মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে বিড়াল-কুকুরের সম্পর্ক কী?
জীবনযাপন
মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে বিড়াল-কুকুরের সম্পর্ক কী?
বর্ষায় ঘন বর্ষণ শুরু হলে বাংলায় বলে ‘মুষল ধারায় বৃষ্টি’, আর ইংরেজিতে বলে ‘রেইনিং ক্যাটস অ্যান্ড ডগস’। আবার আমাদের দেশে প্রবল বেগে বৃষ্টি বোঝাতে ব্যবহার করা হয় ‘মুষলধারে’ শব্দটি। 
বাংলায় মুষল শব্দের অর্থ মুগুর বা গদা। এই বস্তুটি দেখতে নিচে খানিকটা গোলাকার আর ওপরে বেশ লম্বাকৃতির হয়ে থাকে। যখন প্রবল বেগে বৃষ্টি আকাশ থেকে ঝরে পড়তে শুরু করে, তখন বৃষ্টির ধারায় বড় বড় ফোটাগুলো সেই মুষলের আকৃতির মতো দেখায়। তাই বাংলায় প্রবল বৃষ্টি হলে একে মুষলধারার বৃষ্টি হচ্ছে বলা হয়। ইংরেজিতে এই বৃষ্টি বা রেইনকে কেন ক্যাটস অ্যান্ড ডগসের সঙ্গে তুলনা করা হয়। এই প্রবাদটি বেশ প্রাচীন। সেকালে বৃষ্টির সময় কুকুর বিড়াল মাটিতে পড়তো। তবে এ কুকুর বিড়াল আকাশ থেকে পড়তো না। পড়তো বাড়ির ছাদ থেকে। 
ওই সময়ে ইংল্যান্ডের বাড়ির প্রতিটি ছাদ খড়ের গাদা দিয়ে তৈরি করা হতো। রাতে উষ্ণতার সন্ধানে সেখানে কুকুর বিড়ালসহ আশ্রয় নিত প্রায় সব ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের প্রাণী। ইতিহাসবিদরা বলেন, প্রবলবেগে বৃষ্টি হলে খড়ের ছাউনি পিচ্ছিল হয়ে যেত। যার কারণে সেখানে আশ্রয় নেয়া সব প্রাণীও বৃষ্টির সঙ্গে মাটিতে আছড়ে পড়তো। যেসব প্রাণীর মধ্যে বিড়াল কুকুরের সংখ্যাই বেশি ছিল। ধারণা করা হয়, সেই কারণেই হয়তো প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে বিড়াল কুকুরের বিষয়টি জুড়ে দেয়া হয়েছে। আবার অনেকে বলেন, ১৬০০ শতকে এক সাংঘাতিক টর্নেডোতে নরওয়ের এক গ্রামের পুকুরের সব ‘ক্যাটফিশ’ ও ‘ডগফিশ’ উড়ে গিয়ে পাশের গ্রামে পড়ে। এ রকম এক অবিশ্বাস্য ঘটনা থেকে ওই ধারণা করা হয়।
জীবনযাপন
আরো পড়ুন