Link copied.
করোনাভাইরাস রোধে কোন টিকা সবচেয়ে বেশি কার্যকর?
cover
করোনাভাইরাস মহামারি রোধে বিশ্বজুড়ে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৪৩টি দেশের মানুষের শরীরে ২ কোটি ৯০ লাখ ডোজ করোনার টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। বাংলাদেশেও এবছরের ৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি ১ হাজার ৫টি হাসপাতালে করোনার টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। শুরুর দিন ৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি ছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। তবে নিবন্ধন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। আবার গত এপ্রিলে লকডাউনের ফলে টিকাদান কর্মসূচি়ও শিথিল করা হয় তবে মে মাসে সেটি পর্যায়ক্রমে চালু হলেও করোনার সংক্রমণ উত্তরোত্তর বেড়ে যাবার ফলে আবার জুনের শেষে বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে দেশে গত ৭ই আগস্ট ২০২১ থেকে শুরু হয়েছিল ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী করোনার টিকাদান কর্মসূচি।

প্রথম দিন প্রায় ৩২ লাখ টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়েছে সরকার এবং গণটিকা কর্মসূচির প্রথম দিনে দেশের ৫৯ টি জেলায় টিকা পেয়েছেন ২৮ লাখ ৩৬ হাজার ৯৭০ জন মানুষ। যাদের মধ্যে ২৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৭২ জন প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন এবং দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন ৫৩ হাজার ৭৯৮ জন। কিন্তু তার কয়েকদিনের মধ্যেই ভ্যাক্সিনের সংকটের জন্য সরকার গণটিকা কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হন। টিকা না পেয়ে অনেকে যেমন হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আবার যারা টিকা পেয়েছেন তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। টিকা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হচ্ছে।

সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী দেশের ৮০ ভাগ মানুষকে টিকা দেয়ার কথার পাশাপাশি একটি রোডম্যাপও ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রতি মাসে ২৫ লাখ মানুষকে টিকা দেয়া হবে। সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটি ২৫ লাখ। তবে বাস্তবে এই জনসংখ্যা ১৭ কোটির বেশি হবে। সেই হিসাব ধরলে ১৭ কোটি জনসংখ্যা ৮০ ভাগ হলো ১৩ কোটি ৬০ লাখ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ২৫ লাখকে যদি প্রতিমাসে টিকা দেয়া হয় তাহলে সবাইকে টিকা দিতে সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় লাগবে। আর এরমধ্যে যদি শিশুদের টিকা এসে যায় তাহলে শতভাগ নাগরিককেই টিকা দিতে হবে।
cover
করোনা প্রতিরোধে টিকাসমূহ

২০২০ সালের প্রথম থেকেই, টিকা আবিষ্কার ও বিকাশের লক্ষ্যে ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প এবং সরকারের মধ্যে অভূতপূর্ব সহযোগিতা দেখা যায়। মহামারী প্রস্তুতিমূলক জোট (Coalition for Epidemic Preparedness Innovations (CEPI)) এর মতে, ৪০% টিকার পরিকল্পনা ও বিকাশ উত্তর আমেরিকায়, ৩০% এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায়, ২৬% ইউরোপে এবং বাকিগুলো দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকায় হচ্ছে। টিকাপ্রয়োগ নিরাপদ ও কার্যকর হবে কিনা এবং টিকাপ্রয়োগের পর বিরুপ প্রতিক্রিয়া আছে কিনা তা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য টিকাগুলোকে কিছু ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এর মধ্য দিয়ে যেতে হয়। টিকা আবিস্কারকদের টিকার ২য়-৩য় দশার ট্রায়ালে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক যথেষ্ট সংখ্যক অংশগ্রহণকারী খোঁজার জন্য বেশ পরিমাণ সময় ব্যয় করতে হয়। কিন্তু ঠিক এই সময়ই ভাইরাসটির সংক্রমণ বিভিন্ন দেশে বিস্ফোরক রূপ ধারণ করে। একারণে বিভিন্ন সংগঠকরা জনগণের মধ্যে টিকা গ্রহণে অনীহা এবং টিকায় বিভ্রান্তমূলক বৈজ্ঞানিক কারণকে অবিশ্বাসের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করতে পান।

করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এ পর্যন্ত সাতটি টিকার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশের ঔষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদকৃত টিকাগুলো হলো ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত অক্সফোর্ড- এ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড, রাশিয়ার স্পুটনিক ভি, চীনের তৈরি সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাক্স, যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার-বায়োএনটেক, মর্ডানা ও জনসন অ্যান্ড জনসন। তবে দেশে এ পর্যন্ত টিকা প্রয়োগ হয়েছে মাত্র চারটি কোম্পানির। সেগুলো হলো; কোভিশিল্ড, সিনোফার্ম, ফাইজার ও মর্ডানা। বর্তমানে টিকা তৈরিতে এগিয়ে থাকা তিনটি বড় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না ও অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা। এর মধ্যে ফাইজার ও মডার্না আরএনএ প্রযুক্তির টিকা তৈরি করেছে, যা পদ্ধতি হিসেবে নতুন। এতে দ্রুত টিকা তৈরি করা সম্ভব। এতে ভাইরাসের জেনেটিক কোডের ক্ষুদ্র একটি অংশ দেহে প্রবেশ করানো হয়। এতে করোনাভাইরাসের একটি অংশ তৈরি করতে শুরু করে এবং শরীর এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ প্রযুক্তির টিকা যুক্তরাজ্য, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদন পেয়েছে।

অন্যদিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকাটি আলাদা। এতে নিরীহ ভাইরাস ব্যবহার করে শরীরে জেনেটিক উপাদান প্রবেশ করানো হয়। এ টিকাটি যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে অনুমোদন পেয়েছে। অক্সফোর্ডের টিকাটি অন্য দুটি টিকার চেয়ে প্রয়োগ ও সংরক্ষণ করা সহজ। সব কটি টিকার দুটি ডোজ করে দিতে হয়। তবে যুক্তরাজ্য যতটা সম্ভব বেশি মানুষকে প্রথম ডোজ দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং দ্বিতীয় ডোজ দিতে দেরি করছে। তবে নতুন আরও দুটি টিকা বাজারে আসার পথে। একটি নোভাভ্যাক্স আর অপরটি হলো জনসন। যুক্তরাজ্যে বৃহৎ পরিসরে নোভাভ্যাক্সের টিকার পরীক্ষা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। 
cover
২০২০ সালের ৫ নভেম্বর দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউট এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মধ্যে টিকা আমদানির বিষয়ে চুক্তি হয়। এরপর ২১ জানুয়ারি ভারত সরকারের উপহার হিসেবে দেশে আসে ২০ লাখ ডোজ টিকা। ২৫ জানুয়ারি ৫০ লাখ ডোজ টিকা আসে দেশে। কেনা টিকার দ্বিতীয় চালান আসে ২২ ফেব্রুয়ারি। প্রতি চালানে ৫০ লাখ ডোজ টিকা আসার কথা থাকলেও ওই দিন ২০ লাখ ডোজ টিকা আসে। ২৬ মার্চ ভারত সরকার আবারো ১২ লাখ ডোজ উপহার হিসেবে দেয় বাংলাদেশকে। সব মিলিয়ে ভারত থেকে মোট ১ কেটি ২ লাখ ডোজ টিকা দেশে এসেছে। এরপর কোভিশিল্ডের আর কোন টিকা দেশে আসেনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস (গ্যাভি) এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনসের গড়া প্ল্যাটফর্মের (কোভ্যাক্স) সুবিধার আওতায় ২০২১ সালের ৩১ মে দেশে আসে ফাইজারের ১ লাখ ৬০০ ডোজ টিকা। চীন সরকার ১২ মে সিনোফার্মের ৫ লাখ ও ১৩ জুন ৬ লাখ ডোজ মোট ১১ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে দেয়া। সরকারের চুক্তির আওতায় ১ ও ২ জুলাই চীন থেকে আসে ২০ লাখ ডোজ টিকা। আর ১৭ জুলাই আসে আরো ২০ লাখ ডোজ টিকা। এ পর্যন্ত সিনোফার্মের ৫১ লাখ ডোজ টিকা দেশে এসেছে। আর ১ ও ২ জুলাই মর্ডানার ২৫ লাখ ডোজ টিকা আসে দেশে। আর ১৯ জুলাই আরো ৩০ লাখ ডোজ মর্ডানার টিকা দেশে আসে কোভ্যাক্সের সুবিধার আওতায়। এ নিয়ে মর্ডানার ৫৫ লাখ ডোজ টিকা দেশে এসেছে।

বাংলাদেশে টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন মোট ৭১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৩৪ জন। আর দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৪৩ লাখ ১ হাজার ৪০৫ জন। এর মধ্যে কোভিশিল্ডের টিকা দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ১১ লাখ ৮ হাজার ১১৯ ডোজ।‌‌ ফাইজারের টিকা দেয়া হয়েছে ৫০ হাজার ১০৪ ডোজ। সিনোফার্মের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬৬০ জন প্রথম ডোজ আর ৩ হাজার ৩১৯ জন দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন। মডার্নার ২ লাখ ৬৯ হাজার ৫৩৭ প্রথম ডোজ টিকা নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। 
cover
বিভিন্ন টিকার উপযোগিতা কিংবা কার্যকারিতা

ফাইজার টিকা জার্মানির বায়োএনটেক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে এই ভ্যাকসিনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ভ্যাকসিনের ধরন এমআরএনএ প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তিতে মূলত মানব দেহের কোষে প্রোটিন তৈরির নির্দেশনা থাকে; যা করোনাভাইরাসের কিছু অংশকে অনুকরণ করে। মানবদেহের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে কার্যকর করতে উৎসাহিত করে এ নির্দেশনা। এর পাশাপাশি শরীরকে ভাইরাসপ্রতিরোধী হিসেবে গড়ে তোলে। এই টিকার মাত্র দুই ডোজের, তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা অনুযায়ী কার্যকারিতা ৯৫%।যুক্তরাষ্ট্রে এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে মডার্না ভ্যাকসিন। যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় কোম্পানি হিসেবে মডার্নার ভ্যাকসিন অনুমোদন পেয়েছে। বোস্টনভিত্তিক এই বায়োটেক কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে ২০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে; যা বায়োএনটেক এবং ফাইজারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। এই টিকার মাত্র দুই ডোজের, তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় ৯৪ দশমিক ১ শতাংশ কার্যকর । 


cover
ব্রিটিশ ওষুধ কোম্পানি এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন সস্তায় বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একেবারে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এই ভ্যাকসিন সংক্ষরণের সুবিধা থাকায় বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ আশাবাদী। গত ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যে এই ভ্যাকসিনের অনুমোদন পায়। ভ্যাকসিনের ধরন অ্যাডেনোভাইরাস। এই টিকার এক সপ্তাহ ব্যাবধানে দুই ডোজের, তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় গড় কার্যকরীতার হার ৭০ শতাংশ। রাশিয়ায় গামালিয়া ইনস্টিটিউট এর তত্বাবধানে স্পুটনিক-৫ আবিষ্কার করা হয়। পরীক্ষার অন্তঃবর্তী ফলে ৯৫ শতাংশ কার্যকারিতার প্রমাণ মিলেছে দাবি করে গত আগস্টে ভ্যাকসিন স্পুটনিক-৫ এর অনুমোদন দেয়া হয়। তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরুর আগেই ভ্যাকসিনের অনুমোদন দেয়ায় এর সুরক্ষা এবং কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। ভ্যাকসিনের ধরন অ্যাডেনোভাইরাস এবং মাত্রা দুই ডোজ।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চায়না ন্যাশনাল বায়োটেক গ্রুপ, সিনোফার্ম দু’টি ভ্যাকসিন তৈরি করছে। এর মধ্যে প্রথমটি তৈরি হচ্ছে উহান ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টসের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে। সীমিত প্রয়োগের অনুমতি দিয়ে ইতোমধ্যে চীনজুড়ে এই ভ্যাকসিনের বিতরণ শুরু হয়েছে। গত নভেম্বরে সিনোফার্ম জানায়, প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ইতোমধ্যে ভ্যাকসিনটির দুটি ডোজের একটি দেয়া হয়েছে। ভ্যাকসিনের মাত্রা দুই ডোজ।

cover
আবার বেইজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টসের সাথে যৌথভাবে দ্বিতীয় ভ্যাকসিন তৈরি করছে সিনোফার্ম। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই ভ্যাকসিনটি গত ডিসেম্বরে অনুমোদন পায়। তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার অন্তঃবর্তী ফলে এটি ৭৯ শতাংশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ভ্যাকসিনের ধরন করোনার নিস্ক্রিয় ভাইরাস থেকে তৈরি, মাত্রা দুই ডোজ। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির সঙ্গে সমন্বয় করে বায়োটেক ভ্যাকসিন তৈরি করেছে ভারত বায়োটেক। গত বছর ভারতের প্রথম ভ্যাকসিন হিসেবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে পৌঁছায় এটি। চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশটি জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, ভ্যাকসিনটির অনুমোদন প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট স্বচ্ছতা অনুসরণ করা হয়নি। ভ্যাকসিনের মাত্রা দুই ডোজ। ৩ জানুয়ারি ভারতে জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পায় এই ভ্যাকসিনটি।

সবশেষে, জনসনের করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রে চলমান রয়েছে। চলতি মাসেই এই পরীক্ষার অন্তঃবর্তী ফল মিলতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এছাড়াও নিউ জার্সিভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্যে ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর দেহে শেষ ধাপের পরীক্ষায় দু’টি ডোজ প্রয়োগ করবে। ভ্যাকসিনের ধরন অ্যাডেনোভাইরাস, মাত্রা এক ডোজ । নতুন গবেষণায় জানা যাচ্ছে যে, ফাইজার-বায়োএনটেক ও অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকার কার্যকারিতা ছয় মাসের মধ্যেই কমতে শুরু করে ২৫ আগস্ট ব্রিটেনভিত্তিক আইটিভি এমন খবর দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী শীত নাগাদ বয়স্ক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের করোনার সুরক্ষা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে আসলে ভয়াবহ এক পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।

ফাইজারের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার মাসখানেক পর এই টিকার কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা ৮৮ শতাংশে নেমে আসে। কিন্তু পাঁচ থেকে ছয় মাস পর সুরক্ষার মাত্রা ৭৪ শতাংশ হয়ে যায়। অর্থাৎ চার মাসের মাত্রায় টিকার সুরক্ষা সক্ষমতা কমে যায় ১৪ শতাংশ। আর অ্যাস্ট্রাজেনেকার ক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার মাসখানেক পর সুরক্ষা সক্ষমতা কমে ৭৭ শতাংশে নেমে আসে। চার থেকে পাঁচ মাস পর সেই সক্ষমতা কমে ৬৭ শতাংশ হয়ে যায়। অর্থাৎ তিন মাসের মধ্যে এই টিকার সক্ষমতা কমে যায় ১০ শতাংশ। 
cover
প্রায়ই দেখা যাচ্ছে যে বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের নতুন নতুন রূপ বা ভেরিয়েন্ট আসছে। এগুলোর কোনো কোনোটি মারাত্মক হারে সংক্রমণ ছড়ায়। রোগের তীব্রতাও বেশি। সম্প্রতি ভারতের দিল্লিসহ কয়েকটি রাজ্যে করোনার একটি নতুন ভেরিয়েন্ট খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। একপর্যায়ে হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন–সংকট বড় সমস্যা হয়ে ওঠে। সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বাড়তে থাকায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশও শঙ্কিত হয়। তবে সুসংবাদ হচ্ছে ভারতের করোনাভাইরাসের নতুন ভেরিয়েন্টের বিরুদ্ধে টিকা কার্যকরি সুরক্ষা দেয়। এ বিষয়ে আমরা অন্তত একটি বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারি, সবার টিকা নেওয়া থাকলে করোনাভাইরাস রোধে কার্যকর সুরক্ষা পাওয়া যাবে। যদিও অবশ্য কিছু ব্যতিক্রম থাকবে। কারণ, যাঁদের বয়স অনেক বেশি বা যাঁদের জটিল রোগ থাকে, তাঁদের ক্ষেত্রে টিকার কার্যকারিতা কম হতে পারে। তবে সাধারণভাবে বলা যায়, করোনার বিভিন্ন ভেরিয়েন্টের বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য টিকার ভূমিকা অনেক বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তথ্য অনুযায়ী করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ ভাইরাস নিষ্ক্রিয় করার ক্ষেত্রে প্রথম ডোজ টিকার তুলনায় ১০ গুণ বেশি কার্যকর। দ্বিতীয় ডোজ টিকা সেলুলার ইমিউনিটির সৃষ্টি করে এবং এর ফলে শুধু যে দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা পাওয়া যায়, তা-ই নয়, নতুন ভেরিয়েন্টের বিরুদ্ধেও ভালো সুরক্ষা পাওয়া যায়। আবার কোভিডের সুরক্ষায় প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠানের টিকা নিলে সেটা এই ভাইরাস থেকে সুরক্ষায় বেশি কাজ করে বলে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। সেই গবেষণায় দেখা গেছে, দুটি আলাদা প্রতিষ্ঠানের টিকার সংমিশ্রণে মানুষের শরীরে কোভিডের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরিতে সবচেয়ে বেশি কার্যকারিতা পাওয়া যাচ্ছে।
cover
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তথ্যের ফলে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের টিকার ব্যবহার আরও সহজ হবে। এই গবেষণায় আরও জানা গেছে যে, যারা অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুই ডোজ পেয়েছেন, তারা যদি বুস্টার ডোজ হিসাবে তৃতীয় আরেকটি প্রতিষ্ঠানের টিকা নেন, তাহলে সেটি তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

সবশেষে আমরা বলতে পারি, করোনাভাইরাসের বিভিন্ন স্ট্রেইন হয়তো বেশি দ্রুত ছড়াতে পারে বা খুব দ্রুত রোগের তীব্রতা বাড়াতে পারে। কিন্তু টিকা নেওয়া থাকলে সুরক্ষা পাওয়া যাবেই। আর সংক্রমণ ঘটলেও এর তীব্রতা তেমন বেশি হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো টিকাই শতভাগ কার্যকরি নয় বরং টিকা নেয়ার পাশাপাশি নিজেদের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে আর কয়েক মাস অন্তর বুস্টার ডোজের ব্যবস্থা করতে হবে।  

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021