লুঙ্গি পরে যে কারণে 'পরাণ' দেখতে যান বৃদ্ধ সামান আলী
বিনোদন
লুঙ্গি পরে যে কারণে 'পরাণ' দেখতে যান বৃদ্ধ সামান আলী
লুঙ্গি পরে ‘পরাণ’ সিনেমা দেখতে যাওয়ায় এক বৃদ্ধের কাছে টিকেট বিক্রি করা হয়নি। ফিরে যেতে হয় সিনেমা না দেখেই। এমন ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। একদিন পরেই বৃহস্পতিবার এই প্রবীণ তার পুরো পরিবার নিয়ে সিনেমাটি দেখেছেন। তবে এবার শুধু পরিবারকেই সঙ্গে পাননি, সামান আলীর সঙ্গে সিমেনা দেখতে উপস্থিত হন ‘পরাণ’ সিনেমার অভিনয়শিল্পী বিদ্যা সিনহা মিম, শরীফুল রাজসহ বেশ কয়েকজন। 
শুক্রবার (৫ আগস্ট) একান্ত আলাপনে সেদিনের ঘটনার স্পষ্ট বর্ণনা দেন সামান আলী সরকার। তিনি বলেন, 'পরাণ সিনেমাটি দেখতে গেছিলাম মূলত পোস্টারে মিমের ছবি দেখে। আমার একটু বেশি ইচ্ছে ছিলো মিমকে দেখার। তবে এভাবে দেখতে পারবো ভাবিনি। মিম নিজে এসে আমাকে বাবা বলে ডেকেছে। অনেক বেশি আপ্যায়ান করেছে। রাজ লুঙ্গির ঘটনাতে দূঃখ প্রকাশ করেছে। আমি আর কিছু মনে রাখিনি। গত পরশুদিন হলে সিনেমা দেখতে যাই। এরপর একটা কাউন্টারে দাড়াইছি, কইলাম একটা টিকেট দ্যান। কয় টিকেটের দাম ৩৫০ টাকা। একটা টিকিট দেন কওয়াতে কাউন্টার থেকে টিকিট দেয়নি। লুঙ্গি পরে নাকি সিনেমা দেখা যাবে না। এরপর বাইরে চলে আসি।' ভারি গলায় ৭৮ বছর বয়সী এই বৃদ্ধ বলেন, লুঙ্গি পইরা হলে যারা আমারে ঢুকবার দেয় নাই। তারাও কাম শেষ কইরা বাসায় গিয়া লুঙ্গি পরবো। লুঙ্গি তো বাংলাদেশের জাতীয় পোশাক। এইডা নিয়া এমন করবে কেন। আমার ওই সময় খুব খারাপ লাগছে…

যা বললেন অভিনেত্রী মিম
আলোচিত এই সিনেমার নায়িকা মিম বলেন, ‘সামান আলী সরকার চাচার সঙ্গে দেখা হলো। একদম সাদাসিধে একজন মানুষ, ভালো মনের মানুষ। “পরাণ” নিয়ে চাচার উচ্ছ্বাস আমাকে ছুঁয়ে গেছে। সিনেপ্লেক্সকেও ধন্যবাদ ভুল–বোঝাবুঝির এতটা দ্রুত অবসান করায়। “পরাণ” জনমানুষের সিনেমা। “পরাণ” নিয়ে সবার এত উচ্ছ্বাস, আবেগ, দেখতে ভীষণ ভালো লাগছে।’
যা জানালো হল কর্তৃপক্ষ
'স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা সামান আলী ও তার পুরো পরিবারকে সিনেমা দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছেলাম। গতকাল পুরো পরিবারসহ সিনেপ্লেক্সে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার শোতে ‘‘পরাণ’’ দেখেছেন। সামান আলীকে খুশি করতে পেরে আনন্দিত।' সাবান গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জেরর সদর থানা পশ্চিম যমুনা সেতু এলাকায়। সামান আলীর পাঁচ ছেলে এবং এক মেয়ে আছে। ঢাকা এসেছেন ছেলের বাসায় বেড়াতে। ছেলেকে না জানিয়ে পরাণ সিনেমাটি দেখতে গেছিলেন। ১৯৬৩ সালে প্রথম সিনেমা দেখা শুরু সামান আলী সরকারের। এখন গ্রামাঞ্চলে তেমন হল পান না। ঢাকাতে এলে মিরপুরের দুয়েকটা হলে যান সিনেমা দেখবার জন্য।
রিপোর্টার: মামুন সোহাগ, ঢাকা
বিনোদন
আরো পড়ুন