Link copied.
শূন্য রানের যে ইনিংসগুলো বদলে দিয়েছিল জয় পরাজয়ের সমীকরণ!
writer
অনুসরণকারী
cover
অ্যাশেজ ২০১৯। তৃতীয় ম্যাচের শেষ ইনিংসে একাই লড়ে যাচ্ছিলেন বেন স্টোকস। ম্যাচ জয় থেকে ৭৩ রান দূরে থাকতেই পতন হয় ৯ম উইকেটের। তখন মাঠে নামেন জ্যাক লেচ। ভালো সঙ্গ দিয়েছিলেন স্টোকসকে। ১৭ বল মোকাবেলা করে ১ রান করেন। বাকি ৭২ রান আসে স্টোকসের ব্যাট থেকে। ২০১৯ সালের আরেকটি ঘটনা। ডুরবান টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ফার্নান্দো ও পেরেরার শেষ উইকেটে ৭৮ রানের জুটি, যেখানে শেষ উইকেটে ব্যাট করতে নামা ফার্নান্দো ২৭ বলে ৬ রান করেন। এই জুটিগুলো ম্যাচ জয়ের অন্যতম কারিগর ছিল। শেষ উইকেটে ব্যাট করতে নামা লেচ আর ফার্নান্দো নিজেদের ধৈর্য্যের পরিক্ষা দিয়ে জয়ের পথ সুগম করেন। কালে কালে এমন অনেক ম্যাচ সেভিং নকের প্রমাণ রয়েছে। বিশেষ করে লেজের ক্রিকেটারদের নাইট ওয়াচ ম্যাচ হওয়ার ইনিংসগুলো সত্যিই অবাক করে দেওয়ার মতো ছিল।

চলুন আজকের প্রতিবেদনে জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু ব্যাটসম্যান সম্পর্কে যাদের শূন্য রানের ইনিংস গুলোও দলের জয় পরাজয়ের সমীকরণ বদলে দিয়েছিল-
জেমস অ্যান্ডারসন
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫৫ বলে শূন্য (০) রান; ৮১ মিনিট; হেডিংলি, ২০১৪

বল এবং সময়ের হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটের শূন্য (০) রানের দ্বিতীয় দীর্ঘ ইনিংস এটি। সিরজের শেষ টেস্টের বাকি আছে আর মাত্র ২৮ ওভার ৪ বল। জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ২ উইকেট। অন্যদিকে সময় পার করতে পারলেই হার এড়াতে পারবে ইংল্যান্ড। শেষ পানি বিরতিতে তাইতো বাথরুমের বাহানা বানিয়ে কয়েক মিনিট অপচয় করার চেষ্টা চালান স্ট্রুয়ার্ট ব্রড। 
cover
তার এই বাহানা সফল হলেও ম্যাচের ২০ ওভার ২ বল বাকি থাকতে আউট হয়ে যান তিনি। আউট হওয়ার আগে ২৪ বলে শূন্য (০) রানের ইনিংস খেলেন ব্রড(ইনিংসটি এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত নয়)। তখন শেষ উইকেটে মাঠে নামেন অ্যান্ডারসন। দীর্ঘ ৮১ মিনিট লঙ্কান বোলারদের ধৈর্য্যের পরিক্ষা নেন তিনি। কিন্তু ম্যাচের মাত্র ২ বল বাকি থাকতেই ঘটে যায় অঘটন। শেষ রক্ষা আর হলো না। আউট হয়ে যান অ্যান্ডারসন।

হেডলি ভেরিটি
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩১ বলে অপরাজিত শূন্য (০) রান; ২৫ মিনিট; ট্রেন্ট ব্রিজ, ১৯৩৪


১৯৩৪ সালের অ্যাশেজের প্রথম ম্যাচের শেষ দিনের ৫ ঘন্টা বাকি থাকতে ৩৮০ রানের অসম্ভব লক্ষ্য ছুড়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া। জেতাটা অসম্ভব জেনেই ড্র করার লক্ষ্যে খেলতে থাকে ইংলিশরা। ক্ল্যারি গ্রিমেট ও বিল ও'রাইলি দুই লেগ স্পিনারের তান্ডবে ড্র তো দূরে থাক হারও এড়াতে পারেননি তারা। দিনের মাত্র ১০ মিনিট বাকি থাকতেই ১০৭.৪ ওভারে ১১৪ রানে অলআউট হয়ে যায় ইংলিশরা। কিন্তু হার এড়ানোর জন্য ব্যাট হাতে ২৫ মিনিট লড়ে গেছেন আরেক লেগ স্পিনার। ইংলিশ বোলার হেডলি ভেরিটি ৯ নম্বর পজিশনে ব্যাট করতে নেমে প্রায় ২৫ মিনিট ধৈর্য্যের পরিক্ষা দেন। কোন রান না নিয়েই খেলেন ৩১ বল। শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিতই থেকে যান।

cover
জন গডার্ড
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪০ মিনিট ব্যাট করে শূন্য (০) রানে অপরাজিত থাকেন; এজবাস্টন, ১৯৫৭


ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার প্রথম টেস্টের শেষ দিনের খেলার ২ ঘন্টা ২০ মিনিট বাকি থাকতে ইনিংস ঘোষনা করে ইংল্যান্ড। ২৯৬ এর লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা ক্যারিবিয়ানরা ৬৮ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ হারের শঙ্কায় পড়ে। শেষ পর্যন্ত ৮ নম্বরে ব্যাট করতে নামা তাদের অধিনায়ক জন গর্ডাডের ৪০ মিনিটের ধৈর্য্যশীল ইনিংস হার এড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু গর্ডার ৪০ মিনিটে ১ রানও করেননি।

সিকান্দার বাখ্ত
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩ বলে শূন্য (০) রান; ৩৭ মিনিট; পার্থ, ১৯৭৯


যদিও ইনিংসটি এখানে যুক্ত হওয়ার কথা না তারপরও সময়ের হিসাবে একে এই তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। মাত্র ৩ বল মোকাবেলা করে শূন্য (০) রানে আউট হওয়া সিকান্দার ৩৭ মিনিট ক্রিসে টিকে ছিলেন। যতক্ষণ ক্রিসে ছিলেন আসিফ ইকবালকে ততক্ষণই রানের খাতা লম্বা করতে সাহায্য করেছেন। সে জুটিকে ২৬৩ থেকে ২৮৫ রানে নিয়ে যান আসিফ ইকবাল। যদিও পাকিস্তান ম্যাচটি বড় ব্যবধানে হারে। 
cover
ওয়াসিম বারি
ভারতের বিপক্ষে ৪৩ বলে অপরাজিত শূন্য (০) রান; কলকাতা, ১৯৮০


৬ ম্যাচ সিরিজের শেষ ম্যাচের আগেই ২-০ এগিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করা ভারত শেষ ম্যাচের শেষ ইনিংসে পাকিস্তানকে জয়ের জন্য লক্ষ্য দেয় ২৬৫ রানের। ব্যাটিং এ নেমে ১১১ রানে ৪ উইকেট হারায় তারা। পঞ্চম উইকেটে মাঠে ছিলেন অধিনায়ক আসিফ ইকবাল ও জাবেদ মিয়াদাদ। দলীয় ১৬২ রানে তাদের দুই জনের উইকেটও হারায় সফরকারীরা। তখন ম্যাচের আর ১ ঘন্টা বাকি ছিল। ৬ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়া পাকিস্তানের দরকার এখন ম্যাচ বাঁচানোর। সে কাজটাই করলেন ইমরান খান আর ওয়াসিম বারি। ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত ব্যাট করে ৪৮ বলে ১৯ রান করেন ইমরান আর ওয়াসিম বারি ৪৩ বল খেলে করেন শূন্য (০) রান। তার সে শূন্য রানের ইনিংসই পাকিস্তানকে ম্যাচ হারের হাত থেকে রক্ষা করে। 
cover
মাইক হুইটনি
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪২ বলে শূন্য (০) রান; ৩৮ মিনিট; ওল্ড ট্রাফোর্ড, ১৯৮১


অভিষেক ম্যাচে দলের ক্রান্তিকালে নিজেকে প্রমান করেছিলেন মাইক হুইটনি। ১৯৮১ অ্যাশেজের শেষ ম্যাচের শেষ ইনিংসে জয়ের জন্য অজিদের প্রয়োজন ছিল ৫০৬ রান। যেখানে ২০৬ রান তুলতেই অর্ধেক উইকেট হারিয়ে বসে আউসরা। ভাঙা আঙ্গুল নিয়ে এক প্রান্ত আগলে খেলতে থাকেন অ্যালান বর্ডার। ৩৭৮ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে বসা অজিদের হয়ে শেষ উইকেটে মাঠে নামেন অভিষিক্ত মাইক হুইটনি। বর্ডারের সাথে মাঠে লড়ে যান তিনি। কোন রান ছাড়াই ৩৮ মিনিট ব্যাট করে মোকাবেলা করেন ৪২ বল। শেষ পর্যন্ত বব উইলিসের শিকার হন তিনি এবং অজিরা ম্যাচটি হেরে যায়। 
cover
অ্যান্ড্রু ক্যাডিক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৭ বলে অপরাজিত শূন্য (০) রান; দ্য ওভাল, ১৯৯৭


১৯৯৭ অ্যাশেজের শেষ ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৮ রানে ৬ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। এই অবস্থায় ইনিংস শেষ হলে অজিদের জয়ের জন্য লক্ষ্য ১০০ও দাঁড়াতো না। এই অবস্থায় ৭ম উইকেটে ব্যাট হাতে মাঠে নামেন অ্যান্ড্রু ক্যাডিক। টিকে থাকেন ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত। কিন্তু রানের খাতা খুলতে পারেননি। এরই মধ্যে মার্ক রামপ্রকাশের সাথে সপ্তম উইকেট জুটিতে ২২ রান যোগ করেন। দলীয় ১৬০ রানে রামপ্রকাশ আউট হয়ে গেলে ১৬৩ রানেই অলআউট হয়ে যায় তারা। কিন্তু অপরাজিত থাকেন ক্যাডিক। ১২৪ রানের টার্গেট পায় অজিরা। বল হাতেও দুর্দান্ত ছিলেন তিনি। তার ৫ উইকেট শিকারের বোলিং ফিগারে ১০৪ রানেই অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ১৯ রানের ব্যবধানে জয় লাভ করে ইংল্যান্ড।

শেন ও’কনর
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩১ বলে অপরাজিত শূন্য (০) রান; হোবার্ট, ১৯৯৭


সিরিজের শেষ টেস্টের দুই সেশন বাকি থাকতে ২৮৮ রানের টার্গেট দিয়ে ইনিংস ঘোষনা করে অস্ট্রেলিয়া। জয়ের জন্য আরও ৬৬ রান দূরে থাকতেই ৯ উইকেট হারিয়ে বসে কিউইরা। ড্র করতে হলে খেলতে হতো আরও ৩৮ মিনিট। তখন ক্রিজে ছিলেন সাইমন ডৌল আর শেন ও’কনর। দুই জনে মিলে পুরো ৩৮ মিনিট ব্যাট করেন। স্কোর বোর্ডে যোগ করেন ১ রান। ডৌল করেন ৩৫ বলে ১ রান আর ও'কনর ৩১ বল খেলে কোন রান করেননি। দুই জনের কল্যানে সে ম্যাচ ড্র হয়।

ও'কনর এর খেলার ধরনই এমন। তার অভিষেক ম্যাচে হারারেতে ৩১ বলে ১ রানের ইনিংস খেলেন, যা কিউইদের লজ্জার হার থেকে বাঁচায়। তার ৬ মাস পর হোবার্টে ১৪ বলে শূন্য (০) রানের অপরাজিত ইনিংস, গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৪ বলে শূন্য (০) রান সহ এমন স্ট্রাইক রেটের অনেক ইনিংস রয়েছে তার। ও'কনর তার ১৯ ম্যাচের ক্যারিয়ার শেষ করেন ১৯.৬৫ এর ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট নিয়ে। যা অন্তত ৫০০ বল খেলা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে পঞ্চম সর্বনিম্ন স্ট্রাইক রেট।

cover
জহির খান
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৪ বলে শূন্য (০) রান; চেন্নাই, ২০০১


কলকাতায় ফলঅনে পড়ে ম্যাচ জয়ের ইতিহাস রটানোর পর চেন্নাই এসে জহির খানের বৌদলতে হারতে যাওয়া সিরিজ জিতে যায় ভারত। ম্যাচের শেষ ইনিংসে অজিদের দেওয়া ১৫৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নামা ভারত ১৩৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বসে। ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়ার মাঝে ম্যাচ হারের শঙ্কা জাগে নীল শিবিরে। তখন ক্রিজে টিকে ছিলেন ভারতের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান সামের দীঘি। ম্যাচ জেতানোর জন্য ভালো সঙ্গ দরকার ছিল তার। তখনই ব্যাট হাতে মাঠে নামেন জহির খান। ১৬ রানের জুটি গড়েন দুইজন। কিন্তু জহিরের ব্যাট থেকে ১ রানও আসেনি। মোকাবেলা করেছিলেন ১৪ রান। তার ধৈর্য্যশীল ব্যাটিংয়ে সে যাত্রায় হার এড়ায় ভারত। ম্যাচ জয়ের মাত্র ৪ রান দূরে থেকে আউট হয়ে যান জহির। 

লেইন ও'ব্রায়েন
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৮ বলে শূন্য (০) রান; অ্যাডিলেড, ২০০১


ম্যাচটি বাঁচানোর মতো আর কিছুই ছিল না। চেষ্টা শুধু ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ানোর। ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে হলে আর ১৩৪ রান করতে হবে কিউইদের। হাতে আছে ২ উইকেট। ৯ম উইকেটে মাঠে নামেন লেইন ও'ব্রায়েন। মাঠে নামার পর রিকি পন্টিং তাকে ব্যাক্তিগত ভাবে আক্রমণ করে। এতেই যেনো ফুলে ফেঁপে উঠেন ও'ব্রায়েন। ব্রেট লির এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়ার আগে ৫৪ মিনিট ক্রিকে কাটিয়ে যান তিনি। কোন রান তোলা ছাড়াই খেলেন ৩৮ বল আর ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সাথে গড়েন ৫০ রানের জুটি। 

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021