Link copied.
মেসির হাতে প্রথম শিরোপা এবং নতুন এক আর্জেন্টিনার শৈল্পিক ফুটবল
writer
অনুসরণকারী
cover
কোপা আমেরিকার ফাইনাল ম্যাচটি বিগত ৩টি ফাইনালের মতোই একটি ফাইনাল ছিল লিওনেল মেসির জন্য। কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে পরাজিত করার পর খুব কম লোকই আশা করেছিলেন প্রতিপক্ষ এবং স্বাগতিক দল ব্রাজিলের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন মেসিরা। কাগজেকলমের হিসেবে পিছিয়েই ছিলেন লিওনেল স্কলিনির শিষ্যরা। ২০১৯ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ী ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই এতটাও সহজ ছিল না স্কলিনির জন্য। তিলে তিলে গড়ে তোলা নতুন প্রজন্মের একটি দল নিয়ে লড়েছেন ৪৩ বছর বয়সী এই কোচ।
ম্যাচের আগে মাঠের বাইরের অদৃশ্য লড়াইয়েও পিছিয়ে ছিলেন মেসিরা। ব্রাজিলিয়ান প্রেসিডেন্ট তো বলেই দিয়েছেন মারাকানায় ৪ গোলে পরাজিত করা হবে আর্জেন্টিনাকে। সবমিলিয়ে কোণঠাসা দলটি তবুও নেমেছিল ভয়কে জয় করতে। আর কাপ্তান মেসি যখন সাথেই রয়েছেন তখন শক্তিমত্তায়, পরিসংখ্যানে ব্রাজিলের চেয়ে এগিয়েই তারা। মারাকানায় ম্যাচ শুরুর প্রথম থেকেই মাঝমাঠে বল দখলে ব্যস্ত ছিলেন উভয় দলের ফুটবলাররা। তবে ব্রাজিলের কফিনে একমাত্র এবং শেষ পেরেকটি ঠুকে দিতে বেশি সময় নেয়নি আর্জেন্টিনা। ম্যাচের সময় যখন ২২ মিনিট গোল করেন আনহেল ডি মারিয়া। এরপর ব্রাজিল খুব ভালো ফুটবল খেলেও একমাত্র গোলটি শোধ করতে পারেনি।
cover
৯০ মিনিট শেষে মারাকানায় যখন শেষ বাঁশি বাজে, মাটিতে বসে পড়েন লিওনেল মেসি। যদিও বেশি সময় বসতে পারেননি তিনি, মেসিকে শূন্যে ভাসিয়ে উল্লাসে মাতেন রদ্রিগো ডি পল, লো সেলসোর মতো তরুণ ফুটবলাররা। এর আগেও দুইবার কোপা আমেরিকার মঞ্চ থেকে রুপালী এই মর্যাদাপূর্ণ শিরোপা না ছুঁয়েই মাঠ ছেড়েছিলেন মেসি। এ যেন আর্জেন্টিনার জন্য নয়, বরঞ্চ মেসির জন্যেই জিতলেন স্কলিনির শিষ্যরা। সে যাই হোক, এই টুর্নামেন্ট আক্ষরিক অর্থে শুধুই লিও মেসির। টুর্নামেন্ট সেরার পুরষ্কার, সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরষ্কার এবং সবচেয়ে বেশি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরষ্কার জিতে এই কোপা আমেরিকা নিজের করে নিয়েছেন লিওনেল মেসি।
এই একটিমাত্র রূপালী শিরোপার জন্য মেসি অপেক্ষা করেছেন ১৫টি বছর আর আর্জেন্টিনার লেগেছে ২৮ বছরেরও বেশি সময়। মেসি ছাড়াও শিরোপা জয়ী এই দলে ছিলো ডি মারিয়া, সার্জিও আগুয়েরো, ওটামেন্ডির মতো সিনিয়র ফুটবলাররা। তবে কোচ স্কলিনির পছন্দের তালিকায় সিনিয়রদের মধ্যে শুধুমাত্র মেসি, ওটামেন্ডি এবং ডি মারিয়াই ছিলেন সবসময়। সে যাই হোক, আজকের জয়জয়কার হবে শুধু আর্জেন্টিনা এবং লিওনেল মেসিকে ঘিরে। স্মৃতিচারণ করা হবে দেশটির আঠাশ বছরের দীর্ঘ সাধনা নিয়ে। সেই সাথে আলাদা আলাদা করে লিখা হবে লিও মেসি, ডি মারিয়াদের অবদান নিয়ে।
স্কলিনির অবদান

গত আঠাশ বছরের ইতিহাসে অবশ্যই এটি আর্জেন্টিনার সবথেকে সেরা প্রজন্ম নয়। বরঞ্চ ফুটবল গবেষকরা মনে করে করেন ২০১৪ বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা যে দল খেলিয়েছিল সেটিই গত ১ যুগের সেরা দল। কিন্তু কোচ সাবেলার নেতৃত্বে সেবার বিশ্বকাপ শিরোপ জেতার দ্বারপ্রান্তে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছিলেন লিও মেসি, হিগুয়েনরা। সে বার সমালোচনার শীর্ষে ছিলেন দেশটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিগুয়েন। লাভেজ্জি, ডি মারিয়া, মাশ্চেরানো, রোমেরোদের নিয়ে গড়া সে দল নিয়ে মেসি গড়েছিলেন রেকর্ড। হয়তো জার্মানির বিপক্ষে মারিও গোৎজের গোলটি না হলে সাবেলাই হতেন আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সেরা কোচ। তবে লিওনেল স্কলিনিকে সাবেলার চেয়ে এগিয়ে রাখার আলোচনা করছি না।
cover
চিলিকে কোপা আমেরিকা জেতানো কোচ সাম্পাওলি যখন বিশ্বকাপের ভরাডুবি নিয়ে বিদায় নেন ঠিক তখনি অর্ন্তবর্তীকালীন কোচ হিসেবে নিয়োগ পান স্কলিনি। এর আগে তিনি দেশটির অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্বে ছিলেন। নিয়োগ পাওয়ার পর প্রথম থেকেই তিনি তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে কাজ করা শুরু করেন। অনূর্ধ্ব-২০ দলে তার অধীনে আশানুরূপ পারফরম্যান্স উপহার দেয়া তরুণদের তিনি বার বার দলে ডাকেন। হঠাৎ করেই দলের সিনিয়র ফুটবলারদের এড়িয়ে যাওয়ায় প্রথমদিকে বেশ সমালোচিত হয়েছিলেন স্কলিনি। লিও মেসির সঙ্গে কিছুটা মানঅভিমান হয়েছিল এমন গুঞ্জনও শোনা গিয়েছিল সেবার। 
সে যাই হোক, অর্ন্তবর্তীকালীন কোচের পদ থেকে পদোন্নতি হয় স্কলিনির। ২০১৯ সালের কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্ট পর্যন্ত তার সঙ্গে চুক্তি করে আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশন। সেবার ফাইনালে কোয়ালিফাই করতে না পারলেও একঝাঁক তরুণ ফুটবলারদের সঙ্গে নিয়ে আশার আলো দেখিয়েছিলেন এই কোচ। অতীতে সার্জিও আগুয়েরো, হিগুয়েন, মেসি, ডি মারিয়া, লাভেজ্জির মতো স্ট্রাইকারদের নিয়ে নিয়মিত ব্যর্থ হওয়ার যে নিয়ম তৈরি হয়েছিল সেটি থেকে বের করে আনার চেষ্টা করেন তিনি। জোর দেন মাঝমাঠ এবং রক্ষণভাগের দিকে। হয়তো তিনিও বিশ্বাস করেন, 'শক্তপোক্ত রক্ষণভাগ জেতাতে পারে টুর্নামেন্ট আর ভালো আক্রমণভাগ জেতাতে পারে শুধুমাত্র একটি ম্যাচ।'
cover
মরিনহোর এই বক্তব্য আরো শত বছর ফুটবল কোচদের জন্য একটি নির্দেশিকা হয়ে থাকবে ঠিকই। যাই হোক, এবারের কোপা আমেরিকায় শিরোপা জয়ী আর্জেন্টিনা দলের প্রধান ডিফেন্ডারদের গড় বয়স ছিল ২৬ বছর যা গত ২ দশকের সর্বনিম্ন। অভিজ্ঞ নিকোলাস ওটামেন্ডি এবং জার্মান প্রিজ্জেলা ব্যতীত প্রায় সবাই তরুণ। টুর্নামেন্টে ২৫ বছর বয়সী লুকাস মার্টিনেজের সঙ্গ দিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী আয়াক্স ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। অন্যদিকে ২৩ বছর বয়সী আতালান্টার ক্রিস্টিয়ান রোমেরা গত মৌসুমে ইতালিয়ার লিগের বর্ষসেরা ডিফেন্ডারের পুরষ্কার জিতেছিলেন। সবমিলিয়ে বলতে গেলে স্বপ্নের মতো একটি রক্ষণভাগ গড়েছিলেন কোচ স্কলিনি। অন্যদিকে গোলবারের অতন্দ্র প্রহরী ছিলেন এমি মার্টিনেজ। পুরো কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্টে অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের কল্যাণে সর্বোচ্চ ক্লিনশিট রেখে জিতেছেন টুর্নামেন্টের সেরা গোলকিপারের পুরষ্কার।
cover
এখন অবধি এবারের কোপা আমেরিকায় ম্যাচপ্রতি ২৭.৫টি ফাউল হয়েছে যা সদ্য শেষ হওয়া ইউরোর তুলনায় ৪টি করে বেশি। যদিও ইউরোতে অতিরিক্ত মিনিটে খেলা গড়ায় যা কোপা আমেরিকায় সরাসরি টাইব্রেকারে পরিণত হয়। অন্যদিকে, কোপা আমেরিকায় ম্যাচ প্রতি গড় হলুদ কার্ডের সংখ্যা ছিল ৪.৩টি যা ইউরোতে ২.৯টি। স্প্যানিশ সংবাদপত্র 'এস'র রিপোর্ট অনুযায়ী এবারের টুর্নামেন্টে সবথেকে বেশি ফাউল সংঘটিত হয়েছে চ্যাম্পিয়ন দল আর্জেন্টিনার প্লেয়ারদের দ্বারা। আর এখান থেকেই দলটির রক্ষণাত্মক তৎপরতা ভালোভাবে বোঝা যায়। গতকাল ফাইনাল ম্যাচেও প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের ট্যাকেল করে ১৯ বার ফাউলের সংকেত পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে এই জয়ের মধ্যদিয়ে এখন অবধি লিওনেল স্কলিনির নেতৃত্বে সর্বমোট ২০ ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, নিজেদের ১৫তম কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতার মধ্যদিয়ে শীর্ষস্থানে থাকা উরুগুয়ের সঙ্গে রেকর্ড ভাগাভাগি করে নিয়েছে মেসিরা।
মিডফিল্ডারদের জয়জয়কার

কোপা আমেরিকায় খেলার জন্য ব্রাজিলে আসার পূর্বে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলে আর্জেন্টিনা। সেখানে চিলির সাথে ১-১ গোলে ড্র, কলম্বিয়ার সাথে ২-২ গোলে ড্র করেন স্কলিনির শিষ্যরা। অতঃপর কোপা আমেরিকা সূচনা হয় চিলির সাথে ১-১ গোলে ড্র দিয়েই। তখন থেকেই সমালোচকরা তুলোধোনা করেন স্কলিনিকে। এমন রক্ষণাত্মক খেলার কারণেই জয় বঞ্চিত হয়েছে বলে সংবাদ প্রচার করে শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি আর্জেন্টাইন পত্রিকা। কিন্তু দলটির মাঝমাঠ যে রক্ষণভাগের চেয়ে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই সেটি নিয়ে কেউ তেমন একটা আলোচনা করেনি। 
cover
মিডফিল্ডার নির্বাচনের ক্ষেত্রে দারুণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন স্কলিনি। লিওনার্দো পারদেস, লো সেলসো, প্যালাসিওস, রদ্রিগো ডি পলের মতো তরুণ মিডফিল্ডারদের সঙ্গ দেন অ্যানহেল কোরিয়া এবং পাপু গোমেজের মতো অভিজ্ঞরা। সাথে প্রতি ম্যাচেই বদলি হিসেবে দলকে সঙ্গ দেন অ্যানহেল ডি মারিয়া। শুধুমাত্র ফাইনাল ম্যাচেই শুরুর একাদশে ছিলেন পিএসজির এই মিডফিল্ডার।ব্রাজিলের বিপক্ষে গতকালের ম্যাচেও স্কলিনি
মাঝমাঠ সাজিয়েছেন দারুণভাবে।
কোচ তিতে আন্দাজ করতে পেরেছিলেন বলেই হয়তো মাঝমাঠ দখলের লড়াইয়ে দুইজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার রেখেছিলেন একাদশে। কিন্তু লো সেলসো, ডি পল, পারদেসরা ঠিকি মাঝমাঠের দখলে এগিয়ে ছিলেন। প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে বার বার পিছু হটিয়ে আক্রমণে সহায়তা করেছিলেন তারা। ম্যাচের একমাত্র জয়সূচক গোলের যোগানদাতাও ছিলেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডাররা। নিজেদের ডি-বক্সে বিপদমুক্ত করেই ডি পলকে দ্রুতভাবে বল বাড়িয়ে দেন পারদেস। ছুটে চলতে চলতে রাইট উইংয়ে ডি মারিয়াকে লং বল বাড়িয়ে দেন ডি পল। পরের কাজটুকু খুবই অভিজ্ঞতার সাথে সামলেছেন ডি মারিয়া। হয়তো একারণেই তরুণ নির্ভর এই দলে তাকে ডেকেছিলেন কোচ স্কলিনি।
cover
শেষেদিকে ব্রাজিল যখন গোল শোধ করতে মরিয়া হয়ে উঠে তখন মাঝমাঠে অভাবনীয় পরিবর্তন আনেন স্কলিনি। ব্রাজিলিয়ান কোচ তিতে যখন শুরু থেকেই নিজের সর্বশক্তি ব্যবহার করে চেষ্টা করছিলেন তখনও আর্জেন্টাইন বেঞ্চে ছিলেন একাধিক মিডফিল্ডার। ফাইনালের মতো ম্যাচে অভিজ্ঞ পাপু গোমেজকে না নামিয়ে স্কলিনি নামান গুইডো রদ্রিগেজকে। পরবর্তীতে রদ্রিগো ডি পলকে তুলে নিয়ে নামান আরো একজন ডিফেন্ডার। ডি মারিয়ার পরিবর্তে নামা প্যালাসিওসও শেষ পর্যন্ত লড়ে গেছেন। একটিমাত্র গোল শোধ করার জন্য নিজের মিডফিল্ডারদের তুলে নিয়ে ৪ জন উইঙ্গার নামিয়েছিলেন তিতে। কিন্তু আর্জেন্টাইন মিডফিল্ড এবং রক্ষণভাগে খুব একটা আঘাত করতে পারেননি তিতের শিষ্যরা।
মেসির স্বপ্নের সন্ধ্যা

৬টি ব্যালন ডি'অর, ৬টি ইউরোপিয়ান গোল্ডেনবুট জেতা লিওনেল মেসির জন্য এবারের কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্ট ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বার্সেলোনার সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছিল গত ৩০ জুন। দেউলিয়া হওয়ার পথে থাকা ক্লাবটি মেসিকে এখনো নতুন করে চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। ফলশ্রুতিতে মনের মধ্যে হয়তো অনেকটা আক্ষেপ নিয়েই ব্রাজিলে গিয়েছিলেন ফুটবল জাদুকর। কিন্তু এই আক্ষেপ শব্দটা মেসির জন্য একেবারেই নতুন নয়। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মেসি আরো ২টি ফাইনাল খেলছেন। পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দিলেও নিষ্প্রভ ছিলেন ফাইনালে। যার ফলে টাইব্রেকারে হাতছাড়া হয়েছিল শিরোপা।
cover
যদিও এবারের টুর্নামেন্টে মেসির অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার ম্যাচে বলিভিয়ার জালে গোলবন্যায় ভাসান আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা। ঐ ম্যাচে চারটি গোল করে আর্জেন্টিনা যার মধ্যে দুটি আসে লিওনেল মেসির পা থেকে। অতঃপর কোয়ার্টার ফাইনালেও দাপুটে জয় পায় আর্জেন্টিনা! শেষ মুহূর্তে মেসির ফ্রি কিক গোলসহ ইকুয়েডরের জালে সর্বমোট তিনটি গোল দেয় মেসিরা।
ফাইনালে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত ৫ অ্যাসিস্ট এবং ৪টি গোল নামের পাশে ছিল মেসির। ফাইনালের আগেই তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। বলতে গেলে তার গোল এবং অ্যাসিস্টের উপর ভর করেই ফাইনালে পৌঁছায় আর্জেন্টিনা। পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের জালে গোল দিয়েছে সর্বমোট ১২টি যার মধ্যে ৯টিতে সরাসরি অবদান রাখেন লিও মেসি। ব্রাজিলের বিপক্ষে ফাইনালে মেসির সামনে হাতছাঁনি দিচ্ছিল একাধিক রেকর্ড গড়ার। টুর্নামেন্টের শুরুতেই আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা মাশ্চেরানোর রেকর্ড নিজের করে নেয়ার সুযোগ ছিল তার সামনে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ শেষে মাশ্চেরানোর ১৪৭ ম্যাচের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেন মেসি। আর ফাইনালের মধ্যদিয়ে ১৫০ ম্যাচ খেলে নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি।
cover
টুর্নামেন্টে পাপু গোমেজ এবং লাওতারো মার্টিনেজ আলো ছড়িয়েছেন দারুণভাবে। অন্যথায় মেসির নামের পাশে ৫টি অ্যাসিস্টের বদলে থাকতে পারতো দুটি বা তিনটি অ্যাসিস্ট। এর আগে এক কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্টে ৫টি অ্যাসিস্ট কোনো ফুটবলার করতে পারেননি। এবারের টুর্নামেন্টটি ছিল মেসির ষষ্ঠ কোপা আমেরিকা আসর। ২০০৭ সাল থেকে ২০২১ সাল অবধি অনুষ্ঠিত সবকটা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে প্রথম আর্জেন্টাইন হিসেবে সর্বাধিক কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করার রেকর্ড গড়েন।
cover
নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের মধ্যদিয়ে অনেক তর্কের অবসান ঘটিয়েছেন মেসি। সতীর্থ্যরাও এই জয় উৎসর্গ করেছেন মেসিকে, এটি তারই প্রাপ্য। কারণ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার ইতোমধ্যেই ক্যারিয়ারের শেষাংশে পৌঁছেছেন। কিন্তু অধরা ছিল একটি আন্তর্জাতিক শিরোপা। এই শিরোপার জন্য কম সমালোচিত হননি মেসি। কম আক্ষেপও করেননি হয়তোবা। তাইতো ম্যাচ শেষে সকলকে আলিঙ্গন করে উদযাপন করেছেন। আর সতীর্থ্যরা তাকে শূন্যে ভাসিয়েছেন। ধন্যবাদ জানিয়েছেন ঈশ্বরের প্রতি।

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021