গায়েবি মসজিদ: বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যেঘেরা ছোট মসজিদ
জাতীয়
গায়েবি মসজিদ: বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যেঘেরা ছোট মসজিদ
৫০ বছর আগেও যেখানে ঝোপঝাড় ছিল। সেখানে এখন দৃশ্যমান বটগাছ ঘেরা প্রাচীন একটি মসজিদ! কেউ বলে নেকা মসজিদ আবার কেউ বলে গায়েবি মসজিদ। রহস্য ঘেরা মসজিদের উপরে দাঁড়িয়ে আছে একটি বটবৃক্ষ। চারদিক শিকড়ে ঘেরে মসজিদের উপরে জন্মানো গাছটির পাতার মধ্যেও রয়েছে ভিন্নতা। বিশাল আকার বটবৃক্ষ মসজিদকে এমনিভাবে ঘিরে রেখেছে এর বাইরের ইটপাথর যা দেখার কোনো সুযোগ নেই। কেবল মাত্র ভেতরে প্রবেসের দরজা ছাড়া আর সব কিছুই ঢাকা পড়েছে বটবৃক্ষে। শুধু বাংলাদেশে নয় বিশ্বের সব থেকে ছোট মসজিদ হিসেবে পরিচিতি এটির।   
বগুড়ার কাহালু উপজেলার বোরতা গ্রামে অবস্থিত মসজিদটি রূপান্তরিত হয়েছে বটগাছে। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ২৫ ফুটি, প্রস্থ ১৩ ফুট। ৩ গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটিতে বড়জোর ১০ থেকে ১২ জন মুসল্লি নামাজ পড়তে পারতেন। এতে ইমাম দাঁড়ানোর জায়গাটি প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। ৫ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের ও ২ ইঞ্চি প্রস্থের এক ধরনের ইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মসজিদটি।
স্থানীয়দের কেউ কেউ মন্তব্য করে বলেন, এই স্থাপনাটি ৪৫০ বছর আগের, কেউবা বলেন ১ হাজার বছর আগের, আবার অনেকেই বলেন কত আগের হবে সে তথ্য দেয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বর্তমানে সেখানে নামাজ পড়ার কোনো অবস্থা নেই। তবে এটাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ঈদগাহ মাঠ। মসজিদটির অদূরেই রয়েছে একটি কবর। সেটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ থেকে ১৪ ফুট। মসজিদটির দেয়ালে চুন-সুড়কি দিয়ে ছোট ছোট ইট গাঁথা আছে। বটগাছটির শেকড়ে ছেয়ে গেছে পুরো মসজিদ। ভেতরে কিছু রঙিন আলপনা রয়েছে। পুরনো হওয়ায় এখানে নামাজ পড়ার কোনো পরিবেশ নেই।
স্থানীয়দের মতে, মসজিদের পাশেই যে বড় একটি পুকুর রয়েছে তাতে অনেক মাছ দেখা গেলেও পানি নিষ্কাশনের পর কোনো মাছ পাওয়া যায় না। সেখানকার গাছের ডাল কিংবা ইট-পাথর যাই হোক কোনো কিছুই কেউ নিয়ে যেতে পারে না। আবার সন্ধ্যার পর এখানে কেউ আসে না। 
বর্তমেন মসজিদটি কিছুটা মেরামত করেছে এলাকার লোকজন। ফলে মাঝে মধ্যে এখানে নামাজও আদায় করেন মুসল্লিরা। এক গম্বুজ বিশিষ্ট্য এই মজজিদের ছোট একটি দরজা রয়েছে। ভিতরে উত্তর ও দক্ষিন দিকে রয়েছে দুটি জানালা। মসজিদের ভিতরে সর্বচ্চ দুই থেকে তিন জন মানুষ এক সাথে নামাজ আদায় করতে পারে। প্রবেশ পথের সামনেই রয়েছে একটি দান বাক্স। দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষ মসজিদটি দেখতে এসে এখানে টাকা পয়সা দান করেন তাদের কল্যাণের আশায়। প্রতিবছর দানের টাকায় মসজিদটি মেরামতের কাজে ব্যয় করেন গ্রামবাসিরা। 
জাতীয়এক্সক্লুসিভবরিশাল
আরো পড়ুন