যে সাহাবি সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে কোরআন তেলাওয়াত করেন
ধর্ম
যে সাহাবি সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে কোরআন তেলাওয়াত করেন
আল্লাহ তাআলা দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে বিশ্বমানবতার কল্যাণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর কোরআন নাজিল করেছেন। সাহাবায়ে কেরাম এ কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ ধারক ও বাহক। কোরআন নাজিলের প্রথম দিনগুলোতে কুরাইশারা লিপ্ত ছিল আল্লাহর অবাধ্যতায়, হেন অপরাধ ছিল না যা তারা করতো না। 
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
মক্কার এমন ইসলাম বিরোধী ও বৈরি পরিবেশে আল্লাহর একত্ববাদের বাণী প্রচার করতে গিয়ে কাফের-মুশরিকদের অকথ্য নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল আল্লাহর রাসুল ও সাহাবায়ে কেরামকে। সাহাবিদের নিয়ে গোপনে কোরআনের বাণী, আল্লাহ তায়ালার বিধি-বিধান সম্পর্কে জানাতেন আল্লাহর রাসুল। প্রকাশ্যে কোরআন তেলাওয়াতের বিষয়টি ভাবাও যেত না তখন।
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
ঠিক ওই সময় কুরাইশদের একেবারে নাকের ডোগায় গিয়ে কোরআন তেলাওয়াত করেন বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)। ইসলামের ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে কোরআন তেলাওয়াকারী সাহাবি হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন। কুরাইশ নেতাদের হতবাক করে সবার সামনে বায়তুল্লাহ শরিফে তিনি সুরা আর রহমানের কিছু অংশ তিলাওয়াত করেন। বলা হয় যে, তার তেলাওয়াত শুনলেই বিশ্বিনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাঁদতেন। বিশ্বনবির হিজরতের ৩৭ বছর আগে পবিত্র নগরী মক্কায় জন্ম গ্রহণ করেন হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রায়িাল্লাহু আনহু। ইসলাম গ্রহণের তালিকায় তার নাম ৬ নম্বরে। তিনি বদর, ওহুদ, খন্দক, বায়আতে রেদওয়ানসহ অনেক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। প্রকাশ্যে কোরআন তেলাওয়াতের জন্য অনেক বড় মাশুল দিতে হয়েছিল তাকে। কাবার সামনে জনসম্মুখে কোরআন তেলাওয়াত করার পরই তার ওপর নেমে আসে অকথ্য নির্যাতন। একারণে কুরাইশরা তাকে মারতে মারতে অজ্ঞান করে ফেলে। জ্ঞান ফেরার পর যখন সবাই বলাবলি করলেন— তোমাকে এজন্য না যেতে বলেছি, তিনি জবাব দিয়েছিলেন, আল্লাহর কসম! আমি আবারও যাব এবং তাদের সামনে কোরআন পাঠ করব। -(উসদুল গাবাহ, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা ৩৮২) 
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাহাবাদেরকে) তার কাছ থেকে কুরআন শেখার নির্দেশ দিতেন।’ (বুখারি) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বিশ্বনবির ঘরেই লালিত-পালিত হন। তাকে অনুসরণ করে জীবনাচার ও চারিত্রিক গুণাবলী অর্জন করেন। এ কারণেই বিশ্বনবি বলতেন- ‘হেদায়াত প্রাপ্তি, আচার-আচরণ ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে তিনিই (আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ) হচ্ছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সবচেয়ে নিকটতম উত্তম ব্যক্তি।’ 
ধর্মইসলাম
আরো পড়ুন