি গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ। বাবা মারা যাওয়ার পর মা, ৬ বোন ও ২ ভাইসহ ৯ সদস্যের বিশাল পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে মাসুদের কাঁধে। সংসার চালাতে বাজাররোড এলাকায় মাত্র ৩০০ টাকা পুঁজিতে শুরু করে পিঁয়াজু বিক্রি। সুস্বাদু পিঁয়াজুর টানে দূর দূরান্তের মানুষ ভিড় করতো মাসুদের দোকানে। ফুটপাতের এই দোকানেই কপাল খুলে যায় মাসুদের। বদলে যায় ভাগ্যের চাকা। 
বর্তমানে মাসুদের সেই দোকানে কাজ করেন ১৫ জনের মতো শ্রমিক। দোকানের পাশাপাশি বর্তমানে মাসুদের রয়েছে হোটেল, নিজস্ব বাড়িসহ জমিজমা। ২ টাকা থেকে শুরু করে ৬ টাকার পিঁয়াজু বিক্রি করেই মাসুদ এখন কোটিপতি। বর্তমানে পরিবার নিয়ে বেশ সুখে আছেন গাজীপুরের এই বাসিন্দা। মাসুদ বলেন, 'খোদার রহমতে বর্তমানে খুব ভালো আছি। পিঁয়াজু বিক্রি করেই সম্পত্তি করেছি। আমার হোটেলে ১৫-২০টা মানুষ কাজ করে, নিজে বাড়ি দিয়েছিঃ, আরেকটা বাড়ি দেয়ার কথা চিন্তা করছি, হোটেল আছে। সব মিলে ভালোই'। তিনি আরও বলেন, 'এই পিঁয়াজু বিক্রি করেই নিজের ৪ টা বোনকে বিয়ে দিয়েছি। এদিকে শুধু আমার নিজেরই নয়, আমার এই দোকানের দ্বারা এখানকার কর্মচারীরাও ভালো চলছে। আমি পিঁয়াজু বিক্রি করেই ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা কর্মচারী বেতন দেই। আল্লাহ আমাকে ভালো রাখছে-এটাই অনেক'। দোকানে কাজ করা এক কর্মচারী বলেন, 'এখানে কাজ করে আমার পরিবারে সচ্ছলতা এসেছে। আমাকে মাসে ২৪ হাজার টাকা বেতন দেয়া হয়, এই টাকায় আমি খুব ভালোভাবে সংসার চালাতে পারি। আমার মতো এখানে আরও অনেকে কাজ করে পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়েছে'।
পিঁয়াজু বিক্রেতা 'মাসুদ'
পিঁয়াজু বিক্রেতা 'মাসুদ'
এদিকে, মাসুদের দোকানে পিঁয়াজু কিনতে আসা এক ক্রেতা জানান, 'অনেক জায়গায় পিঁয়াজু খেয়েছি, কিন্তু সত্যি বলতে এখানকার মতো স্বাদ আর কোথাও পাইনা।' আরেক ক্রেতার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, 'এখানকার পিঁয়াজু অনেক সুস্বাদু। আর চাহিদাও অনেক। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে সিরিয়াল দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি।' বাবার মৃত্যুর পর যখন বড় পরিবারের নিজের ১২ বছরের কাঁধে এসে পড়ে তখন পরিবারের কথা চিন্তা করে পড়াশুনা বাদ দিয়ে ৩০০ টাকার পুঁজি নিয়েই শুরু করেন এই ব্যবসা। ব্যবসায় সফলতা পেতে অনেক কষ্ট করেছেন বলে জানান মাসুদ। তিনি বলেন, 'আব্বু যখন মারা যায় তখন এই ব্যবসা শুরু করি। আমি একা এই ব্যবসা তুলেছি। নিজে ভেঁজেছি, নিজে বানিয়েছি। সব নিজে করেছি। এখন আমার দোকানে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার পিঁয়াজু বিক্রি হয়। অনেক বছর একা একা কাজ করে ব্যবসাকে সফল করেছি। আমার সব সাফল্য এসেছে এই দোকানকে কেন্দ্র করেই।'
মাসুদের এই সাফল্যের গল্প তরুণদের মাঝে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করেন কালিয়াকৈর উপজেলার যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান। তিনি মনে করেন, উপজেলায় প্রশিক্ষণ নিয়েই মাসুদ আজ স্বাবলম্বী হয়েছে। এভাবেই আরও অভাব অনটনে থাকা তরুণদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা। সততা, নিষ্ঠা আর পরিশ্রম যে মানুষের ভাগ্য বদলে ফেলতে পারে, তার সবচেয়ে ভালো উদাহরন হয়ে দাঁড়ালেন গাজীপুরের মাসুদ। 
সারাদেশএক্সক্লুসিভগাজীপুর
আরো পড়ুন