তৈমুর লং: মৃত্যুদূতের মতো যাকে ভয় পেতেন লৌহমানব স্ট্যালিন!
আন্তর্জাতিক
তৈমুর লং: মৃত্যুদূতের মতো যাকে ভয় পেতেন লৌহমানব স্ট্যালিন!
তৈমুর লং; ছবি: ইন্টারনেট
তৈমুর লং; ছবি: ইন্টারনেট
সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপ্লবী নেতা ও দেশটির সাবেক প্রধান জোসেফ স্ট্যালিনকে কোটি কোটি মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়। সমালোচনাকারীরা তাকে ‘রুথলেস ডিক্টেটর’ বা স্বৈরাচারী একনায়ক উপাধি দিয়েছে তার নির্মমতার জন্য। কিন্তু সেই লৌহমানব স্ট্যালিনও একজনকে ভয় পেতেন। না, সেটা জার্মানির একনায়ক এডলফ হিটলার নয়। তিনি ছিলেন একজন মৃত মুসলিম শাসক- যিনি ১৪০০ শতকে বর্তমান সময়ের উজবেকিস্তান ও আশেপাশের অঞ্চলের শাসক ছিলেন। তৈমুর লং যিনি চেঙ্গিস খানের বংশধর ছিলেন এমনকি তিনি ছিলেন যুদ্ধের ময়দানে অপরাজেয়। কোনো যুদ্ধেই তার পরাজয়ের রেকর্ড নেই। 
তৈমুর লং; ছবি: ইন্টারনেট
তৈমুর লং; ছবি: ইন্টারনেট
ইসলামের ছয়াতলে আশ্রয় নিয়ে ১৩০০ শতাব্দীতে তিনি অসংখ্য যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। ইরান, তুরস্ক এবং চীনেরও কিছু অংশে তিনি নিজের সাম্রাজ্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ইতিহাসের একজন শ্রেষ্ঠ সমরবিদ হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়। ১৪০৫ সালে তিনি মারা যান। উজবেকিস্তানের সামারখান্দ শহরে তাকে সমাহিত করা হয়। ১৯৪১ সাল পর্যন্ত সেখানেই তার কবর ছিল। ওই সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজ্ঞানীরা কবর থেকে তৈমুরের লাশ উত্তোলন করে তার দেহ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয়। সোভিয়েত বিজ্ঞানীরা তৈমুরের অনুরূপ তৈরি করতে চেয়েছিলেন। শহরে এই খবর ছড়ানো শুরু হলেই মানুষের ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। তারা চাচ্ছিলেন না কবর থেকে তৈমুরের দেহ উঠানো হোক। 
তাদের মতে, তৈমুরের কবর ছিলো অভিশপ্ত। তারা প্রশাসনকে সতর্ক করে দেয় যে, এটা কেবল ধ্বংস এবং মৃত্যুই ডেকে আনবে। স্ট্যালিনও তৈমুরের যুদ্ধ জয়ের ইতিহাস এবং অভিশাপের বিষয়গুলো জানতেন। তবুও তিনি কবর থেকে মরদেহ উদ্ধারের নির্দেশে অটল থাকেন। সোভিয়েত বাহিনী এই অভিশাপের বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। বিজ্ঞানীরা তৈমুরের কফিনে দুইটি লেখা দেখতে পান। যার একটি ছিল ‘যখন আমি আমার মৃত্যু থেকে ফিরে আসবো, তখন পুরো বিশ্ব কেঁপে উঠবে’। আরেকটি লেখা ছিলো কফিনের ভেতরে। যেটিতে বলা হয়, যে আমার কবরকে অসম্মান করবে সে ভয়াবহ আক্রমণকারীর কবলে পড়বে, যে আমার চেয়েও নৃশংস। যখন তৈমুরের কফিন খোলা হয়, তখন বাতাসে একটি সুগন্ধে ভরে ওঠে। মানুষ ভেবেছিলো, এই সুঘ্রাণের সাথেও হয়তো অভিশাপের কোনো বিষয় সম্পর্কীত। পরবর্তীতে জানা গেছে, এটা ছিল এক প্রকারের সুগন্ধি তেল যা কফিনের সাথে দেয়া ছিল। বিজ্ঞানীরা কফিনটি গবেষণার জন্য মস্কো নিয়ে যায়।
জুন ২২, ১৯৪১ সালে হঠাৎ করেই সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করে বসে হিটলার বাহিনী। তৈমুরের কফিন কবর থেকে উঠানোর ঠিক দুইদিন পরই এই হামলা চালায় জার্মানি। ভয়াবহ এই আক্রমণে সোভিয়েত ইউনিয়নের আড়াই কোটি মানুষ নিহত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুর দিকে হিটলার বাহিনীর এই আক্রমণে নাকানি চুবানি খেয়ে বিশাল অঞ্চল হারিয়ে ফেলেছিল সোভিয়েত বাহিনী। জার্মানির আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য সব রকমের চেষ্টাই করেছিলেন স্ট্যালিন। 
তৈমুর লং; ছবি: ইন্টারনেট
তৈমুর লং; ছবি: ইন্টারনেট
সোভিয়েত ইউনিয়নের তখনই বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল যে, সম্ভবত তৈমুরের কবরের অভিশাপই এই হামলার মূল কারণ। এই বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়ে রাশিয়ার রাজনৈতিক নেতাদের মাঝেও। লৌহমানব খ্যাত স্ট্যালিনও বাহ্যিকভাবে সেটা বিশ্বাস করতে শুরু করেন। তিনি ভয়ও পেয়ে যান। তিনি তৈমুরের মরদেহ পুনরায় দাফন করার নির্দেশ দেন। একটি পরিবহন বিমানে করে তৈমুরের কফিন ফেরত আনা হয় সামারখন্দে। 
আন্তর্জাতিকইতিহাস
আরো পড়ুন