চিন্তায় পদ্মাপাড়ের হকার-ব্যবসায়ীরা, দাবি পুনর্বাসনের
জাতীয়
চিন্তায় পদ্মাপাড়ের হকার-ব্যবসায়ীরা, দাবি পুনর্বাসনের
আর মাত্র দু'দিন। এরপরই উদ্বোধন হবে পদ্মা সেতুর। বহুল প্রতীক্ষার পর আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সেতুর উদ্বোধন করবেন।
পদ্মা সেতুর ফলে দক্ষিণের জেলাগুলোর বার্ষিক জিডিপি ২.০ শতাংশ এবং দেশের সামগ্রিক জিডিপি ১.০ শতাংশের বেশি বাড়াতে সাহায্য করবে। সবমিলিয়ে দেশের পুরো অর্থনৈতিক অঙ্গনে বড় ভূমিকা রাখবে পদ্মা সেতু। তবে পদ্মার দুই পাড়ে দীর্ঘদিন টিকে থাকা হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। পদ্মা সেতুকে ঘিরে একদিকে যেমন রয়েছে উচ্ছ্বাস, আরেকদিকে তাদের কর্মহারানোর ভয়। তবে অনেকেই আশাবাদী, ঘাটের ব্যস্ততা কমলেও নতুন কলকারখানাতে ভালো বেতনে চাকরি মিলবে।
স্বপ্নের পদ্মা সেতু; ছবি: মামুন সোহাগ
স্বপ্নের পদ্মা সেতু; ছবি: মামুন সোহাগ
পদ্মা সেতু হইলে গাড়ি চলবো সব উপর দিয়া। কেউ কি জীবনের ঝুঁকি নিয়া আর নিচে আইবো? পোনরো বছর ধইরা এই ঘাটে মুড়ি বেচি। ছোড মাইয়াডি মাইয়াডা স্কুলে যাইতাছে এহন। দিনে দিনে খরচ বাড়ছে।
বুধবার (২২ জুন) সরেজমিন পদ্মা সেতু এলাকা ঘুরে হকার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই দেখা গেছে। পদ্মার সেতুর সড়কপথ দিয়ে আগামী ২৬ জুন সকাল থেকে চলবে গাড়ি। এরপর থেকে মাওয়া-জাজিরাসহ অন্যান্য রুটে যাতায়াতের জন্য তেমন হাকডাক মিলবে না যাত্রীদের। মাওয়াঘাট প্রান্তে ছোলাবুট আর মুড়ি মাখাতে মাখাতে নিজের হতাশার কথা জানালেন এক হকার। তার মুখে- পদ্মা সেতু হইলে গাড়ি চলবো সব উপর দিয়া। কেউ কি জীবনের ঝুঁকি নিয়া আর নিচে আইবো? পোনরো বছর ধইরা এই ঘাটে মুড়ি বেচি। ছোড মাইয়াডি মাইয়াডা স্কুলে যাইতাছে এহন। দিনে দিনে খরচ বাড়ছে। 
কাঠালবাড়ি ঘাটে মৌসুমী ফল বিক্রেতা রুমতেজ মিয়া বলেন, কাজ করতে পারি। অভাব হবে না কাজের। তবে এই সেতুপাড়ে আমার অনেকদিনের ব্যবসা। পরিচিত লোকজনও আসে। ঘাটপাড়ে চেনা লোক পাওয়া কষ্ট, পাইলেও তারা কিনে না। এইসব ভেবেও খারাপ লাগে। পদ্মায় দীর্ঘদিন স্পিডবোট চালান সোহেল রানা। অনেকটা দীর্ঘশ্বাস নিয়েই বললেন, আজই শেষ দিন। এরপর থেকে এই ঘাটে আর বোট চালামু না। এরপর কই যাবেন জিজ্ঞাস করতেই বলেন- হয়তো অন্য কোথাও যাবো। সরকার আমাদের দিকেও থাকাক।
আজই শেষ দিন। এরপর থেকে এই ঘাটে আর বোট চালামু না। এরপর কই যাবেন জিজ্ঞাস করতেই বলেন- হয়তো অন্য কোথাও যাবো। সরকার আমাদের দিকেও থাকাক।
বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া রাকিব মাদবর ঘাট থেকে ফেরিতে চড়ে শিমুলিয়া যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতে উঠতে পারছি না এখনো, তর সইছে না। অপেক্ষাও কখনো কখনো বিশুদ্ধ হয়। লঞ্চে ডিম বিক্রেতা সফিকুল ইসলাম মনে করেন, তার এই ডিম বিক্রি এবার একেবারে ছেড়ে দিতে হবে। কারণ পদ্মা সেতুতে হেঁটে হেঁটে ডিম বিক্রি করতে পারবেন না। আর নদীপাড়ে শূন্যতা থাকবে। আগের মতো মানুষের লোকসমাগম হবে না। কাঠালবাড়ি লঞ্চঘাটে জীবনের হাজারো স্মৃতি রফিক হাজারির। এই ঘাটে আগের মতো হাকডাক থাকবে না পদ্মা সেতু চালু হলে। তাই সরকারের কাছে পুনর্বাসন দাবিও করেন তিনি। নয়তো বেঁচে থাকাই কষ্ট হবে বলে কপালে হাত তার।
রিপোর্টার: মামুন সোহাগ, (পদ্মা পাড় থেকে)
জাতীয়পদ্মা ব্রিজ
আরো পড়ুন